মধুপুর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মধুপুর
উপজেলা
মধুপুর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মধুপুর
মধুপুর
বাংলাদেশে মধুপুর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৩৭′০″ উত্তর ৯০°১′৫″ পূর্ব / ২৪.৬১৬৬৭° উত্তর ৯০.০১৮০৬° পূর্ব / 24.61667; 90.01806স্থানাঙ্ক: ২৪°৩৭′০″ উত্তর ৯০°১′৫″ পূর্ব / ২৪.৬১৬৬৭° উত্তর ৯০.০১৮০৬° পূর্ব / 24.61667; 90.01806 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
জেলাটাঙ্গাইল জেলা
আয়তন
 • মোট৩৭০.৪৭ কিমি (১৪৩.০৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)[১]
 • মোট২,৫৯,৮৮৪
 • জনঘনত্ব৭০০/কিমি (১৮০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট৩৭.৬৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

মধুপুর উপজেলা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা যা ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এটি ঢাকা বিভাগের অধীন টাংগাইল জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে একটি এবং টাংগাইল জেলার সর্ব উত্তরে অবস্থিত। মধুপুর উপজেলার উত্তরে ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তাগাছা উপজেলাজামালপুর জেলা, দক্ষিণে ঘাটাইল উপজেলা, পশ্চিমে গোপালপুরধনবাড়ী উপজেলা এবং পূর্বে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা অবস্থিত। মধুপুরের উপর দিয়ে বংশী নদী প্রবাহিত হয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৩ সালে মধুপুর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মধুপুরের সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-১। মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি জাতীয় সংসদে ১৩০ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত। ৪,২৪৪ বর্গ কিমি এলাকাজুড়ে অবস্থিত মধুপুর গড় বা শালবন এবং জীববৈচিত্র্যপূর্ণ সরক্ষিত মধুপুর জাতীয় উদ্যান এ উপজেলায় অবস্থিত। মধুপুর উপজেলা আনারসের জন্য বাংলাদেশে বিখ্যাত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি আনারসের বাজার বসে মধুপুরে।[২]

পটভূমি[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীনকালে এ অঞ্চলটি আসামের কামরূপ রাজ্যের অংশ ছিল। মধ্যযুগে ১৪শ শতাব্দীর শেষভাবে অঞ্চলটি খেন্ রাজবংশের অন্তর্গত ছিল।[৩] পরবর্তীতে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ কামতা রাজ্য জয় করার পর অঞ্চলটি মুসলমানদের দখলে চলে আসে। হোসেকামতা রাজ্যন শাহর পুত্র নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ পরবর্তীতে এ অঞ্চলটি শাসন করেন এবং সে সময় এটি নাসিরাবাদের (বর্তমান ময়মনসিংহ) অন্তর্ভূক্ত ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে নাসিরাবাদের নাম পরিবর্তন করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ রাখা হয়। ১৮৬৯ সালের ১লা ডিসেম্বর ময়মনসিংহ থেকে টাংগাইলেকে আলাদা জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়[৪] এবং মধুপুর টাংগাইল জেলায় অন্তর্ভূক্ত হয়। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে টাংগাইল ১৯তম জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ব্রিটিশদের অধীন ১৮৯৮ সালে মধুপুরে থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মধুপরের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না তবে জনশ্রুতি অনুসারে এ অঞ্চলটি অতীতে ঘন জঙ্গল ছিল। জঙ্গলে মৌমাছির চাক থেকে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করত। বেশি মধু পাওয়া যেতে বিধায় পরবর্তীতে এ অঞ্চলকে মধুপুর নামকরণ করা হয়। প্রাচীনকাল থেকে এ অঞ্চলটি রাজা ও জমিদাররা শসন করতেন। ব্রিটিশ শাসনামলে এ এলাকাটি জমিদারগণ শাসন করতেন।

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ১৯৫০ সালে জমিদারি উচ্ছেদ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হয়। এ আইন অনুসারে ১৯৫১ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হওয়ার পর মধুপুর স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ হয়। ভারত ভাগের পর ১৯৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকার মধুপুর বনাঞ্চলকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে এবং ১৯৬০ সালে এখানে মধুপুর উদ্যান গঠন করে। ১৯৮২ সালে এ বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী এলাকাটি দখল করে। ১৪ এপ্রিল থেকে মুক্তিবাহিনীর সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর মধুপুরকে মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৩ সালে মধুপুর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।

