বিষয়বস্তুতে চলুন

রবীন্দ্রসঙ্গীত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
"গীতবিতান" সংকলনের ‘স্বদেশ’ পর্যায়ভুক্ত ‘বিধির বাঁধন কাটবে তুমি’ গানটির পাণ্ডুলিপি। এই গানটি একটি জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কলকাতা, ১৯১৫
কলকাতায় রবীন্দ্রসংগীতের একটি অনুষ্ঠান

রবীন্দ্রসঙ্গীত হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ও সুরারোপিত গান। বাংলা সংগীতের জগতে এই গানগুলি একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারী। রবীন্দ্রনাথের জনগণমন-অধিনায়ক জয় হেআমার সোনার বাংলা গানদুটি যথাক্রমে ভারতবাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত। এছাড়া ভারতের জাতীয় স্তোত্র বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরম্‌ গানটিতে রবীন্দ্রনাথই সুরারোপ করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত মোট গানের সংখ্যা ২২৩২।[] তার গানের কথায় উপনিষদ্‌, সংস্কৃত সাহিত্য, বৈষ্ণব সাহিত্যবাউল দর্শনের প্রভাব সুস্পষ্ট। অন্যদিকে তার গানের সুরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের (হিন্দুস্তানি ও কর্ণাটকি উভয় প্রকার) ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি, টপ্পা, তরানা, ভজন ইত্যাদি ধারার সুর এবং সেই সঙ্গে বাংলার লোকসঙ্গীত, কীর্তন, রামপ্রসাদী, পাশ্চাত্য ধ্রুপদি সঙ্গীত ও পাশ্চাত্য লোকগীতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।[] রবীন্দ্রনাথের সকল গান গীতবিতান নামক সংকলন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের ১ম ও ২য় খণ্ডে রবীন্দ্রনাথ নিজেই তার গানগুলিকে ‘পূজা’, ‘স্বদেশ’, ‘প্রেম’, ‘প্রকৃতি’, ‘বিচিত্র’ও ‘আনুষ্ঠানিক’ – এই ছয়টি পর্যায়ে বিন্যস্ত করেছিলেন।[] তার মৃত্যুর পর গীতবিতান গ্রন্থের প্রথম দুই খণ্ডে অসংকলিত গানগুলি নিয়ে ১৯৫০ সালে উক্ত গ্রন্থের ৩য় খণ্ড প্রকাশিত হয়। এই খণ্ডে প্রকাশিত গানগুলি ‘গীতিনাট্য’, ‘নৃত্যনাট্য’, ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’, ‘নাট্যগীতি’, ‘জাতীয় সংগীত’, ‘পূজা ও প্রার্থনা’, ‘আনুষ্ঠানিক সংগীত, ‘প্রেম ও প্রকৃতি’ ইত্যাদি পর্যায়ে বিন্যস্ত।[] ৬৪ খণ্ডে প্রকাশিত স্বরবিতান গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় গানের স্বরলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে সঙ্গীতচর্চার ব্যাপক প্রচলন ছিল। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য দাদারা নিয়মিত সংগীতচর্চা করতেন। কিশোর বয়সে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীতশিক্ষায় সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তার নতুনদাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর[] এগারো বছর বয়সে লেখা ‘গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে’ গানটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক রচিত প্রথম গান।[] এরপর প্রায় ৭০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত গান রচনা করে গিয়েছিলেন। স্বরচিত গীতিকবিতা ছাড়াও কয়েকটি বৈদিক স্তোত্র ও বৌদ্ধ মন্ত্র এবং বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অক্ষয়কুমার বড়াল, সুকুমার রায় ও হেমলতা দেবী কর্তৃক রচিত কয়েকটি গানে সুরারোপ করেছিলেন।[] তার লেখা শেষ গানটি হল ‘হে নূতন দেখা দিক আর বার’। ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় তার শেষ জন্মদিনে এটি পরিবেশিত হয়েছিল।[]

রবীন্দ্রনাথ নিজেও সুগায়ক ছিলেন। বিভিন্ন সভাসমিতিতে তিনি স্বরচিত গান পরিবেশন করতেন। কয়েকটি গান তিনি গ্রামোফোন ডিস্কেও প্রকাশ করেছিলেন। সঙ্গীত প্রসঙ্গে কয়েকটি প্রবন্ধও তিনি রচনা করেন। এছাড়া স্বরচিত নাটকেও তিনি নিজের গান ব্যবহার করতেন। সঙ্গীতকে তিনি বিদ্যালয়-শিক্ষার পরিপূরক এক বিদ্যা মনে করতেন।[] রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তার রচিত গানগুলি বাঙালি সমাজে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সংজ্ঞা

