ময়মনসিংহ জিলা স্কুল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
ময়মনসিংহ-জিলা-স্কুল-লোগো.png
ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
ঠিকানা
জিলা স্কুল রোড
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ,  বাংলাদেশ
তথ্য
ধরনসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাকাল১৮৫৩
প্রধান শিক্ষকমোহসিনা খাতুন
শ্রেণী১০
লিঙ্গবালক
বয়সসীমা১০-১৬
ভাষার মাধ্যমবাংলা
রঙ =      সাদা ও      খাকি
বোর্ডমাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ
ওয়েবসাইট

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ভাগে তৎকালীন ভারতের সর্ববৃহৎ জেলা ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রসিদ্ধ হাই স্কুল। এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। কেবল ছেলেদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলের অবস্থান ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে ; সংলগ্ন সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ জিলা স্কুল রোড নামে পরিচিত। এই সরকারি স্কুলটিতে ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়। এন্ট্রেন্স তথা ম্যাট্রিক এবং বর্তমানের সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট বা এস এস সি পরীক্ষায় এ স্কুলের ছাত্ররা যথাক্রমে পূর্ববঙ্গ, পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে এসেছে। পূর্ব এবং পশ্চিম বাংলার বহু গুণী ব্যক্তিত্ব এ স্কুলে বাল্যকাল অতিবাহিত করেছেন। [১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
মূল প্রবেশদ্বার
ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের পূর্ণ দৃশ্য
শতবর্ষ প্রশাসনিক ভবন
পুকুর
হোস্টেল প্রবেশদ্বার
ছাত্রাবাস
হোস্টেল খেলার মাঠ

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল বাংলাদেশের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম যা ৩ নভেম্বর, ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল একটি ঐতিহ্যবাহী এবং গৌরবমন্ডিত বিদ্যাপীঠের নাম। এর রয়েছে দেড়শত বছরেরও অধিক সময়ের স্মরণীয় ও সুদীর্ঘ এক ইতিহাস। ১৭৮৭ খ্রীষ্টাব্দে ‘নাসিরাবাদ’ নামে ময়মনসিংহ জেলার গোড়া পত্তন ঘটে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী বেগুনবাড়ীতে। ১৭৯১ খ্রীষ্টাব্দে ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে বেগুনবাড়ি লুপ্ত হওয়ায় জেলা হেডকোয়ার্টার স্থানান্তরিত হয় সেহড়া গ্রামে। ১৮১১ খ্রীষ্টাব্দে এটি শহরের মর্যাদা লাভের পর এখানে উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। ১৮১৩ খ্রীষ্টাব্দের শিক্ষা সনদ, ১৮২৩ খ্রীষ্টাব্দের সাধারণ শিক্ষা কমিশন, ১৮৩৫ খ্রীষ্টাব্দের অ্যাডাম কমিশন রিপোর্ট এবং ১৮৪৩ খ্রীষ্টাব্দের লর্ড মেকলের ‘নিম্নগামী পরিস্রবন নীতি’র সুপারিশ ধরেই ১৮৪৬ খ্রীষ্টাব্দে তদানীন্তন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক নিযুক্ত কালেক্টর মিঃ এফ. বি. ক্যাম্প এর ভবন ও কাঁচারী সংলগ্ন স্থানে পুকুরের উত্তরে একটি লাল এক তলা দালানে ‘হার্ডিঞ্জ স্কুল’ নামে একটি ‘মিডল ইংলিশ স্কুল’ স্থাপন করা হয়। এখানে শুধু উচ্চবিত্তদের সন্তানরা পড়ার সুযোগ পেত। এই স্কুলটি হার্ডিঞ্জ স্কুল (১৮৪৬ থেকে ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) নামেও পরিচিত ছিল। বর্তমানে এখানে ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রধান শিক্ষকের আসন অলংকৃত করেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর পিতা শ্রী ভগবানচন্দ্র বসু। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রথম মুসলমান প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ।[২] পরবর্তীকালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছিলেন। [৩]

