চেহেলগাজী মাজার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

চেহেলগাজী মাজার দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত একটি মাজার। মাজারটির আয়তন ২৫.১৫ মি.। এটি প্রায় ৬৫০ বছর পুরোনো।

অবস্থান[সম্পাদনা]

দিনাজপুর শহর হতে ৫ কিলোমিটার উত্তরে দিনাজপুর-রংপুর সড়কের পশ্চিম পাশে মাজারটি অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চেহেলগাজী মাজার নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে। চেহেল ফারসি শব্দ, যার অর্থ চল্লিশ। চেহেলগাজী মাজার নিয়ে অনেক মতপার্থক্য বিদ্যমান। কেউ মনে করেন, ৪০ গজ লম্বা পীরের মাজার তাই চেহেলগাজী। তাদের মতে নামটি হবে চেহেলগজী। আবার স্থানীয় জনশ্রুতি রয়েছে, ৪০ জন গাজীকে (ধর্মযোদ্ধা) একত্রে এখানে সমাহিত করা হয়। এ জন্য এ স্থানের নাম হয়েছে চেহেল (চল্লিশ) গাজী।

গোপাল নামক এক স্থানীয় হিন্দু রাজার বিরুদ্ধে ওই গাজীরা যুদ্ধ করে শহীদ হন। মনে করা হয় সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-এর কামরূপ অধিকারের সময় (১৩৫৮) এ যুদ্ধ হয়। এ রকম কান্তনগরে (গড় মল্লিকপুর) এবং খানসামায় আরও দুটি যুদ্ধ সংঘটিত হয় ও নিহত সৈনিকদের যৌথভাবে সমাহিত করা হয়। এর প্রায় ১০০ বছর পর ১৪৬০ সালে এ মাজারটি মেরামত করা হয়। মাজারের ওপর কোনো ছাদ বা আচ্ছাদন ছিল না। ১৯৬৮ সালে এ মাজারের ওপর ছাদ নির্মাণ করা হয়। এর চারপাশে দেয়াল তৈরি করে মাজারটিকে মূল্যবান রেশমি কাপড়ে আবৃত করা হয় এবং নির্মিত হয় তোরণ।

স্থাপনা ও ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

ছাদের নিচে কবরকে ঘিরে আরেকটি রেলিং সংযুক্ত করা হয়। মাজারসংলগ্ন পূর্ব দিকে একটি, দক্ষিণ দিকে তিনটি বাঁধানো প্রাচীন কবর রয়েছে। এর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে চেহেলগাজী মসজিদ। মসজিদের দক্ষিণে আরও একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি প্রাচীন পুকুরও রয়েছে। পূর্ব দিকে এর চেয়ে ছোট আরও একটি প্রাচীন পুকুর রয়েছে। আর মাজারের পশ্চিম দিকে রয়েছে শালবন। মসজিদের সময়কাল নির্দেশক তিনটি শিলালিপির একটি দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এ শিলালিপি থেকে জানা যায়, ৮৬৫ হিজরির ১৬ সফর (১৪৬০ সালের ১ ডিসেম্বর ইং) মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহ-এর রাজত্বকালে (১৪৫৯-১৪৭৪ সাল ইং) তার উজির ইকরাব খানের নির্দেশে পূর্ণিয়া জেলার অন্তর্গত জোর ও বারুক (দিনাজপুর) পরগনার শাসনকর্তা উলুঘ নুসরত খান এ মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে মসজিদটির দেয়াল ছাড়া আর কোনো অবশিষ্ট নেই। তবে মিহরাবের কাছে কিছু পোড়ামাটির ফলক রয়েছে। পোড়ামাটির ফলকগুলোতে ফুল, লতাপাতা এবং ঝুলন্ত মোটিভ লক্ষণীয়। এগুলোও খুলে পড়েছে। বর্গাকার মসজিদটির মূল স্তম্ভের ওপর একটি এবং পূর্ব দিকের বারান্দার ওপর সম্ভবত তিনটি গম্বুজ ছিল। চেহেলগাজী মাজারের সময়কাল নির্দেশক কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি। তৎকালীন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মি. ওয়েস্টমেকট ১৮৪৭ সালে চেহেলগাজী মসজিদ থেকে তিনটি শিলালিপি উদ্ধার করেন। ওই শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৬০ খ্রিষ্টাব্দে চেহেলগাজী মসজিদটি নির্মাণ করার সময় মাজারটি (রওজা) সংস্কার করা হয়। চেহেলগাজী মাজারের প্রবেশ পথের বাম দিকে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৩৫ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর। এ কারণে চেহেলগাজী মাজার এলাকা আরও গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন ধর্মীয় দিবসে এখানে ভক্তদের ভিড় বেশি লক্ষণীয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]