বাঙালি জাতীয়তাবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাঙালি জাতীয়তাবাদ হল একটি রাজনৈতিক অভিব্যক্তি যার মাধ্যমে বাংলার জনগণ, তথা বাংলার ভাষাগত অঞ্চলের অধিবাসীদের বুঝানো হয়ে থাকে।[১][২] এই অঞ্চলটি বাংলাদেশ এবং ভারত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ মধ্যে বিভক্ত করা হয়। ১৯ শতকের উদ্ভূত বাংলার নবজাগরণ এবং ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন, বাংলা ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টি পেছনে প্রধান অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করেছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধগুলি: বাংলার ইতিহাস এবং বাংলার নবজাগরণ

বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলার ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মধ্যে গৌরবজ্জ্বল ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলার নবজাগরণ বলতে বাঙালি সমাজের রুপান্তর এবং উন্নয়নে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও শিক্ষা প্রচলন শুরু হওয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে। বাংলা হয়ে ওঠে আধুনিক সংস্কৃতি, বুদ্ধিজীবী ও বৈজ্ঞানিক কাজকর্মের, রাজনীতি এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একটি অন্যতম প্রাধান কেন্দ্র। প্রথম সামাজিক ও ধর্মীয় পুনর্গঠন যেমন বাংলায় ব্রাহ্ম সমাজ এবং রামকৃষ্ণ মিশন ইত্যাদির নেতৃত্বে ছিলেন রাজা রামমোহন রায়, শ্রী অরুবিন্দু, রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের মত বিভিন্ন জাতীয় নেতা এবং সংস্কারকগণ। বাংলা সাহিত্য, কবিতা, ধর্ম, বিজ্ঞান এবং দর্শনের বিস্তারের ক্ষেত্রে বঙ্কিম চন্দ্র চট্টপাধ্যায় দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসুদন দত্ত, শরত চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ বোস, জগদীশ চন্দ্র বোস ও কাজী নজরুল ইসলামের কাজ ব্যাপক অবদান রাখে। ইয়ং বেঙ্গল, এবং যুগান্তর আন্দোলন এবং অমৃত বাজার পত্রিকার মত ভারতের সংবাদপত্রগুলো বুদ্ধিজীবী উন্নয়ন নেতৃত্বে দিয়েছিলো। কলকাতা-ভিত্তিক ভারতীয় ন্যাশনাল এসোসিয়েশন এবং ব্রিটিশ ভারতীয় এসোসিয়েশন ছিল ভারতে প্রথমদিকের রাজনৈতিক সংস্থা।

বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)[সম্পাদনা]

পূর্ব বঙ্গ ও আসাম প্রদেশের মানচিত্র
মূল নিবন্ধ: বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)

প্রথম বাঙলা জাতীয়তাবাদের যে আন্দোলনের সৃষ্টি হয় যা পরবর্তীতে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ নামে অধিক পরিচিত লাভ করে তা মূলত বিট্রিশ কর্তৃপক্ষ দ্বারাই সংঘঠিত হয়।'[৩][৪] বঙ্গভঙ্গকে বাঙালি মুসলমানরা সমর্থন করলেও অধিকাংশ বাঙালি বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করেন এবং স্বদেশী আন্দোলন এর মত বিভিন্ন ধরনের প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন এবং ব্যাপকভাবে ইউরোপীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেয়। বিট্রিশ আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং একটি অখন্ড বাঙলার প্রতিষ্ঠার আশায়, বাঙালিরা একটি বিপ্লবী আন্দোলন ডাক দেন, যা বাঙালির জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিগণিত হয়। বিপিন চন্দ্র পাল, খাজা সলিমুল্লাহ, চিত্তরঞ্জন দাস, মাওলানা আজাদ, সুভাষচন্দ্র বসু, তার ভাই শরৎচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এর মত রাজনৈতিক নেতাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙলা, ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠে।

ইউনাইটেড বঙ্গ[সম্পাদনা]

হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়া ও একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র চাহিদা ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠায়, ১৯৪৭ সালের মাঝামাঝি ভারত বিভাগের প্রয়োজনীয়তা প্রবল হয়ে উঠে।

ভাষা আন্দোলন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ নির্মাণ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.bangla2000.com/bangladesh/language.shtm
  2. "BANGLA - The Official Language of Bangladesh"। Betelco.com। সংগৃহীত ২০১১-১২-২২ 
  3. John R. McLane, "The Decision to Partition Bengal in 1905," Indian Economic and Social History Review, July 1965, 2#3, pp 221–237
  4. Encyclopedia Britannica, "Partition of Bengal" http://www.britannica.com/EBchecked/topic/60754/partition-of-Bengal

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]