কিশোর কুমার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
কিশোর কুমার
কিশোর কুমারের অপালোকচিত্র
কিশোর কুমার
জন্ম আভাষ কুমার গঙ্গোপাধ্যায়
(১৯২৯-০৮-০৪)৪ আগস্ট ১৯২৯
খান্দোওয়া, মধ্যপ্রদেশ এবং বেরার, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ১৩ অক্টোবর ১৯৮৭(১৯৮৭-১০-১৩) (৫৮ বছর)
বোম্বে, মহারাষ্ট্র, ভারত
জাতীয়তা ভারতীয়
জাতিসত্তা বাঙালি
নাগরিকত্ব ভারত
পেশা
  • গায়ক
  • প্লেব্যাক গায়ক
  • নেপথ্য গায়ক
  • গীতিকার
  • সুরকার
  • অভিনেতা
  • চলচ্চিত্র পরিচালক
  • স্ক্রিপ্ট লেখক
  • চিত্রনাট্য লেখক
  • বিনোদনকারী
  • রেকর্ড প্রযোজক
কার্যকাল ১৯৪৬–১৯৮৭
দাম্পত্য সঙ্গী
সন্তান
আত্মীয়
পুরস্কার নিচ দেখুন
সঙ্গীত কর্মজীবন
উদ্ভব খান্দোওয়া
ধরন
বাদ্যযন্ত্রসমূহ
  • কন্ঠ
  • পিয়ানো

কিশোর কুমার গাঙ্গুলি, (জন্ম আভাষ কুমার গঙ্গোপাধ্যায়; আগস্ট ৪, ১৯২৯ – অক্টোবর ১৩, ১৯৮৭) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি গায়ক, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক,চিত্রনাট্যকার এবং রেকর্ড প্রযোজক।[১] সাধারণত তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বাধিক সফল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে বিবেচিত হন। কিশোর কুমারের চার অদ্ভুত কাহানী:-কিশোর কুমার ৪ই আগস্ট ৪টার সময় জন্ম গ্রহণ করেন এবং ৪র্থ সন্তান। তিনি জীবনে ৪ টি বিবাহ করেন, চলচ্চিত্র জীবনে ৪টি বাংলা ফিল্মে অভিনয় করেন। কিশোর কুমার জনপ্রিয়ভাবে কিশোর দা নামেও পরিচিত।

কিশোর কুমার বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, অসমীয়া, গুজরাটি, কন্নড়, ভোজপুরি, মালায়লম, ওড়িয়া, এবং উর্দু। এছাড়াও তিনি তার ব্যক্তিগত অ্যালবামেও বিভিন্ন ভাষায় গান করেছেন, বিশেষত তার বাংলায় গাওয়া গানগুলি সর্বকালের ধ্রুপদী গান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি ৮ বার শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য গায়কের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন এবং একই বিভাগে সর্বাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার বিজয়ের রেকর্ড করেছেন। তাকে মধ্যপ্রদেশ সরকার কর্তৃক লতা মঙ্গেশকর পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং তার নামে হিন্দি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য কিশোর কুমার পুরস্কার প্রদান চালু করে।

সাধারণত গায়ক হিসাবে তাকে দেখা হলেও তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতাও ছিলেন। তার অভিনীত বিখ্যাত কয়েকটি কমেডি চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে বাপ রে বাপ (১৯৫৫), চলতি কা নাম গাড়ি (১৯৫৮), হাফ টিকিট (১৯৬২), পড়োশন (১৯৬৮), হাঙ্গামা (১৯৭১), পেয়ার দিবানা (১৯৭৩), বাড়তি কা নাম দাড়ি (১৯৭৪)। এছাড়া অন্যান্য সিনেমার ভিতর রয়েছে নোকরি, বন্দী, দূর গগন কি ছাঁও মে, দূর কা রাহি প্রভৃতি।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

