আইয়ুব বাচ্চু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আইয়ুব বাচ্চু
LRB Ayub Bachchu (cropped).jpg
২০১৪ সালে বাচ্চু
প্রাথমিক তথ্য
জন্ম নামরবিন
আরো যে নামে
পরিচিত
  • এবি
  • বাচ্চু ভাই
জন্ম(১৯৬২-০৮-১৬)১৬ আগস্ট ১৯৬২
চট্টগ্রাম, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)
উদ্ভবচট্টগ্রাম
মৃত্যু১৮ অক্টোবর ২০১৮(২০১৮-১০-১৮) (৫৬ বছর)
ঢাকা, বাংলাদেশ
ধরনহার্ডরক, ব্লুজ, সাইকেডেলিক রক, সফট রক, অল্টারনেটিভ রক[১]
পেশাগিটার বাদক, সঙ্গীতশিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, গীতিকার
বাদ্যযন্ত্রসমূহগিটার, কণ্ঠ, বেস, কীবোর্ড
কার্যকাল১৯৭৭২০১৮
লেবেলএবি কিচেন
ওয়েবসাইটablrb.net

আইয়ুব বাচ্চু (১৬ আগস্ট ১৯৬২ - ১৮ অক্টোবর ২০১৮) একজন বাংলাদেশী গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার, ও চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী ছিলেন। এল আর বি ব্যান্ড দলের লিড গিটারবাদক এবং ভোকাল বাচ্চু ছিলেন বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীত জগতের জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন।[২] এর পূর্বে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে লিড গিটারবাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সঙ্গীতজগতে তার যাত্রা শুরু ফিলিংস ব্যান্ড দলের মাধ্যমে (১৯৭৮)। তিনি তার শ্রোতা-ভক্তদের কাছে "এবি" নামেও পরিচিত। তার ডাক নাম রবিন। মূলত রক ঘরানার কন্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং লোকগীতি ঘরানায়ও তিনি কাজ করেছেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন।[৩] সঙ্গীতে তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই স্কুলজীবনে নিজ চেষ্টায় গায়ক হয়ে ওঠেন। সত্তরের দশকে গিটার বাজাতে শুরু করেন এবং অচিরেই গিটারে দক্ষ হয়ে ওঠেন। চট্টগ্রামে কলেজ জীবনে সহপাঠী বন্ধুদের নিয়ে তিনি একটি ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন। এর নাম ছিল ‘গোল্ডেন বয়েজ’। পরে নাম বদলে করা হয় ‘আগলি বয়েজ’।[৪]

সঙ্গীতজীবন[সম্পাদনা]

২০০৮ সালে বাচ্চু

ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে বাচ্চুর সঙ্গীতজগতে যাত্রা শুরু (১৯৭৮)। তার কন্ঠ দেয়া প্রথম গান "হারানো বিকেলের গল্প"। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। তিনি সোলস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন (১৯৮০-১৯৯০)। আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম 'রক্তগোলাপ' (১৯৮৬), যেটি তেমন সাফল্য পায় নি। বাচ্চুর সফলতার শুরু তার দ্বিতীয় একক ময়না (১৯৮৮) অ্যালবামের মাধ্যমে।

তিনি এল আর বি ব্যান্ড গঠন করেন ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল যার পুরো নাম ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’, পরে করা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’। ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এবং বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম 'এল আর বি' প্রকাশিত হয় (১৯৯২)। এই অ্যালবামের "শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি", "ঘুম ভাঙ্গা শহরে", "হকার" গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম সুখতবুও বের হয় (১৯৯৩ ও ১৯৯৪)। সুখ অ্যালবামের "সুখ, "চলো বদলে যাই", "রূপালি গিটার", "গতকাল রাতে" উল্লেখযোগ্য গান। "চলো বদলে যাই" বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। এছাড়া তার তৃতীয় একক অ্যালবামটি ছিলো 'কষ্ট' (১৯৯৫)। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অভিহিত করা হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে "কষ্ট কাকে বলে", "কষ্ট পেতে ভালোবাসি", "অবাক হৃদয়", ও "আমিও মানুষ"। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ঘুমন্ত শহরে প্রকাশিত হয়। তিনি অনেক বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। "অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে" বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তাঁর গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।[৫]

পরবর্তীতে তার একক অ্যালবাম 'বলিনি কখনো' প্রকাশিত হয় (২০০৯), এবং এল আর বি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম 'যুদ্ধ' (২০১১)।[৬] এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। ছয় বছর পর বাজারে আসে তার পরবর্তী একক অ্যালবাম 'জীবনের গল্প' (২০১৫) । এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজে।[৭]

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুনভাবে অণুপ্রাণিত। বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন। তিনি ঈদের জন্য নির্মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ও হলুদ বাতি শিরোনামের নাটকে অভিনয় করেন (২০১০)।[৮]

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে 'টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১৪'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে 'বিসিবি সেলিব্রেশন কনসার্ট'-এ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন নিয়ে মাইলস ব্যান্ডের হামিন-এর সাথে বাচ্চুর বিরোধ সৃষ্টি হয় (১৩ মার্চ, ২০১৪)। এই দ্বন্দ্বের সূত্রে বাচ্চু ও তার ব্যান্ড এল আর বি বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সদস্যপদ প্রত্যাহার করে।[৯]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আইয়ুব বাচ্চু ব্যক্তিগত জীবনে ফেরদৌস আইয়ুব চন্দনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ফাইরুজ সাফরা ও আহনাফ তাজওয়ার নামে যথাক্রমে একজন কন্যা এবং পুত্র রয়েছে।[১০]

ডিস্কোগ্রাফি[সম্পাদনা]

একক অ্যালবাম[সম্পাদনা]

  • রক্তগোলাপ (১৯৮৬)
  • ময়না (১৯৮৮)
  • কষ্ট (১৯৯৫)
  • সময় (১৯৯৮)
  • একা (১৯৯৯)
  • প্রেম তুমি কি! (২০০২)
  • দুটি মন (২০০২)
  • কাফেলা (২০০২)
  • প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩)
  • পথের গান (২০০৪)
  • ভাটির টানে মাটির গানে (২০০৬)
  • জীবন (২০০৬)
  • সাউন্ড অব সাইলেন্স (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭)
  • রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮)
  • বলিনি কখনো (২০০৯)
  • জীবনের গল্প (২০১৫)

ব্যান্ড অ্যালবাম[সম্পাদনা]

  • এলআরবি (১৯৯২)
  • সুখ (১৯৯৩)
  • তবুও (১৯৯৪)
  • ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫)
  • ফেরারি মন (১৯৯৬)
  • স্বপ্ন (১৯৯৬)
  • আমাদের বিস্ময় (১৯৯৮)
  • মন চাইলে মন পাবে (২০০০)
  • অচেনা জীবন (২০০৩)
  • মনে আছে নাকি নেই (২০০৫)
  • স্পর্শ (২০০৮)
  • যুদ্ধ (২০১২)

নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী[সম্পাদনা]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

আইয়ুব বাচ্চুর ফুসফুসে পানি জমার কারণে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন (২৭ নভেম্বর, ২০১২)।[১১] সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ হন।[১২]

বাচ্চু ১৮ই অক্টোবর ২০১৮ সালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন সকালে অসুস্থবোধ করায় তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।[১৩][১৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আদনিন, নাজিয়া নুসরাত (২০১২-০৪-০২)। "LRB gigs at IGCC"নিউ এজ (ইংরেজি ভাষায়)। ঢাকা। ২০১৬-০৬-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-২৭ 
  2. "Ayub Bachchu"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ আগস্ট ২০১৬। ১১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৬ 
  3. "হাসপাতালে আইয়ুব বাচ্চু"যায়যায়দিন। ২৯ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৭ 
  4. "আইয়ুব বাচ্চুর জন্য শ্রদ্ধার মিছিলে স্মৃতির তর্পণ"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ঢাকা। ১৯ অক্টোবর ২০১৮। ২০ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৮ 
  5. "'অনন্ত প্রেম' থেকে 'আম্মাজান', চলচ্চিত্রে আইয়ুব বাচ্চু (ভিডিও)"দৈনিক যুগান্তর। ১৮ অক্টোবর ২০১৮। ১৯ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৮ 
  6. "গ্রামীণফোনে আইয়ুব বাচ্চুর নতুন গান"দৈনিক প্রথম আলো। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৬ 
  7. কবীর, আলমগির (৬ জুলাই ২০১৫)। "ছয় বছর পর একক অ্যালবাম নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু"দৈনিক নয়া দিগন্ত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৭ 
  8. "অভিনয়ে আইয়ুব বাচ্চু"দৈনিক প্রথম আলো। ৭ নভেম্বর ২০১০। ২০১৭-০৯-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৬ 
  9. "তা র কা স ং ঘ র্ষ: মুখোমুখি বাচ্চু-হামিন"যায়যায়দিন। ২৬ মার্চ ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৭ 
  10. "সংক্ষেপে আইয়ুব বাচ্চুর জীবন"এনটিভি অনলাইন। ১৮ অক্টোবর ২০১৮। ২০ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৮ 
  11. "শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আইয়ুব বাচ্চু"দৈনিক প্রথম আলো। ২৯ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৭ 
  12. "Ayub Bachchu hospitalised"দ্য ডেইলি স্টার। ২৯ নভেম্বর ২০১২। ৫ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৭ 
  13. "আইয়ুব বাচ্চু আর নেই"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  14. "নিজ গাড়িতে মৃত্যু হয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর: চিকিৎসক"পরিবর্তন.কম। ১৮ অক্টোবর ২০১৮। ১৯ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]