মৈমনসিংহ গীতিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলাদেশ-এর সঙ্গীত
BD Dance.jpg
বাউল, বাংলার আধ্যাত্মিক গান
ধরন
নির্দিষ্ট ধরন
ধর্মীয় সঙ্গীত
জাতিগত সঙ্গীত
ঐতিহ্যবাহি সঙ্গীত
মিডিয়া এবং কর্মক্ষমতা
সঙ্গীত পুরস্কার
সঙ্গীত উৎসব
সঙ্গীত মিডিয়া

বেতার

টেলিভিশন

ইন্টারনেট

জাতীয় এবং দেশাত্মবোধক গান
জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা
অন্যান্য নতুনের গান (রণসঙ্গীত)
একুশের গান (ভাষা আন্দোলন গাথা)
আঞ্চলিক সঙ্গীত
সম্পর্কিত এলাকা
অন্যান্য এলাকা

ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত পালাগানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।[১] এই গানগুলো প্রাচীন কাল থেকে মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসছে। তবে ১৯২৩-৩২ সালে ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন এই গানগুলো সম্পাদনা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রকাশ করেন। বর্তমান নেত্রকোনা জেলার আইথর নামক স্থানের আধিবাসী চন্দ্রকুমার দে এসব গাঁথা সংগ্রহ করছিলেন। এই গীতিকাটি বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত পালা সমূহ[সম্পাদনা]

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের আনুকূল্যে চন্দ্রকুমার দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মৈমনসিংহ গাথা সংগ্রহাক হিসেবে ড. দীনেশ চন্দ্র সেন মহাশয়ের কাছ থেকে নিম্নের পালাগুলো সংগ্রহ করে আনেন।

  • মহুয়া (রচয়িতা দ্বিজ কানাই) রচনাকাল-১৬৫০ সালের দিকে বলে ধারণা করা হয়। এর প্রধান চরিত্র মহুয়া,নদের চাদ। এটি বিয়োগাত্মক প্রেমকথন।[২]
  • চন্দ্রাবতী (রচয়িতা নয়নচাঁদ ঘোষ)
  • কমলা (রচয়িতা দ্বিজ ঈশান)
  • দেওয়ানা মদিনা (রচয়িতা মনসুর বয়াতী) এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হল আলাল,দুলাল,মদিনা,সোনাফর।
  • দস্যু কেনারামের পালা (রচয়িতা চন্দ্রাবতী)
  • কঙ্ক ও লীলা {(১) দামোদর দাস ,(২)রঘুসুর ,(৩)শ্রীনাথ বেনিয়া ,এবং (৪)নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত }
  • মলুয়া (এই পালাটির সূচনাতে মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর একটি বন্দনা রয়েছে বলে এর রচয়িতা হিসেবে চন্দ্রাবতীকে মনে করা হয়)
  • দেওয়ান ভাবনা (চন্দ্রাবতী প্রণীত)
  • কাজলরেখা
  • রূপবতী

মহুয়ার পালা" রচয়িতা :- দ্বিজ কানাই। সংগ্রাহক :- ড: দীনেশ চন্দ্র সেন (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)

    • মৈমনসিংহ গীতিকা।

চরিত্র :- নদের চাঁদ, মুহুয়া, হুমরা বেদে। (এমনিতে হয়তো মনে থাকে না। কিন্তু, সংক্ষেপে গল্পটাও জানা থাকলে আর ভুল হয় না।) সংক্ষিপ্ত কাহিনী :- নদের চাঁদের বসতভিটা সুসং দুর্গাপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে এবং ঝাঞ্ছাজাইল বাজার থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে বাউরতলা গ্রামের পাশে। সুদর্শন পুরুষ নদের চাঁদ ছিলেন এক জমিদারের দেওয়ান। অপর পক্ষে রূপবতি মহুয়া বেদে সরদার হুমরা বেদের পালিত কন্যা, যাকে শিশুকালে হুমরা বেদে নেত্রকোণার কাঞ্চণপুর থেকে ডাকাতি করে নিয়ে আসে। জানা যায়, বেদে মহুয়াও এক সভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ছিলেন। বেদেরা ঘাটে ঘাটে নোঙ্গর ফেলত ও হাট বাজারে পাড়ায় সাপের খেলা দেখাত। বেদে মহুয়া যখন নদের চাঁদের গ্রামে সাপের খেলা দেখাতে আসেন তখন মহুয়ার রূপে মুগ্ধ হয়ে নদের চাঁদ তাকে প্রণয় নিবেদন করেন। মহুয়াও নদের চাঁদের প্রণয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। কিন্তু দুজনের প্রণয়ের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সরদার হুমরা বেদে। এক দিন নদের চাঁদ মহুয়াকে নিয়ে পালিয়ে যান। এদিকে হুমরা বেদে তা জানতে পেরে দলবল নিয়ে তাঁদের পিছু ধাওয়া করে। অবশেষে তারা মহুয়া এবং নদের চাঁদকে ধরে ফেলে। হুমরা বেদে নদের চাঁদকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। সরদার মহুয়ার হাতে বিষলক্ষা ছুরি দিয়ে বলে ‘‘যাও নদের চাঁদকে মেরে ফেল’’। বিষলক্ষা ছুরি নিয়ে মহুয়া নদের চাঁদের দিকে এগিয়ে যান। নদের চাঁদের সম্মুখে পৌছে বিষলক্ষা ছুরি দিয়ে তিনি তাঁর নিজের বক্ষ বিদীর্ণ করেন এবং মাটিতে ঢলে পড়েন। প্রণয় পিয়াসী নদের চাঁদ মহুয়ার এই আত্মত্যাগ সহ্য করতে না পেরে প্রেমের প্রতিদান সরূপ বিষলক্ষা ছুরি দিয়ে নিজ জীবন আত্মহুতি দেন। মহুয়া ও নদের চাঁদের এই আত্ম ত্যাগ চিরন্তন প্রেমকে মহিমান্বিত করেছে। আজও সেই প্রেমের অমর কহিনী লোক মুখে মুখে বিরাজমান[৩][৪]

গুরুত্বপূর্ণ পঙক্তি:

জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ

হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মৈমনসিংহ গীতিকা"bn.banglapedia.org। বাংলাপিডিয়া। 
  2. "কবি দ্বিজ কানাই রচিত “মহুয়া” পালা"kishorgonj.com। Jan ২০, ২০১৪। 
  3. "মৈমনসিংহ গীতিকার ‘মহুয়া’"bonikbarta.com। অক্টোবর ০২, ২০১৫। 
  4. "'মহুয়া সুন্দরী'"ittefaq.com.bd (দৈনিক ইত্তেফাক)। অক্টোবর ০২, ২০১৫।