মাদারীপুর সদর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাদারিপুর সদর
উপজেলা
মাদারিপুর সদর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মাদারিপুর সদর
মাদারিপুর সদর
বাংলাদেশে মাদারীপুর সদর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১০′২″ উত্তর ৯০°১২′২৩″ পূর্ব / ২৩.১৬৭২২° উত্তর ৯০.২০৬৩৯° পূর্ব / 23.16722; 90.20639স্থানাঙ্ক: ২৩°১০′২″ উত্তর ৯০°১২′২৩″ পূর্ব / ২৩.১৬৭২২° উত্তর ৯০.২০৬৩৯° পূর্ব / 23.16722; 90.20639 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
জেলামাদারীপুর জেলা
মহকুমা১৮৫৪
আয়তন
 • উপজেলা২৮৩.১৪ কিমি (১০৯.৩২ বর্গমাইল)
 • মহানগর১৩.৯৯ কিমি (৫.৪০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • উপজেলা৩,৪৫,৭৬৪
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫১.৮০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৭৯০০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৫৪ ৫৪
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

মাদারিপুর সদর উপজেলা বাংলাদেশের মাদারিপুর জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

অবস্থান: ২৩°০৬´ থেকে ২৩°১৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°০১´ থেকে ৯০°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। এর উত্তরে শিবচরশরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলা, দক্ষিণে কালকিনীগোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা, পূর্বে শরিয়তপুর সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে রাজৈর উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৮৫৪ সালে মহকুমা ও থানা সৃষ্টি হলে ’মাদারিপুর’ নাম প্রশাসনিক স্বীকৃতি লাভ করে। মাদারিপুর ১৮৫৪ সালে মহকুমা হিসেবে ঘোষিত হওয়ার দীর্ঘদিন পর ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং তখন থেকেই এই উপজেলার সৃষ্টি।

মাদারিপুর সদর উপজেলায় ১টি পৌরসভা, ৯টি ওয়ার্ড, ৩৪টি মহল্লা, ১৫টি ইউনিয়ন, ১৫৯টি মৌজা ও ২৩৫টি গ্রাম রয়েছে।

পৌরসভা[সম্পাদনা]

ইউনিয়নের নাম[সম্পাদনা]

• শিরখাড়া, • বাহাদুরপুর, • কুনিয়া, • পেয়ারপুর, • ধুরাইল, • রাস্তি, • পাচখোলা, • খোয়াজপুর, • ঝাউদি, • ঘটমাঝি, • কেন্দুয়া, • মস্তফাপুর, • কালিকাপুর, • ছিলারচর, • দুধখালী।[২]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার গড় হার ৫১.১%; পুরুষ ৫৩.৯%, নারী ৪৮.৪%।[৩]

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯১ টি
  • কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২২ টি
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৬ টি
  • সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ০২ টি
  • বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৪৪ টি
  • দাখিল মাদ্রাসা ২২ টি
  • আলিম মাদ্রাসা ০৭ টি
  • কামিল মাদ্রাসা ০১ টি
  • কলেজ ০৫ টি
  • কারিগরি কলেজ ০১ টি[৩]

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:[সম্পাদনা]

  • সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ (১৯৪৮),
  • চরমুগুরিয়া কলেজ (১৯৭৮),
  • সরকারি সুফিয়া মহিলা কলেজ (১৯৮৪),
  • সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ (১৯৮৯),
  • ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৫০) [সাবেক মাদারীপুর হাইস্কুল (১৮৮৫)],
  • ডনোভান সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (১৯১৪),
  • মাদারীপুর পাবলিক ইনস্টিটিউশন (১৯৫৩),
  • মিঠাপুর এলএস উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৫),
  • চরমুগুরিয়া মার্চেন্টস হাইস্কুল (১৯৩১),
  • তাঁতীবাড়ি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৫৪),
  • এসি নর্থ কলাগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬১),
  • ঘটকচর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৩),
  • বাহাদুরপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৮),
  • জুলিও কুরি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭২),
  • চরনাচনা ফাজিল মাদ্রাসা (১৯১২)।