ভূগোল[সম্পাদনা]

মধুপুর উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৭′০০″ উত্তর ৯০°০১′৩০″ পূর্ব / ২৪.৬১৬৭° উত্তর ৯০.০২৫০° পূর্ব / 24.6167; 90.0250। এটি টাংগাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মহাসড়কের দুপাশে এবং টাংগাইল জেলার সর্ব উত্তরে অবস্থিত। এর মোট আয়তন ৩৭০,৪৭ বর্গ,কি:মি:। পুরো উপজেলাটি বনাঞ্চল বেষ্টিত পাহাড়ি জনপদ নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিকভাবে মধুপরের মাটি লাল। মধুপুর উপজেলার কেন্দ্র থেকে দক্ষিণে টাংগাইল, পশ্চিমে জামালপুর এবং উত্তরে ময়মনসিংহ জেলা সদর অবস্থিত। প্রতিটি জেলা সদর মধুপুরের কেন্দ্র থেকে ৪৫ কি:মি দূরুত্বে অবস্থিত। এর উত্তরে ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তাগাছা উপজেলাজামালপুর জেলা, দক্ষিণে ঘাটাইল উপজেলা, পশ্চিমে গোপালপুরধনবাড়ী উপজেলা এবং পূর্বে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা অবস্থিত।

কেদারনাথ মজুমদার লিখিত ময়মনসিংহের বিবরণ গ্রন্থ অনুসারে মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন লৌহ, কয়লাতেল মজুদ রয়েছে বলে মনে করা হয়। ১৮৭৭ সালে দীননাথ সেন মধুপুর গড়ের মাটি পরীক্ষা করে তিনিও লৌহ খনি থাকার কথা বলেন। পরবর্তীতে সরকারিভাবে এ বনাঞ্চলে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হয়।

মধুপুরের উপর দিয়ে বংশী নদী প্রবাহিত হয়েছে। এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উৎপন্ন হয়ে মধুপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বানারঝিনাই নামে দুটি নদীর শাখার সাথে মিলিত হয়েছে। পরবর্তীতে সেটি কালিয়াকৈরে দুই ভাগ হয়ে একটি শাখা তুরাগ নামে মিরপুর দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে পতিত হয়েছে। অন্য শাখা সাভার হয়ে ধলেশ্বরী নদীতে পতিত হয়েছে।[৫] টাংগাইল জেলার মাঝারি নদীসমূহের মধ্যে বংশী সবচেয়ে বড়। উৎপত্তিস্থল হতে সঙ্গমস্থল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্যে ১০০ মাইল।[৬]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

মধুপুর উপজেলা মোট ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ইউনিয়নগুলো হলো, আলোকদিয়া, আরণখোলা, আউশনাড়া, গোলাবাড়ী, মির্জাবাড়ী, শোলাকুড়ি, মহিষমারা, ফুলবাগচালা, বেরীবাইদ, কুড়ালিয়া এবং কুড়াগাছা। ১৮৯৮ সালে মুধুপরে থানা স্থাপনের পর ১৯৮৩ সালে এটিকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ধনবাড়ী উপজেলা, মধুপুর উপজেলার অধীন ছিল। ২০০৬ সালের ১১ জুলাই মধুপুর উপজেলাকে বিভক্ত করে মধুপুর ও ধনবাড়ী নামে দুটি পৃথক উপজেলার সৃষ্টি হয়। এ সময় মধুপুর উপজেলাকে ৬টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় ভাগ করা হয়।[৭] ইউনিয়ন ছয়টি হল, আলোকদিয়া, আরণখোলা, আউশনাড়া, গোলাবাড়ী, মির্জাবাড়ীশোলাকুড়ি। ২০১৬ সালের শুরুতে এই ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিকে ভেঙ্গে আরও নতুন ইউনিয়ন গঠিত হয়। আউশনারা ইউনিয়নকে পৃথক করে আউশনারা, মহিষমারাকুড়ালিয়া, অরণখোলা ইউনিয়নকে পৃথক করে অরণখোলা, বেরীবাইদকুড়াগাছা এবং শোলাকুড়ী ইউনিয়নকে পৃথক করে শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা নামে নতুন ইউনিয়ন তৈরি হয়।[৮]

