রাসবিহারী বসু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাসবিহারী বসু
মে ২৫, ১৮৮৬জানুয়ারি ২১, ১৯৪৫
Rash bihari bose.jpg
ফাইল চিত্র রাসবিহারী বসু
জন্মস্থান: বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মৃত্যুস্থান: টোকিও, জাপান
জীবনকাল: মে ২৫, ১৮৮৬জানুয়ারি ২১, ১৯৪৫
আন্দোলন: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, গদর ষড়যন্ত্র, ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী
প্রধান সংগঠন: যুগান্তর, ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ, আজাদ হিন্দ ফৌজ

রাসবিহারী বসু (মে ২৫, ১৮৮৬জানুয়ারি ২১, ১৯৪৫) ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন বিপ্লবী নেতা এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সংগঠক। তিনি ভারতের বাইরে জাপানে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। দিল্লিতে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জএর ওপর এক ব্যর্থ বোমা হামলায় নেতৃত্ব দানের কারণে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। তিনি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়াতে সক্ষম হন এবং ১৯২৩ সালে জাপানে পালিয়ে যান।

প্রাথমিক জীবন[উৎস সম্পাদনা]

রাসবিহারী বসুর জন্ম বর্ধমানের সুবলদহ গ্রামে। পিতা বিনোদবিহারী বসুর কর্মক্ষেত্র চন্দ্রনগরে তিনি শিক্ষালাভ করেন। তিনি মর্টন স্কুল ও ডুপ্লে কলেজের ছাত্র ছিলেন। জীবনের প্রথম দিকে তিনি নানা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আলীপুর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ১৯০৮ সালে অভিযুক্ত হন। কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি দেরাদুনে যান এবং সেখানে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। দেরাদুনে তিনি গোপনে বাংলা, উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন। বহু বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতায় সরকারের সন্দেহের উদ্রেক হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন।[১]

বিপ্লবী জীবন[উৎস সম্পাদনা]

তাঁরই তৎপরতায় জাপানি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের পাশে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় সমর্থন যোগায়। ১৯৪২ সালের ২৮-২৯ মার্চ টোকিওতে তাঁর ডাকে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সেই সম্মেলনে একটি সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন। ১৯৪২ সালের ২২ জুন ব্যাংককে তিনি লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন আহ্বান করেন। সম্মেলনে সুভাষচন্দ্র বসু কে লীগে যোগদান ও এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেসব ভারতীয় যুদ্ধবন্দি মালয় ও বার্মা ফ্রন্টে জাপানিদের হাতে আটক হয়েছিল তাদেরকে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগে ও লীগের সশস্ত্র শাখা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিতে যোগদানে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু দুভার্গক্রমে জাপানি সেনাকর্তৃপক্ষের একটি পদক্ষেপে তাঁর প্রকৃত ক্ষমতায় উত্তরণ ও সাফল্য ব্যাহত হয়। তাঁকে ও তাঁর সেনাপতি মোহন সিংকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নেতৃত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বহিষ্পৃত হলেও তাঁর সাংগঠনিক কাঠামোটি থেকে যায়। রাসবিহারী বসুর প্রারম্ভিক সাংগঠনিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে সুভাষচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি ( আজাদ হিন্দ ফৌজ নামেও পরিচিত) গঠন করেন। মৃত্যুর পূর্বে রাসবিহারী বসুকে জাপান সরকার সম্মানসূচক ‘সেকেন্ড অর্ডার অব দি মেরিট অব দি রাইজিং সান’ খেতাবে ভূষিত করে।জানুয়ারি ২১, ১৯৪৫ রাসবিহারী বসুর মৃত্যু জাপানে হয়।

তথ্যসূত্র[উৎস সম্পাদনা]

উইকিমিডিয়া কমন্সে রাসবিহারী বসু সম্পর্কিত মিডিয়া

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৬৭১-৬৭২, ISBN 978-81-7955-135-6