ফুলবাড়ী উপজেলা, দিনাজপুর

স্থানাঙ্ক: ২৫°৩১′ উত্তর ৮৮°৫৩′ পূর্ব / ২৫.৫১৭° উত্তর ৮৮.৮৮৩° পূর্ব / 25.517; 88.883
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ফুলবাড়ী উপজেলা (দিনাজপুর) থেকে পুনর্নির্দেশিত)
ফুলবাড়ী
উপজেলা
ফুলবাড়ী রংপুর বিভাগ-এ অবস্থিত
ফুলবাড়ী
ফুলবাড়ী
ফুলবাড়ী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ফুলবাড়ী
ফুলবাড়ী
বাংলাদেশে ফুলবাড়ী উপজেলা, দিনাজপুরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৩১′ উত্তর ৮৮°৫৩′ পূর্ব / ২৫.৫১৭° উত্তর ৮৮.৮৮৩° পূর্ব / 25.517; 88.883 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগরংপুর বিভাগ
জেলাদিনাজপুর জেলা
আয়তন
 • মোট২২৯.৫৫ বর্গকিমি (৮৮.৬৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১,৭৬,০২৩[১]
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫২.৬০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৫২৬০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫৫ ২৭ ৩৮
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ফুলবাড়ী বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। দিনাজপুর সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে ফুলবাড়ী উপজেলা অবস্থিত। সংসদীয় আসন দিনাজপুর-৫ এর অধীনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর উত্তরে পার্বতীপুর উপজেলা, পূর্বে নবাবগঞ্জ উপজেলাবিরামপুর উপজেলা, দক্ষিণে বিরামপুর উপজেলা এবং ভারত সীমান্ত এবং পশ্চিমে চিরিরবন্দর উপজেলা অবস্থিত।

অবস্থান[সম্পাদনা]

দিনাজপুর জেলার একটি উপজেলা হল ফুলবাড়ী। উত্তরে পার্বতীপুর উপজেলা, পূর্বে নবাবগঞ্জ উপজেলাবিরামপুর উপজেলা, দক্ষিণে বিরামপুর উপজেলা এবং ভারত এবং পশ্চিমে চিরিরবন্দর উপজেলা

নামকরণ[সম্পাদনা]

দিনাজপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় এই উপজেলাটি ছোট যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। এককালে ফুলবাড়ী ছিলো একটি দুর্গনগরী, একে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিলো নগর ও জনবসতি। সেইপ্রাচীনকালের নগরীর রেশ ও ক্রমধারায় নতুন আধুনিক শহর ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে। কিন্তু দুর্গটির কোনো চিহ্ন আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমানে শহরের হাট বাজার ও ব্যবসাকেন্দ্র প্রাচীন দুর্গের অভ্যন্তরেই গড়ে উঠেছে। জনশ্রুতি রয়েছে যে, প্রাচীন আমলে এই অঞ্চলে প্রচুর ফুলের বাগান ছিল। ফুলের বাগানের আধিক্যের কারণে এই জায়গাটির নাম ফুলবাড়ী হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সাম্প্রতিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

ফুলবাড়ি চুক্তি[সম্পাদনা]

২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ি কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের জন্য এশিয়া এনার্জি কোম্পানির বিরুদ্ধে স্থানীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিডিআর গুলি চালালে তিনজন নিহত হন ও প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন। পরবর্তীতে আন্দোলন পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর, বিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার ফুলবাড়ী চুক্তি করতে বাধ্য হয়। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতি বছর ২৬ আগস্ট "ফুলবাড়ী দিবস" হিসেবে পালন করে।[২]

বিবরণ[সম্পাদনা]

আয়তন[সম্পাদনা]

  • মোট আয়তনঃ ২২৯.৫৫ বর্গ কিঃ মিঃ
  • মোট ইউনিয়নের সংখ্যাঃ ৭ টি
  • পৌরসভার সংখ্যাঃ ১ টি
  • মোট মৌজা/মহল্লার সংখ্যাঃ ১৭১ টি
  • মোট গ্রামের সংখ্যাঃ ১৭১ টি

