রায়পুরা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রায়পুরা
উপজেলা
রায়পুরা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
রায়পুরা
রায়পুরা
বাংলাদেশে রায়পুরা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৫৮′২″ উত্তর ৯০°৫২′৩১″ পূর্ব / ২৩.৯৬৭২২° উত্তর ৯০.৮৭৫২৮° পূর্ব / 23.96722; 90.87528স্থানাঙ্ক: ২৩°৫৮′২″ উত্তর ৯০°৫২′৩১″ পূর্ব / ২৩.৯৬৭২২° উত্তর ৯০.৮৭৫২৮° পূর্ব / 23.96722; 90.87528 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ ঢাকা বিভাগ
জেলা নরসিংদী জেলা
আয়তন
 • মোট ৩১২.৫০ কিমি (১২০.৬৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ৪,৫৪,৮৬০
 • ঘনত্ব ১৫০০/কিমি (৩৮০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট %
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

রায়পুরা উপজেলা বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। মেঘনা, ব্রহ্মপুত্রআঁড়িয়াল খা নদ-নদী বিধৌত এই উপজেলাটি রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদী জেলা সদরের খুব সন্নিকটে অবস্থিত।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এই উপজেলাটি রাজধানী ঢাকা থেকে ৭৯ কিলোমিটার এবং জেলা সদর নরসিংদী থেে ৩২ কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত। এর আয়তন ৩১২.৭৭ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে বেলাবো উপজেলা, দক্ষিনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগরবাঞ্ছারামপুর উপজেলা, পুর্বে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা, পশ্চিমে নরসিংদী সদরশিবপুর উপজেলা অবস্থিত। নদ-নদীর মধ্যে রয়েছে মেঘনা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, আঁড়িয়াল খাকাকন নদী

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কথিত আছে যে, বৃটিশ শাসন আমলে লর্ড কর্ণওয়ালিশের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু হওয়ার সময় এ অঞ্চল ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা জমিদারের আওতায় আসে। উক্ত জমিদারের কাছ থেকে সিকিমি পত্তন নেন এখানকার রায় উপাধিধারী কিছুসংখ্যক অমাত্য। এদের উল্লেখ্যযোগ্য হলো প্রকাশচন্দ্র রায়, পূর্ণচন্দ্র রায়, মহিমচন্দ্র রায়, ঈশ্বরচন্দ্র রায় এবং আরো অনেকে। এদের নাম‍ানুসারে প্রথমে এলাকার নাম হয় “রায়নন্দলালপুর”। পর্যায়ক্রমে এই ‍নাম থেকে রায়পুরা নামের উৎপত্তি হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, পূর্বে এই এলাকা “কালীদহসাগরেরচর” নামে পরিচিত ছিল। পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকেও এ অঞ্চল ময়মনসিংহ কালেকটরেটের আওতাভুক্ত ছিল। এ উপজেলাকে নিম্নবর্ণিত প্রধান তিন ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:

(ক) মধুপুর গড় ভূমি যা ‍উপজেলার প্রায় ২ শতাংশ ভূমি (খ) ব্রক্ষপুত্র পলল ভূমি যা ‍উপজেলার প্রায় ৫৫ শতাংশ ভূমি এবং (গ) মেঘনা পলল ভূমি যা ‍উপজেলার প্রায় ৪৩ শতাংশ ভূমি।

প্রশাসনিক বিন্যাস[সম্পাদনা]

এই উপজেলাটি ২৪টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, ১১৩টি মৌজা ও ২৩৪টি গ্রাম নিয়ে গঠিত।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানকার মোট জনসংখ্যা ৪,১৩,৭৬৬ জন; যার মধ্যে পুরুষ ৫১.৫৮% এবং নারী ৪৮.৪২%। এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে মুসলমান ৯২%, হিন্দু ৭% এবং অন্যান্য ধর্মানুসারী ১%।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানকার শিক্ষার হার ৩৭%। এখানে রয়েছেঃ

  • প্রাথমিক বিদ্যালয় - ১৭৮টি;
  • মহাবিদ্যালয় - ৩টি;
  • টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ - ১টি;
  • উচ্চ বিদ্যালয় - ৩০টি;
  • জুনিয়র বিদ্যালয় - ৭টি;
  • মাদ্রাসা - ২১টি।

স্বাস্হ্য[সম্পাদনা]

স্বাস্হ্য সেবাদানের জন্য রয়েছেঃ

  • উপজেলা স্থাস্থ্য কেন্দ্র - ১টি;
  • জন্ম নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র - ১টি;
  • ক্লিনিক - ১৪টি;
  • স্যাটেলাইট ক্লিনিক - ২টি;
  • পশু চিকিৎসা কেন্দ্র - ১টি;
  • দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র - ১টি;
  • কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র - ১টি।

কৃষি[সম্পাদনা]

এখানকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষক।

  • প্রধান ফসলঃ ধান, গম, আলু, সরিষা, চীনা বাদাম, বেগুন, বিভিন্ন ধরনের সব্জী।
  • লুপ্ত বা লুপ্ত প্রায় শষ্যাদিঃ মসিনা, কাউন, আউস ও আমন ধান, পাট ও আড়হর ডাল।
  • প্রধান ফলঃ কলা, কাঁঠাল, আম, জাম, পেঁপে, পেয়ারা, কুল ও তরমুজ।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

  • কুটির শিল্প - তাঁত শিল্প এখনও এলাকার উল্লেখযোগ্য শিল্প। আরো রয়েছে বাঁশ দ্বারা তৈরি সামগ্রীর শিল্প, লৌহ শিল্প, মৃৎ শিল্প, সূচী-শিল্প।
  • রপ্তানী পণ্য - পাট, কলা, আলু ও শাক-সব্জী।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

  • সড়ক পথঃ ২৮১ কিলোমিটার (পাকা সড়ক - ২৯ কি.মি., আধ-পাকা সড়ক - ২৩ কি.মি., কাচা সড়ক - ২৩০ কি.মি.);
  • নৌ- পথঃ ২২ নটিক্যাল মাইল;
  • রেল পথঃ ২৭ কিলোমিটার।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

১. পান্থশালা ২. বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জাদুঘর

বিবিধ[সম্পাদনা]

এনজিও

ব্রাক, আশা, গ্রামীন ব্যাংক, মৌচাক ও পল্লী সঞ্চয় কর্মসূচী সক্রিয় এনজিওদের মধ্যে অন্যতম।

হাট-বাজার ও মেলা

হাট-বাজারের সংখ্যাঃ ৪০টি।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে রায়পুরা"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জুন, ২০১৪। সংগৃহীত : ১ জুলাই ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

|