রাজিয়া খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রাজিয়া খান
জন্ম১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬
ফরিদপুর জেলা বাংলাদেশ Flag of Bangladesh.svg
মৃত্যু২৮ ডিসেম্বর, ২০১১
পেশাসাহিত্যিক,শিক্ষকতা
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারএকুশে পদক বাংলা একাডেমী পুরস্কার

রাজিয়া খান (জন্মঃ ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ - মৃত্যুঃ ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১) প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক। লেখালেখি ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন মঞ্চে অভিনয় করেছেন। তার পুরো নাম রাজিয়া খান আমিন হলেও তিনি রাজিয়া খান নামে লেখক হিসেবে পরিচিত।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

রাজিয়া খান ১৯৩৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম তমিজউদ্দিন খান যিনি অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী, আইন সভার সদস্য এবং জাতীয় পরিষদের স্পীকার ছিলেন। মায়ের নাম রাবেয়া রাহাত খান। তিনি কলকাতাকরাচিতে স্কুল, কলেজ জীবন শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম হন। পরে ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে পড়তে যান। সেখান থেকে তার পিএইচডি ডিগ্রীর সব কাজ সমাপ্ত করে কলকাতায় আরও কিছু রিসার্চ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে পিএইচ.ডি. ডিগ্রী লাভ করেন এবং অধ্যাপনা করেন।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

রাজিয়া খান এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর কর্মজীবনের শুরু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীতে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে তিনি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীতে যোগ দেন এবং নিয়মিত ভাবে ব্যঙ্গ কলাম- 'কালচার কেটল' লেখা শুরু করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয় পুনরায় শিক্ষকতার জীবন শুরু করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেন এবং এই বিভাগের প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি দেশের খ্যাতনামা বিভিন্ন সংবাদপত্রে সাংবাদিক ও সম্পাদক রূপে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইউনিভাসিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে ইংরেজি বিভাগের ডিন হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সাহিত্য কর্ম[সম্পাদনা]

পঞ্চাশ দশকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুরাগী ও প্রগতিবাদী লেখিকা হিসেবে লেখালেখি করেছেন রাজিয়া খান। বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীভাবমূর্তি সৃষ্টিতে নারী লেখকদের মধ্যে তাই আকিমুন রহমান তাকে প্রথম দিককার একজন মনে করেন। তার ভাষায় “প্রথমভাগের অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে রাজিয়া খান, রিজিয়া রহমান, সেলিনা হোসেন প্রমুখকে।” [৩] তার প্রথম সৃজনশীলতার ঝোঁক প্রকাশিত হয় ছন্দে। আর ১৫ বছর বয়সেই পুরোদস্তুর উপন্যাস লিখতে শুরু করেন তিনি, আর ১৮ বছর বয়সেই লেখা হয়ে যায় ‘বট তলার উপন্যাস’।[৪] ১৮ বছর বয়সে তার লেখা 'বটতলার উপন্যাস' জনপ্রিয়তা পায়। তিনি খুব বেশি লিখে গিয়েছেন তেমন নয়, কিন্তু যা লিখে গেছেন তাতে জটিলায়তন নগরজীবন-অন্তর্গত ব্যক্তিমানুষের নৈঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মরক্তক্ষরণের শিল্পরূপায়ন করেছেন।তার মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।

গল্প[সম্পাদনা]

উপন্যাস[সম্পাদনা]

অন্যান্য বই[সম্পাদনা]

  • Argus under Anaesthesia, cruel April
  • সোনালী ঘাসের দেশ (বাংলা কবিতা)
  • নোংরা নাটক: তিনটি একাঙ্কিকা
  • আবর্ত [নাটক, পিইএন. পুরস্কৃত]
  • তমিজুদ্দিন খানের আত্মকথা (বাংলা অনুবাদ)
  • Multi Dimensional vision in George Eliot, A Different spring
  • জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "দৈনিক আমার দেশ"। ১০ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১২ 
  2. ডয়চে ভেলে
  3. একুশে প্রবন্ধ ‘৯৫ - আমাদের উপন্যাসে নারীভাবমূর্তি- আকিমুন রহমান পৃ: ১৬৫ আইএসবিএন ৯৮৪-০৭-৩২২৮-৫
  4. মাসিক উত্তরাধিকার - পৌষ ১৪২০, রাজিয়া খান ‘স্কলার অফ গ্রেট মেরিট-শাহ্‌নাজ মুন্নী, পৃ:১৩০
  5. দৈনিক জনকন্ঠ
  6. দৈনিক প্রথম আলো

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]