ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

ময়মনসিংহ জেলার ঐতিহ্যবাহী উপজেলা

ঈশ্বরগঞ্জ
উপজেলা
ঈশ্বরগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ঈশ্বরগঞ্জ
ঈশ্বরগঞ্জ
বাংলাদেশে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৪১′১২″ উত্তর ৯০°৩৭′৪৬″ পূর্ব / ২৪.৬৮৬৬৭° উত্তর ৯০.৬২৯৪৪° পূর্ব / 24.68667; 90.62944স্থানাঙ্ক: ২৪°৪১′১২″ উত্তর ৯০°৩৭′৪৬″ পূর্ব / ২৪.৬৮৬৬৭° উত্তর ৯০.৬২৯৪৪° পূর্ব / 24.68667; 90.62944 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ
জেলা ময়মনসিংহ জেলা
আয়তন
 • মোট ২৮৬ কিমি (১১০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)[১]
 • মোট ৩,৩৮,০৮০
 • ঘনত্ব ১২০০/কিমি (৩১০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৩৫.২০%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ২২৮০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইট প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ঈশ্বরগঞ্জ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

১৯৮৩ সালের ১৫ নভেম্বর এটিকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই উপজেলার উত্তরে গৌরীপুর উপজেলা, দক্ষিণে নান্দাইল উপজেলা, পূর্বে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলা এবং পশ্চিমে ময়মনসিংহ সদর উপজেলাত্রিশাল উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

উপজেলার মোট আয়তন ২৮৬.১৯ বর্গ কিলোমিটার

  • থানা: ১টি
  • পৌরসভা: ১টি (খ শ্রেণীর)
  • ওয়ার্ড: ৯টি
  • মহল্লা ১৩টি
  • ইউনিয়ন: ১১টি
    • ঈশ্বরগঞ্জ
    • মাইজবাগ
    • জাটিয়া
    • বড়হিত
    • সোহাগী
    • রাজীবপুর
    • মগটুলা
    • তারুন্দিয়া
    • সরিষা
    • আঠারোবাড়ী
  • মৌজা - ২৯৩টি
  • গ্রাম - ২৯১টি

প্রাকৃতিক সম্পদ[সম্পাদনা]

  • বালু মহল ১টি আয়তন ৯.৫৬ একর।

হাওর ও খালবিল[সম্পাদনা]

ইতিহাস - উত্‍পত্তি ও নামকরণ[সম্পাদনা]

