লক্ষ্য প্রস্তাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লিয়াকত আলি খান, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী

লক্ষ্য প্রস্তাব ১৯৪৯ সালের ১২ মার্চ পাকিস্তানের গণপরিষদে গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান সেই বছরের ৭ মার্চ এটি পরিষদে উপস্থাপন করেছিলেন। এতে ঘোষণা করা হয় যে পাকিস্তানের ভবিষ্যত সংবিধান পুরোপুরি ইউরোপীয় আদলে প্রণীত না হয়ে ইসলামের আদর্শ ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রণীত হবে। পাকিস্তানের সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রস্তাব সংবিধানের অংশ।

লক্ষ্য প্রস্তাব[সম্পাদনা]

লক্ষ্য প্রস্তাবে নিম্নোক্ত ধারাসমূহ ছিল:

  1. সমগ্র জগতের উপর শুধুমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব রয়েছে এবং জনগণের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রকে যে কর্তৃত্ব তিনি তার নির্ধারিত সীমা বা এখতিয়ারে মধ্যে ব্যবহারের জন্য প্রদান করেছেন তা একটি মহাপবিত্র আমানত।[১]
  2. পাকিস্তানের জনগণের জনপ্রতিনিধিত্বকারী এই সাংবিধানিক বোর্ড ইসলামিক সার্বভৌম ও স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নের ব্যাপারে দায়িত্বশীল।
  3. জনগণের নির্বাচিত ও মনোনীত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা রাষ্ট্র তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করবে।
  4. ইসলামে নির্দেশিত গণতন্ত্র/(শায়েখতন্ত্র), স্বাধীনতা, সাম্য, সহিষ্ণুতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নীতি সম্পূর্ণরূপে পালন করতে হবে।
  5. পবিত্র আল-কুরআনসুন্নাহতে বিবৃত ইসলামের শিক্ষা ও প্রয়োজনানুযায়ীই মুসলিমরা ব্যক্তি ও সামষ্টিক ক্ষেত্রে জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
  6. সংখ্যালঘিষ্ঠ যাতে স্বাধীনভাবে অগ্রসর হতে এবং নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতি অনুসরণ করতে পারে তার জন্য অধিকতর বিধি-বিধান প্রণয়ন করতে হবে।
  1. পাকিস্তান একটি ফেডারেশন হবে এবং এর সাংবিধানিক ইউনিটগুলি হবে সম্পূর্ণরূপে স্বায়ত্তশাসিত ও ইসলামিক সার্বভৌমত্ব।
  2. মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে মর্যাদা, সুযোগ, আইন, সামাজিক, রাজকীয় মর্যাদা-অভ্যর্থনা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সমতা এবং আইন ও নৈতিকতা অনুযায়ী চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, উপাসনা ও সংগঠনের স্বাধীনতা।
  3. সংখ্যালঘিষ্ঠ এবং অনগ্রসর ও অন্ত্যজ শ্রেণীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বিধি-বিধান প্রণয়ন করতে হবে।
  4. বিচারবিভাগের স্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয় ও রাজকীয়ভাবে সুরক্ষিত করতে হবে।
  5. ফেডারেশনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, এর স্বাধীনতা এবং স্থল, জল ও আকাশে ইসলামিক সার্বভৌম অধিকারসহ সকল অধিকার রাজকীয়ভাবে সুরক্ষিত করতে হবে।
  6. পৃথিবীর জাতিসমূহের মধ্যে পাকিস্তানের জনগণ উন্নতি এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত ও সম্মানসূচক স্থান অর্জন করুক এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও উন্নতি এবং মানবতার শান্তিতে তাদের পূর্ণ অবদান রাখুক।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]