কিশোর কুমার মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়াতে এক মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলি ছিলেন একজন উকিল। তাঁর মার নাম ছিল গৌরী দেবী। কিশোর কুমারের ছোটবেলায় নাম ছিল আভাস কুমার গাঙ্গুলি। চার ভাই বোনের ভিতর কিশোর ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। সবথেকে বড় ছিলেন অশোক কুমার তারপর সীতা দেবী। তারপর অনুপ কুমার আর অনুপ কুমারের থেকে পাঁচ বছরের ছোট ছিলেন কিশোর কুমার।

কিশোরের শৈশবকালীন সময়েই তাঁর বড়দা অর্থাৎ জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা অশোক কুমার বোম্বেতে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে বড় সাফল্য পান। এই সফলতা ছোট্ট কিশোরের উপরে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ছোটবেলা থেকেই কিশোর বিখ্যাত গায়ক কুন্দন লাল সায়গলের একজন বড় ভক্ত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সায়গলের গানগুলো অনুকরণ করতেন বা নকল করে গাইতেন। এছাড়াও তাঁর বাড়ির লোক তাঁকে দাদা অশোক কুমারের বিখ্যাত গান “মেঁ বন কে পঞ্ছী বন বন কে” বার বার গাইতে বলতেন। অশোক কুমারের সাফল্যের পর কিশোরের আরেক দাদা অনুপ কুমারও বোম্বের হিন্দি সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পঞ্চাশের দশকের সাফল্য[সম্পাদনা]

কিশোর কুমারের অভিনয় খুব একটা পছন্দ ছিল না। তিনি গান গাইতেই চাইতেন। কিন্তু তাঁর গানের কোন ধরাবাঁধা শিক্ষা ছিল না। দাদা অশোক কুমারের ফিল্ম জগতে অনেক পরিচিতি থাকার ফলে কিশোর বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান কিন্তু সেগুলিতে দর্শকদের মনে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি। তবে এই সিনেমাগুলোয় তিনি গান গাইবার সুযোগ পেতেন। এই প্রাথমিক অবস্থায় তিনি কুন্দন লাল সায়গলের নকল করে গাইতেন। পরে শচীন দেব বর্মনের পরমর্শে তিনি নিজের গাইবার কায়দা পাল্টান এবং এমন এক গাইবার কায়দা উদ্ভাবন করেন যা সেই সময়ের অপর প্রধান দুই গায়ক মহম্মদ রফি এবং মুকেশের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর গানের বৈশিষ্ট্য ছিল গলাকে ভেঙে গান গাওয়া যা আগে কখনও শোনা যায়নি। তবে এই কায়দা খুবই জনপ্রিয় হয়। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত কমেডি নায়ক হিসাবে জনপ্রিয় হন। তাঁর অভিনয়ের কায়দা ছিল অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেই সময়ের প্রবল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতাশালী তিন নায়ক - রাজ কাপুর, দেব আনন্দ এবং দিলীপ কুমার বলিউড শাসন করা সত্ত্বেও কিশোর কুমার নিজের এক পৃথক জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি ছিলেন এক প্রবল ব্যস্ত, সফল নায়ক এবং গায়ক। এছাড়াও তিনি সুরকার, গীতিকার এবং প্রযোজকের ভূমিকাও পালন করতে লাগেন। শচীনদেব বর্মন ছাড়াও আরেক সুরকার যিনি কিশোরের সঙ্গীত প্রতিভা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি হলেন খেমচাঁদ প্রকাশ। খেমচাঁদ প্রকাশের সুর জিদ্দি সিনেমার গান গেয়ে কিশোর গায়ক হিসাবে পায়ের নিচে মাটি পান। এছাড়া অন্যান্য সুরকার যেমন রবি এবং দুই বিশিষ্ট গীতিকার - মজরু সুলতানপুরিশৈলেন্দ্র কিশোরের ভক্ত হয়ে ওঠেন। এই সময়ের তাঁর গায়ক হিসাবে অন্যতম সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে পেয়িং গেস্ট (১৯৫৭), চলতি কা নাম গাড়ি (১৯৫৮), তিন দেবিয়াঁ।

ষাটের দশকের ব্যর্থতা[সম্পাদনা]