[সম্পাদনা]

‘রবীন্দ্রসংগীত’ বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত এবং রবীন্দ্রনাথ বা তার নতুনদাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক সুরারোপিত গানগুলিকেই বোঝায়। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় অন্যের সুরারোপিত গানগুলিকে ‘রবীন্দ্রসংগীত’ বর্গভুক্ত করা হয় না। এই কারণে জনপ্রিয় ‘দিনের শেষে ঘুমের দেশে’ (সুরকার: পঙ্কজকুমার মল্লিক) গানটিকে রবীন্দ্রসঙ্গীত পর্যায়ভুক্ত করা হয়নি।[১০]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম গানটি হল ‘গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে’। এই গানটি গুরু নানক রচিত ‘গগন মে থাল রবি চন্দ্র দীপক বনে’ ভজনটির প্রথমাংশের প্রায় আক্ষরিক অনুবাদ। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার ফাল্গুন ১২৮১ (জানুয়ারি, ১৮৭৫) সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়।[১১] আদি ব্রাহ্মমাজ প্রকাশিত ব্রহ্মসংগীত স্বরলিপি গ্রন্থে এটি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন, এটি তারই রচনা।[১২] রবীন্দ্রজীবনীকার প্রশান্তকুমার পাল এই গান রচনা ও প্রকাশের ইতিহাস সম্পর্কে লিখেছেন:[১৩]

...ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজের পাক্ষিক মুখপত্র ধর্মতত্ত্ব পত্রিকার ১ ভাদ্র ১৭৯৪ শক [১২৭৯; 1872] সংখ্যার [৪ । ১৪] ৭৩৮ পৃষ্ঠায় নানকের ভজনটি প্রথম বঙ্গাক্ষরে প্রকাশিত হয়। এর পরই তত্ত্ববোধিনী-র ফাল্গুন সংখ্যার ১৯১-৯২ পৃষ্ঠায় ‘সংবাদ’ শিরোনানায় ২৪ ভাদ্র লাহোর সৎসভার দ্বিতীয় সাংবাৎসরিক প্রসঙ্গে গদ্যানুবাদ-সহ গানটি মুদ্রিত হয়। পদ্যানুবাদটি সুর-সংযোজিত [‘রাগিণী জয় জয়ন্তী – তাল ঝাঁপতাল] হয়ে ১১ মাঘ ১২৮১ [শনি 23 Jan 1875] তারিখে আদি ব্রাহ্মসমাজের পঞ্চচত্বারিংশ সাংবাৎসরিক সায়ংকালীন উপাসনায় গীত হয় ও পরবর্তী ফাল্গুন সংখ্যায় তত্ত্ববোধিনী-র ২০৯ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়। ...আমাদের অনুমান পদ্যানুবাদটি রবীন্দ্রনাথেরই কৃত। ফাল্গুন সংখ্যায় অনুবাদ-সহ মূল অংশটি প্রকাশিত হবার কয়েকদিন পরেই রবীন্দ্রনাথ পিতার সঙ্গে বোলপুর হয়ে অমৃতসরে আসেন। খুবই সম্ভব যে, তিনি তত্ত্ববোধিনী মারফত রচনাটির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। অমৃতসরে পিতার সঙ্গে যখন গুরু-দরবারে উপস্থিত থাকতেন, তখন অন্যান্য শিখ ভজনের সঙ্গে এই গানটিও তিনি শুনেছিলেন, এমন সম্ভাবনার কথা সহজেই ভাবা যেতে পারে। আর এই যোগাযোগের অভিঘাতে রবীন্দ্রনাথ ভজনটির বঙ্গানুবাদ করেন। ...আমাদের এই আনুমানিক সিদ্ধান্ত যদি বিদগ্ধজনের সমর্থনযোগ্য হয়, তবে এটি-ই রবীন্দ্রনাথ-রচিত প্রথম ব্রহ্মসংগীত বলে গণ্য হবে। ...তবে আমাদের মত গ্রাহ্য হলে সেখানে বয়স ও সালটি সংশোধনের প্রয়োজন হবে, লিখতে হবে – ‘বয়স ১১। ১২৭৯। ১৮৭৩’।

বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

তিনি কেবল গীতিকার বা সুরকার নন, তিনি সঙ্গীতস্রষ্টা। রবীন্দ্রসঙ্গীত কাব্য ও সুরের মধুর মিলনের অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বরচিত অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেছেন রবীন্দ্রনাথ নিজেই। "স্থায়ী", "অন্তরা", "সঞ্চারী" এবং "আভোগ" - এই চারটি রূপবন্ধের ক্রমিক সমন্বয়ে যে একটি গান সম্পূর্ণ হয়ে উঠে তা তিনি সম্যক উপলব্ধি করেছিলেন। তার এই উপলব্ধি সর্বভারতীয় সঙ্গীত ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। তবে তিনি গানে "তান-বিস্তারের" অপরিহার্যতা অস্বীকার করে সঙ্গীত রচনা করেছেন। তার গানে বিস্তার ব্যতিরেকেই সুর শব্দকে ছাড়িয়ে বিশেষ ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে। সুরের বৈশিষ্ট্যেই তার গান রবীন্দ্রসঙ্গীত হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে প্রচলিত তালে সুর বাঁধার সঙ্গে সঙ্গে অপ্রচলিত নানা তাল তিনি ব্যবহার করেছেন। তাঁর কাছে আমরা পেয়েছি ১৫ মাত্রা, ১৭ মাত্রা, ১৮ মাত্রা, ১৯ মাত্রা ইত্যাদির বাংলা গান। "সঙ্গীতের মুক্তি" নামীয় প্রবন্ধটি তার সঙ্গীত চিন্তার দলিল ।

রবীন্দ্রনাথ রচিত গান নিয়ে একসময় প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরা সম্পূর্ণ নতুন সুরে গেয়ে রেকর্ডে প্রকাশ করতে শুরু করেন। এই নিয়ে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে দিলীপকুমার রায় কবিকে বলেন, যদি কোন যথার্থ শিল্পী তাঁর কোন গান সম্পূর্ণ নতুন সুরে গেয়ে আনন্দ পান বা শ্রোতাদের আনন্দ দেন, তাহলে তো তাঁর খুশি হওয়াই উচিত। কবি কিন্তু বলেন-

আমার গানে তো আমি সেরকম ফাঁক রাখিনি যে, সেটা অপরে ভরিয়ে দেওয়াতে আমি কৃতজ্ঞ হয়ে উঠব।

কবি তাই ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ অক্টোবর প্রথম গ্রামোফোন কোম্পানির সাথে কপিরাইট চুক্তি করেন এবং তার ফলে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর ও বাণী নিয়ে যথেচ্ছাচার বন্ধ হয়। সেই কপিরাইটের শতবর্ষে রবীন্দ্রসঙ্গীত সংরক্ষণের বিষয় কিন্তু আজও প্রাসঙ্গিক।[১৪]

চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসংগীতের প্রয়োগ

[সম্পাদনা]

বাংলা চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রয়োগ শুরু হয় ১৯৩৭ সালে। ওই বছর নিউ থিয়েটার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রযোজিত ও প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত মুক্তি চলচ্চিত্রে প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহার করা হয়। এরপর সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তরুণ মজুমদার, গৌতম ঘোষ, অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ প্রমুখ আন্তর্জাতিক-খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালকগণ তাদের ছবিতে সার্থকভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রয়োগ করেছেন। মূলধারার বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রেও জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতগুলি ব্যবহার করা হয়।

মুক্তি

[সম্পাদনা]

নিউ থিয়েটার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রযোজিত ও প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত মুক্তি (১৯৩৭) চলচ্চিত্রে প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পঙ্কজ কুমার মল্লিক। পঙ্কজকুমার মল্লিক রবীন্দ্রনাথের অনুমতি নিয়ে কবির খেয়া কাব্যগ্রন্থের "শেষ খেয়া" কবিতাটিতে সুরারোপ করেন এবং এই চলচ্চিত্রে প্রয়োগ করেন।[১৫] গানটি "দিনের শেষে ঘুমের দেশে" শিরোনামে রেকর্ডে প্রকাশিত হয় ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মুক্তি চলচ্চিত্রে পঙ্কজকুমার মল্লিক রবীন্দ্রনাথের "আজ সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে", "তার বিদায়বেলার মালাখানি" ও "আমি কান পেতে রই" গান তিনটিও ব্যবহার করেছিলেন।[১৬]

বিশিষ্ট শিল্পীবর্গ

[সম্পাদনা]

