বিষয়বস্তুতে চলুন

কিশোরগঞ্জ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কিশোরগঞ্জ
শহর ও জেলা সদর
কিশোরগঞ্জ
নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ
নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ
নীতিবাক্য: "উজান-ভাটির মিলিত ধারা
নদী-হাওর মাছে ভরা"
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা
জেলাকিশোরগঞ্জ
উপজেলাকিশোরগঞ্জ সদর
পৌরসভাকিশোরগঞ্জ পৌরসভা
পৌরশহর১৮৬৯
আয়তন
  মোট১৯.৫৪ বর্গকিমি (৭.৫৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা
  মোট১,০৩,৭৯৮
  জনঘনত্ব৫,৩০০/বর্গকিমি (১৪,০০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইটwww.kishoreganj.gov.bd
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মহল্লা জিওকোড ম্যাপ


কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিশোরগঞ্জ জেলার একটি শহর। শহরটি নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ একইসাথে কিশোরগঞ্জ জেলাসদর উপজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর। কিশোরগঞ্জ শহরের মোট জনসংখ্যা ১০৩,৭৯৮, যার ফলে এটি বাংলাদেশের ৪৩ তম জনবহুল শহরে পরিণত হয়েছে।[]। এটি সড়ক ও রেলপথের দ্বারা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অংশের সাথে যুক্ত। জেলার ব্র্যান্ডিং স্লোগান হলো " হাওড় বাঁওড় মাছে ভরা কিশোরগঞ্জের পনির সেরা "।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৮৪৫ সালের পরে কোন এক সময় তৎকালীন কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের বিখ্যাত ব্যবসায়ী ছিলেন কৃষ্ণাদাস বসাক, ‍যিনি মসলিন কাপড়ের ব্যবসা করতেন। ‍কৃষ্ণাদাস বসাক নবাব সিরাজ উদ দৌলার সময়ে ৩২টি পরগণার জমিদারী কিনেন। তিনি শহরের দক্ষিণে একটি সুন্দর তিন তলা প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। তার সাত পুত্র ছিল। তার দুই ছেলের নাম কিশোর মোহন বসাক এবং ব্রজ কিশোর বসাক। সাধারণত এটি বিশ্বাস করা হয় যে এই শহরের নামটি কিশোরগঞ্জ তাদের দুইজনের নামে পরিচিত হতে এসেছে।[] আরেক মতে, এ অঞ্চল বিখ্যাত ছিল বলে কিশোয়ার থেকে কিশোরগঞ্জ নামের উৎপত্তি হয়েছে।[] ১৮৬৯ সালে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় যার ফলে কিশোরগঞ্জ শহর পৌরশহরে পরিণত হয়। কিশোরগঞ্জের  মাঝ  দিয়ে  বয়ে  গেছে নরসুন্দা নদী। ঢাকা থেকে প্রায় ১৪৫ কি.মি. দূরে অবস্থিত এটি  একটি  প্রাচীন  শহর  ও  জেলা  সদর।  এই  জেলায় রয়েছে ৮টি পৌরসভা, ১৩টি উপজেলা, ১০৮টি ইউনিয়ন এবং ১,৭৪৫টি গ্রাম। কিশোরগঞ্জে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।  এশিয়ার  বৃহত্তম  ঈদগাহ  মাঠ  ‘শোলাকিয়া’র অবস্থান  কিশোরগঞ্জে।  ঐতিহাসিক  শহীদী  মসজিদ  ও পাগলা  মসজিদের  অবস্থান  এই  শহরে।  দূর-দূরান্ত  হতে হাজার হাজার মানুষ এসে নামাজ আদায় করেন এই দুইটি মসজিদে। এছাড়াও রয়েছে বৃহত্তম কালিবাড়ী পূজামন্ডপসহ  অনেক  ধর্মীয়  উপাসনালয়।  সুপরিচিত সরকারি গুরুদয়াল কলেজ, ওয়ালীনেওয়াজ খাঁন কলেজ ও  ঈশা  খাঁ  ইন্টারন্যাশনাল  ইউনিভার্সিটি  কিশোরগঞ্জে অবস্থিত। এছাড়াও রয়েছে করিমগঞ্জের জঙ্গলবাড়িতে ঈশা খাঁর দূর্গ, পাকুন্দিয়ার এগারোসিন্দুরে শাহ মাহমুদ মসজিদ এবং  কিশোরগঞ্জ  সদরের  মহিনন্দে  অবস্থিত  ফুলেশ্বরী নদীর  ধারে  চন্দ্রাবতীর  শিব  মন্দির।  বাংলা  সাহিত্যের প্রথম  মহিলা  কবি  চন্দ্রাবতীর  জন্মস্থান  কিশোরগঞ্জে। শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী ও সুকুমার রায়ের  পৈতৃক  নিবাস  কিশোরগঞ্জে।


