স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল
| অ্যাসোসিয়েশন | বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি |
|---|---|
| প্রধান কোচ | ননী বসাক |
| অধিনায়ক | জাকারিয়া পিন্টু |
| প্রথম আন্তর্জাতিক খেলা | |
| স্বাধীন বাংলা কৃষ্ণনগর স্টেডিয়াম, নদিয়া জেলা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ২৫ জুলাই ১৯৭১ | |
| সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খেলা | |
মুম্বই, মুম্বই, মহারাষ্ট্র, ভারত ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ | |
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়। এই দলটি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নামে পরিচিত ছিল। এটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল।[১] বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের যেকোনো বিন্যাসে এটাই প্রথম নজির। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আন্তর্জাতিক সচেতনতা ও অর্থনৈতিক সমর্থন বাড়াতে দলটি মোট ১৬টি প্রীতি ম্যাচ খেলে ভারতজুড়ে সফর করেছিলেন।[২][৩][৪]
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুই প্রথম ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের বাইরে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।[৫] ১৬তম ম্যাচ শেষে দলটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।[৬] বর্তমানে ফিলিস্তিন ফুটবল দল এ ধরনের তহবিল সংগ্রহ ও জনমত গঠন করছেন।
সূচনাপর্ব
[সম্পাদনা]১৯৭১ সালের জুন মাসে দলটি গঠিত হয়েছিল। প্রথম দিকে কয়েকজনকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কথা উল্লেখ করে মুজিবনগর গিয়ে তাতে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। এ থেকে শুরু হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক রূপকল্প। মুজিবনগরে প্রথমে গিয়ে উপস্থিত হন প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, সাইদুর রহমান প্যাটেল, শেখ আশরাফ আলীসহ আলী ইমাম এবং অন্যরা। এরপর সেখান থেকে আকাশবাণীতে (কলকাতা রেডিও) ঘোষণা দেয়া হলো বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত খেলোয়াড়দের মুজিবনগরে রিপোর্ট করার জন্য। ঘোষণার পরে ৪০ জন খেলোয়াড় মুজিবনগর ক্যাম্পে যোগ দেন। সেখান থেকে ৩০ জন বাছাই করে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গঠন করা হয়েছিল। পরে আরো একজনকে অন্তর্ভুক্ত করলে সদস্য সংখ্যা ৩১ জন হয়েছিলেন। সে দল ২৩ জুলাই মুজিবনগর থেকে নদিয়া পৌঁছে। নদিয়ার ডিসি দীপককানত্ম ঘোষ এবং স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কর্মকর্তারা দলটিকে অভ্যর্থনা জানান। ২৫ জুলাই কৃষ্ণনগর স্টেডিয়ামে নদিয়া একাদশের বিপক্ষে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল প্রথম খেলতে নামে। এই দিন মেহেরপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ম্যাচ উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে আসে। খেলা শুরুর আগে জাতীয় পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন দলের সদস্যরা। এ সময় জাতীয় সঙ্গীতও বাজানো হয়। ম্যাচটি ২–২ গোলে ড্র হয়েছিল। শাহজাহান স্বাধীন বাংলা দলের হয়ে প্রথম গোল করেন। স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর দায়ে পরদিন নদিয়ার ডিসিকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ব্যবহৃত জার্সি ২১ নভেম্বর ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্যে হস্তান্তর করা হয়েছিল।[৭]
সদস্যবৃন্দ
[সম্পাদনা]৩৪ জন খেলোয়াড়, সাথে ম্যানেজার এবং কোচসহ সর্বমোট ৩৬ জন নিয়ে গড়া ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু, সহঃ অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা। ব্যবস্থাপক ছিলেন তানভীর মাজহারুল ইসলাম তান্না (পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা) এবং প্রশিক্ষক ছিলেন ননী বসাক।[৮][৮][৯][১০][১১]
খেলোয়াড়
[সম্পাদনা]| নাম[১২] | জেলা বা উপজেলা |
|---|---|
| নওগাঁ | |
| শ্রীনগর | |
| ঢাকা | |
| চাঁদপুর | |
| কিশোরগঞ্জ | |
| ফরিদপুর | |
| ঢাকা | |
| ফরিদপুর | |
| রাজশাহী | |
| যশোর | |
| যশোর | |
| বগুড়া | |
| যশোর | |
| বরিশাল | |
| নোয়াখালী | |
| নরসিংদী | |
| চট্টগ্রাম | |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | |
| নারায়ণগঞ্জ | |
| নওগাঁ | |
| গাজীপুর | |
| চুয়াডাঙ্গা | |
| কুষ্টিয়া | |
| কালীগঞ্জ | |
| ফরিদপুর | |
| কক্সবাজার | |
| নারায়ণগঞ্জ | |
| ঢাকা | |
| সাতক্ষীরা | |
| নড়াইল | |
কর্মকর্তারা
[সম্পাদনা]| অবস্থান | নাম |
|---|---|
| উদ্যোগ দাতা | |
| ব্যবস্থাপক | |
| কোচ | |
| সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি |
সাফল্য