বাংলা সঙ্গীতের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রসঙ্গীত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় ধারা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই ছিলেন সমসাময়িক যুগের একজন বিশিষ্ট গায়ক। স্বামী বিবেকানন্দ নিয়মিত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে একাধিক রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখে নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানে, ব্রাহ্মসমাজের উৎসবে, এমনকি দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতে রামকৃষ্ণ পরমহংসের সামনেও পরিবেশন করেছিলেন।[১৭][১৮] ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়ার প্রথাও তার সমসাময়িক কালেই শুরু হয়। দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহানা দেবী, ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী, শান্তিদেব ঘোষ প্রমুখ রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ শিষ্যেরা ছাড়াও, পঙ্কজকুমার মল্লিক, কুন্দনলাল সায়গল, কানন দেবী প্রমুখ শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী কালে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, সুবিনয় রায়, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, সাগর সেন, ঋতু গুহ, গীতা ঘটক প্রমুখ শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাদের অনুপ্রেরণায় লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, কিশোর কুমার প্রমুখ বিশিষ্ট বলিউড-শিল্পীরাও রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছিলেন। বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গান সহ অন্যান্য ধারার সঙ্গীত শিল্পীরাও রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তানের স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ওয়াহিদুল হক, কলিম শরাফি, সনজীদা খাতুন প্রমুখ শিল্পীরা বাংলাদেশে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বিশেষ জনপ্রিয় করে তোলেন। আধুনিক যুগে শ্রীকান্ত আচার্য, জয়তী চক্রবর্তী, মনোজ মুরলী নায়ার, মণীষা মুরলী নায়ার, মোহন সিং, বিক্রম সিং, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত, লোপামুদ্রা মিত্র, শ্রাবণী সেন, সুস্মিতা পাত্র, সাহানা বাজপেয়ী, পীযূষকান্তি সরকার প্রমুখ ভারতীয় এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অদিতি মহসিন, মিতা হক, পাপিয়া সারোয়ার প্রমুখ বাংলাদেশী শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছেন। বাবুল সুপ্রিয়, শান, কুমার শানু, অলকা ইয়াগনিক, সাধনা সরগম, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ বলিউড-শিল্পীরাও এখন নিয়মিত রবীন্দ্রসঙ্গীতের সংকলন প্রকাশ করে থাকেন।

কয়েকজন বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়কের নাম নিচে দেয়া হল।

  1. ইন্দুলেখা ঘোষ
  2. সাদী মোহাম্মদ
  3. নলিনীকান্ত সরকার
  4. রাজেশ্বরী দত্ত
  5. মায়া সেন
  6. নীলিমা সেন
  7. অমিতা সেন
  8. আরতি মুখোপাধ্যায়
  9. চিত্রলেখা চৌধুরী
  10. বন্দনা সিংহ
  11. শৈলজারঞ্জন মজুমদার
  12. শান্তিদেব ঘোষ
  13. হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
  14. কনক দাস
  15. কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
  16. অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়
  17. অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়
  18. দেবব্রত বিশ্বাস
  19. কবীর সুমন
  20. পাপিয়া সারোয়ার
  21. মনীষা মুরলী নায়ার
  22. মনোজ মুরলী নায়ার
  23. মালতী ঘোষাল
  24. মোহন সিংহ খাঙ্গুরা
  25. কে এল সায়গল
  26. সুবিনয় রায়
  27. চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়
  28. সুচিত্রা মিত্র
  29. সাগর সেন
  30. সুমিত্রা সেন
  31. ইন্দ্রাণী সেন
  32. শ্রাবণী সেন
  33. অর্ঘ্য সেন
  34. রুমা গুহঠাকুরতা
  35. রাজেশ্বর ভট্টাচার্য
  36. কলিম শরাফী
  37. কাদেরী কিবরিয়া
  38. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা
  39. মিতা হক
  40. লোপামুদ্রা মিত্র
  41. স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত
  42. শিবাজী চট্টোপাধ্যায়
  43. শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  44. শ্রীকান্ত আচার্য
  45. শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়
  46. সুপ্রতীক দাস
  47. ঋতু গুহ
  48. গীতা ঘটক
  49. রেণুকা দাশগুপ্ত
  50. জয়তী চক্রবর্তী
  51. কমলিনী মুখোপাধ্যায়
  52. অদিতি মহসিন
  53. অদিতি গুপ্তা
  54. দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়
  55. শ্রেয়া গুহঠাকুরতা
  56. মনোময় ভট্টাচার্য
  57. ইন্দ্রনীল সেন
  58. কিশোর কুমার
  59. অরুন্ধতী হোম চৌধুরী
  60. পঙ্কজ মল্লিক
  61. পীযূষকান্তি সরকার
  62. সুস্মিতা পাত্র
  63. অনিমা রায়
  64. সাহানা বাজপেয়ী
  65. শ্রবণা ভট্টাচার্য
  66. রাফসান জানি

বিতর্ক

[সম্পাদনা]

