বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ হলো বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রচারিত একটি মতাদর্শ। ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে এই মতাদর্শটি উত্থাপিত হয় এবং এই মতবাদটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি।[১]

ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিকতা বিরোধী আন্দোলনের সময় হতেই এদেশে জাতীয়তাবাদের চর্চা পরিলক্ষিত হয়। এর পরে খুব শীঘ্রই ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের একটি ধারণা উত্থান লাভ করে, যা পরবর্তীতে জাতিগত জাতীয়তাবাদে রূপান্তরিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে জিয়াউর রহমানের মতো নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ মতাদর্শটির প্রচার শুরু করেন। যা মূলত বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের আত্মিক বন্ধনের ওপরে ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।[২]

পটভূমি[সম্পাদনা]

১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজ ষড়যন্ত্রের কাছে পরাজিত হলে বাংলা তাঁর স্বাধীনতা হারায়। মূলত তখন থেকে বাংলার মানুষের জাতীয়তাবাদী চেতনার উদ্ভব হয়। তখন ইংরেজদের সাথে হিন্দুদের ঘনিষ্ঠতা ও বাংলার সাধারণ প্রজাদের (বিশেষত মুসলমান) উপর হিন্দু জমিদারদের অত্যাচারের কারণে বাংলার মুসলমানদের মাঝে মুসলিম জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। পরবর্তীতে বাংলার মুসলমানরা নিজেদের অধিকার রক্ষার্থে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন করে এবং ব্রিটিশরা বাংলাকে ভাগ মুসলমানদের জন্য পুর্ববঙ্গ এবং হিন্দুদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ গঠন করে। এটি বাংলার মুসলিমদের জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভিত্তি। কিন্তু হিন্দু দাবীর ফলে ব্রিটিশরা বঙ্গভঙ্গ রদ করে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি লগ্নে পুর্ববঙ্গকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান এবং পশ্চিমবঙ্গকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের অন্তভূক্ত করে। কিন্তু পূর্ববঙ্গের সাথে পাকিস্তানের অপর অংশটির ভৌগোলিক দুরত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈপরীত্য এবং পুর্ববঙ্গের মানুষের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের অত্যাচারের ফলে পুর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে মুসলিম জাতীয়তাবাদ এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের সংমিশ্রণে পুর্নাঙ্গ ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদের অভ্যূদয় হয়। এটিই মুলত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

[৩]

সূত্রপাত[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) উপর ভারতের আক্রমনের সম্ভাবনা এবং এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের অবহেলার কারণে ভারত ও পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রে উপর বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বাংলাদেশী জাতীয়বাদের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (যিনি ভারত ও পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রের সাথে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন) বাংলাদেশী জাতীয়বাদ আনুষ্ঠনিক সূত্রপাত করেন।

ইসলাম এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ রাষ্ট্র কেন্দ্র করেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উদ্ভব । বাংলাদেশ যেহেতু মুসলিম রাষ্ট্র তাই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি হলো ইসলামী মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডের সার্বভৌমত্ব।

জাতীয়তাবাদের বহিঃপ্রকাশ হলো দেশপ্রেম। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী দেশপ্রেম একটি ইবাদত। এজন্য বলা হয়[কার মতে?] ইসলাম ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সমমুখী।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল সমূহ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

জাতীয় পার্টি

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)

জাতীয় পার্টি (জেপি)

বিকল্পধারা বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম

বাংলাদেল লেবার পার্টি

ডেমোক্রেটিক লীগ

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)

তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

  1. van Schendel ও Guhathakurta 2013, পৃ. 332।
  2. Uddin 2006, পৃ. 138।
  3. https://www.dailyinqilab.com/article/4286/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8