প্রাচীন রোম
প্রাচীন রোম Roma | |
|---|---|
| ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ – ৪৭৬/৪৮০1 খ্রিস্টাব্দ | |
নীতিবাক্য: Senatus Populusque Romanus | |
রোমান সভ্যতার অঞ্চলসমূহ:
| |
| অবস্থা |
|
| রাজধানী | রোম (পরবর্তীকালে কনস্টান্টিনোপল ও রাভেনা-সহ অন্যান্য শহর) |
| প্রচলিত ভাষা | লাতিন, গ্রিক |
| সরকার |
|
| আইন-সভা | সিনেট |
| ঐতিহাসিক যুগ | প্রাচীন ইতিহাস |
| ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ | |
| ৫০৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ | |
• অক্টাভিয়ান অগাস্টাস হিসেবে ঘোষিত হন | ২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ |
| ৪৭৬/৪৮০1 খ্রিস্টাব্দ | |
| |
আধুনিক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে, প্রাচীন রোম বলতে বোঝানো হয় রোমান সভ্যতাকে, যা রোম শহরের প্রতিষ্ঠার (অষ্টম শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বাব্দ) সময় থেকে শুরু করে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের (পঞ্চম শতাব্দী খ্রিস্টাব্দ) সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল রোমান রাজতন্ত্র (৭৫৩–৫০৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), রোমান প্রজাতন্ত্র (৫০৯–২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), এবং রোমান সাম্রাজ্য (২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ – ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ)।[১][ক]
প্রচলিত মতে ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, তাইবার নদীর তীরে ইতালীয় উপদ্বীপে প্রাচীন রোম একটি ইতালীয় বসতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই বসতি ক্রমে নগরী এবং রাজনৈতিক শক্তি রূপে পরিণত হয়, যা চুক্তি ও সামরিক শক্তির মাধ্যমে আশেপাশের অঞ্চলগুলো দখল করে। এটি পরে সমগ্র ইতালীয় উপদ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করে, দক্ষিণ ইতালির গ্রিক সংস্কৃতি (ম্যাগনা গ্রিসিয়া) ও ইত্রুসকান সংস্কৃতিকে আত্মস্থ করে এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের একটি বড় অংশে আধিপত্য বিস্তার করে। সর্বোচ্চ সময়ে, রোমান সাম্রাজ্য উত্তর আফ্রিকার উপকূল, মিশর, দক্ষিণ ইউরোপ, পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চল, বলকান অঞ্চল, ক্রিমিয়া, এবং আনাতোলিয়া, লেভান্ট, মেসোপটেমিয়া ও আরব উপদ্বীপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করত। খ্রিস্টাব্দ ১১৭ সালে সাম্রাজ্যটি আনুমানিক ৫ নিযুত বর্গকিলোমিটার (১.৯ নিযুত বর্গমাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল,[২] এবং এর জনসংখ্যা আনুমানিক ৫ কোটি থেকে ৯ কোটি ছিল, যা সে সময়ের পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০%।[খ]
রোমান রাষ্ট্র একটি নির্বাচিত রাজতন্ত্র থেকে ধ্রুপদী প্রজাতন্ত্র এবং পরবর্তীতে একটি ক্রমবর্ধমান স্বৈরতান্ত্রিক সামরিক শাসনে পরিণত হয়।
প্রাচীন রোমকে প্রায়ই প্রাচীন গ্রিসের সঙ্গে মিলিয়ে ধ্রুপদী প্রাচীন যুগের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং এদের মিলিত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক রূপকে গ্রিক-রোমান বিশ্ব বলা হয়। প্রাচীন রোমান সভ্যতা ভাষা, ধর্ম, সমাজ, প্রযুক্তি, আইন, রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, যুদ্ধনীতি, শিল্প, সাহিত্য, স্থাপত্য ও প্রকৌশলের ক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্বে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। রোম তার সেনাবাহিনীকে পেশাদারীভাবে গঠন করে এবং রেস পাবলিকা (res publica) নামে একটি শাসনব্যবস্থা তৈরি করে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ আধুনিক প্রজাতন্ত্রগুলোর অনুপ্রেরণা।[৩] এটি প্রযুক্তি এবং স্থাপত্য ক্ষেত্রে চমৎকার সাফাল্য অর্জন করেছিল, যেমন সমগ্র সাম্রাজ্যজুড়ে জলাধার, রাস্তা নির্মাণ এবং বৃহৎ স্মৃতিস্তম্ভ ও অবকাঠামো গড়ে তোলা।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]প্রাচীন ইতালি ও রোমের প্রতিষ্ঠা
[সম্পাদনা]প্রায় আনু. ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে রোম শহরের আশেপাশে বসতির প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ দেখা যায়।[৪] প্রায় আনু. ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বৃহৎ পরিসরে সংগঠিত কাঠামো গড়ে ওঠে, যখন এস্কুইলাইন পাহাড়ের শ্মশানে প্রথম কবরস্থান তৈরি হয় এবং পালাটাইন পাহাড়ের পাদদেশে মাটি ও কাঠের প্রাচীর নির্মিত হয়, যার সময়কাল অষ্টম শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বাব্দ। প্রায় আনু. ৬৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে, রোমানরা ক্যাপিটোলাইন ও পালাটাইন পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকা নিষ্কাশন শুরু করে, যেখানে বর্তমানে ফোরো রোমানো অবস্থিত।[৫] খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যে, তারা ক্যাপিটোলাইনে জুপিটার অপটিমাস ম্যাক্সিমাসের মন্দির নির্মাণ করে এবং ক্যাপিটোলাইন ও অ্যাভেনটাইন পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত ফোরাম বোয়ারিয়াম অঞ্চলে সম্প্রসারণ করে।[৬]