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ খ্রিঃ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী

  •     মোট পুরুষঃ  ৮৮৯৮৪ জন
  •     মোট মহিলাঃ ৮৭০৩৯ জন
  •     মোট জন সংখ্যাঃ ১৭৬০২৩ জন
  •     মোট পরিবারের সংখ্যাঃ   ৪৩১৩৭ টি

কৃষি ও ভূমির ব্যবহার[সম্পাদনা]

  •    বন ভূমিঃ    ৯৯ হেক্টর
  •    জলা ভূমিঃ    ৩০০ হেক্টর

যোগাযোগ ও যানবাহন[সম্পাদনা]

  •     পাকা রাস্তাঃ      ১৫৫ কিঃ মিঃ
  •     আধাপাকা রাস্তাঃ   ১৮ কিঃ মিঃ
  •     কাঁচা রাস্তাঃ  ৩৪৫ কিঃ মিঃ
  •     রেল পথঃ  ১২ কিঃ মিঃ
  •     রেলস্টেশনঃ       ১ টি
  •     বাস স্টপেজঃ       ৪ টি
  •     বাস ও মিনি বাসের সংখ্যাঃ   ২৫ টি
  •     ডাক ঘরের সংখ্যাঃ    ৭ টি
  •     টি,এন্ড টি অফিসঃ  ১ টি

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

ফুলবাড়ী উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন হলো—

স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন[সম্পাদনা]

  •    হাসপাতালের সংখ্যাঃ    ১ টি।
  •    স্বাস্থ্য ও ক্লিনিকের সংখ্যাঃ   ৭ টি।
  •    ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যাঃ   ২টি
  •    কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যাঃ  ২১ টি
  •    ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংখ্যাঃ   ৪ টি
  •    দাতব্য চিকিৎসালয়     সংখ্যাঃ      ×
  •    মোট টিউবওয়েলের সংখ্যাঃ  ১৭৫০ (তারা- ৬৫৬টি ও অগভীর টিউবওয়েল- ১০৯৪টি)
  •    সরবরাহকৃত স্যানিটেশন ল্যাট্রিনের সংখ্যাঃ  ২৮২৭৩ সেট
  •     স্যানিটেশনের হারঃ  ৯০.০১%

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  •    শিক্ষার হার :    ৫২.৬০%
  •    কলেজের সংখ্যাঃ   সরকারী- ১ টি, বে-সরকারী- ৪ টি, বিএম কলেজ- ২টি।
  •    স্কুল এন্ড কলেজঃ     ০২ টি
  •    মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাঃ     ৩২ টি
  •    নিম্ন- মধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাঃ   ৬ টি
  •    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাঃ   ৪৭ টি
  •    বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাঃ   ৬২ টি
  •    কমিউনিটি স্কুল সংখ্যাঃ      ×
  •    মোট মাদ্রাসার সংখ্যাঃ ১৫ টি
  •    কামিল মাদ্রাসার সংখ্যাঃ  ×
  •    ফাজিল মাদ্রাসার সংখ্যাঃ  ৪ টি
  •    আলিম মাদ্রাসার সংখ্যাঃ   ১ টি
  •    দাখিল মাদ্রাসার সংখ্যাঃ   ১০ টি
  •    এবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যাঃ   ৮ টি
  •    মসজিদের সংখ্যাঃ   ৩১৮ টি
  •    মন্দিরের সংখ্যাঃ  ৫৪ টি
  •    গীর্জার সংখ্যাঃ  ১৫ টি
  •    ঈদগাহ্র সংখ্যাঃ  ৪১ টি
  •    হাট-বাজারের সংখ্যাঃ  ১২ টি

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

প্রাথমিক শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • মাধ্যমিক শিক্ষা

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা[সম্পাদনা]