ষাটের দশকের শুরু থেকেই কিশোরের ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা ঘনিয়ে আসে। কিশোরের অধিকাংশ সিনেমাই ব্যবসায়িকভাবে অসফল হয়। এবং এই সময়ের কিশোরের খুব কম গানই আছে মনে রাখার মত। মুনিমজি (১৯৬২), গাইড (১৯৬৫) এবং জুয়েল থিফ (১৯৬৭) ছাড়া মনে রাখার মত বেশি গানও তিনি গাননি। ১৯৬৬ সালে সুরকার হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে শচীনদেব বর্মনের পুত্র রাহুল দেব বর্মনের। তাঁর প্রথম সুপারহিট সিনেমা তিসরি মঞ্জিলে কিশোর কোন গান গাননি। কিন্তু ১৯৬৮ সালে 'পড়শন' সিনেমায় রাহুল দেব বর্মনের সুরে কিশোর বেশ কয়েকটি হিট গান গান।

চরম সাফল্য[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালে শক্তি সামন্ত'র আরাধনা শুভমুক্তি পায়। এই সিনেমার নায়ক ছিলেন নবাগত রাজেশ খান্না। রাজেশ খান্নার জন্য এই সিনেমায় কিশোর তিনটি গান গেয়েছিলেন - ‘কোরা কাগজ থা ইয়ে মন মেরা’ লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে -আর দুটি হোলো- রূপ তেরা মস্তানা এবং ‘মেরে সপনো কি রানী’। তিনটি গানই বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং কিশোর কুমারের সঙ্গীতজীবনকে আবার উপরে উঠিয়ে দেয়। এই সিনেমায় রূপ তেরা মস্তানা গানের জন্য কিশোর প্রথম বার ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান।

পরবর্তী বছরগুলোতে কিশোর গায়ক হিসাবে ব্যাপক সাফল্যতা লাভ করেন। সে সময়ে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত সব নায়ক যেমন রাজেশ খান্না, শশী কাপুর, ধর্মেন্দ্র, রণধীর কাপুর, সঞ্জীবকুমার এবং দেব আনন্দের জন্য তিনি গান গেয়েছেন। এই সময়ে শচীন দেব বর্মন এবং রাহুল দেব বর্মনের সুরে তিনি প্রচুর কালজয়ী গান গেয়েছেন। রাহুল দেব বর্মনের সুরে তিনি বম্বে টু গোয়া সিনেমাতে প্রথমবারের জন্য অমিতাভ বচ্চনের জন্য গান করেন। ১৯৭৩ সালে অমিতাভের 'অভিমান' সিনেমার জন্য তাঁর গানগুলি সুপারহিট হয়। এরফলে পরবর্তী মেগাস্টার অমিতাভের নেপথ্য গায়ক হিসাবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

কিশোরের এই সাফল্যের পরে বলিউডের অন্য সুরকারেরাও তাঁকে নিজেদের প্রধান গায়ক হিসাবে বেছে নিতে বাধ্য করে। এঁদের মধ্যে প্রধান ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল জুটি। গীতিকার আনন্দ বক্সী সুরকার লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল এবং কিশোরকুমার জুটি বেশ কিছু রাজেশ খান্নার সিনেমার জন্য অনবদ্য সঙ্গীত উপহার দেন। যেমন দাগ, রোটি, হাথি মেরে সাথি। লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলালের সুরেই কিশোর ও মোহাম্মদ রফি একসাথে গান করেন এবং কিশোর ও লতা মঙ্গেশকরের বেশ কিছু ভাল ডুয়েট গান তৈরি হয়।

