নেত্রকোনা জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
নেত্রকোণা
জেলা
বাংলাদেশে নেত্রকোনা জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে নেত্রকোনা জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫২′৪৮″ উত্তর ৯০°৪৩′৪৮″ পূর্ব / ২৪.৮৮০০০° উত্তর ৯০.৭৩০০০° পূর্ব / 24.88000; 90.73000স্থানাঙ্ক: ২৪°৫২′৪৮″ উত্তর ৯০°৪৩′৪৮″ পূর্ব / ২৪.৮৮০০০° উত্তর ৯০.৭৩০০০° পূর্ব / 24.88000; 90.73000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগময়মনসিংহ বিভাগ
আয়তন
 • মোট২৮১০.২৮ কিমি (১০৮৫.০৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২২,২৯,৪৬৪
 • ঘনত্ব৭৯০/কিমি (২১০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট৩৪.৯৪%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৭২
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

নেত্রকোনা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এই জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে এ অঞ্চল গুপ্ত সম্রাটগণের অধীন ছিল। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গুপ্তযুগে সমুদ্রগুপ্তের অধীনস্থ এ অঞ্চলসহ পশ্চিম ময়মনসিংহ কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুরাজ শশাংকের আমন্ত্রণে চৈনিক পরিব্রাজক হিউ এন সাঙ যখন কামরূপ অঞ্চলে আসেন, তখন পর্যন্ত নারায়ণ বংশীয় ব্রাহ্মণ কুমার ভাস্কর বর্মণ কর্তৃক কামরূপ রাজ্য পরিচালিত ছিল। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে পূর্ব ময়মনসিংহের উত্তরাংশে পাহার মুল্লুকে বৈশ্যগারো ও দুর্গাগারো তাদের মনগড়া রাজত্ব পরিচালনা করতো। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ দিকে জনৈক মুসলিম শাসক পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল আক্রমণ করে অল্প কিছুদিনের জন্য মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে জিতারা নামক একজন সন্ন্যাসী কামরূপের তৎকালীন রাজধানী ভাটী অঞ্চল আক্রমণ ও দখল করেন। সে সময় পর্যন্তও মুসলিম শাসক ও অধিবাসী স্থায়ীভাবে অত্রাঞ্চলে অবস্থান ও শাসন করতে পারেনি। খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে (১৪৯৩-১৫১৯) সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল মুসলিম রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত হয়।

আলাউদ্দিন হোসেন শাহ’র পুত্র নসরৎ শাহ’র শাসনামলে (১৫১৯-১৫৩২) দু'একবার বিদ্রোহ সংঘটিত হলেও বিদ্রোহীরা সফল হয়নি। সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলেই নসরৎ শাহ’র শাসন বলবৎ ছিল। নসরৎ শাহ-র উত্তরাধিকারীরা (১৫৩৩-১৮৩৮) কিংবা তার পরবর্তী লক্ষ্মণাবতীর অন্য শাসকেরা ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপর আধিপত্য বজায় রাখতে পারেনি। ময়মনসিংহের উত্তরাংশ কোচদের পুনরাধীন হয়ে পড়ে। বাকী অংশ দিল্লীর পাঠান সুলতান শেরশাহ-র (১৫৩৯-১৫৪৫) শাসনভুক্ত হয়েছিল। তৎপুত্র সেলিম শাহ’র শাসনের সময়টি (১৫৪৫-১৫৫৩) ছিল বিদ্রোহ ও অস্থিরতায় পূর্ণ। রাজধানী দিল্লী থেকে অনেক দূরে ও কেন্দ্রীয় রাজশক্তির দূর্বলতার সুযোগে প্রধান রাজস্ব সচিব দেওয়ান সুলায়মান খাঁ (যিনি পূর্বে কালিদাস গজদানী নামে পরিচিত ছিলেন) সম্রাটের বিরুদ্ধাচরণ করেন। এতে করে দেশী ও বিদেশী রাজ্যলিপ্সুরা এতদঞ্চল দখলের প্রয়াস পায়। এর মধ্যে ভাটী অঞ্চল (পূর্ব-উত্তরাংশ) সোলায়মান খাঁ-র দখলভুক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় শাসকের প্রেরিত সৈন্যদের হাতে সোলায়মান খাঁ নিহত হলেও তার দু’পুত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র ঈশা খাঁ খিজিরপুর থেকে ভাটী অঞ্চলে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ঈশা খাঁ’র মৃত্যুর পর তৎপুত্র মুসা খাঁ ও আফগান সেনা খাজা উসমান খাঁ কর্তৃক অত্রাঞ্চল শাসিত ছিল। সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে (১৬০৫-১৬২৭) সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল মোঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।[২][৩]