৩৬০ আউলিয়ার অন্য তম শিষ্য সফর সঙ্গী হযরত শাফাই শাহ আউলিয়া( রহঃ) এর মেলা সুলতানপুর উওর পাড়া গ্রামে অবস্তিত পিরিজপুর ইউনিয়ন। বাজিতপুর কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশ। সাধকের ওরশ মোবারক শুরু হয়। মাঘ মাসের প্রথম সোমবার থেকে

বাজিতপুর উপজেলার ইতিহাস ও ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের প্রেক্ষাপট নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো: ১. ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের শাসক ও ধর্মগোষ্ঠী: ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের দিকে এই অঞ্চলটি প্রধানত হিন্দু রাজন্যবর্গের শাসনাধীন ছিল [১.৫.৫]। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বা ভাটি অঞ্চল ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, সিলেট অঞ্চলে তখন রাজা গৌর গোবিন্দ শাসন করতেন এবং তাঁর প্রভাব পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিদ্যমান ছিল [১.১.৫, ১.৫.৫]। বাজিতপুর ও এর আশপাশের হাওড় অঞ্চল তখন মূলত বনজঙ্গল এবং জলাকীর্ণ ছিল [১.২.৪]। এই সময়ে এখানে হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস ছিল বেশি। তবে নিচু বর্ণের হিন্দুদের মধ্যে সামাজিক বৈষম্যের কারণে পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় [১.১.১]। ২. ইসলাম প্রচারের ইতিহাস: আউলিয়াদের আগমন: ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালাল (র.)-এর সিলেট বিজয়ের সময় থেকেই এই বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের গতি বৃদ্ধি পায় [১.৫.৫]। অনেক সুফি-সাধক ও পীর-মাশায়েখ এ অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আসেন [১.১.১]। বায়েজিদ খাঁ: বাজিতপুর নামকরণের ক্ষেত্রে মুঘল আমলের বায়েজিদ খাঁ নামক এক রাজকর্মচারীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যিনি দিল্লী থেকে এসে এখানে অবস্থান করেন এবং শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন বলে জনশ্রুতি আছে [১.২.২, ১.২.৩]। সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ: শাসক (১৩০৩): স্থানীয় হিন্দু রাজা বা সামন্ত রাজা। ধর্মগোষ্ঠী: প্রধানত হিন্দু সমাজ। ইসলাম প্রচার: ১৩০৩-এর পর থেকে সুফি-সাধকদের আগমনে দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

ভূগোল

[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ রাজধানী ঢাকা থেকে ৯০ কিলোমিটার উত্তর দিকে অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলা ২৪°০২´ থেকে ২৪°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩৫´ থেকে ৯১°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর সীমানাগুলো হলো:

মোট আয়তন ১১.৩০ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের নিরিখে এটি ছোট আয়তনের বসতি।

আয়তন ও জনতত্ত্ব

[সম্পাদনা]
  • মোট আয়তন: প্রায় ২,৬৮৮.৫৩ বর্গ কিলোমিটার
  • ভূ-প্রকৃতি: জেলার পশ্চিমাংশ পলিমাটি সমৃদ্ধ সমতল ভূমি এবং পূর্বাংশ নিচু হাওর অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
  • প্রশাসনিক কাঠামো: এই জেলায় ১৩টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা রয়েছে।