কিশোর কুমার এবং সুরকার কল্যাণজী-আনন্দজী জুটিও বেশ কিছু হিট গান উপহার দেন। যেমন ধর্মাত্মা, লাওয়ারিস, কাবিলা, জনি মেরা নাম, ডন, কাগজ, সফর, মুকাদ্দর কা সিকন্দর প্রভৃতি সিনেমার গান। সত্তর এবং আশির দশক জুড়ে কিশোরের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। নতুন অল্পবয়েসি নায়ক যেমন ঋষি কাপুর এবং সঞ্জয় দত্তের জন্যও তিনি সফল গান উপহার দেন। রাহুলদেব বর্মনের সুরেই যে তিনি সবথেকে বেশী হিট গান করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। রাহুল এবং কিশোর জুটির কিছু অনবদ্য সিনেমার নাম হল শোলে, ওয়ারান্ট, হীরা পান্না, শরীফ বদমাশ, আঁধি, রকি, দ্য বার্নিং ট্রেন, আপকি কসম, আপনা দেশ, ধরম করম, টক্কর, সীতা আউর গীতা, জোশিলা, কসমে বাদে, রামপুর কা লক্ষ্মণ, কালিয়া, গোলমাল প্রভৃতি। নতুন সুরকার যেমন রাজেশ রোশন এবং বাপী লাহিড়ী'র সুরেও তিনি বেশ কিছু হিট গান গেয়েছেন। রাজেশ রোশনের সুরে দো অর দো পাঁচ, দুসর আদমি, মনপসন্দ, এবং বাপ্পী লাহিড়ী'র সুরে নমক হালাল এবং শরাবী সিনেমার গান উল্লেখযোগ্য। তাঁর পুরো কেরিয়ারে কিশোর আটবার শ্রেষ্ঠ গায়কের ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান।

বাংলা গান এবং চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

হিন্দির পাশাপাশি তিনি প্রচুর জনপ্রিয় বাংলা সিনেমাসহ বাংলা আধুনিক গানও গেয়েছেন। উত্তম কুমারের জন্য তাঁর প্লেব্যাক করা উল্লেখযোগ্য ছবির ভিতর রয়েছে রাজকুমারী, অমানুষ, আনন্দ আশ্রম এবং ওগো বধূ সুন্দরী। একটি বাংলা ছবি লুকোচুরি তে তিনি নায়কের অভিনয় এবং গান করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের দু'টি সিনেমা চারুলতাএবং ঘরে বাইরের জন্য তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়েছিলেন। বাংলা সিনেমার বিখ্যাত দুই নায়ক প্রসেনজিৎ এবং তাপস পালের কেরিয়ারের দুই উল্লেখযোগ্য হিট যথাক্রমে অমর সঙ্গী এবং গুরুদক্ষিণার জন্যও তিনি প্লেব্যাক করেছিলেন। কেরিয়ারের শেষদিকে কিশোর কুমার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম রেকর্ড করেন।

প্লেব্যাক করা বাংলা ছবি[সম্পাদনা]

  • অমরকন্টক
  • আশ্রিতা
  • অনিন্দিতা
  • অমর সঙ্গী
  • কবিতা
  • গুরুদক্ষিণা
  • জীবন মরণ
  • জ্যোতি
  • তুমি কত সুন্দর
  • দোলন চাঁপা
  • পাপ পুণ্য
  • বান্ধবী
  • মিলন তিথি
  • মোহনার দিকে
  • সঙ্কল্প
  • সুরের আকাশে

জনপ্রিয় বাংলা গান[সম্পাদনা]

  • আমার মনের এই ময়ূর মহলে
  • আমার পূজার ফুল
  • এক পলকের একটু দেখা
  • এ আমার গুরুদক্ষিণা
  • একদিন পাখী উড়ে যাবে যে আকাশে
  • এই যে নদী
  • এই তো জীবন- হিংসা, বিবাদ, লোভ হোক বিদ্বেষ
  • হাওয়া মেঘ সরায়ে
  • কি আশায় বাঁধি খেলাঘর
  • কি উপহার সাজিয়ে দেব
  • তোমায় পড়েছে মনে
  • নীল নীল আকাশে
  • প্রেমের খেলা কে বুঝিতে পারে
  • শুনো শুনো গো সবে

এছাড়াও, 'নয়ন সরসী কেন ভরেছে জলে' শিরোনামীয় গানটি কিশোর নিজেই সুর করেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

