ব্যুত্থান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ব্যুত্থান মার্শাল আর্টের লোগো
লক্ষ্য আঘাত করা
উত্পত্তির দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ
উদ্ভাবক প্রফেসর ড. ম্যাক ইউরী
মূল ভারমা কালাই, বেনডো, বজ্রমুষ্টি, তিব্বতীয় এবং চীনা কেমপো, কালারিপায়াত্তু, বানশায়, যোগাসন, সিলাম্বাম এবং অন্যান্য।
দাপ্তরিক ওয়েবসাইট www.butthan.net/home.html

ব্যুত্থান সংস্কৃত শব্দ থেকে উদ্ভত একটি বাংলা শব্দ যার আভিধানিক অর্থ স্বাতন্ত্রের সাথে প্রতিরোধ বা সনাতনকে সত্যদ্বারা প্রতিস্থাপন করবার এক বৈল্পবিক পদ্ধতি। [১] ব্যুত্থান একটি বাংলাদেশী মার্শাল আর্ট। [২] এটি প্রাচিন দক্ষিণ এশিয়ার আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধকলার ঐতিহ্যের ধারায় গঠিত নিরাপদ ক্রীড়া, বিজ্ঞানভিত্তিক এক বাস্তবধর্মী আত্মরক্ষা ও আত্মউন্নয়নের পদ্ধতি। ব্যুত্থান বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের অধিনস্থ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অনুমদিত একটি নিরাপদ ক্রীড়া । ইন্টারন্যাশনাল ব্যুত্থান ফেডারেশন এই খেলাটি পৃথিবী ব্যাপি প্রসারের দায়িত্ব পালন করছে। [৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন ইতিহাস অনুসারে ভারত উপমহাদেশেই মার্শাল আর্টের আদি পীঠস্থান। পদ্ধতিগত মার্শাল আর্টের জনক ক্ষত্রিয় বংশের বোধীধর্মা, জন্মের পর তার শৈশব কাটিয়েছেন দক্ষিণ ভারতের কাঞ্চিপুরামে । ইতিহাস মতে তিনি খালি হাতে আত্মরক্ষার পাশাপাশি উচ্চমানের মনো-দৈহিক ও আধ্যাতীক চর্চায় নৈপুণ্য অর্জন করেন এবং তার শিক্ষক প্রজ্ঞাতারার ইচ্ছা অনুযায়ী চীনে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে আড়াই বছর পর ৫২০ খৃষ্টাব্দে চীনে পৌছান। কোন কোন ইতিহাস বীদদের মতে বোধিধর্মা চিনের ক্যনটন শহরে পৌছান ৪৭০-৪৯৭ এডিতে (সুং ডাইনেস্টি) সময় কালে। সেখান থেকে যান চিং-লিং বা নাংকিং শহরে। পরবর্তীতে ইলিয়াং ডাইনেস্টি এর সম্রাট লিয়াং উ (ডঁ) এর আমন্ত্রনে রাজপ্রাসাদে পৌছালে এক বাঘবিদ্ধন্ডার পর বোধিধর্মা ঐ অঞ্চল ত্যাগ করে দক্ষিনদিকে রওয়ানা দেন এবং ইয়াং জি নদী অতিক্রম করে হেনান প্রভিন্সের শাওলীন মন্দিরে পৌছান। শাওলীন এটি সংসান পাহাড়ের গায়ে গড়ে ওঠা বিশ্ব - বিখ্যাত ঐতিহাসিক মন্দির। যকে বলা হয় খালিহাতে যুদ্ধকলার লালনস্থল। বস্তুত বোধীধর্মা সেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের জন্য কিছু শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন, যা মানুষের অভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক অঙ্গ্য প্রত্যাঙ্গ্য শক্তিশালী করার পাশাপাশি আত্মরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল যা পদ্ধতিগত মার্শাল আর্টের ভিত্তি হিসাবে গণ্য করা হয়। কালক্রমে, শাওলীন মন্দিরে বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের ধর্ম প্রচারাভিযান এবং চীনের সাথে বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে মার্শাল আর্ট জাপান, কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পরে। কালক্রমে, ভারতীয় উপমহাদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ‘আত্মরক্ষা কৌশল’ চর্চা ব্যাপক প্রসার ও পূর্ণতা পায় চীনের হুনান প্রদেশে শাওলিন টেম্পল এবং পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও ভারতীয় উপমহাদেশ তার মার্শাল আর্টের ঐতিহ্য ক্রমশঃ হারিয়ে ফেলে। আধুনিক যুগে ব্যুত্থান সেই হাড়িয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বৈপলবিক প্রতিক, সেই আবহমান ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। প্রায় দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর পর গ্রান্ডমাস্টার ইউরী তার নিরলস প্রচেষ্টা ও একনিষ্ট গবেষনার মাধ্যমে প্রাচীন ভারতীয় আতœরক্ষামূলক পদ্ধতির হারানো গৌরব ও সোনালী ঐতিহ্য, ‘ব্যুত্থান’ পতাকাতলে পুনরুদ্ধারে ব্রতী হন।