১৮৫৭ সালে রাণী ভিক্টোরিয়ার মাধ্যমে সরাসরি ইংল্যান্ড থেকে বৃটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পর ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে ময়মনসিংহ শহর ‘পৌরসভা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলে স্কুলের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে হান্টার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে শ্রেণীকক্ষ আরো উন্নত করার লক্ষ্যে ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দে পাকা ভিটওয়ালা বর্তমান ‘ময়মনসিংহ ল্যাবরেটরী স্কুল’ (বেসরকারী ল্যাবরেটরী স্কুল) ভবনে একে স্থানান্তর করা হয়। ১৮৮৭ খ্রীষ্টাব্দে জেলার প্রথম বাঙালী কালেক্টর রমেশ চন্দ্র দত্তের সময়ে জেলা বোর্ড গঠনের ফলে এবং ১৯০১ খ্রীষ্টাব্দে লর্ড কার্জনের সময়ে ‘‘শিমলা কনফারেন্স’’ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের উপর গুরম্নত্ব আরোপের ফলে ১৯১২ খ্রীষ্টাব্দে বর্তমান স্থানে জমি অধিগ্রহণ করে স্কুল ও হোষ্টেল ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দে ৩০০ আসন বিশিষ্ট জিলা স্কুল এই নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়। জিলা স্কুলের মূল ভবন এই লাল দালানটি প্রথমে এমনটি ছিল না । বারান্দায় ইটের ভিটার উপর টিনের চালা ছিল। পরবর্তী ১৯১৭ খ্রীষ্টাব্দে স্যাডলার কমিশন ও ১৯৪৪ খ্রীষ্টাব্দে সার্জেন্ট পরিকল্পনা অনুসারে এর মানোন্নয়নে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বৃটিশ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের কারণে স্কুলটিতে সাময়িকভাবে স্কুল গেটের উল্টোদিকে অবস্থিত ‘দারুল হাছানা’ ভবনে স্থানান্তর করা হয়। [৩]

১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে দেশ বিভাগের পর ১৯৫২ খ্রীষ্টাব্দের আকরাম খাঁ শিক্ষা কমিশন’ এবং ১৯৫৭ খ্রীষ্টাব্দের আতাউর রহমান খান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের আলোকে ময়মনসিংহের প্রথম ডেপুটি কমিশনার এস. এম . এ. কাজমীর সময়ে ১৯৬১ খ্রীষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলকে, ‘‘মাল্টিলেটারাল পাইলট স্কুল’’ এর মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দে মানবিক ও বিজ্ঞান শাখার পাশাপাশি কারিগরি শাখা খোলা হয়। পাইলট স্কীমের আওতায় এবছর প্রচুর আসবাবপত্র প্রস্ত্তত হয়। ১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে স্কুলে বাণিজ্য শাখা খোলা হয়। ১৯৬৫ খ্রীষ্টাব্দে নতুন করে সংস্কার কাজ শুরম্ন হয়। মিঃ ড্রিল নামের একজন আমেরিকান বিজ্ঞান শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ইট বিছানো মেঝে , টিনের চালওয়ালা বারান্দা, প্রতিটি শ্রেণী কক্ষের ভেতর চারটি করে মোটা পিলার, স্কুলের উত্তর দিকে টিনের ঘের দেওয়া সার্ভিস ল্যাট্রিন অপসারণসহ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন।[৩]


১৯৫৬-৫৭ খ্রীষ্টাব্দের দিকে জিলা স্কুল হোষ্টেলের টিনশেড অংশে টি. টি. কলেজ ময়মনসিংহ এর শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫৮ খ্রীঃ থেকে ১৯৬৪ খ্রীঃ পর্যমত্ম জিলা স্কুল হোষ্টেলে ই.পি.আর ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করায় হোষ্টেলটি সাময়িক ভাবে গুলকীবাড়ী রায়মনি লজে স্থানান্তরিত করা হয় এবং হোষ্টেলটি ‘‘আঞ্জুমান মুসলিম হোষ্টেল’’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৪ খ্রীঃ ৪ আগষ্ট ই.পি.আর. হোষ্টেলটি স্থানান্তর করা হয়।[৩]

মুক্তিযুদ্ধে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের এই অঞ্চলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। স্কুলের অসংখ্য শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে ও ১৩ জন শিক্ষার্থী শহীদ হন।[৪]