শুরুতেই ঈশ্বরগঞ্জের নামকরণঈশ্বরগঞ্জ ছিলো না। ইংরেজ শাসন আমলে এর নামকরণ ছিলো পিতলগঞ্জ। পিতলগঞ্জ থেকে ঈশ্বরগঞ্জের নামকরণ হওয়ার পিছনেও রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ঈশ্বরপাটনী নামে এক খেয়ামাঝি ছিলো। তাঁর কাজ ছিলো ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী অথচগভীর খরস্রোতা ‘কাচা মাটিয়া' নদীর বুক বেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ সদরের পাশেই দওপাড়া গ্রাম এলাকায় পিতলগঞ্জ বাজারের ঘাটে খেয়াপারাপার করা। পিতলগঞ্জ বাজারটি ছিলো ইংরেজদের স্থাপিত। ঈশ্বরগঞ্জ ছিলো গৌরীপুরের জমিদারদের পরগণা। খেয়ামাঝি ঈশ্বরপাটনীকে খেয়াপারাপারের জন্যে জমিদারের নায়েবকে নজরানা দিয়ে খেয়াপারাপার করতে হতো।ঈশ্বরপাটনী আস্তে আস্তে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পিতলগঞ্জ হাটে খেয়াপারাপারের জন্যেই তাঁর এই পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। পণ্য বেচাকেনার জন্যে মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই খেয়াপারাপার করতে হতো। এক পর্যায়ে ইংরেজগণ নীলকুঠি স্থাপন করে এবং মানুষকে নীল চাষে বাধ্য করে। ইংরেজরা নির্বিচারে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বিশেষ করে পিতলগঞ্জের ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে তোলে। অত্যাচারে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও মানুষ প্রতিবাদ করার মতো সাহসী ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ঈশ্বরপাটনী মানুষের এই দুর্ভোগ ও দুর্দশার নীরব সাক্ষী। নীলকরদের অত্যাচার মেনে নিতে পারেনি ঈশ্বরপাটনী। সেক্ষুব্ধ ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী হয়ে ওঠে সে, হয় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। এক পর্যায়ে কোনো একদিন নীলকুঠির সাহেবগণ হাটে সমাগত মানুষদের নীলচাষ করতেবলে, ধমক দেয়, এমনকি চাবুক পর্যন্ত মারে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে হাটে আসা মানুষগণ। চাবুকের আঘাতেজর্জরিত মানুষের হাহাকারে প্রকম্পিত হয় পিতলগঞ্জের আকাশ-বাতাস। ঈশ্বরপাটনী এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শাল কাঠের বৈঠা হাতে নিয়ে দৌড়ে যায় এবং চিৎকার করে বলতে থাকে ‘সাহেব চাবুক মারাবন্ধ কর'। ইংরেজ সাহেবগণ এতেক্ষুব্ধ হয় এবং ঈশ্বরপাটনীরগায়ে চাবুক চালাতে থাকে। ঈশ্বরপাটনীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় এবং হাতের বৈঠা দিয়ে ইংরেজ সাহেবের মাথায় আঘাত করে। এতে করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নীলকুঠির সাহেব।রক্ত ঝরতে থাকে তার। রক্তক্ষরণে এক পর্যায়ে নীলকুঠির সাহেব মারা যায়। সৃষ্টি হয় ভীতসন্ত্রস্থ অবস্থা। পিতলগঞ্জের অবস্থা হয়ে পড়ে থমথমে। পিতলগঞ্জে যেনো ঝড় হইতে থাকে এই ঘটনায়।সমগ্র বাংলায়ও এর প্রভাব পড়ে। ঈশ্বরপাটনীও প্রাণে বাঁচতে পারেনি। ভেঙে যায় পিতলগঞ্জের হাট। তৎকালীন গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর চৌধুরী বর্তমান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সদরের জন্যে দত্তপাড়া চরনিখলা মৌজায় বাজার স্থাপনকরার জন্যে জমি দান করেন। তিনি ঈশ্বরপাটনীর নামের ঈশ্বরের সঙ্গে গঞ্জ যোগ করে বাজারের নাম দেন ঈশ্বরগঞ্জ।সেই থেকেই ঈশ্বরগঞ্জ নামের সূত্রপাত।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যা ৩,৭০,৮৫০ জন (২০০১ সনের আদমশুমারী অণুযায়ী), পুরুষ ১,৮৯,১৫২ জন,মহিলা ১,৮১,৬৯৮ জন, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১৩৭ জন, মোট খানার সংখ্যা ৭৯,২৭৬ টি, বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২১%।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার ৩৫.২০% (পুরুষ ৩৮.৭০.%, মহিলা ৩১.৫০%)। মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৬টি (সরকারী ৯২টি, বেসরকারী রেজিষ্টার্ড ৩১টি, আন রেজিষ্টার্ড ২টি, কিন্ডার গার্ডেন ১২টি, স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ৩২টি, উচ্চ মাদ্রাসা সংলগ্ন ২০টি, কমিউনিটি ৫টি, এনজিও ২টি), নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩টি, ৯ম শ্রেণীর অণুমতি প্রাপ্ত বিদ্যালয় ২টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৩টি, স্কুল এন্ড কলেজ ২টি, ডিগ্রীকলেজ ২টি (বেসরকারী), কামিল মাদ্রাসা ১টি, ফাযিল মাদ্রাসা ৩টি, আলিম মাদ্রাসা ২টি, দাখিল মাদ্রাসা ১৭টি।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

  • কৃষি ৭০.৫২%
  • অকৃষি
    • শ্রমিক ৩.৩৮%
    • ব্যবসা ১০.২২%
    • চাকুরি ৩.৮৪%
    • অন্যান্য ১২.০৪%

নদীসমূহ[সম্পাদনা]

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় অনেকগুলো নদী আছে। সেগুলো হচ্ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী, কাঁচামাটিয়া নদী, মঘা নদী এবং সোয়াইন নদী[২][৩]

ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

  • অ্যাপ: টেকশহর [১]
  • বেতারচ্যানেল:
  • টিভিচ্যানেল:

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা[সম্পাদনা]

সমবায় সংগঠন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে ঈশ্বরগঞ্জ"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৯৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  3. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬০৬, ISBN 984-70120-0436-4.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক চিত্র[সম্পাদনা]

মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ[সম্পাদনা]

যোগাযোগব্যবস্থা[সম্পাদনা]