শিল্প ও বাণিজ্য[সম্পাদনা]

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৫২.২৬%, অকৃষি শ্রমিক ৩.০৩%, শিল্প ০.৯৪%, ব্যবসা ১৮.০১%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.২৬%, চাকরি ৯.৯৯%, নির্মাণ ১.৭৮%, ধর্মীয় সেবা ০.১৬%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৮৬% এবং অন্যান্য ৯.৭১%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬৬.৭৭%, ভূমিহীন ৩২.৯৩%। শহরে ৪২.৯৩% এবং গ্রামে ৭১.৬৮% পরিবারের কৃষিভূমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, সরিষা, ডাল, গম, পিঁয়াজ, মিষ্টি আলু, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি নীল, পান, তরমুজ।

প্রধান ফল-ফলাদি কাঁঠাল, আম, পেঁপে, নারিকেল, সুপারি, কলা।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়ার গাড়ি।

শিল্প - কলকারখানা[সম্পাদনা]

এ জেলায় শিল্প ও কলকারখানা তেমনভাবে গড়ে উঠেনি। যে কয়টি শিল্প ও কলকারখানা রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- (১) মাদারিপুর স্পীনিং মিলস, (২) আলহাজ্জ আমিনউদ্দিন জুট মিলস, (৩) চরমুগরিয়া জুট মিলস, (৪) এ.আর. হাওলাদার জুট মিলস (পরিত্যাক্ত)। এগুলোর মধ্যে শিল্পখাতে মাদারিপুর স্পিনিং মিলস এর অবদান সবচেয়ে বেশি। এ মিলটি ১৯৮৬ সালে ২৯.১৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর জনবল ২০০০ জন। এ মিলে বার্ষিক ৫০০০ মে. টন সূতা উৎপাদিত হয় যার আর্থিক মূল্য ৬০ কোটি টাকা। এ ছাড়া এ জেলায় ৬০০০ মে. টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কোল্ড স্টোরেজ সহ বেশ কিছু সংখ্যক কাপড়ের কল, ধানকল, তেলকল, বরফকল, বিস্কুট ফ্যাক্টরি ও করাতকল রয়েছে। এছাড়া এ জেলায় একটি ক্ষুদ্র শিল্পনগরী এবং ছোটবড় মিলিয়ে ১১৩টি হাট বাজার রয়েছে।