কিশোর কুমার চারবার বিয়ে করেছেন। রুমা গুহঠাকুরতা (১৯৫০-১৯৫৮), মধুবালা (১৯৬০-১৯৬৯), যোগিতা বালী (১৯৭৫-১৯৭৮) এবং লীনা চন্দাভারকর (১৯৮০-১৯৮৭)। কিশোরের প্রথম পুত্র (রুমা গুহ ঠাকুরতার সাথে) অমিত কুমার একজন বিখ্যাত গায়ক। যোগিতা বালি কে পরে মিঠুন চক্রবর্তী বিবাহ করেন। অমিত কুমার তাঁর বাবার মত সাফল্য না পেলেও বেশ কিছু হিট গান উপহার দিয়েছেন। কিশোরের ছোট ছেলে সুমিত কুমার (লীনা চন্দাভারকরের সাথে) একজন গায়ক হবার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

অক্টোবর ১৩, ১৯৮৭ সালে ৫৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই ভারতের এই জনপ্রিয় শিল্পীর মৃত্যু ঘটে।

প্রভাব[সম্পাদনা]

হিন্দি সিনেমার সঙ্গীতের উপর তাঁর প্রভাব এখনও বিশাল ও ব্যাপক। বর্তমান কালের প্রতিষ্ঠিত অনেক গায়ক যেমন কুমার শানু, অভিজিৎ, বাবুল সুপ্রিয়, অমিত কুমার প্রায় সকলেই তাঁদের কেরিয়ারের প্রথম দিকে কিশোরের গানগুলোক অনুকরণ বা নকল করে গাইতেন। তাঁর গানের এখনও খুব ভাল বাজার। তাঁর গানের রিমেক এবং রিমিক্স বাজারে হু হু করে বিক্রি হয়।

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

কিশোর কুমার সর্বমোট ২,৭০৩টি গান গেয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮৮টি হিন্দি চলচ্চিত্রে, ১৫৬টি বাংলা এবং ৮টি তেলেগু ভাষায়।[২]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

ফিল্মফেয়ার পুরস্কার

বিজয়:

বছর গান চলচ্চিত্র সঙ্গীত পরিচালক গীতিকার
১৯৬৯ "রূপ তেরা মাস্তানা" আরাধনা শচীন দেববর্মণ আনন্দ বক্সী
১৯৭৫ "দিল আইসা কিসি নে মেরা" অমানুষ শ্যামল মিত্র ইন্দেভার
১৯৭৮ "খাইকে পান বানারাস ওয়ালা" ডন কল্যাণজী-আনন্দজী আনজান
১৯৮০ "হাজার রাহি মুড়কে দেখা" থোরিসি বেওয়াফায়ি খৈয়াম গুলজার
১৯৮২ "পাগ ঘুঙরু বান্ধ" নমক হালাল বাপ্পি লাহিড়ী আনজান
১৯৮৩ "আগার তুম না হোতে" আগার তুম না হোতে রাহুল দেব বর্মন গুলশান বাওরা
১৯৮৪ "মাঞ্জিলে আপনি জাগা হ্যায়" শারাবী বাপ্পি লাহিড়ী আনজান
১৯৮৫ "সাগর কিনারে" সাগর রাহুল দেব বর্মন জাভেদ আখতার

মনোনীত:

