মেঘালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মেঘালয়
Meghalaya
রাজ্য
Noakalikai falls 1480244029215.jpg
Khrangsuri waterfall, Meghalaya 01.jpg
Tawny-Breasted Wren-Babbler (Spelaeornis longicaudatus).jpg
Dawki River, Meghalaya, India.jpg
উপর থেকে ঘড়ির কাঁটার ক্রমে: নোহকালিকায় জলপ্রপাত, টাউনি ব্রেস্টেড ওয়েন, ডকী নদী, ক্র্যাং সুরি জলপ্রপাত
মেঘালয়ের অফিসিয়াল সীলমোহর
সীলমোহর
ভারতে মেঘালয়ের অবস্থান (লাল)
ভারতে মেঘালয়ের অবস্থান (লাল)
মেঘালয়ের মানচিত্র
মেঘালয়ের মানচিত্র
দেশ ভারত
দেশাঞ্চলউত্তর-পূর্ব ভারত
স্থাপনকাল২১ জানুয়ারি ১৯৭২
রাজধানীশিলং
বৃহত্তম শহরশিলং
জেলা১১
সরকার
 • গভর্নরসত্যপাল মালিক
 • মুখ্যমন্ত্রীকনরাড সাংমা (NPP)
 • Legislatureযুক্তকক্ষ (৬০টি আসন)
 • সংসদীয় আসনরাজ্যসভা
লোকসভা
 • ভারতে উচ্চ আদালতমেঘালয় উচ্চ আদালত
আয়তন
 • মোট২২,৪২৯ বর্গকিমি (৮,৬৬০ বর্গমাইল)
এলাকার ক্রম২২তম
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২৯,৬৪,০০৭
 • ক্রম২৩তম[১]
 • জনঘনত্ব১৩০/বর্গকিমি (৩৪০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলভাপ্রস (ইউটিসি+০৫:৩০)
আইএসও ৩১৬৬ কোডIN-ML
মাউসুবৃদ্ধি ০.৫৮৫ (মধ্যম)
মাউসু ক্রম১৯তম (২০০৫)
সাক্ষরতার হার৭৫.৮৪% (২৪তম)[১]
[দাপ্তরিক ভাষা]ইংরেজি,[২] "খাসিগারো (সহযোগী ভাষা)"
ওয়েবসাইটমেঘালয় সরকার
It received the status of a full-fledged State in 1971 by the North-Eastern Areas (Reorganisation) Act 1971

মেঘালয় (ইংরেজি: Meghalaya) উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য। এই রাজ্যের উত্তর ও পূর্ব দিকে আসাম রাজ্য এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র অবস্থিত। মেঘালয়ের রাজধানী শিলংব্রিটিশ ভারতের সময় একে "প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড" বলা হতো।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রত্নতাত্ত্বিক[সম্পাদনা]

মেঘালয় সহ ভারতের অন্যান্য প্রতিবেশী রাজ্যগুলি প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি বিশেষ আগ্রহের বিষয়। নব্যপ্রস্তরযুগ থেকে এখানে মানুষের বসবাসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নব্যপ্রস্তরযুগের যেসকল চিহ্ন আজ পর্যন্ত পাওয়া গেছে, তার বেশিভাগই খাসি পাহাড়, গারো পাহাড় এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির উচ্চ উচ্চতা সম্পন্ন স্থানে অবস্থিত। এইসকল স্থানে ঝুম বা স্থানান্তর চাষ আজও প্রচলিত, যা নব্যপ্রস্তরযুগেও প্রচলিত ছিল। এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়া সত্ত্বেও এখানকার উচ্চ-মালভূমি বন্যা এবং মৃত্তিকাক্ষয় থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।[৪] মানবসভ্যতার ধান চাষের ইতিহাসে মেঘালয়ের গুরুতব রয়েছে। ইয়ান গ্লোভার ধান চাষের ইতিহাস সম্পর্কে বলেছেন- ভারত ধান ও অন্যান্যও ২০,০০০ প্রজাতির শস্য চাষের একটি প্রধান কেন্দ্রভুমি এবং উত্তরপূর্ব ভারত ধান চাষের একটি অনুকুল স্থান।[৫] মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল প্রত্নতাত্ত্বিক সময় থেকে মানুষের বসবাসের চিহ্ন বহন করছে।[৬]

আধুনিক[সম্পাদনা]