জনসংখ্যা

[সম্পাদনা]

২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ জেলার জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্যাবলি নিচে দেওয়া হলো:

  • মোট জনসংখ্যা: ৩৩,৭৩,২১৯ জন। (কিছু সরকারি তথ্যে এটি ৩২,৬৭,৬২৬ জন হিসেবেও উল্লিখিত হয়েছে)।
  • লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন: জেলায় পুরুষের সংখ্যা ১৫,৭২,৯২৪ এবং নারীর সংখ্যা ১৬,৯৪,৫৪৬ জন। হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৫৬ জন।
  • জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,২৫৫ জন বাস করেন।
  • বার্ষিক বৃদ্ধির হার: ২০১১ থেকে ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ০.৯৬%।
  • শহর ও পল্লী এলাকা: জেলার প্রায় ২৭.৪১% মানুষ শহর এলাকায় এবং বাকি অংশ পল্লী অঞ্চলে বসবাস করেন।
  • খানার সংখ্যা: জেলায় মোট খানার (Household) সংখ্যা ৭,৬০,৯৫২টি।

জলবায়ু

[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জের জলবায়ু মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির, যা উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও মৃদু শীতকাল দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

২০২৬ সালের বর্তমান আবহাওয়া ও সামগ্রিক জলবায়ু পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ১. তাপমাত্রা ও বর্তমান অবস্থা (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
  • শীতকালীন অবস্থা: ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হয়েছে । বিশেষ করে নিকলী উপজেলায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (৯.৮° - ১০° সেলসিয়াস) রেকর্ড করা হয়েছিল ।
  • ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাস: বর্তমান ফেব্রুয়ারি মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৪° সেলসিয়াস । দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে এবং রাতে তা ১৯° - ২০° সেলসিয়াসে নেমে আসে ।
  • ২. বার্ষিক জলবায়ু পরিসংখ্যান
  • গড় তাপমাত্রা: বছরের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২৪.৭° সেলসিয়াস [১.১.১]। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৬° - ৩৮° সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে ।
  • বৃষ্টিপাত: বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২,২৫০ মিমি । বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০% বর্ষাকালে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) হয়ে থাকে ।
  • ৩. ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন
  • বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর): এই সময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলগুলো (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয় ।
  • শুষ্ক মৌসুম (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি): এই সময়ে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে (গড়ে ০.০ মিমি) [১.২.১]। আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং আবহাওয়া মনোরম থাকে ।
  • ৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝুঁকি
  • কিশোরগঞ্জের বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়:
  • আকস্মিক বন্যা (Flash Flood): এপ্রিল-মে মাসে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে আগাম বন্যার ঝুঁকি থাকে, যা বোরো ধানের ক্ষতি করে ।
  • শৈত্যপ্রবাহ: হাওর বেষ্টিত হওয়ায় শীতকালে এই জেলায় কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রকোপ বেশি থাকে ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

[সম্পাদনা]

জেলায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সাধারণ শিক্ষার জন্য বেশ কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে:

  • এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নামকরা কলেজ ও স্কুল

[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জের কিছু উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো:

সরকারি কলেজ: গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, বাজিতপুর সরকারি কলেজ এবং হোসেনপুর সরকারি কলেজ।

বেসরকারি কলেজ: ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ, হাজি আসমত কলেজ (ভৈরব) এবং জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজ।

স্কুল: কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এস.ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান (২০২৬)

[সম্পাদনা]

জেলা শিক্ষা অফিসের সর্বশেষ তথ্য (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিম্নরূপ:

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : ১,৩০০+
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ৩২০+
  • কলেজ (সরকারি ও বেসরকারি) : ৭০+
  • মাদ্রাসা : ২৫০+
  • কারিগরি ও ভোকেশনাল : ১৫+

