বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
VBLogo.gif
লাতিন: Visva-Bharati University
নীতিবাক্য

যত্র বিশ্বং ভবেত্যকনীড়ম

Where the world makes a home in a single nest
ধরন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত ২৩ ডিসেম্বর ১৯২১
আচার্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী
উপাচার্য অধ্যাপক রজতকান্ত রায়
শিক্ষার্থী ৬৫০০ [১]
অবস্থান শান্তিনিকেতন, বোলপুর, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
শিক্ষাঙ্গন ২ (শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন) [২]
সংক্ষিপ্ত নাম বিশ্বভারতী
অধিভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ভারত)
ওয়েবসাইট www.visva-bharati.ac.in

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরে অবস্থিত। ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন।[১] ১৯৫১ সালে এটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে।[১] কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। দেশবিদেশ থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করতে আসেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য প্রাক্তনীদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অস্কারবিজয়ী চিত্র-পরিচালক সত্যজিৎ রায়, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উপাচার্য

১৯০১ সালের ডিসেম্বরে (৭ পৌষ ১৩০৮ বঙ্গাব্দ) বোলপুরের নিকটস্থ শান্তিনিকেতন আশ্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "ব্রহ্মচর্যাশ্রম" নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।[১] এই বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত বৃত্তিমুখী অপূর্ণাঙ্গ শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ মনোবিকাশের সুযোগদান। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন ভারতের তপোবন বিদ্যালয় থেকে এই বিদ্যালয়ের আদর্শটি গ্রহণ করেন।[১] বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সানন্দ অনুমতি ও আশীর্বাদ লাভ করেছিলেন।[১] বিদ্যালয়ের প্রথম পাঁচজন ছাত্রের অন্যতম ছিলেন কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর[১]

প্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রাঙ্গন অবস্থিত। শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন।

শান্তিনিকেতন গৃহ[সম্পাদনা]

ঊনবিংশ শতাব্দী মাঝের সময় ১৮৬০ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বোলপুরের কাছে একটি অনুর্বর জমি ক্রয় করে "শান্তিনিকেতন" নামে গৃহটি নির্মাণ করেন। কালক্রমে পার্শ্ববর্তী সম্পুর্ণ এলাকার নাম হয় শান্তিনিকেতন।

ছাতিম তলা[সম্পাদনা]


পুরাতন ঘন্টা----

আম্রকুঞ্চ[সম্পাদনা]

কলা ভবন[সম্পাদনা]

সঙ্গীত ভবন[সম্পাদনা]

পাঠ ভবন[সম্পাদনা]

বিদ্যা ভবন[সম্পাদনা]

শিক্ষা ভবন[সম্পাদনা]

চীনা ভবন[সম্পাদনা]

হিন্দী ভবন[সম্পাদনা]

রবীন্দ্র ভবন[সম্পাদনা]

দর্শন সদন[সম্পাদনা]

আনন্দ পাঠশালা[সম্পাদনা]

রতন কুঠি[সম্পাদনা]

নাট্ট্য ঘর[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক ভবন[সম্পাদনা]

বিনয় ভবন[সম্পাদনা]

। বিনয় ভবন একটি প্রতিষ্ঠিত যেখানে বিভিন্ন ধরনের বিষয়ের উপর শিক্ষা দেয়া হয় । এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা b.ed, m.ed, M.A, PHD, ইত্যাদি করতে পারে। এখানে physical education-এ ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলার ব্যাপারে শিক্ষা নিতে পারে।

