সাঁওতাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাঁওতাল
মোট জনসংখ্যা
৬,০৫০,০০০
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চলসমূহ
              ঝাড়খণ্ড ২,৪১০,৫০৯[১]
              পশ্চিমবঙ্গ ২,২৮০,৫৪০[২]
              বিহার ৩৬৭,৬১২[৩]
              ওড়িশা ৬২৯,৭৮২
              নেপাল ৪২,৬৯৮[৪]
              ঝাপা জেলা ২৩,১৭২
              মোরাং জেলা ১৬,৩৮৭
ভাষা
Santali
ধর্ম
Sarnaism  • Hinduism  • Christianity
সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী
Mundas  • Hos  • Kols

সাঁওতালরা পূর্বভারত ও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির একটি। সাঁওতালরা সাঁওতালী ভাষায় কথা বলে যে ভাষাটি অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষাগোষ্ঠির অন্তর্গত। ভাষা এবং নৃতাত্বিক বৈশিষ্ট্যে সাঁওতালরা বাংলাদেশের অন্য অনেক উপজাতির মত মঙ্গোলীয় গোত্রের নয়। সাঁওতালদের মধ্যম গড়নের আকৃতি, শরীরের গাঢ় রঙ, চ্যাপ্টা নাক, পুরু ঠোঁট এবং কোঁকড়ানো চুল তাদের অস্ট্রো-এশিয়াটিক নৃতাত্বিক উৎস নির্দেশ করে যে গোষ্ঠির মানুষ ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিল দ্রাবিড়দেরও আগে অস্ট্রেলিয়া এবং সন্নিহিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপমালা থেকে।

নরগোষ্ঠীগত পরিচয়[সম্পাদনা]

দেহ কাঠামোর বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে সাঁওতালদেরকে বিশুদ্ধ প্রাক-দ্রাবিড়ীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধি বলে মনে করা হয়। তবে অস্ট্রেলীয় কৌমগুলোর সাথে সাঁওতালদের বেশ মিল লক্ষ করা যায় বলে তাদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলা হয়। ধারণা করা হয় সুঁতার(Soontar) কথাটি থেকে সাঁওতাল শব্দের উদ্ভব। সুঁতার বাঙালিদের প্রদত্ত খেতাব।

দৈহিক বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

সাঁওতালদের দৈহিক বৈশিষ্ট্য হল গায়ের রং গাঢ় কালো, চ্যাপ্টা নাক, পুরু ঠোঁট, মুখে দাড়ি গোঁফ কম, চুল কালো ও কোঁকড়ানো, দেহের উচ্চতা মাঝারি ধরনের।

ভাষা[সম্পাদনা]

সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা আছে। তাদের ভাষা অস্ট্রে-এশীয় গ্রুপের অন্তর্গত।

গোত্র[সম্পাদনা]

সাঁওতালরা বিশ্বাস করে যে, আদি মানব ও মানবী পিলচু হড়ম ও পিলচু বুড়ির সাত জোড়া সন্তান থেকেই তাদের উদ্ভব। এজন্যই সাঁওতালরা সাতটি গোত্রে বিভক্ত। তাদের এই সাতটি গোত্রের নাম হাঁসদাক, মুরমু, কিসকু, হেমবরোম, মুারুদি, সোরেন ও টুডু। পরবর্তীকালে তাদের মধ্যে আরও পাঁচটি গোত্রের উদ্ভব ঘটে। সাঁওতালদের মধ্যে টোটেম বিশ্বাস প্রচলিত আছে। প্রতিটি গোত্র তাদের পূর্বপুরুষ কিংবা গাছপালা, জীবজন্তু ও পশুপাখী ইত্যাদি নামে পরিচিত। হাঁসদাক গোত্রের লোকের বিশ্বাস তাদের উদ্ভব ঘটেছে হাঁস থেকে। তাই হাঁসদাক গোত্রের হাঁস ভক্ষণ নিষিদ্ধ। আবার সোরেন গোত্রের উৎপত্তি হরিণ থেকে তাই তাদের হরিণের মাংস খাওয়া নিষেধ।

পরিবার[সম্পাদনা]

