সিলেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এই নিবন্ধটি সিলেট শহর সম্পর্কিত। বিভাগের জন্য সিলেট বিভাগ এবং জেলার জন্য সিলেট জেলা নিবন্ধ দেখুন।
সিলেট
মহানগরী
সিলেট সিটি কর্পোরেশন
Modern sylhet
Modern sylhet
সিলেটের অফিসিয়াল লোগো
Seal of the Sylhet City Corporation
Location of Sylhet from the capital within Bangladesh
Location of Sylhet from the capital within Bangladesh
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৩′ উত্তর ৯১°৫২′ পূর্ব / ২৪.৮৮৩° উত্তর ৯১.৮৬৭° পূর্ব / 24.883; 91.867
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগ সিলেট বিভাগ
জেলা সিলেট জেলা
মেট্রোপলিটন শহর ৩১ মার্চ ২০০৯[১]
সিলেট সিটি কর্পোরেশন ৯ এপ্রিল ২০০১
পৌরসভা ১৮৬৭
সরকার
 • মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ২০০৩-২০১৩
আরিফুল হক চৌধুরী সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৩-বর্তমান
আয়তন
 • মোট ২৬.৫০ কিমি (১০.২৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০৮)[২]
 • মোট ৪,৬৩,১৯৮
 • ঘনত্ব ১৭৪৮৭.৯/কিমি (৪৫২৯৩/বর্গমাইল)
 •  ৯৯
সময় অঞ্চল BST (ইউটিসি+6)
পোস্ট কোড ৩১০০
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট


সিলেট উত্তর পূর্ব বাংলাদেশের একটি প্রধান শহর, একই সাথে এই শহরটি সিলেট বিভাগের বিভাগীয় শহর। এটি সিলেট জেলার অন্তর্গত। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাই মূলত সিলেট শহর হিসেবে পরিচিত। সিলেট ২০০৯ সালের মার্চ মাসে একটি মেট্রোপলিটন শহরের মর্যাদা লাভ করে।[১] সুরমা নদীর তীরবর্তী এই শহরটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ও গুরুত্বপুর্ণ শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ শহরটি দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত। সিলেট বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী জেলা হিসেবে পরিচিত। শিল্প, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক ভাবে সিলেট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ধনি জেলা। জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলং এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তূপ পর্যটকদের টেনে আনে বার বার। এ শহরের বিশাল সংখ্যক লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।[৩] সিলেটের পাথর, বালুর গুণগতমান দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এখানকার প্রাকৃতিক গ্যাস সারা দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে[৩]স্বাধীনতা যুদ্ধে এ জেলার ভূমিকা অপরিসীম। জেনারেল এম,এ,জি ওসমানী এ জেলারই কৃতী সন্তান। হযরত শাহজালাল (রাঃ)হযরত শাহ পরান (রাঃ) এর পবিত্র মাজার শরীফ এ জেলায় অবস্থিত। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ লোক মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আগমন করে। আসে বিপুল সংখ্যক পর্যটক। সিলেট এর স্থানীয় ভাষা ‘‘সিলটি ভাষা’’র একটি বিশেষত্ব রয়েছে যা অন্য অঞ্চল থেকে পৃথক। এ ছাড়া নাগরী বর্ণমালা নামে সিলেটের নিজস্ব বর্ণমালা ও রয়েছে। শীত মৌসুমে সিলেটের হাওর-বাওর গুলো ভরে ওঠে অতিথি পাখির কলরবে। আব্দুল লতিফ ফুলতলী,আব্দুল করিম সিরাজনগরি এই সিলেটেরই প্রখ্যাত আলেম।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইতিহাসবিদেরা বলেন, বহুযুগ ধরে সিলেট একটি বাণিজ্যিক শহর হিসেবে প্রচলিত আছে। ধারণা করা হয়ে থাকে যে "হরিকেলা রাজত্তের" মুল ভুখণ্ড ছিল এই সিলেট। ১৪'শ শতকের দিকে এই অঞ্চলে ইসলামি প্রভাব দেখা যায় সূফী দার্শনিকদের আগমনের মাধ্যমে। ১৩০৩ সালে কালৈতিহাসিক মুসলিম সাধু হযরত শাহজালাল রহ.-এর আবির্ভাব ঘটে এই সময়ে। তিনি মক্কা থেকে দিল্লি ও ঢাকা হয়ে এই এলাকায় আসেন। তার আধ্যাতিক ক্ষমতার প্রভাবে ও তার অনুসারী ৩৬০ জনের মাধ্যমে আরো অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তা দেশের অন্যত্র ও ছড়িয়ে পড়ে। তার দরগাহ সিলেটের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া হযরত শাহ পরান ও শাহ কামাল কাহাফানের সান্নিধ্যে এসেও অনেকে বৌদ্ধহিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর শাসনামলে ইন্ডিয়ান লস্করেরা এই এলাকায় তাঁবেদারি শাসন চালাতো। ১৭৭৮ সালে রবার্ট লিন্ডসে কে সিলেটের দায়ভার দেয়া হয়। তবে তখনকার স্থানীয় সিলেটিরা তাকে ভালোভাবে নেয় নি। ১৭৮১ সালে এই এলাকায় একটি বড় ধরনের বন্যা হয়েছিল। এতে অসংখ্য ফসল ও পাখি মারা যায়। স্থানীয়রা এজন্য ব্রিটিশ দের দায়ী করে। এই আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহাদী (পীরজাদা নামে পরিচিত)। লিন্ডসের সাথে তখন তাদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় যাতে প্রচুর ভারতীয় তস্কর অংশ নেয়। ফলস্রুতিতে অনেকেই সিলেট ছেড়ে লন্ডনে চলে যায় ও বসতি গড়ে তোলে। ব্রিটিশ শাসনের সময় আসাম ও সিলেট একত্রিত হয়ে আসামের অংশ ছিল। পরবর্তীতে ভারতপাকিস্তান আলাদা দেশ গঠনের সময় আসাম ও সিলেট আলাদা হয়ে যায়। ১৯৭১-এর যুদ্ধে জয়লাভের পর এটি পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ-এর ভূখণ্ডে পড়ে।

