মেঘনাদ সাহা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মেঘনাদ সাহা

Dr-Meghnad-Saha.jpg
মেঘনাদ সাহা
জন্ম(১৮৯৩-১০-০৬)৬ অক্টোবর ১৮৯৩
শেওড়াতলী, কালিয়াকৈর উপজেলা, গাজীপুর জেলা, অবিভক্ত ভারত
মৃত্যু১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬(1956-02-16) (বয়স ৬২)
দিল্লি, ভারত
সমাধিস্থলকলকাতা
বাসস্থানভারত
নাগরিকত্বভারতীয়
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয় (১৮৯৩-১৯৪৭)‌‌ ভারতীয় (১৯৪৭-১৯৫৬)
কর্মক্ষেত্রপদার্থবিদ্যা জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং গণিত
প্রতিষ্ঠানকলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাক্তন ছাত্রঢাকা কলেজ
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
সন্দর্ভসমূহ (১৯১৯)
শিক্ষায়তনিক উপদেষ্টাবৃন্দজগদীশ চন্দ্র বসু
প্রফুল্ল চন্দ্র রায়
পিএইচডি ছাত্ররাদৌলত সিং কোঠারি
অন্যান্য 
উল্লেখযোগ্য ছাত্র
  • আর সি মজুমদার
  • এন কে সুর
  • জি আর তস্নিওাল
  • P. K. Kichlu
পরিচিতির কারণ
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
স্ত্রী/স্বামীরাধারাণী সাহা
স্বাক্ষর

মেঘনাদ সাহা (ইংরেজি: /Mēghanāda Sāhā/)এফআরএস (অক্টোবর ৬, ১৮৯৩ – ফেব্রুয়ারি ১৬, ১৯৫৬) একজন ভারতীয় বাঙালি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি গণিত নিয়ে পড়াশোনা করলেও পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়েও গবেষণা করেছেন। তিনি তাত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে তাপীয় আয়নীকরণ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠাতা করেন। তার আবিস্কৃত সাহা আয়নীভবন সমীকরণ নক্ষত্রের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মগুলো ব্যাখ্যা করতে অপরিহার্য।[১][২] তিনি ভারতে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে আধুনিক গবেষণার জন্য ১৯৫০ সালে পশ্চিমবঙ্গে সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স প্রতিষ্ঠা করেন। পদার্থবিজ্ঞানে তার অবদানের জন্য ১৯২৭ সালে লন্ডনের রয়াল সোসাইটি তাকে এফআরএস নির্বাচিত করে।

তিনি ও তার সহপাঠী এবং সহকর্মী সত্যেন্দ্রনাথ বসু সর্বপ্রথম আইনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি জার্মান থেকে ইংরাজি অনুবাদ করেন যা কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। স্বনামধন্য এই পদার্থবিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞান ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি বিজ্ঞান সম্মত ধারায় পঞ্জিকা সংশোধন করেন। এছাড়া ভারতের নদীনিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ভারতে পদার্থবিদ্যার বিকাশ ও প্রসারের জন্য ১৯৩১ সালে ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্স, ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন।[৩] এছাড়াও ১৯৩৪ সালে[৪] ভারতে পদার্থবিজ্ঞানীদের সংগঠন ইন্ডিয়ান ফিজিক্যাল সোসাইটিও প্রতিষ্ঠা করেন।[৫] তার উদ্যোগেই ভারতে ইন্ডিয়ান ইন্সটিউট অব সায়েন্স এর সূচনা হয়, যা বর্তমানে ইন্ডিয়ান ইন্সটিউট অব টেকনোলজি (আই আই টি) নামে বর্তমানে পরিচিত।

১৯৫২ সালে ভারতীয় লোকসভার নির্বাচনে কলকাতা উত্তর পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্র (বর্তমানে কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্র) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সাংসদ হন।[৬]

বাল্যকাল ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মেঘনাথ সাহা ৬ অক্টোবর, ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ববঙ্গের ঢাকা জেলার অন্তর্গত শেওড়াতলী গ্রামে (অধুনা বাংলাদেশ  গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জগন্নাথ সাহা ও মাতার নাম ভুবনেশ্বরী সাহা। তিনি ছিলেন পঞ্চম সন্তান।[৭] তার পিতা ছিলেন পেশায় মুদি।[৮]

প্রাথমিক শিক্ষা[সম্পাদনা]