সাঁওতাল সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। সম্পত্তিতে পুত্রদের অধিকার সমান, কিন্তু মেয়েদের কোন অধিকার নেই। তবে পিতা ইচ্ছা করলে মেয়েকে কিছু দিয়ে যেতে পারেন। তবে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে পিতা প্রত্যেক মেয়েকে একটি করে গাভী প্রদান করে। পুত্রহীন ব্যক্তির যাবতীয় সম্পত্তির মালিকানা তার সহোদর ভাইয়েরা পেয়ে থাকে।

বিবাহ প্রথা[সম্পাদনা]

সাঁওতাল সমাজে বহিঃগোত্র বিবাহ প্রচলিত। এমনকি উপগোত্রের মধ্যেও বিবাহ হয় না। তাদের সমাজে ছয় প্রকার বিবাহ রীতের প্রচলন থাকলেও বর্তমানে তিন ধরনের বিবাহের প্রচলন দেখা যায়। যথা

  • আসলি
  • রাজারাজি
  • হুর কাটারা বা ইতুর বিবাহ

সাধারণত ছেলের বয়স ১৯ ও মেয়ের বয়স ১৫-১৬ হলে বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া নিরবোলক নামক বিয়ের প্রচলন সাঁওতাল সমাজে লক্ষণীয়।

  • আসলি বিবাহ: আসলি বিবাহ সম্ভ্রন্ত পরিবার ও শিক্ষিত সমাজের মধ্যেই প্রচলিত। এ ধরনের বিবাহ কন্যার পিতা-মাতা ও আত্নীয় স্বজনের সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়।
  • রাজারাজি: রাজারাজি বিবাহ হল প্রেম করে বিবাহ। সাঁওতালদের প্রত্যেক গ্রামেই হাট বসে। বস্তুত কেনাবেচার উদ্দেশ্য হলেও সাঁওতাল যুবক যুবতীরা তাদের পছন্দমত প্রিয়জনদের সেখানে খোঁজ করে। মেয়েরা যখন হাটে যায়, তখন তাদের সাথে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি থাকে। সাঁওতালী ভাষায় তাদের যোগমাঝি বলা হয়। কোন সাঁওতাল মেয়ের যদি কোন ছেলেকে পছন্দ করে তখন সে যুবতী যোগমাঝির কাছে তা প্রকাশ করে। তারপর যোগমাঝি সে যুবককে সন্ধান করে বের করে এবং তার নিকট সব কিছু খুলে বলে। যুবকটি‍ুযদি এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে, তখন যোগমাঝি ছেলে ও মেয়ের অভিভাবকের সাথে আলাপ-আলোচনা করে বিয়ের দিন ধার্য করে।
  • হুর কাটারা: হুর কাটারা বিবাহ হচ্ছে জোর করে বিবাহ। কোন যুবক যদি কোন যুবতীকে ভালোবেসে ফেলে এবং সেই যুবতী যদি তাকে অপছন্দ করে ও বিয়েতে অসম্মতি জানায় এক্ষেত্রে যুবক তাকে পাবার জন্য হাটে যায়। সেখানে সে যুবতীর খোঁজ করতে থাকে। যুবতীর সাক্ষাৎ পেলে যুবক সুযোগ মত যদি যুবতীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিতে পারে তাহলে সে যুবতীর অন্যত্র বিয়ে হতে পারে না। সাঁওতালদের মধ্যে প্রচলিত সংস্কার হল অবিবাহিত যুবতীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিলে সে যুবতীর আর অন্যত্র বিয়ে হতে পারে না। তার গ্রামের মাতব্বরদের মাধ্যমে যুবককে অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয় এবং তা আদায় হলে যুবক যুবতীর বিবাহ কার্য সমাধা করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Jharkhand: Data Highlights the Scheduled Tribes" (PDF)। Census of India 2001। Census Commission of India। সংগৃহীত ২০১০-০১-১০ 
  2. "West Bengal: Data Highlights the Scheduled Tribes" (PDF)। Census of India 2001। Census Commission of India। সংগৃহীত ২০১০-০১-১০ 
  3. "Bihar: Data Highlights the Scheduled Tribes" (PDF)। Census of India 2001। Census Commission of India। সংগৃহীত ২০১০-০১-১০ 
  4. "Santali: Also spoken in Nepal"। সংগৃহীত ২০১১-০৪-০১