দেবব্রত বিশ্বাস—বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি বিরোধ

[সম্পাদনা]

১৯৫১ সালের ভারতের কপিরাইট আইন অনুসারে, ২০০১ সাল পর্যন্ত ভারতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড প্রকাশ করতে হলে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতির অনুমোদন প্রয়োজন হত। ১৯৫৭ সালে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি দেবব্রত বিশ্বাসের "তুমি রবে নীরবে" গানটি প্রকাশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলে, দেবব্রত বিশ্বাস রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় প্রকাশিত স্বরলিপি দেখিয়ে গীতবিতান-এ গানের পাঠের ভুল নির্দেশ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ শিষ্য শান্তিদেব ঘোষ এই ব্যাপারে দেবব্রত বিশ্বাসের দেওয়া তথ্য সমর্থন করলে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি গানটি প্রকাশের অনুমতি দেয়।[১৯] ১৯৬৪ সালে দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া "মেঘ বলেছে, যাব যাব" ও "এসেছিলে তবু আস নাই" গানদুটি প্রকাশের অনুমতি দিতে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি অস্বীকার করে। ১৯৬৯ সালে তার "পুষ্প দিয়ে মারো যারে" ও "তোমার শেষের গানের" গানদু-টির প্রকাশের অনুমতি বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি দেয়নি। বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি দেবব্রত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গানে অতিনাটকীয়তা, অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদির অভিযোগ এনেছিল। [২০] ১৯৭০-৭১ সালে দেবব্রত বিশ্বাস বেশ কিছু গান রেকর্ড করেন। কিন্তু তার কয়েকটিকে বিশ্বভারতী অনুমোদন দিতে অসম্মত হন। বিরক্ত হয়ে দেবব্রত বিশ্বাস স্থির করেন তিনি আর রবীন্দ্রসঙ্গীত রেকর্ড করবেন না।[২১] বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্র অবশ্য লিখেছেন যে, দেবব্রত বিশ্বাসের কোনো গান বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি বাতিল করেনি।[২২]