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ১৯৯৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর তৎকালীন মধুপুর ইউনিয়নকে তৃতীয় শ্রেণীর (গ-শ্রেণী) পৌরসভায় রুপান্তরিত করে। ১৯৯৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি প্রথম পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকার শহিদুল ইসলাম মধুপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ২০০৪ সালের ১৪ই মে দ্বিতীয়বার ও ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে মাসুদ পারভেজ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পৌরসভাটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রথম শ্রেণীর (ক-শ্রেণী) পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃত।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মধুপুরের সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-১। মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি জাতীয় সংসদে ১৩০ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর অনুষ্ঠিত ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই মধুপুরের সংসদীয় আসনটি তৈরি করা হয়। প্রথম নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আব্দুস সাত্তার। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের নিজামুল ইসলাম, ১৯৮৮ সালে খন্দকার আনোয়ারুল হক, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ তারিখে বিএনপির আব্দুস সালাম তালুকদার, জুন ১৯৯৬ তারিখে আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের সর্বশেষ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

মধুপুর মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। শালবন বেষ্ঠিত এ অঞ্চলটি আনরসের জন্য বাংলাদেশে বিখ্যাত। এছাড়াও এখানে কলা, কাঁঠাল, আম, হলুদ এবং ধান বানিজ্যিকভাবে চাষ হয়। ২০০১ সালের ভূমিজরিপ অনুসারে মধুপুরের ৬৪.৪০ শতাংশ বসবাসকারীর কৃষিভূমির মালিকানা রয়েছে। মধুপুরের প্রধান কৃষিজ ফসল হল ধান, গম, হলুদ, আখ, পাট, আলু, আদা, তুলা, পান, কাসাভা ও শাকসবজি। কাঁঠাল, আম, আনারস, কলা, পেঁপে, লিচু ও জলপাই ফল সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। উপজেলার অনেক ইউনিয়নে গবাদি পশু পালন, মৎস খামার ও নার্সারি রয়েছে।

মধুপুর বনাঞ্চলের পীরগাছা নামক স্থানে ১৯৮৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন রাবার বাগন প্রতিষ্ঠা করে রাবার উৎপাদন শুরু করে। প্রধান তিনটি রাবার বাগন হলো: পীরগাছা রাবার বাগান, চাঁদপুর রাবার বাগান ও কমলাপুর রাবার বাগান। প্রতি বছর গড়ে এ তিনটি বাগান থেকে মোট উৎপাদিত রাবারের বাজারমূল্য ষাট কোটি টাকা। ২০০৩ সালে এখানে বাংলাদেশ সরকার ভেষজ ওষুধের কাঁচামালের যোগান দিতে ভেষজ উদ্ভিদের খামার নির্মাণ করে। এছাড়া, সুগন্ধি তৈরির কাঁচামাল যোগন দিতে আমের বাগান গড়ে উঠছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধানের উন্নত বীজ সরবরাহ করার জন্য এখানে ১৯৬১ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় ৫১৭ একর জমি নিয়ে বিএডিসির কৃষি গবেষণা ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাটি গঠিত। বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের জন্য অসংখ্য বাগান গড়ে উঠেছে। ব্যক্তি উদ্যোগে মধুপুরে মধু চাষও বেশ জনপ্রিয়।

মধুপুর উপজেলার আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।[৯] তাই রাবার, কলা, আম ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ফসলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় আনারস। জায়ান্টকিউ ও হানিকুইন বা জলডুগি নামে দুই জাতের আনারস বেশি দেখা যায়।[৯][১০] বাংলাদেশে কৃষি বিভাগের তথ্যানুসারে ২০১৮ সালে মধুপুরের ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ করা হয়।[১০] মধুপুরের জলছত্রে, বর্ষাকালে আনারসের মৌসুমে বাংলাদেশে পাইকারি আনারসের সবচেয়ে বড় বাজার বসে।[২][১১] এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে ঢাকায় প্রতিদিন ১০০ ট্রাক আনারস সরবরাহ করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে মধুপুরের আনারস ইউরোপেও রপ্তানি করা হচ্ছে।[৮][১২] ২০১৮ মৌসুমে মধুপুর উপজেলায় ২০৯,৫১২ মেট্রিকটন আনারস উৎপাদিত হয়েছে।[২] মধুপুরের প্রায় সব ইউনিয়নেই আনরসের চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয় অরণখোলা, শোলাকুঁড়ি, আউশনাড়া ইউনিয়নে। আনারস বাজারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাজার হলো, জলছত্র, গারোবাজার, মধুপুর বাজার ও ২৫ মাইল বাজার।[৮]

মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন শিল্প ও কলকারখানা, কুটির ও তাঁতশিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্পকারখানাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, তাঁতকল, চালকল, লেদ ও ওয়েল্ডিং কারখানা, ফ্লাওয়ারমিল, বেকারি। কুটিরশিল্পের মধ্যে রয়েছে তাঁত, স্বর্ণ, লৌহশিল্প, বাঁশের তৈজসপত্র ও সেলাই কাজ। প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আনারস, কাঁঠাল, রেশম, ক্যাসাভা, তাঁত, তুলা ও মধু। এছাড়া সেগুন, মেহেগনি, আকাশমণি কাঠের পাশাপাশি বিভিন্ন বনজ উপাদান হয় ও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

ভাষা সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

আদিকাল থেকেই বৃহত্তর ময়মনসিংহের পাহাড়ী এ অঞ্চলটিতে মুসলিম, হিন্দু, গারো সম্প্রদায়, কচি, বামনসহ বিভিন্ন জাতির বসবাস। তাই ভাষা ও সংস্কৃতি বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। মধুপুর উপজেলার প্রধান ভাষা বাংলা। তবে গারো সম্প্রদায়ের লোকজন গারো ভাষায় কথা বলে। গারো ভাষার আঞ্চলিক আবেং উপভাষাটি এখানে বেশি ব্যবহার দেখা যায়। তবে এ ভাষার লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই। মধুপরে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজ নিজ রীতি নীতি মনে চলে। বাংলাদেশের অন্য অনেক অঞ্চলের মত বিয়ের অনুষ্ঠানে ডুলি এবং পালকির প্রচলন ছিল। পূর্বে মধুপুরে অতিথী আপ্যায়নের পর বস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উপঢৌকন স্বরুপ দেওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

মধুপুর শহরের গড় স্বাক্ষরতার হার শতকরা ৫৬.৭ ভাগ (পুরুষ ৫৮.৭%, মহিলা-৫৪.৫%)।[১৩]

উল্লেখযোগ্য স্থান[সম্পাদনা]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  2. Independent, The (৪ ডিসে ২০১৮)। "Bumper pineapple production in Madhupur"Bumper pineapple production in Madhupur | theindependentbd.com। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসে ২০১৮ 
  3. (Sarkar 1992:44)
  4. D. Shamsul Haque Mia (মার্চ ১৯৯৯)। Education in Tangail। Tangail Forum। পৃষ্ঠা 26–27। 
  5. টাংগাইল জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  6. কোম্পানী আমলে ঢাকা, জেমস টেলর, পৃঃ ৭
  7. ইউনিয়নের তালিকা - dctangail.gov.bd
  8. "মধুপুরে মধুর আশ্বাস"মানবজমিন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১১-৩০  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "মানবজমিন" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  9. "জলছত্র-আনারসের হাট"বণিক বার্তা :: Bonikbarta.net | A Business News and Entertainment Daily from Bangladesh.। ৯ জানু ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসে ২০১৮ 
  10. "মধুপুরের আনারস - 21.08.2018"DW.COM। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসে ২০১৮ 
  11. https://bangla.bdnews24.com/media_bn/article1522163.bdnews
  12. "ইউরোপে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের 'জলডুগি'"jjdin। ২৭ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসে ২০১৮ 
  13. "Tangail Table C-06 : Distribution of Population aged 7 years and above by Literacy, Sex, Residence and Community" (PDF)bbs.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০২-২৫ 
  14. পাভেল পার্থ। "মধুপুর শালবনে রক্তের দাগ শুকোবে না?" (ওয়েব)দৈনিক সমকাল। ঢাকা। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৩, ২০১০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]