কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কিশোরগঞ্জ সদর
উপজেলা
Kishoreganj Sadar
কিশোরগঞ্জ সদর ঢাকা বিভাগ-এ অবস্থিত
কিশোরগঞ্জ সদর
কিশোরগঞ্জ সদর
কিশোরগঞ্জ সদর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কিশোরগঞ্জ সদর
কিশোরগঞ্জ সদর
বাংলাদেশে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°২৫′৪৯″ উত্তর ৯০°৪৭′৪″ পূর্ব / ২৪.৪৩০২৮° উত্তর ৯০.৭৮৪৪৪° পূর্ব / 24.43028; 90.78444স্থানাঙ্ক: ২৪°২৫′৪৯″ উত্তর ৯০°৪৭′৪″ পূর্ব / ২৪.৪৩০২৮° উত্তর ৯০.৭৮৪৪৪° পূর্ব / 24.43028; 90.78444 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
জেলাকিশোরগঞ্জ জেলা
আয়তন
 • মোট১৯৩.৭৩ বর্গকিমি (৭৪.৮০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট৪,১৪,২০৮
 • জনঘনত্ব২,১০০/বর্গকিমি (৫,৫০০/বর্গমাইল)
 [১]
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪৮.৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড২৩০০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৪৮ ৪৯
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জ জেলার প্রধান শহর। এর উত্তরে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলা, দক্ষিণে পাকুন্দিয়া উপজেলাকটিয়াদি উপজেলা, পূর্বে করিমগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে হোসেনপুর উপজেলা অবস্থিত। এই উপজেলার উপর দিয়ে নরসুন্দা নদীধলেশ্বরী নদী প্রবাহিত হয়েছে।

১৮৪৫ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে কোন সময় কিশোরগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী কালে ১৯৮৪ সালে এই জনপদকে উপজেলায় উত্তীর্ণ করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই উপজেলাটি কিশোরগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে এই শহরের নামকরণ করা হয় কিশোরগঞ্জ। এখানকার জমিদার কৃষ্ণদাস প্রামাণিকের ষষ্ঠপুত্র ব্রজ কিশোর প্রামাণিক নরসুন্দা নদীর দুই তীরে গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রজ কিশোরের "কিশোর" ও তার প্রতিষ্ঠিত "গঞ্জ" নিয়ে এই এলাকার নামকরণ করা হয় কিশোরগঞ্জ। ধারণা করা হয় ১৮৪৫ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে কোন সময় কিশোরগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[২]

স্বাধীনতা যুদ্ধ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কিশোরগঞ্জ ৩নং সেক্টরের আওতাধীন ছিল। এই উপজেয়াল্য একাধিক সম্মুখযুদ্ধ সংগঠিত হয়। তন্মধ্যে ১৯৭১ সালের ২৬শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনীর গ্রুপ কমান্ডার খায়রুল জাহানশুকুর মাহমুদ প্যারাভাঙ্গা নামক স্থানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন এবং দুজনেই শহীদ হন। তাদের দুজনকে মরণোত্তর বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।[৩] ১১ই ডিসেম্বর সদর উপজেলার যশোদল এলাকার তদানীন্তন ন্যাশনাল সুগার মিলের পার্শ্বে (বর্তমান শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গন) আব্দুল মোতালিব বসু ও মহিউদ্দিন গ্রুপ আলবদর বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হয়। একই তারিখে শহরের শোলমারা এলাকায় গ্রুপ কমান্ডার আব্দুল বারী খানের মুক্তিবাহিনী আলবদর, আলশামস, রাজাকার ও মুজাহিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধ করে।[৪] বাংলাদেশ ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন হলেও কিশোরগঞ্জ স্বাধীন হয় ১৭ই ডিসেম্বর।[৫] কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়় সর্বপ্রথম বীর মুক্তিযোদ্ধা সাব্বির আহমেদ মানিক এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি টিম প্রবেশ করে এবং সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধ-উত্তর[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৮৪ সালে এই জনপদকে উপজেলায় উত্তীর্ণ করা হয়।[২]