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ময়মনসিংহ শহর ত্যাগ করার খবর নিশ্চিত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারিঘাট দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন। তাদেরকে বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক কে জামানসহ অনেকেই ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।শহরে প্রবেশের সময় শত শত জনতা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানায়। শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে তারা ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে জমায়েত হন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল হোস্টেলে মুক্তিযোদ্ধাদের রাখা হয়।[৫]

প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে স্কুলে দুটি অধিবেশনে শিক্ষাদান কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো হলো প্রভাতী অধিবেশন এবং দিবাকালীন অধিবেশন। সকাল ৭.৩০ থেকে প্রভাতী অধিবেশন এবং দুপুর ১২.০০ থেকে দিবা অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এটি বালক বিদ্যালয় হলেও ১৯৯০-এর দশক থেকে এখানে পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও শিক্ষকতা করেন। প্রতি বছর এই বিদ্যালয়ে তৃতীয় এবং ষষ্ঠ শ্রেণীতে ছাত্র ভর্তি করা হয়। আবার ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে দুটি করে শাখা রয়েছে যথা 'ক' শাখা এবং 'খ' শাখা। অভিজ্ঞ এবং দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানকারী প্রাচীন বিদ্যালয়গুলির মধ্যে এটি একটি। পাশাপাশি, সরকারী বিদ্যালয় হওয়ায় লেখাপড়ার খরচও এখানে নিতান্ত কম।

ভর্তি প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

এই সরকারি হাই স্কুলটিতে ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়। সাধারণত ৩য় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ছাত্র ভর্তি করা হয়। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে কোন কোন বছর অন্যান্য শ্রেণীতেও ভর্তি করা হয়। ভর্তি পরীক্ষা দিতে কোন আলাদা যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না এবং যেসব ছাত্র ভর্তি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে তারাই ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।

বেতন[সম্পাদনা]

সরকারী স্কুল হওয়ায় এই বিদ্যালয়ে বেসরকারী স্কুলের তুলনায় খরচ অনেক কম। প্রতি মাসে বেতনের সাথে টিফিন ফি নেয়া হয়। ছাত্রাবাসের ছাত্রদের বেতনের সাথে ছাত্রাবাসের ভাড়াও দিতে হয়।

হাউজ প্রথা[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠানটিতে হাউজ প্রথা চালু আছে। তবে সকল প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে এর প্রচলন নেই। বিদ্যালয়ের প্রতি শ্রেণি ও শিফট মিলিয়ে একটি শ্রেণির জন্য মোট ৪টি শাখা চালু আছে। তবে প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিপ্রতি ২টি শাখা চালু আছে।

তাই মূলত হাউজ প্রথা শুধু খেলাধুলাতেই দেখা যায়। ইন্ডোর গেমস ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ছাত্ররা ৪ টি হাউজে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেয়। হাউজগুলো হলোঃ

  • শের-ই বাংলা হাউজ
  • সোহরাওয়ার্দি হাউজ
  • নজরুল হাউজ
  • শহীদুল্লাহ হাউজ

ইউনিফর্ম ড্রেস[সম্পাদনা]

১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে স্কুলের ছাত্রদের জন্য সর্বপ্রথম ইউনিফর্ম ড্রেস এবং আইডেনটিটি কার্ড প্রবর্তন করা হয়। বর্তমান ইউনিফর্ম ড্রেস নিম্নরূপ:

  • ফুল হাতা সাদা শার্ট
  • খাকী রঙের ফুল প্যান্ট
  • সাদা মোজা ও জুতা(কেড্স বা পাম্প শু)
  • নেভী ব্ল সোয়েটার(শীতকালে)
  • লাল রঙের নেমপ্লেট(প্রভাতী শাখা) ও সবুজ রঙের নেমপ্লেট(দিবা শাখা)
  • বাম পকেটের ওপর স্কুলের মনোগ্রাম

শিক্ষা সুবিধাসমূহ[সম্পাদনা]

