মাকসুদুল আলম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাকসুদুল আলম
Maqsudul.jpg
জন্ম(১৯৫৪-১২-১৪)১৪ ডিসেম্বর ১৯৫৪
ফরিদপুর, বাংলাদেশ
মৃত্যু২০ ডিসেম্বর ২০১৪(2014-12-20) (বয়স ৬০)
হাওয়াই, যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তাবাংলাদেশি, মার্কিন
কর্মক্ষেত্রজিনতত্ত্ব
প্রতিষ্ঠানমালয়েশিয়া, হাওয়াই, জার্মানি
পৃষ্ঠপোষককৃষি মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ)
প্রাক্তন ছাত্রঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মস্কোফস্কি গোসুদারস্তেভনেই উনিভারসিতিয়েৎ ইমিন্যে (মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়), মাক্স প্লাংক ইনস্টিট্যুট
পিএইচডি ছাত্ররাজেনিফার সাইতো[১]
পরিচিতির কারণপেঁপে, রাবার, পাট এবং ছত্রাক এর জিননকশার আবিষ্কারক
যাদের দ্বারা প্রভাবান্বিতভ্লাদিমির পেত্রোভিচ মুলাচেভ
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
স্বাধীনতা পুরস্কার
স্ত্রী/স্বামীরাফিয়া হাসান[২]

মাকসুদুল আলম (১৪ ডিসেম্বর ১৯৫৪ - ২০ ডিসেম্বর ২০১৪) ছিলেন একজন বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদ। তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা । ২০১০ সালের ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পাটের জিনোম অনুক্রম আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।[৩]

শৈশব[সম্পাদনা]

মাকসুদুল আলম ফরিদপুরে ১৯৫৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা দলিলউদ্দিন আহমেদ ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের (ইপিআর) একজন কর্মকর্তা এবং তাঁর মা লিরিয়ান আহমেদ একজন সমাজকর্মী ও শিক্ষিকা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পিতা শহিদ হলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে মা লিরিয়ান আহমেদের উপর। শিক্ষকতা করে তিনি তাঁর চার ছেলে ও চার মেয়েকে গড়ে তোলেন।[৩]

মাকসুদুল আলম তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা মাহবুবুল আলম ও বন্ধু জোনায়েদ শফিককে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘অনুসন্ধানী বিজ্ঞান ক্লাব’। ক্লাবের কাজ ছিল মূলত গাছ পর্যবেক্ষণ, গাছের চারা লাগানো এবং পাতা সংগ্রহ। গাছের পাতা। অ্যালবামে সাজিয়ে বই দেখে দেখে বের করতেন গাছগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম[৩]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে স্বাধীনতার পর মাকসুদুল আলম চলে যান রাশিয়ায়। সেখানে মস্কোফস্কি গোসুদারস্তেভনেই উনিভারসিতিয়েৎ ইমিন্যে (মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে অণুপ্রাণবিজ্ঞানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর (১৯৭৯) ও পিএইচডি (১৯৮২) সম্পন্ন করেন[৪]। পরে জার্মানিতে বিখ্যাত মাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৭ সালে প্রাণরসায়নে আরেকটি পিএইচডি উপাধি অর্জন করেন। মস্কোতে মাকসুদ ভ্লাদিমির পেত্রোভিচ মুলাচেভের সংস্পর্শে আসেন। পেত্রোভিচের প্রাণরসায়নের নানা শাখায় অবদান রয়েছে।[৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

জার্মানিতে তিনি কাজ করার সুযোগ পান প্রাণরসায়নের ডিটার উস্টাহেল্ট (Dieter Oesterhelt) ও গেরাল্ড হেইজেলবাওয়াদের (Gerald Hazelbauer) সঙ্গে।[৫] জার্মানির পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে সামুদ্রিক জীবপণ্য প্রকৌশল কেন্দ্রে (Marine Bioproduct Engineering Center) সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গবেষণার জন্য মাকসুদ ও তাঁর সহকর্মীদের ১০ লাখ ডলার অনুদান দেয়।