বার্লিনে তরুণ মেঘনাদ সাহা

গ্রামের টোলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। সেই সময় তার গ্রামের বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার করার সুযোগ ছিল। তার পিতা ছোটবেলায় তার বিদ্যাশিক্ষা অপেক্ষা দোকানের কাজ শেখা আবশ্যক মনে করেন। কিন্তু তার দাদা জয়নাথ এবং তার মায়ের ঐকান্তিক চেষ্টায় এবং তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার ইতিহাস এবং গণিতের মেধার কথা তার পিতার কাছে অবগত করলে তার পিতা তাকে হাই স্কুলে ভর্তি করতে সম্মত হন। এরপর তিনি শেওড়াতলী গ্রাম থেকে সাত মাইল দূরে শিমুলিয়ায় মধ্য ইংরাজি বিদ্যালযয়ে (মিডল স্কুল - ব্রিটিশ আমলে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ার স্কুল) ভর্তি হন। এত দূরে প্রতিদিন যাওয়া আসা করে তার পক্ষে পড়াশোনা করা দুরূহ হওয়ার পাশাপাশি মেঘনাদের বাবার পক্ষেও আর্থিক সামর্থ্য ছিল না শিমুলিয়া গ্রামে মেঘনাদকে রেখে পড়ানোর। তখন মেঘনাদের বড় ভাই এবং পাটকল কর্মী জয়নাথ শিমুলিয়া গ্রামের চিকিৎসক অনন্ত কুমার দাসকে মেঘনাদের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করায় তিনি রাজি হন। সেখানে তিনি শিমুলিয়ার ডাক্তার অনন্ত নাগের বাড়িতে থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ লাভ করেন। এই স্কুল থেকে তিনি শেষ পরীক্ষায় ঢাকা জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে বৃত্তি পায়।[৭]

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা[সম্পাদনা]

এরপর ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা কলেজিয়েট বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই সময় বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে ঘিরে সারাবাংলা উত্তাল হয়েছিল। সেই সময় তাদের বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য তৎকালীন গভর্নর বামফিল্ড ফুলার আসলে মেঘনাথ সাহা ও তার সহপাঠীরা বয়কট আন্দোলন করেন। ফলত আন্দোলনকারী সহপাঠীদের সাথে তিনিও বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত হন এবং তার বৃত্তি নামঞ্জুর হয়ে যায়।[৯] পার্শ্ববর্তী কিশোরীলাল জুবিলি হাই স্কুলের একজন শিক্ষক স্বঃপ্রণোদিত হয়ে তাকে তাদের স্কুলে ভর্তি বিনাবেতনে অধ্যয়নের ব্যবস্থা করেন। সেখান থেকেই তিনি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে পূর্ববঙ্গের সমস্ত বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় মাসিক ৪ টাকার সরকারি বৃত্তি সহ উত্তীর্ণ হন। এই পরীক্ষায় গণিত এবং ভাষা বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ নম্বর অধিকার করে।

বিদ্যালয় শিক্ষার পর তিনি ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বৈশ্য সমিতির মাসিক দুই টাকা বৃত্তিও লাভ করেন। সেই সময় তিনি কলেজের রসায়নের শিক্ষক হিসেবে হরিদাস সাহা, পদার্থবিজ্ঞানে বি এন দাস এবং গণিতের নরেশ চন্দ্র ঘোষ এবং কে পি বসু সহ প্রমুখ স্বনামধন্য শিক্ষকদের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি বিজ্ঞান ছাড়াও ডক্টর নগেন্দ্রনাথ সেনের কাছে জার্মান ভাষা প্রশিক্ষণ নেন। এই বিদ্যালয় থেকে তিনি আই এস সি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর[সম্পাদনা]

১৯১১ খ্রিস্টাব্দে গণিতে অনার্স নিয়ে কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। সেই সময় ১৯১১-১৯১৩ সাল পর্যন্ত দু'বছর ইডেন ছাত্রাবাস এবং পরে একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নিখিল রঞ্জন সেন, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, জ্ঞানেন্দ্র নাথ মুখার্জী, শৈলেন্দ্রনাথ গুহ, সুরেন্দ্র নাথ মুখার্জী প্রমূখ সহপাঠী ছিলেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে সংখ্যাতত্ত্ব বিজ্ঞানী প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ এক বছরের এবং রসায়নবিদ নীলরতন ধর দুই বছরের সিনিয়র ছিলেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি গণিতের অধ্যাপক হিসাবে বি এন মল্লিক এবং রসায়নে প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এবং পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসুকে পেয়েছিলেন। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৩ সালে গণিতে সম্মানসহ স্নাতক এবং ১৯১৫ সালে ফলিত গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রথম হন।

ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ[সম্পাদনা]

মেঘনাদ তার সমস্ত গবেষণা ফলাফল গুলো একত্র করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রির জন্য আবেদন করেন। তার সব গবেষণা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ১৯১৯ সালে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে। একইবছর মেঘনাদ প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি লাভ করেন। যার ফলে তিনি ইংল্যান্ড ও জার্মানীতে গবেষণার সুযোগ পান।

তৎকালীন সময়ের ধর্মগোড়া উচ্চ-অহংকারী ব্রাহ্মণদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে এবং শৈশব-কিশোর এবং কর্মজীবনে জাতপাতের শিকার হওয়ায় তার হৃদয়ে বৈদিক হিন্দুধর্মের গোঁড়ামির প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মেছিল।[১০][১১][১২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৯১৬-১৯)[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগদীশ চন্দ্র বসু, সত্যেন বোস সহ অন্যান্য বাঙালী বিজ্ঞানীদের সাথে মেঘনাদ সাহা

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতার বিখ্যাত আইনজীবী তারকনাথ পালিত রাজবিহারী ঘোষ অর্থানুকূল্যে পদার্থবিজ্ঞান রসায়ন ও গণিত বিভাগে স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম পঠন পাঠানোর জন্য রাজাবাজার সাইন্স কলেজ উদ্বোধন করেন। সেই সময় উপাচার্য মেঘনাথ সাহা ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু স্নাতকোত্তরের ফল ভাল থাকায় তাদের গণিত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। তারা দুজনেই গণিতের প্রভাষক হিসেবে নিযুক্ত হন কিন্তু তাদের পদার্থবিজ্ঞান পছন্দসই বিষয় হওয়ায় উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে চলে আসেন।[১৩] গণিত বিভাগের প্রভাষক থাকাকালীন মেঘনাথ সাহা জ্যামিতিভূগোলের বিষয় অধ্যায়ন করেছিলেন এবং পাঠদান করেছিলেন। তার ভূ-তাত্বিক বিজ্ঞান সম্পর্কিত আগ্রহ থেকেই পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে ভূতত্ত্ববিদ্যা পাঠক্রমের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ভূতাত্ত্বিক সময় নিরূপণ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছিলেন।

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে দেবেন্দ্রমোহন বসু গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য অন্তরীণ হয়ে পরায় মেঘনাথ সাহা এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে তাত্বিক ও পরীক্ষামূলক গবেষণায় নিয়োজিত হতে হয়। সেই সময় প্রবীণ অধ্যাপক ছাড়াই মেঘনাথ সাহা পদার্থ বিজ্ঞানের গবেষণা শুরু করেন। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে এস কে মিত্র, পি এন ঘোষয়ের সহযোগিতায় তিনি পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়ানোর ব্যবস্থা করতে সক্ষম হন। সেই সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তিনি প্রভাষক হিসেবে তাপ গতিবিদ্যা পড়াতেন। আধুনিক পদার্থবিদ্যার বিষয়গুলি তিনি ও তাঁর সহযোগীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেন। আপেক্ষিকতাবাদ সহ আধুনিক পদার্থবিদ্যার সদ্য আবিষ্কৃত বিষয়গুলি তারা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে পদার্থবিজ্ঞানে বিষয়গুলির মূলত জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হত, সেগুলিকে ইংরাজিতে অনুবাদ করতে হয়েছিল। তার ঢাকা কলেজে পড়াকালীন জার্মান ভাষা শিক্ষা এই কাজে তাকে সাহায্য করেছিল।

সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব আবিষ্কার তিন বছরের মধ্যেই তিনি ও সত্যেন্দ্রনাথ বোস জার্মান থেকে অনুবাদ করেছিলেন যা ইংরেজি ভাষায় সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের সর্বপ্রথম অনুবাদ। প্রিন্সটনের আইনস্টাইন আর্কাইভে তাদের অনুবাদের একটি প্রত্যায়িত রাখা আছে।[১৪]

১৯১৭ থেকে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোন প্রবীণ অধ্যাপকের তত্ত্বাবধান ছাড়াই তিনি লন্ডনের ফিলোসফিক্যাল ম্যাগাজিন ও ফিজিক্যালি রিভিউ জার্নালে তার মৌলিক গবেষণা গুলি প্রকাশ করেন। বিকিরণ চাপ সম্পর্কিত গবেষণা জন্য ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।[১৫] ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে অন হার্ভার্ড ক্লাসিফিকেশন অফ স্টেলার স্পেক্ট্রাম গবেষণার জন্য প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃদ্ধি পান এবং বিদেশে গবেষণার সুযোগ পেয়ে যান।[১৬]