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮০ খিস্টাব্দে হওয়া নেত্রকোনা মহকুমাকে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলা করা হয়।

প্রশাসনিক বিন্যাস[সম্পাদনা]

নেত্রকোণা জেলা ১০টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত; এগুলো হলোঃ

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৪.৯%; পুরুষ ৩৭.৯%, মহিলা ৩১.৯%। বিশ্ববিদ্যালয় ১ টি, মেডিকেল কলেজ ১ টি, কলেজ ২৮, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৩৬, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০৮৩, মাদ্রাসা ১৬০। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:

বিশ্ববিদ্যালয়ঃ "শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় (প্রস্তাবিত)" দেশের ৪২ তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

  1. অবস্থান: নেত্রকোনা জেলা পৌর শহরের

রাজুর বাজার বারহাট্টা রোড এলাকায়।

  1. আয়তন: ৫০০ একর (নির্মানাধীন)
  2. বর্তমান_ক্যাম্পাস (অস্থায়ী): নেত্রকোনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), রাজুর বাজার, নেত্রকোনা। মূল ক্যাম্পাস নির্মাণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এখানেই ক্লাস চলবে।
  3. বিষয়:

(১) বাংলা (২) ইংরেজী (৩) কম্পিউটার সাইন্স (৪) ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স বর্তমানে উপরিউক্ত বিষয়গুলো নিয়েই চালু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হবে।

  1. আসন_সংখ্যা: ২০০ (আনুমানিক)

মেডিকেল কলেজঃ "নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ (প্রস্তাবিত)"।

কলেজসমূহ[সম্পাদনা]

নেত্রকোণা সরকারী মহিলা কলেজ (1)
  • নেত্রকোনা সরকারি কলেজ,
  • নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজ,
  • সরকারি হাজী অাব্দুল অাজিজ খান কলেজ,
  • আবু আব্বাস ডিগ্রি কলেজ,
  • হেনা ইসলাম কলেজ,
  • নেত্রকোনা সিটি কলেজ,
  • মোহনগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ,
  • কলমাকান্দা সরকারি ডিগ্রি কলেজ,
  • সুসং সরকারি কলেজ।

স্কুলসমূহ[সম্পাদনা]

  • জাহাঙ্গীরপুর টি. অামিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়,
  • পদ্মশ্রী এ.ইউ. খান উচ্চ বিদ্যালয়,
  • কেন্দুয়া জয়হরি পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৩২),
  • পূর্বধলা জেএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৬৭),
  • দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়(১৮৮৯),
  • নেত্রকোনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,
  • আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪),
  • মোহনগঞ্জ সরকারি পাইলট হাইস্কুল (১৯৩১),
  • কলমাকান্দা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪২),
  • বরুয়াকোনা সাধু ফ্রেডারিক উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭০),
  • দূর্গাপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,
  • এম কে সি এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দূর্গাপুর।
  • নেত্রকোনা কালেক্টরেট স্কুল,
  • জি এম এস মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, দূর্গাপুর।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে নেত্রকোণা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১৬ 
  2. নেত্রকোণা জেলার ইতিহাস’ (পৃষ্ঠা-১৬৮, খন্ড-৫)
  3. বাংলাপিডিয়া
  4. "প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন 
  5. "ফিরছেন বারী সিদ্দিকী"দৈনিক মানবজমিন। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৫ 
  6. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ২৯৬।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]