নাগরপুর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নাগরপুর
উপজেলা
নাগরপুর উপজেলার ফটক
নাগরপুর উপজেলার ফটক
নাগরপুর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
নাগরপুর
নাগরপুর
বাংলাদেশে নাগরপুর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৩′০″ উত্তর ৮৯°৫২′৫″ পূর্ব / ২৪.০৫০০০° উত্তর ৮৯.৮৬৮০৬° পূর্ব / 24.05000; 89.86806স্থানাঙ্ক: ২৪°৩′০″ উত্তর ৮৯°৫২′৫″ পূর্ব / ২৪.০৫০০০° উত্তর ৮৯.৮৬৮০৬° পূর্ব / 24.05000; 89.86806 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
জেলাটাঙ্গাইল জেলা
আয়তন
 • মোট২৬৬.৭৭ কিমি (১০৩.০০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)[১]
 • মোট২,৫৮,৪৩১
 • জনঘনত্ব৯৭০/কিমি (২৫০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৩৫. ০৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড১৯৩৬ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৯৩ ৭৬
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

নাগরপুর উপজেলা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এই উপজেলার ভৌগোলিক স্থানাংক আয়তন: ২৬৬.৭৭ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°৫৮´ থেকে ২৪°১০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৪৬´ থেকে ৯০°০১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ । এই উপজেলার পূর্বে- মির্জাপুর উপজেলা, সাটুরিয়া উপজেলা, পশ্চিমে - চৌহালি উপজেলা, দৌলতপুর উপজেলা, উত্তরে- টাঙ্গাইল সদর উপজেলাদেলদুয়ার উপজেলা , দক্ষিণে- মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

নাগরপুর উপজেলায় ইউনিয়ন সর্বমোট ১২টি।

  1. নাগরপুর ইউনিয়ন
  2. ভাররা ইউনিয়ন
  3. সহবতপুর ইউনিয়ন
  4. গয়হাটা ইউনিয়ন
  5. বেকড়া ইউনিয়ন
  6. সলিমাবাদ ইউনিয়ন
  7. ধুবরিয়া ইউনিয়ন
  8. ভাদ্রা ইউনিয়ন
  9. দপ্তিয়র ইউনিয়ন
  10. মামুদনগর ইউনিয়ন
  11. পাকুটিয়া ইউনিয়ন এবং
  12. মোকনা ইউনিয়ন

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নাগরপুর থানা গঠিত হয় ১৯০৬ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩ সালে।

উপজেলার ঐতিহ্য,ভাষা ও সংস্কৃতি প্রাচীন লৌহজং (নোয়াই) নদীর তীরে অবস্থিত নাগরপুর মূলতঃ নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ার কারনেই এখানে সহজেই বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা বানিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠে । ব-দ্বীপ সদৃশ নাগরপুরের উত্তর, পূর্বে - ধলেশ্বরী এবং পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা। যমুনা নদী দিয়ে সরাসরি কলকাতার সাথে এলাকার দৈনন্দিন যোগাযোগ ছিল। সলিমাবাদের বিনানইর ঘাট খুবই বিখ্যাত ছিল। ইংরেজ আমল শেষে এবং পাকিস্তান শাসন আমলের একটি বড় সময়কাল পর্যন্ত এই ঘাট থেকেই তৎকালীন বৃটিশ রাজধানী কলকাতার সাথে মেইল স্টিমারসহ মালামাল এবং যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিস চালু

ছিল। ফলে নাগরপুরের সাথে রাজধানী কলকাতার একটি বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। আর এরই সূত্র ধরে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিক মোঘল আমলের সূচনা লগ্নে নাগরপুরে চৌধুরী বংশের

আর্বিভাব ঘটে। সুবিদ্ধা খা-ই এই চৌধুরী বংশের পূর্ব পুরুষ বলে জানা যায়। মোঘল আমলের শেষ তথা বৃটিশ আমলের একটা সময় পর্যন্ত এদেশের সামগ্রিক শিক্ষার গুণগত মান তেমন ভাল ছিল না। বলা চলে শিক্ষার ক্ষেত্রে এলাকার মানুষ একেবারেই অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। এমনই এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় ক্ষণজন্মা পুরুষ কিশোরী চন্দ্র প্রামানিক সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে নাগরপুর সদরে কে,সি, গরীব পাঠশালা নামে একটি পাঠশালা স্থাপন করেন। এটিই নাগরপুরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরপর ১৮৭৯ সালে গয়হাটা উদয়তারা মাইনর স্কুল, ১৮৮৫ খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয় আরড়া কুমেদ মাইনর স্কুল এবং ১৮৯০খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয় মোকনা ইউনিয়নে কেদারপুর মাইনর স্কুল। শিক্ষার পথিকৃত কিশোরী চন্দ্র প্রামানিক প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা প্রসারের প্রবল বাসনা নিয়ে এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতার উদাত্ত আহবান জানান। তারই আহবানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন শিক্ষানুরাগী দুই মহাপ্রাণ- যাদব লাল চৌধুরী এবং হরিলাল চৌধুরী। এই ত্রিরত্ন মিলে ১৯০০খ্রি. ১ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন ‘‘নাগরপুর হাই ইংলিশ স্কুল’’। পরবর্তী কালে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নাগরপুর চৌধুরী বংশের প্রাণ পুরুষ রায় বাহাদুর সতীশ চন্দ্র চৌধুরী এবং তাঁর শ্রদ্ধেয় কাকা জগদীন্দ্র মোহন চৌধুরী মিলে তাঁর পিতা যদুনাথ চৌধুরীর নামে বিদ্যালয়টির নামকরণ করেন ‘‘যদুনাথ হাই ইংলিশ স্কুল’’। এভাবেই চৌধুরী পরিবারের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁদের জমিদারী এবং নিয়মিত ব্যবসা বানিজ্যের পাশাপাশি এলাকার বৃহত্তর সাধারণ জনগোষ্ঠীর জন্য গড়ে তোলেন- পুন্ডরীকাক্ষ দাতব্য চিকিৎসালয়, সুপেয় পানি পান করার জন্যে খনন করেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত সুবিশাল দীঘি- উপেন্দ্র সরোবর, উমা সন্দুরী বাগান, প্রতিষ্ঠা করেন-উপ-মহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবল ক্লাব (ইষ্ট বেঙ্গলক্লাব)।