জনপ্রশাসন[সম্পাদনা]

সিলেট শহরে ২৭টি ওয়ার্ড ও ২১০টি মহল্লা রয়েছে। এর আয়তন ২৬·৫ বর্গ কিলোমিটার। ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল সিলেট শহরকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অধীন করা হয়। সিলেট শহর হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের বিভাগীয় শহর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন মূলত সিলেট শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা নির্মাণ, ট্রাফিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধনসহ আরো অনেক কাজে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পাদন করে। কর্পোরেশনের মেয়র ও ২২জন কমিশনার পুরো শহরের সব ধরনের উন্নয়নের কাজ করে থাকেন।

শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। এ শহরে স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৭০%। এখানে রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত মুরারিচাঁদ কলেজ, যা এই শহরের এমনকি সিলেট অঞ্চলেরই সবচাইতে পুরনো কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই কলেজটি এতদ্বঞ্চলের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। সিলেটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রদানের জন্য সরকারি বেসরকারি অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সরকারি অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয় অন্যতম। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের জন্য এখানে রয়েছে মুরারিচাঁদ কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ,সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা,সাতগাঁও সামাদিয়া আলিম মাদ্রাসা সহ আরও অনেক কলেজ। উচ্চতর শিক্ষার জন্য রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

দর্শনীয় স্থানসমূহ[সম্পাদনা]

সিলেট শহরে হযরত শাহজালালের [রহ.] মাজার

সিলেট শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থানসমূহ হলো:

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "অফিসিয়াল ওয়েবসাইট"
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; 2008booklet নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  3. ৩.০ ৩.১ "সিলেট জেলা তথ্য বাতায়ন",