নদ-নদী

[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ একটি নদীমাতৃক জেলা। এর প্রধান প্রধান নদ-নদীগুলো হলো:

  • পুরাতন ব্রহ্মপুত্র: জেলার পশ্চিম সীমানা দিয়ে প্রবাহিত।
  • মেঘনা: বাজিতপুর ও ভৈরব অঞ্চলের প্রধান নদী।
  • নরসুন্দা: কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে।
  • অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নদী: ধনু, ঘোড়াউত্রা, কালনী, বৌলাই এবং আড়িয়াল খাঁ

হাওর অঞ্চল

[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ জেলার এক-তৃতীয়াংশের বেশি এলাকা নিয়ে গঠিত এই হাওর অঞ্চলকে তার অনন্য জলজ ভূ-প্রকৃতির জন্য "উত্তরের জলভূমি" বলা হয় । বর্তমানে ২০২৬ সালে এটি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য। কিশোরগঞ্জ জেলা

কিশোরগঞ্জের পূর্ব অংশ মূলত হাওর বেষ্টিত। এর মধ্যে ইটনা, মিঠামইনঅষ্টগ্রাম উপজেলাগুলো সম্পূর্ণ এবং তাড়াইল, নিকলী,  ও ভৈরব উপজেলার আংশিক এলাকা হাওর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বিখ্যাত হাওরগুলোর মধ্যে রয়েছে হুমাইপুর, সোমাই এবং তাল্লার হাওর

কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলা পুরোপুরি হাওরবেষ্টিত এবং আরও ৩টি উপজেলা আংশিকভাবে হাওর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত:

যোগাযোগ ও অবকাঠামো:
[সম্পাদনা]

অল ওয়েদার রোড: ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামকে সংযুক্ত করে ২৯.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চমৎকার অল ওয়েদার রোড (সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী রাস্তা) নির্মাণ করা হয়েছে, যা "হাওরের বিস্ময়" হিসেবে পরিচিত ।

সাবমার্সেবল রোড: বর্ষাকালে এই রাস্তাগুলো তলিয়ে যায় এবং শীতকালে জেগে ওঠে, যা হাওরের যাতায়াতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে ।

মিঠামইন সেনানিবাস: হাওর অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে মিঠামইনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস স্থাপন করা হয়েছে।

পর্যটন আকর্ষণ
[সম্পাদনা]

বর্ষাকালে (জুন-অক্টোবর) হাওর যখন কানায় কানায় পূর্ণ থাকে, তখন পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। প্রধান আকর্ষণগুলো হলো:

নিকলী হাওর: ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এটি পর্যটকদের প্রধান পছন্দ ।

বালিখলা ও হাসানপুর: পর্যটনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।

দিল্লীর আখড়া: মিঠামইনে অবস্থিত ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক স্থান ।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সমস্যা

[সম্পাদনা]

সম্পদ: এই অঞ্চলটি মাছধান (বোরো) উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। একে বাংলাদেশের "মাছের ভাণ্ডার" বলা হয়।

ঝুঁকি: প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসে আগাম বন্যা বা আকস্মিক বন্যার (Flash Flood) কারণে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে ।

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "23: Area, Household, Population and Literacy Rate of the Cities, 2011"। Population & Housing Census-2011 [আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১] (পিডিএফ) (প্রতিবেদন)। জাতীয় প্রতিবেদন (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ভলিউম ৩: Urban Area Rport, ২০১১। ঢাকা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। মার্চ ২০১৪। পৃ. XI। ১১ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  2. "4.1.19 Kishoreganj"। Population & Housing Census-2011 [আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১] (পিডিএফ) (প্রতিবেদন)। জাতীয় প্রতিবেদন (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ভলিউম ৩: Urban Area Rport, ২০১১। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। মার্চ ২০১৪। পৃ. ৭১। ১১ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  3. "ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক জনপদ কিশোরগঞ্জ"The Daily Sangram। ২২ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