[সম্পাদনা]৮ আগস্ট কলকাতার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি মোহনবাগানের খ্যাতনামা ফুটবলার গোষ্ঠ পাল-র নামে গড়া দলের বিপরীতে পরবর্তী ম্যাচ খেলে স্বাধীন বাংলা দল। মূলত মোহনবাগানের খেলোয়াড়রাই এই দলের হয়ে মাঠে নামেন। এভাবে বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৬টি ম্যাচ খেলে স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি ফান্ড সংগ্রহ করা হয়েছিল। ম্যাচগুলো থেকে আয়কৃত ৫ লাখ টাকা মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে জমা দেয়া হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর দেশে ফেরেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যরা। যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের ফুটবলকে চাঙ্গা করতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল কাজ করেছিলেন। এই দলটি ভারতের বিভিন্ন স্থানে মোট ১২টি খেলায় জয়লাভ করেন এবং ৩.৫ লাখ রুপি (৫ লাখ টাকা) অর্থ জোগাড়ে সমর্থ হয়েছিলেন।[১৩] সর্বশেষ খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় মুম্বই তে যেখানে মহারাষ্ট্র ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেন ভারতের খ্যাতনামা সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক নবাব মনসুর আলি খান পতৌদি।[১০]
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে
[সম্পাদনা]আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "তথ্যচিত্র প্রদর্শনী মুক্তির জন্য ফুটবল ও ধরিত্রীর সঙ্গে বসবাস - প্রথম আলো"। দৈনিক প্রথম আলো। ৩১ আগস্ট ২০১৩। ৪ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩।
- ↑ "Shadhin Bangla Football Team: The underappreciated heroes"। The Business Standard। ১৬ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
- ↑ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জার্সি। দৈনিক প্রথম আলো। ১৯ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২।
- ↑ স্বাধীন বাংলা ফুটবল। দৈনিক প্রথম আলো। ১৯ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২।
- ↑ "Shadhin Bangla Football Team"। Plaantik.com। ১০ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Preetha, Sushmita S. (২৩ মার্চ ২০১২)। Star Weekend Magazine http://archive.thedailystar.net/magazine/2012/03/04/cover.htm। ১৫ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৪।
{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - ↑ "স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জার্সি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে"। এনটিভি (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০২১।
- 1 2 http://nation.ittefaq.com/issues/2009/01/06/news0095.htm ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক এ প্রকাশিত সংবাদ
- ↑ সিটিসেল প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- 1 2 http://www.thedailystar.net/story.php?nid=70074 ডেইলি স্টার পত্রিকার সংবাদ
- ↑ ডিসেম্বর ১৪, ২০০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)
- ↑ "'Shadhin Bangla Football Dal': A team like no other"। The Business Standard। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১৫ আগস্ট ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২২।
- ↑ দৈনিক ইত্তেফাক এ প্রকাশিত সংবাদ
- ↑ "'Jaago' wins big at Film Award Bangla 2010"। দ্য ডেইলি স্টার। ২৫ জুন ২০১০। ১৮ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Damal: Reliving the legacy of the Shadhin Bangla Football Team"। দ্য ডেইলি স্টার। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ২৮ আগস্ট ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২২।
- ↑ "দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদ"। ৪ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩।
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Dulal, Mahmud (২০২০)। খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ (অনু. Liberation war in the playground)। Bishhoshahitto Bhobon। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮২১৮-৩১-০।
- Alam, Masud (২০১৭)। ফুটবলের গল্প ফুটবলারদের গল্প (অনু. The story of football the story of footballers)। Bishhoshahitto Bhobon। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯১৩৪৬৮৮।
- Mahmud, Noman (২০১৮)। ফুটবল পায়ে মুক্তির যুদ্ধ (অনু. Liberation war fought by football)। Agamee Prakashani। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮২১৮-৩১-০।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ এপ্রিল ২০২০ তারিখে (অফিসিয়াল ওয়েবসাইট)
- গণমানুষের ইতিহাস ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে ডেইলি স্টার
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে অপ্রশংসিত নায়ক