ইউরোপের বিভিন্ন গবেষণাগারে (১৯২০-১৯২১)[সম্পাদনা]

এরপর ১৯১৯ সালে তিনি প্রথম পাঁচ মাস লণ্ডনে বিজ্ঞানী আলফ্রেড ফাউলারের পরীক্ষাগারে এবং পরবর্তীতে বার্লিনে ওয়াস্টার নার্নস্টের সাথে কাজ করেন।[১৭]

Solar eclips 1999 5.jpg

মেঘনাদ সাহা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ফিলোসফিক্যাল ম্যাগাজিনে তার গবেষণা লব্ধ তাপীয় আয়নায়ন তত্ত্ব বিষয়ে Ionisation of the solar chomosphere শীর্ষক গবেষণাপত্র[১৮] প্রকাশিত হলে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। তার গবেষণাটি মূলত উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নার তত্ত ও নক্ষত্রের আবহমন্ডলের তার প্রয়োগ বিষয়ের নিয়ে।[১৯]

তিনি ইউরোপ যাত্রার আগে Ionisation of the solar chromospher and on the Harvard classification of steller spectra গবেষণাপত্র দুটি প্রকাশের জন্য Philosofical Magazine পাঠান কিন্তু সেখানে ফাউলারের গবেষণাগারে থাকাকালীন হার্ভার্ড গ্রুপ ছাড়াও নক্ষত্রের শ্রেণীবিভাগে লাইকার ও ছাত্রদের অবদান সম্বন্ধে অবহিত হওয়ার পর তিনি আরো কিছু নতুন তথ্য দিয়ে তার দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটি সম্প্রসারিত করেছেন। যা On the physical theory of steller sprectra শিরোনামে[২০] লন্ডনের রয়েল সোসাইটি পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয়।[২১] জ্যোতির্বিজ্ঞানের তার এই কাজটি সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বলে মনে করা হয়। এস রজল্যান্ড তার theoritical Astrophysics গ্রন্থে তার গবেষণার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন।[২২]

এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৯২২-১৯৩৮)[সম্পাদনা]

১৯২১ খ্রিস্টাব্দে নভেম্বর মাসে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে খয়রা অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। সেই সময় তৎকালীন আচার্য ও গভর্নরের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিরোধ থাকায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে সহকারি পাননি। সেই কারণে গবেষণার জন্য তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক নীলরতন করের আগ্রহের এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন । এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ভালো পরিমণ্ডল না থাকা সত্ত্বেও তার চেষ্টায় তিনি একটি গবেষণা দল করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল স্ট্যাটিসটিকাল মেকানিক্স, পরমাণু ও অণুর বর্ণালী, নেগেটিভ ইলেক্ট্রন আফিনিটি, অণুর উষ্ণতাজনিত বিভাজন, রেডিও তরঙ্গের আয়নোস্পিয়ারে গতিবিধি, উচ্চতর আবহমণ্ডল ইত্যাদি। তিনি তাপীয় আয়নন তথ্য পরীক্ষার জন্য একটি যন্ত্র তৈরি করেছিলেন।[২৩]

১৯৩১ সালে ইংল্যান্ডের রয়াল সোসাইটি থেকে তিনি ১৫০০ পাউন্ত আর্থিক সহ্যটা পান, তা দিয়ে তিনি আয়ননতত্বের পরীক্ষামূলক প্রমাণ করেন।

১৩২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভারতীয় সাইন্স কংগ্রেসের গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান শাখার সভাপতিত্ব করেন।[১৫] ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের রয়েল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। ইতালিতে সরকারের আমন্ত্রণে ভল্টার শতবার্ষিকী উৎসবে আমন্ত্রিত হন এবং মৌলিক পদার্থের মৌলিক পদার্থের জটিল বর্ণালির ব্যাখ্যা সম্পর্কে গবেষণাপত্রটি পাঠ করেন। ১৯৩৪ কারনেসি ট্রাস্টের ফেলো নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। ওই সময় তিনি জার্মানি ইংল্যান্ড আমেরিকা পরিদর্শন করেন। সেই সময় হার্ভার্ড কলেজের ল্যাবরেটরীতে এইচ শেফ্লির সাথে গবেষণা করেন।