       বিনয় ভবনের ইতিহাস হল যে এখানে বহুদিন আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি এমন প্রতিষ্ঠান করতে চেয়েছিলেন যেখানে বিভিন্ন রকমের কাজ শেখানো হবে। 1937 সালে শিক্ষাচর্চা প্রতিষ্ঠিত হল। শিক্ষা চাচা হল প্রাথমিক স্তরে যারা শিক্ষকতা  করেন তাকে শিক্ষক বলে। রবীন্দ্রনাথের জীবন দাশাই এটা  প্রতিষ্ঠিত হলেও রবীন্দ্রনাথের হৃদয় তৃপ্তি পায় নি। তিনি মনে মনে আশা করেছিলেন যারা অন্তত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক এরমধ্যে যথার্থ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বেশিরভাগ পাস করে আসছেন বা বড় বড় ডিগ্রী করছেন এবং মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকতা করছেন তখন তারা বড় বড় পাণ্ডিত্য ফলাচ্ছেন। নিজেরা বেশি ডিগ্রী অর্জন করার ফলে যে গুরু গাম্ভীর্য অর্জন করছেন সেই গুরু গাম্ভীর্য তাহাদের শিশুমন নষ্ট করছে। এই গুরু গাম্ভীর্য জ্ঞানের বোঝা তারা চাপিয়ে দিচ্ছেন মাধ্যমিক স্তরের ছোট বয়সের ছাত্রছাত্রীদের ওপর,  যা তিনি পছন্দ করতেন না। নিজের বিদ্যালয় জীবনটা মনে পড়ে যাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। শুধু তাই নয় জাতির জন্য তিনি ব্রিটিশদের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশরা যে school তৈরি করেছে তাহলে কেরানীর কারখানা,  তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানে তা তৈরি করতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা হবে সর্বাঙ্গিক বিকাশ লাভের জন্য যজ্ঞ কিন্তু তার জন্য যে আগে প্রয়োজন শিক্ষকের যোগ্যতা। কপি নিজের অযোগ্যতা থাকলে যদি ছাত্রদের সামনে তারা নেতিবাচক মন ভাবনায় সেই জন্য কর্মের প্রতি সম্মান না জানালে বৃহৎ জাতি সীমাবদ্ধতার মধ্যে লড়াই করবে । মানুষরা যদি সবাই বড় বড় অফিসে কাজ করেন কি কাজ হবে না তাই তিনি বিভিন্ন কর্মকে সম্মান দিতে ও ছোট চোখে যাতে মানুষ না দেখে তাদের সম্মান দেয়ার জন্য তিনি এখানে বিভিন্ন ধরনের কর্মশিক্ষার জন্য শিক্ষাদানের প্রতিষ্ঠান করেন,  যার ফলে সামাজিক সম্মান পাবে এবং মানুষের সেই কর্মের প্রতি উৎসাহ বাড়বে। সেই জন্য এত কাল যে সব কাজকর্ম  ছোট ও হেয় বলে দূরে সরিয়ে রাখা হতো সেই সব সেই সব কাজকর্ম তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করলেন,  যেমন--চামড়ার কাজ,  কাঠের কাজ  ইত্যাদি  কাজ অন্তর্ভুক্ত করে। তার মনে হয়েছিল কাজ করবেন শিক্ষকরাও। রবীন্দ্রনাথ তাজি বোনদের ছাএী কাজ সম্পন্ন না করতে পারলেও তার পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1946সালে 26 ডিসেম্বর বিনয় ভবনে এসে প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর করেন। সেই সময়ে ভিত্তি স্থাপনে ছিলেন রাজা ভূপালাচারিয়া, সরোজিনী নাইঢ়ু ব্যক্তিত্বরা। সেন সেই সময় কলকাতায় কোন কাজে চলে যান কিন্তু এই বড় কাজের কথা শুনে তিনি আবার ফেরত আসেন। বিভিন্ন লোকের রথীন্দ্রনাথের প্রতি আস্থা ছিল না তারা আস্থা করত গুরুদেবের উপর তার পুত্রর ওপর নয়। গুরুদেব যেসব জিনিস অন্যরা লুটেপুটে খাওয়া চেষ্টা করেছিল রথীন্দ্রনাথ থাকার ফলে তারা করতে পারেনি এজন্য তারা রথীন্দ্রনাথকে হেয়  করত। যেহেতু বড় বড় ব্যক্তিতিরা  স্থাপন করছি এজন্য একটি বৈঠক হয়। ক্ষিতিমোহন সেন ও আরো অনেক ব্যক্তিরা তার দুহাতের ওপর কিছু টাকা তুলে দেয়। স্থাপিত হয় বিনয় ভবন অফিস। শিক্ষককে আগে থেকে তৈরি করার জন্যই বিনয়ভবন তৈরি হয়। 1948 সালে কারিকুলাম শুরু হয় জুলাই মাস থেকে। কাঠের কাজ, ছবি আঁকা, গান ইত্যাদি সবই গান শেখানো হত। মোহাম্মদ আবুকালাম আজাদ ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ।