১৭ এপ্রিল দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার গণহত্যা দিবস।১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী খানসেনা ও তাদের এ দেশীয় রাজাকার, আলবদর ও আল-শামসদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মুক্তিকামী মানুষ যখন বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিল ঠিক এমনই এক সময় আজকের এই দিনে ফুলবাড়ি উপজেলার পার্শ্ববর্তী আফতাবগঞ্জ, বিরামপুর, শেরপুর, খোলাহাটি, বদরগঞ্জ ও ভবানীপুর এলাকার অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ফুলবাড়িতে নিয়ে আসে পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার (বর্তমান ফুলবাড়ি) রামচদ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার। কিন্তু কেনান সরকার ঐ পরিবারগুলোকে ভারতে পৌঁছে না দিয়ে তুলে দেয় ফুলবাড়িতে অবস্থানরত খানসেনাদের হাতে। এর পরিবর্তে কেনান সরকার হাতিয়ে নেয় ঐ পরিবারগুলোর সাথে থাকা বিপূল অংকের নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার। খানসেনারা আটক পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ধরে নিয়ে আসে আঁখিরা পুকুর পাড়ে। সকাল ১১টায় সকলকে পুকুর পাড়ে লাইন ধরে দাড়িয়ে রেখে স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ারে গুলি করে পাখির মতো হত্যা করে। এ সময় দু’একজন শিশু-কিশোর প্রাণে বেঁচে গেলেও পরে তাদেরকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। স্বাধীনের পর ঐ এলাকায় বীর ঐসব শহীদদের হাঁড়, মাথার খুলি ছিড়িয়ে ছটিয়ে দেখতে পায় এলাকাবাসী। দেশ স্বাধীনের পর রাজাকার কেনান সরকারকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করে প্রতিশোধ নেন। দেশ স্বাধীনের পর থেকে আঁখিরা বধ্যভূমিটি সংরণসহ সেখানে বীর ঐসব শহীদদের স্মৃতি উদ্দেশ্যে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃষি ক্ষেত্র: এখানে অধিকাংশ মানুষই কোন না কোন ভাবে কৃষির সাথে যুক্ত।এখানে প্রধান ফসল ধান হলেও তার পাশাপাশি গম,ভুট্টা,আলু ও বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ হয়।

নদীসমূহ[সম্পাদনা]

পার্বতীপুর উপজেলার নিকটে রেলসেতু থেকে তোলা খড়খড়িয়া নদীর দৃশ্য।

ফুলবাড়ীতে দুটি নদী রয়েছে। নদী দুটি হচ্ছে খড়খড়িয়া নদী এবং ছোট যমুনা নদী[৩]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি[সম্পাদনা]

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যে মণ্ডিত এ উপজেলায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান নেই। তবে অন্য উপজেলার দর্শনীয় স্থান যেমন পার্বতীপুর উপজেলার অন্তর্গত বড় পুকুরিযা কয়লাখনি এবং তাপ বিদ্যৎ প্রকল্প, মধ্যপাড়ার কঠিন শিলা খনি, নবাবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত স্বপ্নপুরী ইত্যাদি স্থানে যেতে হলে এই ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাণকেন্দ্র হয়ে যেতে হয়। এদিক থেকে এ উপজেলার গুরুত্ব অপরিসীম

সংগঠন[সম্পাদনা]

  • নয়া দিগন্ত শিশু ফোরাম
  • শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশু কল্যাণ বিষয়ক সংগঠন
  • দৈনিক দেশমা, ফুলবাড়ী স্থানীয় সংবাদপত্র

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে ফুলবাড়ী"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ১৮ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মে ২০১৬ 
  2. "ফুলবাড়ী দিবস আজ"। দৈনিক প্রথম আলো। ২৬ আগস্ট ২০১৯। পৃষ্ঠা ৫। 
  3. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৪০৫।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]