১৯৮১ সালে বজ্রমুণি রাজশাহীতে আত্মরক্ষার কৌশল প্রশিক্ষণের সময় থেকেই ব্যুত্থান সাড়া দেশে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। বিশ্ব রেকর্ডকারী ও ডিসকভারি চ্যানেলে প্রদর্শিত সুপার হিউম্যান গ্রান্ডমাস্টার ড. ইউরী বজ্রমুনি ব্যুত্থান ধারার প্রবর্তক । [৪] ১৯৮৫ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজে এর আইন-কানুন ও রীতিনীতির আওতায় প্রতিযোগিতামূলক ব্যুত্থান ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তিতে বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজ ও বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থারগুলোর মধ্যে এই চর্চাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর প্রচারের জন্য গড়ে উঠে বিশ্ব ব্যুত্থান ফেডারেশন। ২০০২ সালে ব্যুত্থানের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষকদের ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এর নাম পরিবর্তন করে ইন্টারনেশনাল ব্যুত্থান ফেডারেশন করা হয়। ২০০৮ সালে বজ্রমুণি ও ব্যুত্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক কমব্যাট ম্যাগাজিনে প্রচ্ছদ ছাপা হলে ব্যুত্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত পায়।

পদ্ধতিগত আত্মরক্ষা[সম্পাদনা]

আধুনিক যুগে মার্শাল আর্টের বিভিন্ন ফর্মে পরিশীলিত প্রয়োগ বা প্রশিক্ষণ দেখা যায়। তবে, এই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হলো 'পদ্ধতিগত' আত্মরক্ষার আদি উৎপত্তিস্থল। আর এ অঞ্চলের এই ঐতিহ্যের রূপ ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট।[৫]

প্রশিক্ষণের শাখা[সম্পাদনা]

ব্যুত্থানের আছে চার (০৪) মাত্রা

  • সাধনা
  • প্রজ্ঞা
  • স্বজ্ঞা
  • বর্জন

ব্যুত্থানের চার (৪) মাত্রা ঘিরে আছে ষোল (১৬) প্রশিক্ষনের শাখা

  • সাধনা (৫টি):

১। ধ্যান ২। আত্মরক্ষা ও ক্রীড়া ৩। কল্যাণ ৪। বজ্রপ্রাণ ও শরীর চর্চা ৫। শুদ্ধ চিন্তা

  • প্রজ্ঞা (৫টি):

১। শ্রদ্ধা ২। সাহস ৩। অধ্যবসায় ৪। নৈতিকতা ৫। বিচক্ষনতা

  • বর্জন (৫টি):

১। অশিক্ষা ২। লোভ ৩। হিংসা ৪। আসক্তি ৫। নিষ্ঠুরতা

  • স্বজ্ঞা বা আত্মজ্ঞান (১টি)

ব্যুত্থানের স্তম্ভ[সম্পাদনা]

ব্যুত্থানের প্রধান ৩টি স্তম্ভ [৬]

  • ক্রীড়া
  • কল্যাণ
  • আত্মরক্ষা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. জাতীয়-ব্যুত্থান-সমাপ্ত, ব্যুত্থান প্রতিযোগিতা, বাংলা ট্রিবিউন। বাংলা ট্রিবিউন থেকে প্রকাশের তারিখ: ২৬-১২-২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।
  2. ব্যুত্থান ফেডারেশনের মতবিনিময় সভা, বাংলাদেশ ব্যুত্থান ফেডারেশনের আয়োজনে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা, ভয়েস অফ সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশের তারিখ: ২৬-১২-২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।
  3. ব্যুত্থান,জাতীয়-ব্যুত্থান-প্রতিযোগিতা-সমাপ্ত,। প্রথম আলো থেকে প্রকাশের তারিখ: ২৭-১২-২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।
  4. ব্যুত্থান ঐতিহ্য শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত,ব্যুত্থান ঐতিহ্য শীর্ষক সেমিনার,। দি রিপোর্ট ২৪ থেকে প্রকাশের তারিখ: ১১-৬-২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।
  5. খালি হাতে আত্মরক্ষা, গ্র্যান্ডমাস্টার ড. ইউরি, বিডিটুডে। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ১০-০১-২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।
  6. ব্যুত্থানের স্তম্ভ,ব্যুত্থানের প্রধান ৩টি স্তম্ভ । বাংলা নিউজ নেক্সট থেকে প্রকাশের তারিখ: ৩০-০৭-২০১৬ খ্রিস্টাব্দ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]