কে এম ওবায়দুর রহমান
কে এম ওবায়দুর রহমান | |
|---|---|
| বিএনপির মহাসচিব | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৮৬ – ১৯৮৮ | |
| পূর্বসূরী | আবু সালেহ মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান |
| উত্তরসূরী | আব্দুস সালাম তালুকদার |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ৫ মে ১৯৪০ ফরিদপুর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি |
| মৃত্যু | ২১ মার্চ ২০০৭ (বয়স ৬৬) অ্যাপোলো হাসপাতাল, ঢাকা |
| নাগরিকত্ব | |
| সন্তান | শামা ওবায়েদ |
| মাতা | মাতা রাবেয়া বেগম |
| পিতা | খন্দকার মোঃ আতিকুর রহমান |
| শিক্ষা | এমএ |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
কে এম ওবায়দুর রহমান (৭ জুন ১৯৯৪ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তৃতীয় মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের প্রথম, দ্বিতীয়, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ছিলেন।[১][২][৩][৪][৫]
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
[সম্পাদনা]কে এম ওবায়দুর রহমানের জন্ম ১৯৪০ সালের ৫ মে ব্রিটিশ ভারতের পূর্ব বাংলার ফরিদপুরের নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামে। তার পিতা খন্দকার মোঃ আতিকুর রহমান ও মাতা রাবেয়া বেগম। ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে লেখা-পড়ার পর তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাস করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
[সম্পাদনা]কে এম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় একবার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২-১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে তিনি আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৩ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ছয় দফা আন্দোলন সমর্থন করেন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন। তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ১৯৬৬-১৯৭১ সালে সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। অসহযোগ আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ফরিদপুর জেলা সমন্বয় ও প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক হিসেবে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ফরিদপুরে যুব সমাজকে সংগঠিত করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পরে তিনি ভারতে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের পুরুলিয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পলিটিক্যাল মোটিভেটর এবং পরে কলকাতায় আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয় পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তখন তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।[১]
তিনি ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[২] ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও তার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর তিনি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারে যোগ দেন। [৬] ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। [৭] ২০০৪ সালে জেল হত্যা মামলায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন।[৮]
১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৩] এ সময় তিনি প্রথমে মৎস্য ও পশুপালন এবং পরে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপি’র মহাসচিব ছিলেন। এর পর এরশাদের সামরিক সরকারের চাপে নির্বাচনী প্রতীক হিসাবে চাকা নিয়ে জনতা দল গঠন করেছিলেন। এই দল থেকে সর্বশেষ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হয়েছিলেন।[৯][১০] খালেদা সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারো যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে।
জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ফরিদপুর-২ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৪][৫][১০] আমৃত্যু বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দশ বছরের অধিককাল কারান্তরীণ ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]কে এম ওবায়দুর রহমান বিয়ে করেছিলেন অধ্যাপক শাহেদা ওবায়েদকে। তাদের এক কন্যা শামা ওবায়েদ। ওবায়দুর রহমান সাহেব হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসমিন আরা হকের মামা-শ্বশুড়। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।[১১] শামা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।[১২][১৩][১৪]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]কে এম ওবায়দুর রহমান ২১ মার্চ ২০০৭ সালে বাংলাদেশের ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা লস্করদিয়া গ্রামে সমাহিত করা হয়।[১][১৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 আ.ন.ম আবদুস সোবহান (২০১২)। "রহমান, কে.এম ওবায়দুর"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 "১ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- 1 2 "২য় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- 1 2 "৭ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- 1 2 "৮ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Bangabandhu's men - on Aug 15 and after"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ আগস্ট ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- ↑ "Next date of Jail Killing Case hearing fixed Feb 15"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ জানুয়ারি ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- ↑ "Jail Killing Case"। দ্য ডেইলি স্টার। ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- ↑ "WHAT KHALEDA DID"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ জুলাই ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- 1 2 "কে এম ওবায়দুর রহমান"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Shama poses challenge to AL stalwart Sajeda"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ ডিসেম্বর ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- ↑ "Daughter not allowed to visit Obaidur Rahman"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জানুয়ারি ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- 1 2 "KM Obaid passes away"। দ্য ডেইলি স্টার। ২২ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- ↑ "BNP ready with three formulas for election-time government"। ঢাকা ট্রিবিউন (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- ১৯৪০-এ জন্ম
- ২০০৭-এ মৃত্যু
- বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক রাজনীতিবিদ
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ
- প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য
- দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ সদস্য
- সপ্তম জাতীয় সংসদ সদস্য
- অষ্টম জাতীয় সংসদ সদস্য
- ফরিদপুর জেলার রাজনীতিবিদ
- শেখ মুজিবুর রহমানের তৃতীয় মন্ত্রিসভার সদস্য
- শেখ মুজিবুর রহমানের চতুর্থ মন্ত্রিসভার সদস্য
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত ব্যক্তি
- মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভার সদস্য
- বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী
- বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ
- বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
- বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ
- সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- নগরকান্দা উপজেলার ব্যক্তি