উনিশ শতকে ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে না আসা পর্যন্ত খাসি, গারো এবং জয়ন্তীয়া উপজাতিদের নিজস্ব রাজ্য ছিল। পরবর্তীকালে ব্রিটিশরা ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে মেঘালয়কে আসামের অন্তর্ভুক্ত করে।[৭] ব্রিটিশ রাজের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কারণে এই স্থানটি অর্ধ-স্বাধীন মর্যাদা পেয়েছিল। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের সময় মেঘালয় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের একটি অংশ হয়ে যায়। কিন্তু ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত হলে মেঘালয় পুনরায় আসাম প্রদেশের অংশে পরিণত হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারি ভারত শাসন আইন ১৯১৯-এর ৫২এ ধারা অনুযায়ী ভারতের গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল খাসি রাজ্যগুলি বাদ দিয়ে মেঘালয় অঞ্চলগুলিকে "পশ্চাদপদ এলাকা" হিসেবে ঘোষণা করেন। পরবর্তীকালে, ব্রিটিশ প্রশাসন ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ প্রণয়নের মাধ্যমে পশ্চাদপদ অঞ্চলগুলিকে "বর্জিত" এবং "আংশিকভাবে বর্জিত" অঞ্চল নামে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করে।

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের স্বাধীনতার সময়, বর্তমান মেঘালয় আসামের দুটি জেলা হিসেবে পুনর্গঠিত হয় এবং আসাম রাজ্যের মধ্যে সীমিত স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা পায়। মেঘালয় অধিবাসীরা ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে একটি পৃথক পার্বত্য রাজ্যের জন্য আন্দোলন শুরু করে।[৮] ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার আসাম রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য গঠনের জন্য একটি নীতি ঘোষণা করে, যেখানে ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের ২০নং অনুচ্ছেদের তালিকায় থাকা অঞ্চলগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৯] তদনুসারে, ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে আসাম পুনর্গঠন (মেঘালয়) আইন নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য গঠনের আইন প্রণীত হয়েছিল।[১০] আসাম রাজ্য দুটি জেলা: খাসি ও জয়ন্তীয়া পাহাড় এবং গারো পাহাড় নিয়ে মেঘালয় গঠিত হয়েছিল।[৮] ভূগোলবিদ শিবপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে তার লে প্লাটু দে মেঘালায়া(Le Plateau de Meghalaya) নামক গবেষণাপত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘপুঞ্জ সম্মিলিত পাহাড়ি অঞ্চলকে ''মেঘালয়'' নাম দিয়েছিলেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে পাহাড়ি অঞ্চলগুলি নিয়ে রাজ্য গঠনের সময় ভারত সরকার শিবপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া মেঘালয় নামটি গ্রহণ করে এবং মেঘালয় নামক পূর্ণরাজ্যের জন্ম হয়।[১১][১২] ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল অনুসারে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের ৩৭ সদস্যের আইনসভা থাকায় আইনটি ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ২ এপ্রিল কার্যকর হয়।

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে সাংসদে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল (পুনর্গঠন) আইন, ১৯৭১ পাশ হওয়ার পর মেঘালয়ের স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যকে পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা প্রদান করা হয়। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ২১ জানুয়ারি থেকে মেঘালয় নিজস্ব বিধানসভা গঠন করে পূর্ণরাজ্যে পরিণত হয়।[৮]

ভূগোল[সম্পাদনা]

মেঘালয় উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলির অন্যতম । মেঘালয়ে অনেক নদী রয়েছে । এদের অধিকাংশই বৃষ্টিনির্ভর ও মৌসুমি হয় । মালভূমির টিলাগুলোর উচ্চতা ১৫০ মিটার ( ৪৯০ ফুট) থেকে ১৯৬১ মিটার ( ৬৪৩৪ ফুট) রেঞ্জের।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

১৯৭০ সালে রাজ্যের গঠনের পর প্রারম্ভিক ১১ বছর অল পার্টি হিল লিডার্স কনফারেন্স দল ক্ষমতায় থাকে। তারপর বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে প্রায় ৩৭ বছর ধরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বেশিরভাগ সময় ক্ষমতায় রয়েছে।

রাজ্যে ২টি লোকসভা আসন রয়েছে। একটি শিলং ও অপরটি তুরা। শিলং আসনটি ১৯৮৯ সাল থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর দখলে রয়েছে। তুরা আসনটি ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-এর অন্যতম শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির দখলে রয়েছে।

২০১৩ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস জোট সরকার গঠন করে। ২০১৮-য় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১৬ সালের তথ্যানুসারে জনসংখ্যা প্রায় ৩,২১১,৪৭৪ জন।[১৩]

ভাষা[সম্পাদনা]

খাসি ভাষাগারো ভাষা এই রাজ্যের প্রধান দুই প্রচলিত ভাষা।

মেঘালয়ের ভাষাসমূহ-২০১১[১৪]