রোমানদের নিজেদের একটি প্রতিষ্ঠাকালীন কিংবদন্তি ছিল, যেখানে বলা হয় যে তাদের নগর রোমুলাস ও রেমাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যারা যুদ্ধদেবতা মার্স ও কল্পিত নগরী আলবা লঙ্গার এক রাজকন্যার সন্তান।[৭] এই দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও একটি নেকড়ে তাদের উদ্ধার করে এবং পরে তারা আলবার রাজাকে পুনরুদ্ধার ও একটি নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করে। এক বিরোধের পর, রোমুলাস রেমাসকে হত্যা করে এবং এককভাবে শহরের প্রতিষ্ঠাতা হন। তার প্রাথমিক বসতি, পালাটাইন পাহাড়ে, পরবর্তীতে রোমা কোয়াড্রাটা ('চতুষ্কোণ রোম') নামে পরিচিত হয়। এই গল্প কমপক্ষে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত প্রচলিত ছিল, এবং পরবর্তী রোমান পুরাতত্ত্ববিদ মার্কাস টেরেন্তিয়াস ভারো রোম শহরের প্রতিষ্ঠার সাল ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নির্ধারণ করেন।[৮] আরেকটি কিংবদন্তি, গ্রিক ঐতিহাসিক ডায়োনিসিয়াস অব হ্যালিকারনাসাসের রচনায় পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে যে প্রিন্স এনিয়াস ট্রয় যুদ্ধের পর নতুন ট্রয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে ট্রয়বাসীদের নিয়ে এক সমুদ্রযাত্রায় বের হন। তারা তাইবার নদীর তীরে অবতরণ করে এবং সঙ্গে থাকা এক নারী, রোমা, তাদের নৌকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন যেন তারা আর ফিরে যেতে না পারে। তারা তার সম্মানে বসতির নাম রাখে 'রোম'।[৯] রোমান কবি ভার্জিল এই কিংবদন্তি তাঁর ধ্রুপদী মহাকাব্য এনেইডে উল্লেখ করেন।

তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Ancient Rome"। Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ Taagepera 1979, পৃ. 125; Turchin, Adams এবং Hall 2006, পৃ. 222
- ↑ Furet & Ozouf 1989, p. 793; Luckham & White 1996, p. 11; Sellers 1994, p. 90.
- ↑ Boatwright 2012, পৃ. 519।
- ↑ Boatwright 2012, পৃ. 29।
- ↑ Boatwright 2012, পৃ. 31।
- ↑ Boatwright 2012, পৃ. 31–32।
- ↑ Boatwright 2012, পৃ. 32।
- ↑ Mellor, Ronald and McGee Marni, The Ancient Roman World পৃষ্ঠা ১৫ (উদ্ধৃত ১৫ মার্চ ২০০৯)।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Ancient Rome resources for students from the Courtenay Middle School Library.
- History of ancient Rome OpenCourseWare from the University of Notre Dame providing free resources including lectures, discussion questions, assignments, and exams.
- Gallery of the Ancient Art: Ancient Rome
- Lacus Curtius
- Livius.Org
- The Private Life of the Romans by Harold Whetstone Johnston
- United Nations of Roma Victrix (UNRV) History
- Water and Wastewater Systems in Imperial Rome
- Roman DNA project
টেমপ্লেট:Ancient Greek and Roman wars
- ↑ সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ভর করে রোমান ঐতিহ্য, আধুনিক পুরাতত্ত্ব, অথবা বিভিন্ন ঘটনাকে প্রান্তরেখা হিসেবে বিবেচনার পার্থক্যের উপর।
- ↑ রোমান সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে:
- Scheidel, Saller এবং Morris 2007, পৃ. 2 অনুমান করে ৬ কোটি।
- Goldsmith, Raymond W. (সেপ্টেম্বর ১৯৮৪)। "An Estimate of the Size And Structure of the National Product of the Early Roman Empire"। Review of Income and Wealth। ৩০ (3): ২৬৩। ডিওআই:10.1111/j.1475-4991.1984.tb00552.x। অনুমান করে ৫.৫ কোটি।
- Beloch, Karl Julius (১৮৮৬)। Bevölkerung der griechisch-römischen Welt (জার্মান ভাষায়)। Duncker। পৃ. ৫০৭। অনুমান করে ৫.৪ কোটি।
- Maddison, Angus (২০০৭)। Contours of the World Economy, 1–2030 AD. Essays in Macro-Economic History। Oxford University Press। পৃ. ৫১, ১২০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯২২৭২১-১। অনুমান করে ৪.৮ কোটি।
- Roman Empire Population অনুমান করে ৬.৫ কোটি (বিভিন্ন সূত্রের মধ্যে ৫.৫ থেকে ১২ কোটি পর্যন্ত পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে)।
- McLynn, Frank (২০১১)। Marcus Aurelius: Warrior, Philosopher, Emperor। Random House। পৃ. ৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৪৬৪-৪৯৩৩-২।
[T]he most likely estimate for the reign of Marcus Aurelius is somewhere between seventy and eighty million.
- McEvedy, Colin; Jones, Richard (১৯৭৮)। Atlas of world population history। New York: Penguin। আইএসবিএন ০-১৪-০৫১০৭৬-১। ওসিএলসি 4150954। ওএল 4292284M।
- মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর ঐতিহাসিক জনসংখ্যা অনুমান অনুসারে গড় হিসাব। ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে
- Kremer, Michael (১৯৯৩)। "Population Growth and Technological Change: One Million B.C. to 1990"। Quarterly Journal of Economics। ১০৮ (3): ৬৮১–৭১৬। ডিওআই:10.2307/2118405। জেস্টোর 2118405।
<ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি