গৌড় অঞ্চল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
যে সিরিজের অংশ সেটি হল
বাংলার ইতিহাস
Atisha.jpg
প্রাচীন বাংলা
 বৈদিক যুগ 
বাংলার প্রাচীন জনপদসমূহ
গঙ্গারিডাই, বঙ্গ,
পুণ্ড্র, সুহ্ম,
অঙ্গ, হরিকেল

মৌর্যযুগ
ধ্রুপদী বাংলা
ধ্রুপদী যুগ
শশাঙ্ক
সাম্রাজ্যের যুগ
পাল সাম্রাজ্য, সেন সাম্রাজ্য
মধ্যযুগীয় বাংলা
ইসলামের আগমন
বাংলা সুলতানী, দেব রাজ্য
বখতিয়ার খিলজি, রাজা গণেশ, জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ, হুসেন শাহী রাজবংশ

মুঘল যুগ
প্রতাপাদিত্য, রাজা সীতারাম রায়
বাংলার নবাব, বারো ভুঁইয়া, রাণী ভবাণী

আধুনিক বাংলা
কোম্পানি রাজ
পলাশীর যুদ্ধ, জমিদারী ব্যবস্থা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্রিটিশ ভারত
বাংলার নবজাগরণ
ব্রাহ্মসমাজ
স্বামী বিবেকানন্দ, জগদীশচন্দ্র বসু,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু

উত্তর-সাম্রাজ্য যুগ
বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭), বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ
শেখ মুজিবুর রহমান, জ্যোতি বসু, বিধানচন্দ্র রায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা

এছাড়াও দেখুন
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ

গৌড় ছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার একটি অঞ্চল।[১][২]

অবস্থান ও বিস্তার[সম্পাদনা]

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র (আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৩৫০-২৮৩ অব্দ) গ্রন্থে বঙ্গ, পুণ্ড্রকামরূপের সঙ্গে গৌড় রাজ্যেরও নাম পাওয়া যায়। আরও কয়েকটি প্রাচীন গ্রন্থে এই রাজ্যের উল্লেখ রয়েছে। বরাহমিহিরের লেখা বৃহৎসংহিতা (আনুমানিক খ্রীষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী) গ্রন্থে ছয়টি পৃথক জনপদের নাম পাওয়া যায়। এই ছয়টি জনপদ ছিল গৌড়ক, পৌণ্ড্র, বঙ্গ, সমতট, বর্ধমানতাম্রলিপ্ত। তাঁর বর্ণনা থেকে মনে হয়, আধুনিক কালের মুর্শিদাবাদবীরভূম জেলা এবং বর্ধমান জেলার পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে প্রাচীন গৌড় অঞ্চল গঠিত ছিল।[২] গৌড় ও বঙ্গ নামদুটি মাঝে মাঝে পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে।[১]

প্রাচীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম রাজা ছিলেন শশাঙ্ক। তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ জেলার সদর বহরমপুর থেকে ৯.৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত)। আনুমানিক ৫৯০ থেকে ৬২৫ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে তিনি রাজত্ব করেছিলেন।[১] চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং কর্ণসুবর্ণ থেকে উড়িষ্যার উপকূলের একটি অঞ্চলে এসে উপস্থিত হন। সমগ্র অঞ্চলটিই শশাঙ্কের রাজ্যভুক্ত ছিল বলে জানা যায়।[২] কোনো কোনো প্রাচীন নথি থেকে জানা যায়, পুণ্ড্রবর্ধনও গৌড়ের অন্তর্গত ছিল।[৩]

গৌড়ের ধ্বংসপ্রাপ্ত মুসলমানী স্থাপত্য দাখিল দরওয়াজার লিথোগ্রাফ, ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্ব।

রাঢ় অঞ্চল গৌড়ের অন্তর্গত ছিল কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান। কৃষ্ণ মিশ্র (একাদশ অথবা দ্বাদশ শতাব্দী) তাঁর প্রবোধচন্দ্রোদয় গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন রাঢ়াপুরী (রাঢ়) ও ভুরিশ্রেষ্ঠিকা (হাওড়া-হুগলি জেলার অন্তর্গত প্রাচীন অঞ্চল, অধুনা ভুরসুট নামে পরিচিত) গৌড়ের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু যাদবরাজ প্রথম জয়তুগির মানাগোলি শিলালেখ থেকে জানা যায় লালা (রাঢ়) ও গৌল (গৌড়) ছিল পৃথক দুটি অঞ্চল।[১]

ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীর জৈন লেখকদের রচনা থেকে জানা যায়, আধুনিক মালদহ জেলায় অবস্থিত লক্ষ্মণাবতীও গৌড়ের অন্তর্গত ছিল।[১]

পাল সম্রাটগণ বঙ্গপতি ও গৌড়েশ্বর নামে পরিচিত ছিলেন। সেন রাজাদেরও গৌড়েশ্বর বলা হত। তা থেকে অনুমিত হয় গৌড় ও বঙ্গ নামদুটি সমগ্র বাংলারই নাম ছিল।[১]

মুসলমান যুগের আদিপর্বে গৌড় নামটি দ্বারা অধুনা মালদহ জেলার লক্ষ্মণাবতী শহরটিকে বোঝাত।[১]

প্রাচীন নগরী গৌড়[সম্পাদনা]

মালদহ জেলায় অবস্থিত প্রাচীন লক্ষ্ণৌতি বা লক্ষ্মণাবতী নগরীর ধ্বংসাবশেষ আধুনিককালে গৌড় নামে পরিচিত। এই শহরটি রাজমহল থেকে ৪০ কিলোমিটার ভাটিতে গঙ্গার পশ্চিম কূলে অবস্থিত।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Majumdar, Dr. R.C., History of Ancient Bengal, first published 1971, reprint 2005, pp. 5-6, Tulshi Prakashani, Kolkata, আইএসবিএন ৮১-৮৯১১৮-০১-৩.
  2. সুচন্দ্রা ঘোষ। "গৌড়, জনপদ"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। 
  3. Bandopadhyay, Rakhaldas, Bangalar Itihas, (বাংলা), first published 1928, revised edition 1971, vol I, p 101, Nababharat Publishers, 72 Mahatma Gandhi Road, Kolkata.