আসাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আসাম
অসম
রাজ্য
Kamakhya Temple by Vikramjit Kakati.jpg
Ahom Raja's Palace, Garhgaon, Sivasagar.JPG Devidol, Sivasagar.JPG
MAIDAM1.JPG Ranghar - Assam.jpg
Talatal Ghar Cannons guarding the palace.jpg Kolia Bhomora Setu.jpg
Chandrakanta Handique Bhawan.JPG A tea garden in Dibrugarh.jpg
AssamTea.jpg Krishnakshi Kashyap Sattriya Dancer.jpg
Rhino side view.jpg
শীর্ষ থেকে কামাখ্যা মন্দির (নীলাচল পাহাড়, গুয়াহাটি), দেবী দোল (শিবসাগর), 'অহম রাজাদের' রাজবংশীয় ক্রীড়া পটভূমি - রংঘর (শিবসাগর), ব্রহ্মপুত্র নদের উপর কলীয়াভোমরা সেতু (তেজপুর), একটি চা বাগানের এর একটি দৃশ্য (ডিব্রুগড়), ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্য - সত্রীয়া নৃত্য থেকে, রাজ্যের প্রাণী - ভারতীয় গণ্ডার (গণ্ডার ইউনিকরনিস), প্যাকেটজাত চা - আসাম (পণ্য), অসম সাহিত্য / অলংকারবিদ্যা মহাসভার আসন: আসাম সাহিত্য সভা - সিকে হ্যান্ডি ভবন (যোরহাট), তলাতল ঘরের কামান - প্রদর্শন (শিবসাগর), রাজকীয় সমাধিস্তূপ - মৈদাম (চারাইদেউ), অহম রাজাদের’ প্রাসাদ - (গরগাও, শিবসাগর).
আসাম অফিসিয়াল সীলমোহর
সীলমোহর
স্থানাঙ্ক: ২৭°০৯′উত্তর ৯১°৪৬′পূর্ব / ২৭.১৫° উত্তর ৯১.৭৭° পূর্ব / 27.15; 91.77
সরকার
 • রাজ্যপাল পদ্মনাভ আচার্য
 • মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল (ভারতীয় জনতা পার্টি)
 • উচ্চ আদালত গৌহাটি হাইকোর্ট
এলাকার ক্রম ১৬-ষ
জনসংখ্যা
 • মোট ২,৬৬,৫৫,৫২৮
 • ক্রম ১৪-তম
ওয়েবসাইট assam.gov.in
† Assam had a legislature since 1937


আসাম বা অসম (অসমীয়া: অসম অখ়ম্‌) ভারতের একটি রাজ্য। উত্তরপূর্ব ভারতের এই রাজ্যটি হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত এবং এর অভ্যন্তরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ, বরাক উপত্যকা এবং উত্তর কাছাড় পর্বতমালা। উত্তর পূর্ব ভারতের আরও ছয়টি রাজ্য, যথা অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, এবং মেঘালয় দ্বারা আসাম বেষ্টিত এবং আসামসহ প্রতিটি রাজ্যই উত্তরবঙ্গের একটি সংকীর্ণ অংশ দ্বারা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত।[১] এছাড়াও আসামের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভূটান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে।[২]

১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে ইয়াণ্ডাবু চুক্তির মাধ্যমে আসাম প্রথম ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই রাজ্য মূলত চা, রেশম, পেট্রোলিয়াম এবং জীববৈচিত্রের জন্য বিখ্যাত। আসাম সাফল্যের সঙ্গে একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণ করে তাদের অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। এছাড়াও এখানে বাঘ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সংরক্ষিত হয়েছে। এশীয় হাতির অন্যতম বাসস্থান হল আসাম। এই রাজ্যটি বন্যপ্রাণী পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠছে।

নামের উৎপত্তি[সম্পাদনা]

মহাভারতে প্রাগ্‌জ্যোতিষপুর হিসাবে আসামের নামোল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়াও খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দে কামরূপ নামে এই অঞ্চলের পরিচিতি ছিল। এই অঞ্চলে আহোম সাম্রাজ্য (১২২৮-১৮২৬) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে এই রাজ্য "আসাম" নামে পরিচিত হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ভৌগোলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাগৈতিহাসিক যুগ[সম্পাদনা]