১৯৯২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। ওই কেন্দ্রে কাজ করার সময় লবণ-আকর্ষী আর্কিয়ার ভৌত-তড়িৎ রূপান্তর (transduction) সংকেতকে বিশ্লেষণ করেন। ২০০০ সালে তিনি ও তাঁর সহকর্মী র‌্যান্ডি লারসেন সহ আটজন বিজ্ঞানী আর্কিয়াতে মায়োগ্লোবিনের মতো এক নতুন ধরনের আমিষ আবিষ্কার করেন। এ দুটিকে নাম দেন গ্লোবিন-যুগল সংবেদক (globin-coupled sensors) এবং প্রোটোগ্লোবিন (protoglobins)। এই প্রাচীন আমিষগুলো থেকে প্রাণের উদ্ভবকালে অক্সিজেন কেমন করে ব্যবহৃত হতো তার হদিশ পাওয়া যায়।[৬][৭] এ আবিষ্কারের সুবাদে মাকসুদের খ্যাতি ও দক্ষতা সবার নজরে আসে। ২০০১ সাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করে যান।[৮]

হাওয়াইয়ান পেঁপের জিন নকশা উন্মোচনের জন্য ডাক পড়ে তাঁর। এ কাজ সম্পন্ন করার পর বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারের প্রচ্ছদে স্থান পান তিনি। পেঁপের জিন নকশা উন্মোচনের পর তিনি পাটের জিন নকশা উন্মোচনের কথা ভেবেছিলেন। সে সময় কয়েকবার বাংলাদেশেও এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর ডাক পড়ে মালয়েশিয়ায় রাবারের জিন নকশা উন্মোচনের জন্য, ওই কাজেও তিনি সফল হন।

পরে তিনি মনোনিবেশ করেন তোষা পাটের (Corchorus olitorius) জিন নকশা উন্মোচনে নেতৃত্ব দানে (২০১০)। পাটের বেস-জোড়া ১২০ কোটি: এরা কোন অনুক্রমে আছে, তা এই আবিষ্কারের ফলে জানা গেছে। এর সুফল হিসাবে মিহি আঁশের পাট, শীতকালীন পাট, সহজ-পচনশীল পাট, পোকা-প্রতিরোধী পাট, ঔষধী পাট, তুলার মতন শক্ত আঁশের পাট প্রভৃতি উদ্ভাবন করা সহজ হবে।[৯]

২০১২ সালে পাটের জন্য ক্ষতিকর ছত্রাকম্যাক্রোফোমিনা ফেজিওলিনার জিনোম অনুক্রম উদ্ঘাটনে বাংলাদেশের একটি গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন।[১০]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মাকসুদুল আলম ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের কুইনস মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি যকৃতের সিরোসিসে ভুগছিলেন।[১১]

স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ সরকার তাঁর অবদানের জন্য ২০১৬ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করে।[১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Support Graduate Research In Microbiology"। University of Hawai'i Foundation। 
  2. https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  3. "মাকসুদুল আলম সম্পর্কে – MASLab" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০৯ 
  4. ""মাকসুদুল আলম প্রোফাইল""। ১ জুন ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১০ 
  5. "Publications"www.biochem.mpg.de (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০৯ 
  6. Hou, Shaobin; Larsen, Randy W.; Boudko, Dmitri; Riley, Charles W.; Karatan, Ece; Zimmer, Mike; Ordal, George W.; Alam, Maqsudul (2000-02)। "Myoglobin-like aerotaxis transducers in Archaea and Bacteria"Nature403 (6769): 540–544। আইএসএসএন 0028-0836ডিওআই:10.1038/35000570  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  7. "Support Graduate Research in Microbiology"University of Hawai‘i Foundation (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০৯ 
  8. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আমাদের গর্ব ডঃ মাকসুদুল আলম নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  9. আবুল হাসান, মোহাম্মদ (২০১৯)। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। ঢাকা: হাসান বুক হাউস। পৃষ্ঠা ৩৫৩। 
  10. মাকসুদুল আলম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ সামিউল হক ও অন্যান্য (১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২)। "Tools to kill: Genome of one of the most destructive plant pathogenic fungi Macrophomina phaseolina"। বিএমসি জিনোমিকস। ডিওআই:10.1186/1471-2164-13-493  ভ্যানকুভার শৈলীতে ত্রুটি: initials (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  11. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম আর নেই"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০৯ 
  12. ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর। "স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন মুহিত, মাকসুদুল, বন্যাসহ ১৪ জন"bangla.bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]