উল্লেখযোগ্য রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা

[সম্পাদনা]
  • জনগণমন অধিনায়ক জয় হে
  • আমার সোনার বাংলা
  • আমার হিয়ার মাঝে
  • আমারও পরানও যাহা চায়
  • চোখের আলোয় দেখেছিলেম
  • জগৎ জুড়ে উদার সুরে
  • ওগো দখিন হাওয়া
  • দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে
  • কান্না হাসির দোল দোলানো
  • কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া
  • কণ্ঠে নিলেম গান
  • কবে আমি বাহির হলেম
  • কি গাব আমি কি শুনাব
  • ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে
  • তুমি কোন কাননের ফুল
  • দয়া দিয়ে হবে গো
  • সঘন গহন রাত্রি
  • আলোকের এই ঝর্ণাধারায়
  • আমি তোমার সঙ্গে
  • আমি তোমার প্রেমে
  • যে রাতে মোর দুয়ারগুলি
  • তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা
  • আমার মালতী লতা দোলে
  • তার বিদায়বেলার মালাখানি
  • বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল
  • আহা ! আজি এ বসন্তে
  • পুরানো সেই দিনের কথা
  • হে নূতন দেখা দিক আরবার
  • সুন্দর বটে তব অঙ্গদখানি
  • মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে
  • আকাশ ভরা সূর্য তারা
  • ওহে জীবন বল্লভ
  • চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে
  • আমি চিনি গো চিনি
  • সখী ভাবনা কাহারে বলে
  • সখী বহে গেল বেলা
  • শুন্য হাতে ফিরি হে নাথ
  • অশ্রু নদীর সুদূর পারে
  • ঐ মরণের সাগর-পারে
  • একটুকু ছোঁয়া লাগে
  • মায়াবনবিহারিণী হরিণী
  • যৌবনসরসীনীরে
  • আমার এই পথ-চাওয়াতেই আনন্দ
  • তোমার প্রেমে ধন্য করো যারে
  • আমার প্রিয়ার ছায়া
  • গগনে গগনে আপনার মনে
  • না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
  • আসা যাওয়ার পথের ধারে
  • তুমি রবে নীরবে
  • ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো
  • আমার আর হবে না দেরী
  • তোমার হল শুরু
  • কেন পান্থ এ চঞ্চলতা
  • অনেক কথা বলেছিলেম
  • অনেক কথা যাও যে বলি
  • এ কি সুন্দর শোভা
  • কাল রাতের বেলা
  • ডেকোনা আমারে ডেকোনা
  • এসো এসো আমার ঘরে এসো
  • এসো শ্যামল সুন্দর
  • আমার প্রাণের 'পরে
  • আমার প্রাণের মাঝে
  • একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে
  • চৈত্র পবনে চিত্ত বনে
  • এমন দিনে তারে বলা যায়
  • তুমি কি কেবলই ছবি
  • তুমি মোর পাও নাই পরিচয়
  • তুমি কেমন করে গান করো
  • আনন্দ তুমি স্বামী
  • আমার বেলা যে যায়
  • আমার মুক্তি আলোয় আলোয়
  • আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে
  • আজি খেলা ভাঙার খেলা
  • আজি যত তারা তব আকাশে
  • এ মণিহার আমায় নাহি সাজে
  • মোর বীণা ওঠে কোন্ সুরে
  • জীবন যখন শুকায়ে যায়
  • বধূ কোন্ আলো
  • এবার নীরব করে দাও
  • আমার রাত পোহালো
  • শ্রাবণের ধারার মতো
  • মনে রবে কি না রবে
  • তবু মনে রেখো
  • সম্মুখে শান্তি পারাবার
  • আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে
  • আজি জোছনা রাতে
  • সংসার যবে মন কেড়ে লয়
  • সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে
  • যদি তোর ডাক শুনে
  • সর্ব খর্বতারে দহে তব
  • যদি প্রেম দিলে না
  • এই কথাটি মনে রেখো
  • ভালবেসে যদি সুখ নাহি
  • পাখি আমার নীড়ের পাখি
  • সঙ্কোচের বিহ্বলতা
  • আমি ভয় করব না
  • সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে
  • আমার দিন ফুরালো
  • আর নাই রে বেলা
  • রাজপুরীতে বাজায় বাঁশি
  • রূপসাগরে ডুব দিয়েছি
  • কেন তোমরা আমায় ডাকো
  • বহুযুগের ওপার হতে
  • এ শুধু অলস মায়া
  • আমার একটি কথা বাঁশি জানে
  • সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে
  • যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক
  • বাংলার মাটি বাংলার জল
  • সকরুণ বেণু বাজায়ে
  • জননী, তোমার করুণ চরণখানি
  • নিদ্রাহারা রাতের এ গান
  • এ শুধু যাওয়া আসা
  • প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে
  • আমার অঙ্গে অঙ্গে কে বাজায় বাঁশি
  • এসো হে বৈশাখ
  • জানি, হল যাবার আয়োজন
  • কেন রে আমায় পাগল করে
  • আমার এ পথ
  • তুমি তো সেই যাবেই চলে
  • দিন যদি হল অবসান
  • যখন ভাঙলো মিলন মেলা
  • শাওনের গগনের গায়
  • আনমনা আনমনা
  • জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে
  • আগুনের পরশমণি
  • ঐ মহামানব আসে
  • আমি ভয় করব না
  • তার অন্ত নাই গো
  • যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন
  • হা রে রে রে রে রে আমায় ছেড়ে
  • মেঘের কোলে রোদ
  • আমরা সবাই রাজা
  • অনেক পাওয়ার মাঝে মাঝে
  • এই পথে আমি যে গিয়েছি
  • আমারে কে নিবি ভাই
  • সেই ভালো সেই ভালো
  • আমার সোনার হরিণ চাই
  • মোর স্বপনতরীর তুই কোন্ নেয়ে
  • হেরি অহরহ তোমারই বিরহ
  • ও চাঁদ চোখের জলের
  • আমি পথভোলা এক পথিক
  • যদি রোজ জোটে এমনি
  • জাগরণে যায় বিভাবরী
  • দারুণ অগ্নিবাণে
  • ওগো নদী আপন বেগে
  • প্রাণ চায় চক্ষু না চায়
  • শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি
  • হায় ! হেমন্ত লক্ষ্মী
  • এলো রে শীতের বেলা
  • তুমি যে সুরের আগুন
  • এসো এসো বসন্ত ধরাতলে
  • ওরে দয়াময় নিখিল
  • রাঙিয়ে দিয়ে যাও
  • আমার ভাঙা পথের রাঙা ধূলায়
  • রোদনভরা এ বসন্ত
  • তোমার কাছে এ বর মাগি
  • পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে
  • তোমার খোলা হাওয়া
  • মেঘ বলেছে যাবো যাবো
  • আমার নাই বা হলো
  • আষাঢ় সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো
  • ওগো তোমরা সবাই ভালো
  • ঐ আসনতলের মাটির 'পরে
  • তব দক্ষিণ হাতের পরশ
  • ভয়েরে মোর আঘাত করো
  • বড়ো আশা করে এসেছি
  • জগতের আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ
  • মন মোর মেঘের সঙ্গী
  • মোর ভাবনারে কী হাওয়ায়
  • চরণরেখা তব
  • চলে যায় মরি হায় বসন্তের দিন
  • আমি চঞ্চল হে
  • তোমার অসীমে প্রাণ মন লয়ে
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • দিয়ে গেনু বসন্তের এই গানখানি
  • এরা পরকে আপন করে
  • মরুবিজয়ের কেতন উড়াও
  • এসো নীপবনে ছায়াবীথিতলে
  • অনেক দিয়েছ নাথ
  • ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়
  • একি অন্ধকার এই ভারতভূমি
  • নয়ন ছেড়ে চলে গেলে
  • আজি ঝরো ঝরো মুখর
  • জয় হোক নব অরুণোদয়ের
  • এ দিন আজি কোন্ ঘরে গো
  • কঠিন লোহা কঠিন ঘুমে
  • ওরা সুখের লাগি চাহে প্রেম
  • পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে
  • চির বন্ধু চির নির্ভর
  • আমার কণ্ঠ হতে গান
  • প্রেমের মিলন দিনে
  • বাজিলো কাহার বীণা
  • এবার তোর মরা গাঙে
  • শিউলি ফোটা ফুরালো
  • প্রাঙ্গণে মোর শিরীষ শাখায়
  • তুমি একটু কেবল বসতে দিও
  • তার হাতে ছিলো হাসির
  • যখন এসেছিলে অন্ধকারে
  • বাঁধ ভেঙে দাও
  • কেন চোখের জলে ভিজিয়ে
  • অন্ধজনে দেহো আলো
  • বাজে বাজে রম্য বীণা বাজে
  • একদা তুমি প্রিয়ে
  • সেদিন আমায় বলেছিলে
  • গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে
  • অন্তর মম বিকশিত করো
  • চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে
  • দিবস রজনী আমি যেন কার
  • আনন্দধারা বহিছে ভুবনে
  • আমার মল্লিকাবনে
  • কুসুমে কুসুমে চরণ চিহ্ন
  • বাজে করুণ সুরে
  • দীপ নিভে গেছে মম
  • আমি জ্বালিবো না
  • আমার অন্ধ প্রদীপ
  • কেন পান্থ এ চঞ্চলতা
  • আমি সংসারে মন দিয়েছিনু
  • আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি
  • তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা
  • মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
  • বিপদে মোরে রক্ষা করো
  • ও আমার দেশের মাটি
  • আমার পরান লয়ে এ কী খেলা
  • অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ
  • এই শরৎ আলোর কমল বনে
  • আবার যদি ইচ্ছা করো
  • পান্থ তুমি পান্থজনের সখা হে
  • পথের সাথি নমি বারম্বার
  • ভেঙেছো দুয়ার এসেছ জ্যোতির্ময়
  • ছিলো যে পরানের অন্ধকারে
  • সে যে বাহির হল আমি জানি
  • তোমায় কিছু দেব বলে
  • যে কাঁদনে হিয়া কাঁদিছে
  • আমি তারেই খুঁজে বেড়াই
  • আমি কান পেতে রই
  • সে কোন্ বনের হরিণ
  • মধুর, তোমার শেষ যে না পাই
  • চাহিয়া দেখো রসের স্রোতে
  • আমার না-বলা বাণীর
  • বেদনা কী ভাষায় রে
  • বেদনায় ভরে গিয়েছে পেয়ালা
  • কার চোখের চাওয়ায় হাওয়ায়
  • স্বপনে দোঁহে ছিনু কী মোহে
  • সুনীল সাগরের শ্যামল কিনারে
  • আমারে ডাক দিল কে
  • যেদিন সকল মুকুল গেল ঝরে
  • ওহে সুন্দর মরি মরি
  • কার যেন এই মনের বেদন
  • পূর্ণচাঁদের মায়ায় আজি
  • দে পড়ে দে আমায়
  • কেন রে এতই যাবার ত্বরা ?
  • ওগো আমার শ্রাবণ-মেঘের
  • ধরণী, দূরে চেয়ে
  • নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায়
  • অয়ি ভুবনমোহিনী
  • যদি হায়, জীবন পূরণ
  • পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই
  • বিধির বাঁধন কাটবে তুমি
  • প্রথম আদি তব শক্তি
  • আমারে তুমি অশেষ করেছো all songs reference:-গীতবিতান