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান ২৪°২৬′০০″ উত্তর ৯০°৪৭′০০″ পূর্ব / ২৪.৪৩৩৩° উত্তর ৯০.৭৮৩৩° পূর্ব / 24.4333; 90.7833। এই উপজেলাটির আয়তন ১৯৩.৭৩ বর্গকিলোমিটার। উত্তরে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলা, দক্ষিণে পাকুন্দিয়া উপজেলাকটিয়াদি উপজেলা, পূর্বে করিমগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে হোসেনপুর উপজেলা। এই উপজেলায় ২টি নদী প্রবাহিত হয়েছে, সেগুলো হল নরসুন্দা নদীধলেশ্বরী নদী[২]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক জনসংখ্যা
বছরজন.±%
১৯৮১২,৪৮,০০০—    
১৯৯১৩,০০,০০০+২১%
২০০১৩,৪৮,৩৮২+১৬.১%
২০১১৪,১৪,২০৮+১৮.৯%
উৎস: [১]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ সদরের জনসংখ্যা ৪১৪,২০৮ জন, তন্মধ্যে ২০৫,০৭৫ জন পুরুষ ও ২০৯,১১৩ জন নারী। এই উপজেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে ২,১৩৮ জন।[১]

কিশোরগঞ্জ সদর মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এই উপজেলার জনসংখ্যার ৯৪.৫৬% ইসলাম, ৫.৬২% হিন্দু এবং বাকিরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।[৬]

সরকার ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

স্থানীয় সরকার[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রধান নির্বাহী হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান। পাঁচ বছর পর পর সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন মামুন আল মাসুদ খান।[৭]

এই উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। ১৮৬৯ সালের ১লা এপ্রিল কিশোরগঞ্জ মিউনিসিপালিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর কিশোরগঞ্জ মিউনিসাপালিটির নামকরণ করা হয় কিশোরগঞ্জ পৌরসভা। নয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত কিশোরগঞ্জ সদর পৌরসভা বর্তমানে একটি "ক" শ্রেণীর পৌরসভা।[৮] বর্তমানে এই পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদ পারভেজ।[৯]

এই উপজেলার ইউনিয়নগুলো হল

  1. রশিদাবাদ ইউনিয়ন
  2. লতিবাবাদ ইউনিয়ন
  3. মাইজখাপন ইউনিয়ন
  4. মহিনন্দ ইউনিয়ন
  5. যশোদল ইউনিয়ন
  6. বৌলাই ইউনিয়ন
  7. বিন্নাটি ইউনিয়ন
  8. মারিয়া ইউনিয়ন
  9. চৌদ্দশত ইউনিয়ন
  10. কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন
  11. দানাপাটুলী ইউনিয়ন

রাজনীতি[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ সদরের ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৩৫ হাজার, তন্মধ্যে পুরুষ ১১৭ হাজার ও নারী ১১৮ হাজার।[১]

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই উপজেলাটি কিশোরগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত। কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি ১৬২ নং সংসদীয় আসন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২৭৭,৫৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. রেজাউল করিম খান পান ৫০,৪০০ ভোট।[১০] ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি ইসলামের মৃত্যু হলে এই আসন শূন্য হয় এবং উপ-নির্বাচনে তার স্থলে আওয়ামী লীগ থেকে জাকিয়া নূর লিপি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১১] ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফ মোট ২৭৬,৬২২ ভোটের ৬২.২% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, বাকিদের মধ্যে বিএনপির মো: মাসুদ হিলালি ৩৬.২%, কমিউনিস্ট পার্টির একেএম আবু রায়হান ১.৩% ও বাকিরা ০.৪% ভোট পায়।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ সদরের জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, যার পরিমাণ ৪৩.৬৪%। এই উপজেলায় প্রধান কৃষি ফসল হল ধান, গম, ভুট্টা, আলু, বাদাম, ডাল, সরিষা, পান, পিঁয়াজ, বেগুন। এছাড়া পূর্বে এখানে নীল, কাউন, তিসি, অড়হর, পাট উৎপাদিত হত। এখানে উৎপাদিত প্রধান ফলসমূহ হল আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পেয়ারা[১২] এই অঞ্চলের মোট ফসলী জমির পরিমাণ ১৩৭১৭ হেক্টর, আবাদযোগ্য কিন্তু স্থায়ীভাবে পতিত জমির পরিমাণ ১০৫ হেক্টর এবং অনাবাদী জমির পরিমাণ ২২৩ হেক্টর। ফসলী জমিতে মোট ৯২৮৩৬ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদিত হয়, যা এই অঞ্চলের মোট চাহিদা - ৬১০৮৮ মেট্রিক টন পূরণ করে থাকে।[১৩] এই উপজেলায় উৎপাদিত প্রধান রপ্তানি দ্রব্য হল চামড়া ও পাট।[১২]