তিনি মিউনিখে থাকাকালীন জার্মান একাডেমি সম্বর্ধনা পান। আমেরিকায় লরেন্সের সাইক্লত্রন যন্ত্র পর্যবেক্ষণ করেন। যা পরবর্তীতে ভারতবর্ষে সাইক্লোট্রন তৈরিতে সাহায্য করেছে।[২৪]

কোপেনহেগেন নিউক্লিয়ার ফিজিক্স কনফারেন্সে পরমাণু বিভাজনের মূল তত্ব্ব সম্পর্কে অবহিত হন যা পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স গবেষণাগার তৈরিতে তাকে সাহায্য করেছে। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় সাইন্স কংগ্রেস জুবিলী অধিবেশনে এরিংটন কলকাতা আসেন। তিনি মেঘনাথ সাহার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছিলেন তার মতো জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জন্য একটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্ণ গবেষণাগার থাকা উচিত। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে ব্যাঙ্গালোরে ভারতে এই ধরনের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পুনরায় কলকাতায়[সম্পাদনা]

এরপর তিনি মারা যাবার আগে পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিজ্ঞান বিভাগের ডিন হিসেবে দ্বায়িত্বপালন করেছেন।

অনুবাদক[সম্পাদনা]

Meghnad Saha with his assistants in front of the magnet of the cyclotron at the Institute of Nuclear Physics. Front row (L to R): Dr. A. P. Patro, Dr. B. D. Nagchaudhari, Mr. B. M. Banerjee (only part of his face is visible) and Prof. M. N. Saha

মেঘনাদ এবং সত্যেন বোস যুগ্মভাবে সর্বপ্রথম আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব সহ তার বিভিন্ন নিবন্ধ ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন। আইনস্টাইনের ১৯০৫ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত মোট যতগুলি নিবন্ধ জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল তার সবগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ শুরু করেন মেঘনাদ সাহা ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু। তাদের এই অনুবাদ ১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রিন্সিপাল্‌স অব রিলেটিভিটি নামে প্রকাশিত হয়। অনূদিত বইটির ভূমিকা লেখেন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ। ১৯৭৯ সালে আইনস্টাইনের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বলা হয় আইনস্টাইনের নিবন্ধগুলির প্রথম অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল জাপানে। এই ভুল সংশোধন করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের চেষ্টায় আইনস্টাইনের রচনার প্রথম অনুবাদের স্বীকৃতি পান সাহা ও বসু। তাদের এই অনূদিত প্রিন্সিপাল্‌স অব রিলেটিভিটির একটি প্রতিলিপি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনস্টাইন আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। সাহা ও বসুর এই অনুবাদ সর্বপ্রথম ইংরেজিতে অনুবাদ শুধু নয়, সারাবিশ্বে এটিই আইনস্টাইনের রচনার প্রথম অনুবাদ।[২৫]

ঘটনাবলী[সম্পাদনা]

বৈজ্ঞানিক গবেষণা[সম্পাদনা]

মেঘনাদ সাহার মূর্তি, রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ

মেঘনাদ সাহা পরমাণু বিজ্ঞান, জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা, নিউক্লিয় পদার্থবিদ্যা, আয়ন মণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশবিজ্ঞান, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা বিষয়ে গবেষণা করেন। তিনি তাপীয় আয়নবাদ (Thermal Ionaisation) সংক্রান্ত তত্ত্ব উদ্ভাবন করে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

সাহা সমীকরণ[সম্পাদনা]

ডক্টর সাহা তার তাপীয় আয়ন-তত্ত্বে আয়নীভবন সংক্রান্ত একটি সমীকরণ উপস্থাপন করেন যা সাহা আয়নীভবন সমীকরণ নামে পরিচিত। ১৯২০ সালে Philosophical Magazine–এ প্রকাশিত প্রবন্ধে সাহা এই সমীকরণ দেন। একটি একক পরমাণু দ্বারা গঠিত গ্যাসের জন্য সাহা সমীকরণটি হল:

যেখানে,

  • হল পরমাণুর ঘনত্ব, যেখানে পরমাণু থেকে i সংখ্যক ইলেকট্রন অপসারিত হয়েছে।
  • হল i-স্তরের আয়নের জন্য হ্রাসপ্রাপ্ত শক্তিস্তর
  • হল সর্বনিম্ন শক্তিস্তর i সংখ্যক ইলেকট্রন অপসারিত করে i-শক্তিস্তরে যেতে প্রয়োজনীয় শক্তি
  • হল ইলেকট্রন ঘনত্ব
  • হল ইলেকট্রনের তাপীয় দ্য ব্রয় তরঙ্গদৈর্ঘ্য (de Broglie wavelength)