reference :- গীতবিতান

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. গীতবিতানের জগৎ, সুভাষ চৌধুরী, প্যাপিরাস, কলকাতা, ২০০৬ সং, পৃ. ১৭১
  2. রবীন্দ্রসংগীতের ত্রিবেণীসংগম, ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, ১৪০৫ মুদ্রণ, পৃ. ২১, ৩৭-৩৮
  3. গীতবিতানের জগৎ, সুভাষ চৌধুরী, প্যাপিরাস, কলকাতা, ২০০৬ সং, পৃ. ১২২
  4. গীতবিতানের জগৎ, সুভাষ চৌধুরী, প্যাপিরাস, কলকাতা, ২০০৬ সং, পৃ. ১২৪
  5. রবীন্দ্রজীবনকথা, প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ১৪১৪ মুদ্রণ, পৃ. ২০-২৩
  6. গীতবিতানের জগৎ সুভাষ চৌধুরী, প্যাপিরাস, কলকাতা, ২০০৬ সং, পৃ. ৫৮০
  7. গীতবিতান, ৩য় খণ্ড, ‘গ্রন্থপরিচয়’, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, ১৪০৭ সং, পৃ. ১০২৮-২৯
  8. রবীন্দ্র-সঙ্গীত-কোষ, সুরেন মুখোপাধ্যায়, সাহিত্য প্রকাশ, কলকাতা, ১৪১৬ সং, পৃ. ৩৫০
  9. রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাদর্শে সঙ্গীত ও নৃত্য, শান্তিদেব ঘোষ, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ১৯৮৭, পৃ. ৯
  10. গীতবিতান, তৃতীয় খণ্ড, ‘গ্রন্থপরিচয়’, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, ১৪০৭ সং, পৃ. ১০২৬-২৭
  11. রবীন্দ্র-সঙ্গীত-কোষ, সুরেন মুখোপাধ্যায়, সাহিত্য প্রকাশ, কলকাতা, ১৪১৬ সং, পৃ. ১৩৯
  12. গীতবিতানের জগৎ সুভাষ চৌধুরী, প্যাপিরাস, কলকাতা, ২০০৬ সং, পৃ. ৫৭৯-৫৮০
  13. রবিজীবনী, ১ম খণ্ড, প্রশান্তকুমার পাল, ভূর্জপত্র, কলকাতা, ১৩৮৯ সং, পৃ. ১৮৬
  14. "কলকাতার কড়চা: হারানো এক সময়-সফর - "শতবর্ষে""। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৫
  15. বেতার ও চলচ্চিত্রের জগতে প্রবাদপ্রতিম সংগীত সাধক পঙ্কজ কুমার মল্লিক, রাজীব গুপ্ত, পঙ্কজ মল্লিক মিউজিক অ্যান্ড আর্ট ফাউন্ডেশন, কলকাতা, পৃ. ৮৩-৮৫
  16. বেতার ও চলচ্চিত্রের জগতে প্রবাদপ্রতিম সংগীত সাধক পঙ্কজ কুমার মল্লিক, রাজীব গুপ্ত, পঙ্কজ মল্লিক মিউজিক অ্যান্ড আর্ট ফাউন্ডেশন, কলকাতা, পৃ. .১২৯
  17. "যুগ-আচার্য ও যুগ-কবি : বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ", স্বামী সুবীরানন্দ, স্বামীজী সার্ধশতবর্ষপূর্তি সংখ্যা", ২০১৪, উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা, পৃ. ৪১৮-১৯
  18. "প্রাসঙ্গিক তথ্য ও আলোচনা", ড. সর্বানন্দ চৌধুরী, সঙ্গীতকল্পতরু, নরেন্দ্রনাথ দত্ত (স্বামী বিবেকানন্দ) ও বৈষ্ণবচরণ বসাক, রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার, কলকাতা, পৃ. ৬-৭
  19. "আমায় ডাকলে কেন গো, এমন করে", বাসব দাশগুপ্ত, অন্য প্রমা, দেবব্রত বিশ্বাস জন্মশতবার্ষিকী সংখ্যা, ২০১০, পৃ. ৪৮-৪৯
  20. বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি-কর্তৃক প্রেরিত অনুমতি পত্রের প্রতিলিপি, ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত, দেবব্রত বিশ্বাস, করুণা প্রকাশনী, কলকাতা, পৃ. ৭৮-৮০
  21. ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত, দেবব্রত বিশ্বাস, করুণা প্রকাশনী, কলকাতা, পৃ. ৯১
  22. মনে রেখো, সুচিত্রা মিত্র, আজকাল, কলকাতা, পৃ. ৫৩