এই বিদ্যালয়ে একটি উঁচুমানের বিজ্ঞানাগার, একটি সুপরিসর লাইব্রেরী, একটি কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, একটি ব্যায়ামাগারকর্মশালা রয়েছে। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার প্রায়োগিক পাঠসমূহ সাধারণত বিজ্ঞানাগারে পড়ানো হয়। মাল্টিমিডিয়া প্রোজেক্টর নিয়ন্ত্রিত আধুনিক ক্লাস রুম রয়েছে। প্রতি কক্ষেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সুব্যাবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত। এছাড়াও বিদ্যালয় পিউরিফায়ার সহ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ে একটি ঘাট বাঁধানো পুকুর রয়েছে যাতে প্রতি বছর সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের মূল ভবনে বড় একটি হলঘর আছে যেখানে সভা-সমিতি এবং প্রতি বছর ইনডোর গেম্সের আয়োজন হয়। এছাড়া দূরবর্তী ছাত্রদের অধ্যয়নের সুবিধার্থে বিদ্যালয়ের অদূরে একটি ছাত্রাবাস রয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস মাঠে প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ে জাতীয় কিছু সংস্থার শাখা চালু রয়েছে। যথাঃ-

খেলাধুলা ও সহপাঠ্যকর্ম[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে খেলাধুলা ও অন্যান্য বিষয়ে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছে। জাতীয় মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী পুরষ্কার পেয়েছে। এছাড়া আবৃতি, গান ইত্যাদি বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য রয়েছে। গণিত অলিম্পিয়াডের উচ্চ পর্যায়েও ছাত্রদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। খেলাধুলায় স্কুলটি অনেক এগিয়ে। স্কুলটির ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল , হ্যান্ডবল, কাবাডি, দাবা, হকি, টেবিল টেনিস সহ প্রায় সকল খেলাতেই এই স্কুলের দলীয় ও একক সাফল্য আছ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সহ বিভিন্ন খেলার বিভিন্ন খেলোয়াড় এই স্কুলের ছাত্র। বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই গড়ে তুলেছে কিছু সংগঠন। বিজ্ঞানমনষ্ক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গড়ে তোলা ইয়ুথ সায়েন্স ফোরাম অন্যতম।

খ্যাতিমান শিক্ষকবৃন্দ[সম্পাদনা]

১৮৫৩ খ্রীষ্টাব্দে প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু এর পিতা ভগবান চন্দ্র বসু । ১৯৩৭ খ্রীস্টাব্দে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রথম মুসলিম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ । পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নিযুক্ত হয়েছিলেন । [৬]

১৮৫৮ সালে ভাই ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে শিক্ষকতা করার সময়েই গিরিশ চন্দ্র সেন প্রথম পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। এই কাজের জন্য ব্রাহ্মণরা তাকে ভাই আর মুসলমানরা মৌলানা উপাধি দেন।[৪]

কৃতি প্রাক্তন ছাত্র[সম্পাদনা]

ফলাফল[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল বরাবরই বিভিন্ন পরীক্ষায় সফলতার সাথে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষায় স্কুলটির সফলতা বহু বছর ধরেই সেরাদের কাতারে। ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র প্রায় প্রতিবছর ৯৯-১০০% পাশের হার ও ছাত্রদের একটি বিশাল অংশ জিপিএ ৫ পেয়ে থাকে। স্কুলটি জেলায় তো বটেই দেশের শিক্ষা বোর্ডেও প্রথম সারির স্কুল হিসেবেই চমৎকার ফলাফল করে আসছে । দেড় শতাধিক বছরের পুরনো এই স্কুলটি সবসময়ই লেখাপড়সহ সকল বিষয়েই অঞ্চলের সেরা স্কুল হিসেবে বিবেচিত। ময়মনসিংহ বিভাগ এর সেরা ডিজিটাল স্কুল হিসেবে সম্প্রতিই ময়মনসিংহ জিলা স্কুল স্বীকৃতি পেয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "প্রতিষ্ঠান পরিচিতি"। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৪ 
  2. "প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকগণ"। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৪ 
  3. "ময়মনসিংহ জিলা স্কুল"। বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ 
  4. "সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি যে স্কুলের ছাত্র"। জনকণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ 
  5. "ময়মনসিংহে বিজয়"। সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ 
  6. "ইতিহাস"। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ 
  7. "কৃতি শিক্ষার্থী"। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৪