কিশোরগঞ্জ সদরে ৩টি শিল্প কারখানা রয়েছে। সেগুলো হল - জেমিনি টেক্সটাইল মিল, কিশোরগঞ্জ ফ্লাওয়ার মিল ও কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিল। এছাড়া মারিয়ায় বিসিক শিল্প নগরী রয়েছে, যেখানে ছোট বড় কয়েকটি শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেছে।[১৪]

এই উপজেলার ২২টি বাজার রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা-বেচা হয়ে থাকে। কিশোরগঞ্জ সদরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাজার হল বড় বাজার, কাচারী বাজার, কর্শাকড়িয়াল বাজার, ও পুলের ঘাট বাজার।[১৪]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

মনসামঙ্গলের অন্যতম রচয়িতা দ্বিজ বংশী দাসের নিবাস ছিল এই উপজেলার পাতুয়াইর গ্রামে৷[১৫] দ্বিজ বংশী দাসের কন্যা ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী এ উপজেলাতেই জন্মেছেন।[১৬]

গণমাধ্যম[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ সদরে একাধিক দৈনিক সংবাদপত্র ও পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বর্তমানে প্রচলিত কয়েকটি সংবাদপত্র হল সাময়িকী সৃষ্টি, দৈনিক আজকের দেশ, দৈনিক শতাব্দীর কণ্ঠ, সাপ্তাহিক আলোর মেলা, দৃশ্যপট’ ৭১, দৈনিক আজকের সারাদিন, আলোকিত কিশোরগঞ্জ, ও দৈনিক কিশোরগঞ্জ[১২]

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সাক্ষরতার হার ৪৮.৯%। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণ করে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩১টি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।[১৭] কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও এসভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এই উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শীর্ষ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।[১৮] এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উচ্চ বিদ্যালয় হল আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, হাশমত উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা স্মরণী উচ্চ বিদ্যালয় ও আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়[সম্পাদনা]

গুরুদয়াল কলেজের মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকার স্তম্ভ

এই উপজেলার প্রধানতম মহাবিদ্যালয় হল গুরুদয়াল কলেজ। এই কলেজে বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ পড়াশোনা করেছেন।[১৯] এছাড়া অন্যান্য মহাবিদ্যালয় হল কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ, পৌর মহিলা মহাবিদ্যালয়, ও আর এস আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ।

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এই উপজেলার যশোদলে অবস্থিত একটি চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ১ বছর মেয়াদী হাতে-কলমে শিখনসহ স্নাতক পর্যায়ের ৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএস শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর ২০২০ সালে মার্চ মাসে মুজিব বর্ষের প্রথম দিনে কলেজটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়।[২০][২১] ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের খসড়া অনুমোদন লাভ করে।[২২]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ সদরে পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম হল রেল ও সড়ক পথ। শহরের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য সিএনজি চালিত অটো রিকশা ও রিকশা ব্যবহৃত হয়।

গণপরিবহন[সম্পাদনা]

শহরের কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন একটি মিটারগেজ রেললাইন ও দুটি প্লাটফর্ম দিয়ে কিশোরগঞ্জ শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাকে পরিবহন সেবা প্রদান করে। বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে পরিচালিত এগারসিন্দুর প্রভাতি এক্সপ্রেস, এগারসিন্দুর গোধূলি ও কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এই স্টেশন থেকে ভৈরব-নরসিংদী-টঙ্গী হয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সাথে এই শহরের সংযোগ স্থাপন করে।[২৩] কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২০১৩ সালে চালু হয়।[২৪] দূরপাল্লার বাসগুলো শহরের গাইটাল বাস টার্মিনাল ও বত্রিশ বাস স্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যায়।[২৫] ঢাকাগামী বাসগুলোর গন্তব্যস্থল মূলত মহাখালী বাস টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল। এছাড়া কয়েকটি বাসের গন্তব্যস্থল সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন গোলাপবাগ মাঠ।

সড়ক[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ সদরে ১৩০ কিমি পাকা রাস্তা এবং ৬০৫ কিমি কাচা রাস্তা রয়েছে।[২৬] কিশোরগঞ্জ সদরের সকল রাস্তার তদারকি করে থাকে স্থানীয় প্রশাসন আরএইচডি, এলজিইডি ও পৌরসভা। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ১২০ কিমি।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেলা হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া এই উপজেলার লোকজনের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ১১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে।[২৭] উপজেলার লতিবাবাদ লতিবাবাদ এলাকায় কিশোরগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল অবস্থিত।[২৮] ২০০৬ সালের ১৪ মে উপজেলার লোকজনদের চোখের চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে বেসরকারি সংস্থা নারী উদ্যোগ কেন্দ্র (নউক) এর উদ্যোগে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়।[২৯]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