এডমিশন পদ্ধতি::::::::------ আগে প্রত্যেক রাজ্য থেকে মুখ্যমন্ত্রী কোন ছাত্র বা ছাত্রী নাম রাজ্যপালের কাছে পাঠাতো, রাজ্যপাল সেই নাম পার্লামেন্ট পাঠাতো এবং পার্লামেন্ট থেকে সেই নাম বিনয় ভবনে ভর্তির জন্য পাঠানো হত।

পরেই ব্যবস্থা বন্ধ করবে এই বিষয়ে ভারতে আবার আবেদন করে কিন্তু তা আর স্বীকৃত হয়নি।
      অন্যথা নাথ বুঝবিনা ভবনে প্রথম প্রিন্সিপাল হয়ে আছে এবং তিনিই ছিলেন ভারতের প্রথম মাধ্যমিক কমিশন। তাকে রবীন্দ্রনাথের চাকরি ছেড়ে দিয়ে দেশে বিদেশী শিক্ষাব্যবস্থা জেনে আসার জন্য বলেন এবং ভারতে স্বাধীন হওয়ার পর দিল্লিতে প্রথম ফিজিক্যাল এডুকেশন বোর্ড তৈরি হয়। তিনি বলেন যে শিক্ষকদের খেলাধুলা করতে হবে কারণ খেলা ধুলা সর্বাঙ্গিক বিকাশের জন্য দরকার। তিনি এজন্য ফিজিক্যাল এডুকেশন কিছু শিক্ষক নিয়োগ করতে পারেন কিন্তু তার এই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। তিনি অনেকবারই আবেদন করেন কিন্তু তার তা সত্বেও যখন আবেদন গ্রহণ করা হয়নি তখন তিনি চাকরি ছেড়ে দিলেন। নির্ভর করে শিক্ষক নিয়োগ করা হলে তাকে যখন আবেদন করা হয় যোগদানের জন্য তখন তিনি আর  রাজি হননি।

কেন্দ্রীয় পাঠাগার[সম্পাদনা]

পূর্বপল্লী অতিথি ভবন[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতীক অতিথি ভবন[সম্পাদনা]

শান্তিনিকেতন ডাকঘর[সম্পাদনা]

জনসংযোগ কার্যালয়[সম্পাদনা]

কৃষি অর্থনৈতিক গবেষণা কেন্দ্র[সম্পাদনা]

পিয়ারসন স্মৃতি হাসপাতাল[সম্পাদনা]

প্রেস্কো পেভিলিওন[সম্পাদনা]

ভারতীয় স্টেট ব্যা্ক শান্তিনিকেতন,[সম্পাদনা]

মেলা প্রঙ্গন- পৌষ মেলা[সম্পাদনা]

১৮৯১ সালে মহর্ষির ব্রাহ্ম ধর্মে দীক্ষা নেওয়া এবং পরে উপাসনা গৃহ নির্মাণ এর মত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কে স্মরণীয় করে রাখতে ১৮৯৪ সালে শুরু হওয়া পৌষমেলায় বিক্রি হত শান্তিনিকেতন লাগোয়া কিছু গ্রাম এর মানুষ এর কিছু ঘরোয়া সামগ্রী যেমন, মাটির হাড়ি ,লোহার কড়াই ,পাথরের বাটি ,কাচের চুরি ইত্যাদি।যার মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ। সময়ের সাথে সাথে মেলা যেমন কলেবরে বেড়েছে তেমনই হারিয়াছে তার সাবেক রং রূপ উদ্দেশ্য।

শিল্প সদন[সম্পাদনা]

শিক্ষা চর্চা[সম্পাদনা]

পল্লী শিক্ষা ভবন[সম্পাদনা]

বিশ্বভারতী আইন-১৯৮৪ অনুসারে ১৯৬৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর, স্থাপিত "পল্লী শিক্ষা সদন" বাড়িটির নতুন নামকরণ করে "পল্লী শিক্ষা ভবন" রাখা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

অনুষদ সমূহ[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েব‌সাইট (ইংরেজিতে)

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  1. "বিশ্বভারতী", অমিয়কুমার সেন, ভারতকোষ, পঞ্চম খণ্ড, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা, ১৯৭৩, পৃ. ১১২-১৪