নলিনীকান্ত বাগচী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নলিনীকান্ত বাগচী
Nalini Bagchi.jpg
নলিনীকান্ত বাগচী
জন্ম১৮৯৬
মৃত্যু১৬ জুন, ১৯১৮
জাতিসত্তাবাঙালি
আন্দোলনভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন

নলিনীকান্ত বাগচী (জন্ম : ১৮৯৬ - মৃত্যু ১৬ জুন, ১৯১৮) (ইংরেজি: Nalinikanta Bagchi) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের বিপ্লবী।

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

নলিনীকান্তের আদি নিবাস ছিল নদীয়া জেলার শিকারপুরে। তিনি মুর্শিদাবাদের কাঞ্চনতলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবার নাম ভুবনমোহন বাগচী। তিনি বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন। পরে পাটনার বাঁকিপুর কলেজ এবং ভাগলপুর কলেজে পড়েন।[১]

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ পড়াকালীন তিনি বিপ্লবী দলে যোগ দেন। তিনি পুলিশের দৃষ্টি এড়ানোর জন্য পাটনার বাঁকিপুর কলেজ এবং ভাগলপুর কলেজে পড়েন। তাঁকে আই. এ. পাস করার পর আত্মগোপন করতে হয় । তিনি দানাপুরের সৈন্যদের মধ্যে বিদ্রোহ ঘটানোর চেষ্টা করেন। তিনি দলের নির্দেশে গৌহাটীর আটগাও গোপন আশ্রয়ে আত্মগোপন করেন। এখানে ১২ জানুয়ারি (মতান্তরে ৭ জানুয়ারি) ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে পুলিশের সাথে সশস্ত্র যুদ্ধের পর তিনি এবং সতীশচন্দ্র পাকড়াশী পুলিশের বেষ্টনী পার হয়ে পাহাড় এলাকায় চলে যান। নবগ্রহ পাহাড়েও তিনি আর একটি আক্রমণ প্রতিহত করেন। সেখানে থেকে পরে ৬ দিন অনাহার, অনিদ্রায় পায়ে হেঁটে মুসলিম ছদ্মবেশে লামডিং স্টেশনে এসে পৌঁছেন। পরবর্তীতে কোনো রকমে তিনি বসন্ত রোগাক্রান্ত অবস্থায় কলকাতায় আসেন। তাঁর একজন বিপ্লবী বন্ধু তাঁকে কলকাতা ময়দানে পড়ে থাকতে দেখে তাঁর শুশ্রূষা করে তাঁকে সারিয়ে তোলেন। এরপরে তিনি ঢাকায় যান এবং সেখানকার কলতাবাজারের বিপ্লবী ঘাঁটি পুলিশ ১৫ জুন, ১৯১৮ তারিখে ঘিরে ফেললে তিনি গুলি বিনিময়ের ফলে মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে গ্রেপ্তার হন। তাঁর সঙ্গী তারিণীপ্রসন্ন মজুমদার সেখানেই মারা যান। নলিনীকান্ত সেই দিনই ঢাকা জেলে মারা যান। মৃত্যুর পূর্বে পুলিসের অত্যাচার সত্ত্বেও তাঁরা কেউ নিজেদের নাম পর্যন্ত বলেননি। এই লড়াইতে একজন পুলিশ নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছিল। তাঁর আশ্রয়দাতা চৈতন্য দে-র ১০ বছর কারাদণ্ড হয়।[১][২]

স্মৃতি[সম্পাদনা]

তার পূন্য স্মৃতিতে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহরে একটি রাস্তা ও বহরমপুর - জলংগী রাজ্য সড়কের ওপর একটি সেতু নামাঙ্কিত রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৩৪৭, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, পাক ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গন, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ১৭৪,২৭৬।