  খাসি (৩৪.১৮%)
  গারো (৩১.৫৬%)
  জয়ন্তিয়া (১০.৬৮%)
  বাংলা (৬.৪৪%)
  নেপালী (১.৮৪%)
  ওয়ার (১.৭৩%)
  হিন্দী (১.৫৪%)
  হাজং (১.৪০%)
  অসমীয়া (১.৩৪%)
  কোচ (০.৭৮%)
  রাভা (০.৭৩%)
  মারাঠি (০.৭০%)
  কার্বি (০.৪৯%)
  অন্যান্য (৬.৫৯%)

ধর্ম[সম্পাদনা]

মেঘালয় ভারতের তিনটি খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যের মধ্যে একটি।

১৮৩০ সালে বাপিস্ট ধর্মপ্রচারকরা এখানে খুব সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সময় উপজাতিদের মধ্যে খ্রিস্ট ধর্ম ছড়িয়ে পরে। রাজ্যের ৭৫% মানুষ খ্রিস্টধর্মের অনুগামী।

মেঘালয়ের ধর্মবিশ্বাস (২০১১)[১৫]

  হিন্দু ধর্ম (১১.৫২%)
  ইসলাম (৪.৩৯%)
  শিখ ধর্ম (০.১০%)
  জৈন ধর্ম (০.০২%)
  অন্যান্য (০.৩৫%)

জেলাসমূহ[সম্পাদনা]

প্রাদেশিক রাজধানী শিলং-কে আকাশ থেকে দেখা

মেঘালয়ে সাম্প্রতিককালে ১১টি জেলা রয়েছে।[১৬] সেগুলো হচ্ছেঃ

জৈন্তিয়া পাহাড়:

খাসি পাহাড় বিভাগ:

গারো পাহাড় বিভাগ:

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

কারিগরি[সম্পাদনা]

ব্যাবস্থাপনা[সম্পাদনা]

অন্যান্য[সম্পাদনা]

পরিবহণ[সম্পাদনা]

পর্বত সংকুল হওয়ায় এই রাজ্যে ভালো পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

আকাশপথে[সম্পাদনা]

শিলং বিমানবন্দর রাজ্যের প্রধান ও বৃহত্তম বিমানবন্দর। এর রানওয়ে মাত্র ১.৮ কিমি লম্বা।

রেলপথে[সম্পাদনা]

বর্তমানে আসাম সীমান্তবর্তী রাজ্যের উত্তর পশ্চিমে উত্তর গারো পাহাড় জেলা-র মেন্দিপাথর পর্যন্ত রেলপথ বিস্তৃত হয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "List of states with Population, Sex Ratio and Literacy Census 2011"। Census2011.co.in। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-০৯ 
  2. "Report of the Commissioner for linguistic minorities: 47th report (July 2008 to June 2010)" (PDF)। Commissioner for Linguistic Minorities, Ministry of Minority Affairs, Government of India। পৃষ্ঠা 122–126। ১৩ মে ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  3. Kaminsky, Arnold (২০১১)। India today : an encyclopedia of life in the Republic। P., Long, Roger D.। Santa Barbara, Calif.: ABC-CLIO। আইএসবিএন 978-0-313-37462-3ওসিএলসি 712115079 
  4. Hazarika, Manjil (২০০৬)। "Neolithic Culture of Northeast India: A Recent Perspective on the Origins of Pottery and Agriculture"Ancient Asia1: 25–44। ডিওআই:10.5334/aa.06104অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  5. Glover, Ian C. (1985), Some Problem Relating to the Domestication of Rice in Asia, In Recent Advances in Indo-Pacific Prehistory (Misra, VN. and P. Bellwood Eds.), আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২০৪০০১৫৩, Oxford Publishing, pp 265-274
  6. SANKAR KUMAR ROY, Aspects of Neolithic Agriculture and Shifting Cultivation, Garo Hills, Meghalaya, Asian Perspectives, XXIV (2), 1981, pp 193-221
  7. Arnold P. Kaminsky and Roger D. Long (2011), India Today: An Encyclopedia of Life in the Republic, আইএসবিএন ৯৭৮-০৩১৩৩৭৪৬২৩, pp. 455–459
  8. History of Meghalaya State ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে Government of India
  9. "High Court of Meghalaya: History"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ 
  10. "The Assam Reorganisation (Meghalaya) Act, 1969" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ 
  11. Bareh, H.M. (২০০১)। Encyclopaedia of North-East India: Vol IV। Mittal Publications। আইএসবিএন 81-7099-791-7 
  12. "Press Releases: Lecture on Emerging Challenges in Mapping"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ 
  13. "Fact sheet on meghalaya" (PDF)। ১০ মার্চ ২০১৪। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  14. ORGI। "C-16: Population by Mother Tongue"www.censusindia.gov.in। Office of the Registrar General & Census Commissioner, India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-১০ 
  15. "Population by religion community - 2011"Census of India, 2011। The Registrar General & Census Commissioner, India। ২৫ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  16. Districts of Meghalaya ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৭ জুন ২০১৪ তারিখে Government of Meghalaya