বছর গান চলচ্চিত্র সঙ্গীত পরিচালক গীতিকার
১৯৭১ "জিন্দগেী এক সাফার" আন্দাজ শঙ্কর জাইকিষান হাসরাত জাইপুরি
১৯৭১ "ইয়ে যো মোহাব্বাত হ্যায়" কাটি পতং রাহুল দেব বর্মন আনন্দ বক্সী
১৯৭২ "চিঙ্গারি কোয়ি ভরকে" অমর প্রেম রাহুল দেব বর্মন আনন্দ বক্সী
১৯৭৩ "মেরে দিল মে আজ" দাগ: অ্যা পোয়েম অব লাভ লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল সাহির লুধিয়ানভি
১৯৭৪ "গাড়ি বুলা রাহি হ্যায়" দোস্ত লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল আনন্দ বক্সী
১৯৭৪ "মের জীবন কোরা কাগজ" কোরা কাগজ কল্যাণজী-আনন্দজী এম.জি.হাশমত
১৯৭৫ "ম্যা পেয়াসা তুম" ফারার কল্যাণজী-আনন্দজী রাজেন্দ্র কৃষান
১৯৭৫ "ও মাঝি রে" খুশবু রাহুল দেব বর্মন গুলজার
১৯৭৭ "আপ কে অনুরোধ" অনুরোধ লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল আনন্দ বক্সী
১৯৭৮ "ও সাথী রে" মুকাদ্দর কে সিকান্দর কল্যাণজী-আনন্দজী আনজান
১৯৭৮ "হাম বেয়াফা হারগিজ" শালিমার রাহুল দেব বর্মন আনন্দ বক্সী
১৯৭৯ "এক রাস্তা হ্যায় জিন্দেগী" কালা পাত্থর রাজেশ রোশন সাহির লুধিয়ানভি
১৯৮০ "ওম শান্তি ওম" কর্জ লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল আনন্দ বক্সী
১৯৮১ "হামে তুমসে প্যায়ার" কুদরাত রাহুল দেব বর্মন মাজরুহ সুলতানপুরি
১৯৮১ "ছুকার মেরে মন কো" ইয়ারানা রাজেশ রোশন আনজান
১৯৮৩ "শায়েদ মেরি শাদী" সৌতন উষা খান্না সাওয়ান কুমার
১৯৮৪ "দে দে প্যায়ার দে" শারাবী বাপ্পি লাহিড়ী আনজান
১৯৮৪ "ইন্তেহা হো গায়ি" শারাবী বাপ্পি লাহিড়ী আনজান
১৯৮৪ "লোগ কেহেতে হ্যায়" শারাবী বাপ্পি লাহিড়ী আনজান
বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার

বিজয়:

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

  • পরিচালক অনুরাগ বসু কিশোর কুমারের জীবন এবং সময় নিয়ে একটি অফিসিয়াল বায়োপিক মির্মান করেন, যেখানে কিশোর কুমার চরিত্রে রণবীর কাপুর অভিনয় করেন।[৭]
  • সার্চ ইঞ্জিন গুগল আগস্ট ৪, ২০১৪, কিশোর কুমারের ৮৫তম জন্মদিন তপাদরে ভারতীয় হোমপেজে একটি বিশেষ ডুডল প্রদর্শন করে।[৮]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Valicha, Kishor (১ এপ্রিল ২০০১)। Kishore Kumar: The Definitive Biography (1st সংস্করণ)। Mumbai: Penguin Books। আইএসবিএন 0140278222। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. http://muvyz.com/people/ey295135
  3. 34th Annual BFJA Awards[অকার্যকর সংযোগ]
  4. 35th Annual BFJA Awards[অকার্যকর সংযোগ]
  5. 36th Annual BFJA Awards[অকার্যকর সংযোগ]
  6. 38th Annual BFJA Awards[অকার্যকর সংযোগ]
  7. Ranbir Kapoor to star in Kishore Kumar biopic, Katrina Kaif may play Madhubala | NDTV Movies.com
  8. "Google doodles Kishore Kumar's versatility"IBN Live। New Delhi। ৪ আগস্ট ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৪ 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Bose, Derek (২০০৪)। Kishore Kumar: Method in MadnessNew Delhi: Rupa & Co.। আইএসবিএন 978-81-291-0526-4ওসিএলসি 57429780 
  • Valicha, Kishore (১৯৯৮)। Kishore Kumar: The Definitive BiographyNew York/New Delhi: Penguin Books/Viking। আইএসবিএন 978-0-670-88264-9ওসিএলসি 40164015 
  • Nerurkar, Vishwas (২০০৪)। Kishore Kumar: The Many Faces of a Genius (The Ultimate Book which includes his complete filmography, discography, unreleased material, and film posters of his films)। Gayathri Publications। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]