চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী (১৮৯৪ - ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫) (ইংরেজি: Chittaprio Roychowdhury) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী। তিনি পূর্ণচন্দ্র দাসের সহকর্মী ও পূর্ণচন্দ্র পরিচালিত গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন মাদারিপুর সমিতির সদস্য ছিলেন।

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

ডিসেম্বর ১৯১৩ সনে প্রথম ফরিদপুর ষড়যন্ত্র মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ মাস জেল খাটেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯১৫ তারিখে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন দিবসে রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিস ইনস্পেকটর সুরেশ মুখার্জিকে কয়েকজন সহকর্মীর সাহায্যে হত্যা করেন। বিপ্লবী যতীন মুখার্জীর সহকর্মী হিসেবে জার্মানি, জাপান, আমেরিকা ও ডাচ ইন্ডিজ থেকে অস্ত্রশস্ত্র আমদানির চেষ্টা করেন।[১]

বুড়ি বালামের তীরে খণ্ডযুদ্ধ[সম্পাদনা]

৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাত্রে বাঘা যতীন বা যতীন মুখার্জী নিজের সাময়িক আস্তানা মহলডিহাতে ফিরে এলেন। সঙ্গে চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী, জ্যোতিষচন্দ্র পাল, মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত এবং নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত। ৮ সেপ্টেম্বর সারাদিন কেটে গেল গভীর জংগলে। সারারাত পায়ে হেঁটে ৯ সেপ্টেম্বর ভোরবেলা পৌঁছলেন বালেশ্বরের নদী বুড়ি বালামের উপকণ্ঠে। সাঁতার কেটে নদীর ওপারে গিয়ে যুদ্ধের পক্ষে মোটামুটি উপযুক্ত শুকনো এক ডোবার মধ্যে আশ্রয় নিলেন। বিপরীতপক্ষে চার্লস টেগার্ট, কমান্ডার রাদারফোর্ড, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিলভি অসংখ্য সশস্ত্র পুলিস ও সামরিক বাহিনী নিয়ে হাজির হয়েছিল। পরীখার আড়ালে বাঘা যতীনের নেতৃত্বে পাঁচজন, হাতে মাউজার পিস্তল। যুদ্ধ শুরু হলে পুলিসের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হলেন চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী। পরে ১৯১৫ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারের রায়ে মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত এবং নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। ৩ ডিসেম্বর, ১৯১৫ তাঁদের দুজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জ্যোতিষচন্দ্র পালও বেশিদিন বাঁচেননি। পুলিসের নির্মম অত্যাচারে আন্দামান সেলুলার জেলে কুঠরিবদ্ধ অবস্থায় উন্মাদ হয়ে যান। বহরমপুর উন্মাদ আশ্রমে ১৯২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু ঘটে।[১][২][৩]

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরীর জন্ম মাদারিপুর জেলার রাজৈর উপজেলার খালিয়াতে। তাঁর বাবার নাম পঞ্চানন রায়চৌধুরী। মাদারিপুর হাই স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবে জরিয়ে পরেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ২২৩, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গন, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ১৭৩।
  3. শৈলেশ দে, মৃত্যুর চেয়ে বড়, বিশ্ববাণী প্রকাশনী, কলিকাতা, প্রথম (বি) সংস্করণ অগ্রহায়ণ ১৩৯২, পৃষ্ঠা ১২১-১২৬।