আসাম এবং এর আশপাশের এলাকগুলোতে প্রস্তর যুগ থেকেই মানুষের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। সতেরোশো থেকে আঠারোশো শতকের মধ্যে লেখা কালিকাপুরাণ অণুসারে আসামের প্রাচীনতম শাসক ছিলেন মহীরঙ্গ।

আদিযুগ এবং মধ্যযুগ[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ আসাম[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ শাসনোত্তর আসাম[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আসাম সহ পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতে অর্থনৈতিক সমস্যা প্রকট হতে শুরু করে। যার ফলে ওই অঞ্চলে সার্বভৌমত্ব দাবী করে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই আসামে অধুনা বাংলাদেশ (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান) থেকে শরণার্থীরা আসতে শুরু করে। ১৯৬১ সালে মুখ্যমন্ত্রী বিমলাপ্রসাদ চালিহার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস পরিচালিত আসাম সরকার বিধানসভায় একটি বিল পাশ করে, যার মাধ্যমে পুরো রাজ্যে একমাত্র সরকারি ভাষা হিসাবে অসমীয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে দক্ষিণ আসামের কাছাড় জেলার বাঙালিরা ভাষা আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৬১ সালের ১৯ মে তারিখে এই ভাষা আন্দোলন চলাকালীন আধা-সামরিক বাহিনীর গুলিতে এগারোজন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়। এর পরে চাপের মুখে ভাষা বিলটি প্রত্যাহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকের পর থেকে আসামে বিভিন্ন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যথা, আলফা এবং ন্যাশনাল ডেমক্রেটিক ফ্রন্ট অব বড়োল্যান্ড ইত্যাদি জন্ম নেয়।

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

চা-এর ইতিহাস[সম্পাদনা]

আসামের চা বিশেষ বিখ্যাত, এবং চায়ের বৈজ্ঞানিক নাম হল ক্যামেলিয়া অাসামিকা (Camellia assamica)|

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের হিসাব মতে অাসামের জনসংখ্যা ৩,১২০৫,৫৬৬‌‌।

ধর্ম[সম্পাদনা]

আসামের প্রধান ধর্মগুলো হল হিন্দুধর্ম (62.9%) এবং ইসলাম (34.9%)। এছাড়া অন্যান্য ধর্মগুলির মধ্যে রয়েছে খ্রিস্ট ধর্ম (3.7%), শিখ ধর্ম (1%), বৌদ্ধ ধর্ম, ইত্যাদি।

হিন্দুধর্ম[সম্পাদনা]

ব্রাহ্ম সমাজ[সম্পাদনা]

ইসলাম[সম্পাদনা]

খ্রিস্ট ধর্ম[সম্পাদনা]

বৌদ্ধ ধর্ম[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক বিবর্তন[সম্পাদনা]

উৎসব[সম্পাদনা]

আসাম বিভিন্ন উৎসব আর মেলার ভূমি। এই রাজ্যের প্ৰধান উৎসবগুলো হলো বিহু, মে-ডাম-মে-ফী, ঈদ, মহরম, শঙ্করদেবের জন্মোৎসব, বৈচাগু, আলি আঃয়ে লৃগাং, বাইখু, রংকের, অম্বুবাচী মেলা, জোনবিল মেলা ইত্যাদি। ভারতের অন্য জায়গার মতো আসামের লোকেরাও দুৰ্গাপূজো, কালিপুজো, দীপান্বিতা ইত্যাদি পালন করেন।

বিহু[সম্পাদনা]

অসমিয়াদের প্ৰধান উৎসব হলো বিহু। জাতি, ধৰ্ম, বৰ্ণ নির্বিশেষে অসমিয়ারা বিহু পালন করে। বিহু তিনটি- ব'হাগ (রঙালি) বিহু, মাঘ (ভোগালী) বিহু আর কাতি (কঙালি) বিহু।

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dixit, K. M. (আগস্ট ২০০২)। "Chicken's Neck (Editorial)" (– Scholar search) (ইংরেজী ভাষায়)। Himal South Asian। আসল থেকে ৩০ অক্টোবর ২০০৬-এ আর্কাইভ করা। 
  2. Sushanta Talukdar (২০ এপ্রিল ২০১২)। "Assam has lead role in Look East effort: PM"The Hindu (ইংরেজী ভাষায়) (Chennai, India)। সংগৃহীত ৪ ডিসেম্বর ২০১২ 

বহিঃ সংযোগ[সম্পাদনা]

ইংরেজি উইকিভ্রমণে আসাম সম্পর্কিত ভ্রমণ নির্দেশিকা রয়েছে।