ফরিদপুর বিভাগ
| ফরিদপুর পদ্মা | |
|---|---|
| বিভাগ | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| সদরদপ্তর | ফরিদপুর |
| আয়তন | |
| • মোট | ৬,৯৬৮.৮২ বর্গকিমি (২,৬৯০.৬৮ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০২২) | |
| • মোট | ৭২,৩৫,৩৪৩ |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
ফরিদপুর বিভাগ বাংলাদেশের একটি প্রস্তাবিত বিভাগ। প্রস্তাবনা অনুযায়ী এটি বর্তমান ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলা নিয়ে গঠিত হবে। প্রথমে বিভাগটির নাম পদ্মা নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে ফরিদপুর নামে নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৮৫ সালে ফরিদপুরে 'ফরিদপুর বিভাগ ও পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন কমিটি' গঠিত হয়। পরবর্তীতে সংগঠনটি 'ফরিদপুর উন্নয়ন কমিটি' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হলে সংগঠনটি ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যায়।[২]
২০১৭ সালের ২৯ মার্চ ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা দেন। তিনি জানান বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল নিয়ে নতুন বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।[৩]
২০২১ সালের অক্টোবর মাসে কুমিল্লায় একটি ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা দুইটি নদীর নামে অর্থাৎ পদ্মা ও মেঘনা বিভাগ বানানোর সিদ্ধান্ত জানান। ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর জানা যায় যে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত (নিকার) সভায় এই দুই বিভাগ গঠনের অনুমোদন দেওয়া হবে।[৪] সভাটি ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদ্মা ও মেঘনা বিভাগ গঠনের অনুমোদন না পেলে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়।[৫] তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে এই প্রস্তাব অনুমোদন পায়নি।[৬]
| “ | বিভাগের ব্যাপারে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি দুইটা বিভাগ বানাব, আমার দুইটা নদীর নামে। একটা পদ্মা, একটা মেঘনা। এই দুই নামে দুইটা বিভাগ করতে চাই। | ” |
| — শেখ হাসিনা, [৪] | ||
২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ গঠন প্রস্তাবের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই প্রস্তাবে বিভাগ দুইটির নাম 'কুমিল্লা' ও 'ফরিদপুর' নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত (নিকার) সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর অনুমোদন দেবে বলে জানা যায়। মুহাম্মদ ইউনূস এই সভার সভাপতিত্ব করবেন এবং এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম নিকার সভা হতে চলেছে।[৭]
প্রশাসনিক বিভাজন
[সম্পাদনা]১৯৮৪ সালে ফরিদপুর জেলা থেকে আলাদা হয়ে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ফরিদপুর জেলাসহ এই ৫টি জেলা নিয়ে ফরিদপুর বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হবে।
| জেলা | সদরদপ্তর | আয়তন (কিমি২) |
জনসংখ্যা (২০২২) |
জনসংখ্যা (২০১১) |
জনসংখ্যা (২০০১) |
জনসংখ্যা (১৯৯১) |
|---|---|---|---|---|---|---|
| গোপালগঞ্জ | গোপালগঞ্জ | ১৪৮৯.৯২ | ১২,৯৫,০৫৭ | ১১৭২৪১৫ | ১১৬৫২৭৩ | ১০৬০৭৯১ |
| ফরিদপুর | ফরিদপুর | ২০৫২.৮৬ | ২১,৬২,৮৭৯ | ১৯,১২,৯৬৯ | ১৭,৫৬,৪৭০ | ১৫,০৫,৬৮৬ |
| মাদারীপুর | মাদারীপুর | ১১২৫.৬৯ | ১২,৯৩,০২৭ | ১১,৬৫,৯৫২ | ১১,৪৬,৩৪৯ | ১০,৬৯,১৭৬ |
| রাজবাড়ী | রাজবাড়ী | ১১১৮.৮০ | ১১,৮৯,৮১৮ | ১০,৪৯৭৭৮ | ৯,৫১৯০৬ | ৮,৩৫,১৭৩ |
| শরীয়তপুর | শরীয়তপুর | ১১৮১.৫৫ | ১২,৯৪,৫৬২ | ১১,৫৫,৮২৪ | ১০,৮২,৩০০ | ৯,৫৩,০২১ |
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ পঞ্চায়েত হাবিব (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫)। "আলাদা বিভাগ হচ্ছে কুমিল্লা-ফরিদপুর"। দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "পদ্মা নামেই বিভাগ, ফরিদপুরে উল্লাস-আক্ষেপ"। বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২২ নভেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ তৈমুর ফারুক তুষা; নির্মলেন্দু চক্রবর্তী শঙ্কর (৩০ মার্চ ২০১৭)। "ফরিদপুর বিভাগ হবে"। কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- 1 2 "অবশেষে পদ্মা ও মেঘনা নদীর নামেই হচ্ছে দুই বিভাগ"। প্রথম আলো। ২২ নভেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "পদ্মা ও মেঘনা বিভাগ করার প্রস্তাব স্থগিত"। প্রথম আলো। ২৭ নভেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "পদ্মা ও মেঘনা বিভাগের সিদ্ধান্ত স্থগিত"। বিডিটি ডেইস। ২৭ নভেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "আলাদা বিভাগ হচ্ছে কুমিল্লা-ফরিদপুর"। দৈনিক আমাদের বার্তা। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৫।