জুটমিল ২, বরফকল ৩, আটামিল ৫, বিস্কুট ফ্যাক্টরি ৫।

কুটিরশিল্প মৃৎশিল্প, লৌহশিল্প, দারুশিল্প, নকশীকাঁথা।

হাটবাজার ও মেলা মাদারিপুর, চরমুগুরিয়া, হবিগঞ্জ, কূলপদ্মী, কেন্দুয়া, মাদ্রা, খোয়াজপুর ও ঘটমাঝি হাট এবং দুর্গাপূজা, ফটিক সাধু, বাহাদুরপুর ও কলাগাছিয়া মেলা উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য  পাট ও পাটজাত দ্রব্য, সুপারি, সুতা।[৪]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • শাহ মাদার (১৩-১৪শতাব্দী) - প্রখ্যাত সূফী সাধক;
  • মৌলোবী আব্দুল জব্বার ফরিদপুরী (১৮০১-১৮৭৬) - বিশিষ্ট উর্দু কবি ও লেখক;
  • আলিমুদ্দিন আহম্মদ, খান সাহেব (১৮৯০ -১৯৫৭খ্রি.) - মোক্তার ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ;
  • মুন্সী মোজাহারুল হক (১৮৯৮-১৯৭৯খ্রি.) - রাজনীতিবিদ ও মাদারিপুরের প্রথম লঞ্চ ব্যাবসায়ী;
  • ইস্কান্দার আলী খান (১৯০১-৮৩খ্রি.) - বিশিষ্ট আইনজীবি ও রাজনীতিবিদ; এমএলএ;
  • দ্বারকানাথ বারুরী (১৯০৬ -৮৫খ্রি.) - যুক্ত বঙ্গেরপূর্ব পাকিস্তান মন্ত্রী, পাকিস্তান কন্সটিটিউশন কমিশনের সদস্য(১৯৬০);
  • আবদুর রহমান হাওলাদার (১৯০১-১৯৭৪) - ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, বিদ্যোৎসাহী ও সমাজসেবক।
  • ডাঃ গোলাম মওলা (১৯২০ -৬৭খ্রি.) - ভাষা সৈনিক, এমএলএ, এমএনএ, একুশে পদক(২০১০) প্রাপ্ত; বিশিষ্ট চিকিৎসক;
  • পদ্মা দেবী (১৯১৭ -৮৩খ্রি.) - ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্রাভিনেত্রী;
  • প্রফেসর গোলাম ওয়াহেদ চৌধুরী - রাষ্ট্রবিজ্ঞান গবেষক ও সমাজসেবী; পাকিস্তান কন্সটিটিউশন কমিশনের অনারারি উপদেষ্টা(১৯৬১) ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী(প্রাক্তন);
  • আভা আলম (১৯৪৭-৭৬খ্রি.) - সঙ্গীত শিল্পী; মরনোত্তর একুশে পদক(১৯৭৮) স্বর্ণপদক প্রাপ্ত;
  • ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ (১৯৩৮-৬৯খ্রি.) - ভূ-তত্ত্ববিদ ও গবেষক;
  • রাজিয়া মাহবুব - বিশিষ্ট সাহিত্যিক; ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৫৭) প্রাপ্ত; শিশু সাহিত্যের জন্য লন্ডনের "ইসাবেলা ইটন পুরস্কার" (১৯৬৭) প্রাপ্ত; বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১) প্রাপ্ত;
  • স্টুয়ার্ড মুজিবর রহমান - আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার তিন(৩) নম্বর আসামী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক;
  • মৌলভী আচমত আলী খান (১৯০৭-৯৩খ্রি.) - এমপিএ, এমপি; বঙ্গীয় গভর্ণর মেডেল(১৯৪৩) প্রাপ্ত; মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার(২০১৬) প্রাপ্ত;
  • বাসুদেব দাশগুপ্ত (১৯৩৮-২০০৫) - হাংরি আন্দোলন এর বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক;
  • আব্দুল মান্নান শিকদার - ভাষা সৈনিক; প্রাক্তন এমপি ও প্রতিমন্ত্রী;
  • অসীম সাহা (১৯৪৯-) - কবি ও ঔপন্যাসিক; বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১২) প্রাপ্ত; একুশে পদক (২০১৯) প্রাপ্ত।
  • এ.টি.এম. কামালুজ্জামান - সাংস্কৃতিক সংগঠক;
  • বাশার মাহমুদ (১৯৫২- ) - কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, সাংবাদিক, গবেষক;
  • শাজাহান খান (১৯৫২- ) - রাজনীতিবিদ; এমপি; প্রাক্তন মন্ত্রী;
  • আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম (১৯৬১) - রাজনীতিবিদ ও কৃষিবিদ; প্রাক্তন এমপি;
  • মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ (১৯৬০- ) - এডমিরাল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান (২০১৫-২০১৯);
  • নকুল কুমার বিশ্বাস (১৯৬৫− ) − কণ্ঠশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গীতিকার;
  • লিখন মাহমুদ - স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক, গবেষক;
  • মহিত খান - সঙ্গীত শিল্পী।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. https://www.citypopulation.de/php/bangladesh-admin.php?adm2id=5454  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  2. "মাদারীপুর সদর উপজেলা" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)http (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-২৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "মাদারীপুর সদর উপজেলা" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)http (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-২৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "মাদারীপুর সদর উপজেলা - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-২৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]