শহীদি মসজিদ কিশোরগঞ্জ

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জেলা পরিসংখ্যান - কিশোরগঞ্জ" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। পৃষ্ঠা ১৬। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  2. "কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা"সরকারি তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২০ 
  3. জাহান, জাহাঙ্গীর আলম (২০০১)। রক্তে ভেজা কিশোরগঞ্জ। দৃশ্যপট '৭১। পৃষ্ঠা ২৭, ৩০। 
  4. জাহান, জাহাঙ্গীর আলম (১২ আগস্ট ২০১৯)। "মুক্তিযুদ্ধে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ইতিকথা (শেষ পর্ব)"কিশোরগঞ্জ নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২০ 
  5. "কিশোরগঞ্জ স্বাধীন হয়েছিল ১৭ ডিসেম্বর"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৬ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২০ 
  6. "জেলা পরিসংখ্যান - কিশোরগঞ্জ" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। পৃষ্ঠা ১৭। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  7. "শপথ নিলেন কিশোরগঞ্জের ১০ উপজেলা চেয়ারম্যান"দৈনিক নয়া দিগন্ত। ২৭ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২০ 
  8. "Kishoreganj Pourashava"কিশোরগঞ্জ পৌরসভা (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  9. "প্রতিশ্রুতির ৭০ ভাগ বাস্তবায়ন করেছি: যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কিশোরগঞ্জ পৌর মেয়র"দৈনিক যুগান্তর। ১৯ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  10. "বড় ব্যবধানে জয়ী মন্ত্রীরা"দৈনিক প্রথম আলো। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  11. "কিশোরগঞ্জ-১ আসনে শপথ নিলেন সৈয়দা জাকিয়া নুর"বাংলা ট্রিবিউন। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  12. "কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা"বাংলাপিডিয়াবাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২০ 
  13. "এক নজরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা"কৃষি বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  14. "এক নজরে কিশোরগঞ্জ সদর"কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২০ 
  15. "চন্দ্রাবতী : মধ্যযুগের প্রথম মহিলা কবি"জাগো নিউজ। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  16. বসু, পূরবী (১৫ জুন ২০১৯)। "চন্দ্রাবতী: বাংলাদেশের প্রথম নারী কবি"রাইজিংবিডি.কম। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  17. "কিশোরগঞ্জ জেলা"কিশোরগঞ্জ জেলা। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২০ 
  18. হোসেন, বাজিত (৬ মে ২০১৯)। "কিশোরগঞ্জে এসএসসিতে দুই সরকারি বিদ্যালয়ের ব্যাপক সাফল্য"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২০ 
  19. আজিজ, তাফসিলুল (১৬ অক্টোবর ২০১৬)। "যে কলেজে রাষ্ট্রপতি পড়েছেন"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২০ 
  20. "প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর চালু হলো সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২০ 
  21. "চালু হলো সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল"জাগো নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২০ 
  22. "বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ | শিক্ষাঙ্গন"দৈনিক ইত্তেফাক। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২০ 
  23. খোকা, বিজয় রায় (১৮ জুলাই ২০১৯)। "বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা"বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২০ 
  24. "কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রেলপথে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস চালু"দৈনিক প্রথম আলো। ২ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২০ 
  25. "কিশোরগঞ্জে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ৬ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২০ 
  26. "কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা - যোগাযোগ"কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২০ 
  27. "কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য"কিশোরগঞ্জ জেলা (ইংরেজি ভাষায়)। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০২০ 
  28. "কিশোরগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের যুগপূর্তি অনুষ্ঠান"দৈনিক মানবজমিন। ১৫ মে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০২০ 
  29. "কিশোরগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের যুগপূর্তি অনুষ্ঠান"কিশোরগঞ্জ নিউজ। ১৪ মে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০২০ 
  30. "শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত"দৈনিক প্রথম আলো। ২২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  31. ইয়াসমীন, সাবরিনা (৩ অক্টোবর ২০১৮)। "চন্দ্রাবতীর স্মৃতির খোঁজে"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২০ 
  32. আজাদ, মো. আলী এরশাদ হোসেন (২০ জুলাই ২০১৮)। "জীবন্ত কিংবদন্তি কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ"দৈনিক কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  33. "ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: শহীদী মসজিদ, কিশোরগঞ্জ"কিশোরগঞ্জ জেলা। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]