বর্তমান হাসপাতাল মাঠে (যদুনাথ মাঠ) যাঁদের ফুটবল ক্রীড়া নৈপুন্যে এক সময় মুগ্ধ হতেন এলাকার ক্রীড়ামোদি মানুষ। এভাবেই নাগরপুরে চৌধুরী পরিবারের আধুনিক চিন্তা, জীবন দর্শন এবং মননের পাশাপাশি পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী সহ জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে বিশিষ্টজন কর্তৃক গড়ে উঠে বিভিন্ন অট্টালিকা যা বর্তমানে জনস্বার্থে ব্যবহার পাশাপাশি দর্শনীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও নন্দিত। ঐতিহ্যের স্মারকের দিক থেকে বিশেষভাবে উল্লেখ্যঃ চৌধুরীবাড়ির বিভিন্ন স্থাপত্য, যাদব বাবুর বাড়ির সিংহদ্বার, পাকুটিয়া জমিদারদের সুদৃশ্য নান্দনিক অট্টালিকা, গয়হাটার মঠ, সলিমাবাদের জামে মসজিদ ও বৈশাখী মেলা, রাথুরার শাহ-পীরের মাজার, ভয়াল একাত্তরের বিশেষ স্মৃতি স্মারক বনগ্রামের গণকবর।

সহবতপুর ইউনিয়নের সন্তান সন্তুতি হারা নিঃস্ব এক অভাগা পিতার শোকগাঁথা স্মারক (মনোরমা- মঙ্গলা-কাজুলী), একান্তরের সারাংপুর ট্র্যাজেডি, নাগরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় মহা-শ্মশান। আমাদের মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ‘‘মনসা মঙ্গল’’ কাব্যের কবি রায় বিনোদ এর আদিবাসও ছিল ধুবড়িয়া ইউনিয়ন সদর।নাগরপুর উপজেলার সকল মানুষের মুখের ভাষা মাতৃভাষা-বাংলা।

সংস্কৃতির চর্চার দিক থেকে নাগরপুরে চৌধুরী পরিবারের পাশ্চাত্তীয় চিন্তা, জীবন দর্শন ও মননের সূত্রধরেই এখানে বেশ কিছু সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। চৌধুরী বাড়ীর রঙ্গমহল পাকুটিয়ার নাট্য মন্দির, যাদব বাবুর নাট্য মন্দির বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য। বর্তমানে বেশ কিছু শিল্প- সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়মিত ভাবে এলাকায় সাংস্কৃতিক চর্চা করে যাচ্ছে।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা ২৫৮৪৩১; পুরুষ ১২৬৮৮১, মহিলা ১৩১৫৫০। মুসলিম ২৩৯১১৫, হিন্দু ১৯২৯৫, বৌদ্ধ ৮ এবং অন্যান্য ১৩ জন ।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার  ৩৪.৭%; পুরুষ ৪০.০%, মহিলা ২৯.৭%। কলেজ ৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩০, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫৭, মাদ্রাসা ১৬

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, গম, সরিষা, আখ।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি তিল, তিসি, কাউন, মিষ্টি আলু, চিনা, কলাই।

প্রধান ফল-ফলাদি  আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, জাম, কুল।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, মৃৎশিল্প, লৌহশিল্প, কাঠের কাজ।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬১.৬৩%, অকৃষি শ্রমিক ৩.২২%, শিল্প ১.০৭%, ব্যবসা ১১.২০%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ১.৬৬%, চাকরি ১০.৫০%, নির্মাণ ০.৭৪%, ধর্মীয় সেবা ০.২৬%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৯৪% এবং অন্যান্য ৮.৭৮%।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯২.৯৭%, পুকুর ০.২২%, ট্যাপ ০.৩৬% এবং অন্যান্য ৬.৪৫%।

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

নূর মোহাম্মদ খানূর মোহাম্মদ খান

আহসানুল ইসলাম টিটু

খন্দকার আব্দুল বাতেন

ড. আলিম আল রাজী

ড. কে. এফ. হুদা

মুহম্মদ সিদ্দিক খান (এম এস খান)

সালাহউদ্দিন

ইঞ্জিনিয়ার মো: আমিনুর রহমান আমিনী

বিবিধ[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র  ৬, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ১২, কমিউনিটি ক্লিনিক ৩৫, প্রাইভেট ক্লিনিক ৬।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান  মসজিদ ২৭৯, মন্দির ৯

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ৫, ক্লাব ২৬, সিনেমা হল ৩, মহিলা সমবায় সমিতি ১৩, খেলার মাঠ ১৪।

ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "উপজেলা সম্পর্কিত তথ্য"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৯ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]