রাশিমালা হল ইলেকট্রনকে অপসারিত করতে প্রয়োজনীয় শক্তি। যেক্ষেত্রে একটি স্তরের আয়নীভবন গুরুত্বপূর্ণ সেখানে আমরা পাই , এবং মোট শক্তি n কে দ্বারা প্রকাশ করা হয়। সাহা সমীকরণের সরলীকৃত রূপটি হল:

যেখানে হল আয়নীভবন শক্তি।

মেঘনাদ সাহা এর নোবেল না পাওয়া[সম্পাদনা]

১৯৩০ সালে ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী দেবেন্দ্র মোহন বসু এবং শিশির কুমার মিত্র মেঘনাদ সাহাকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করেন। নোবেল কমিটি মেঘনাদ সাহার কাজকে পদার্থবিজ্ঞানের একটি উল্ল্যেখযোগ্য প্রয়োগ হিসেবে বিবেচনা করলেও এটি "আবিষ্কার" নয় বলে তিনি নোবেল পুরস্কার পান নি। মেঘনাদ সাহাকে ১৯৩৭ সালে এবং ১৯৪০ সালে আর্থার কম্পটন এবং ১৯৩৯, ১৯৫১ ও ১৯৫৫ সালে শিশির কুমার মিত্র আবারো মনোনীত করলেও নোবেল কমিটি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে।[২৭]

রচিত গ্রন্থাবলি[সম্পাদনা]

  • The Principle of Relativity
  • Treatise on Heat
  • Treatise on Modern Physics
  • Junior Textbook of Heat with Metereology

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এ সময় তিনি তার কর্মস্থল ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ভবনের পরিকল্পনা কমিশনের দিকে যাচ্ছিলেন; এমন সময় পড়ে যান। হাসপাতালে নেবার পর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মারা যান। রিপোর্টে বলা হয়: তিনি মারা যাবার ১০ মাস আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।[২৮] তাকে পরের দিন কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশান এ দাহ করা হয়।[২৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Banerjee, Somaditya (১ আগস্ট ২০১৬)। "Meghnad Saha: Physicist and nationalist"। Physics Today (ইংরেজি ভাষায়)। 69 (8): 38–44। আইএসএসএন 0031-9228ডিওআই:10.1063/PT.3.3267অবাধে প্রবেশযোগ্যবিবকোড:2016PhT....69h..38B 
  2. "Meghnad N. Saha | Indian astrophysicist"Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-২৩ 
  3. "The National Academy of Sciences, India - Vision"www.nasi.org.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৮ 
  4. IACSCC। "IPS Home Page"। iacs.res.in। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-০১ 
  5. Mahalanobis, P.C (১৯৬৩)। "Recent Developments in the Organization of Science in India"। Sankhyā: The Indian Journal of Statistics, Series BIndian Statistical Institute25 (1/2): 67–84। জেস্টোর 25051480 
  6. Kean, Sam (২০১৭)। "A forgotten star"Distillations3 (1): 4–5। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৮ 
  7. "Meghnad Saha: How a Village Boy Became One of India's Greatest Scientists"The Better India (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১০-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২১ 
  8. মুনির হাসান (নভেম্বর ২০১৮)। আব্দুল, কাইয়ুম, সম্পাদক। "মেঘনাদ সাহার অন্য ভুবন"। বিজ্ঞানচিন্তা। বর্ষ ৩: ২৭-২৯। 
  9. Madhumita Mazumdar and Masud Hasan Chowdhury (২০১২), "Saha, Meghnad", Sirajul Islam and Ahmed A. Jamal, Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ), Asiatic Society of Bangladesh 
  10. মান্না, অর্ঘ্য। "মেঘনাথ থেকে মেঘনাদ"anandabazar.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-০৩ 
  11. Santimay Chatterjee, Enakshi Chatterjee (১৯৮৪)। Meghnad Saha, scientist with a vision। National Book Trust, India। পৃষ্ঠা 5। Even though he later came to be known as an atheist, Saha was well-versed in all religious texts— though his interest in them was purely academic. 
  12. Robert S. Anderson (২০১০)। Nucleus and Nation: Scientists, International Networks, and Power in India। University of Chicago Press। পৃষ্ঠা 602আইএসবিএন 9780226019758। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১২a self-described atheist, saha loved swimming in the river and his devout wife loved the sanctity of the spot. swimming and walking were among the few things they could do together. 
  13. Culture, Cosmic। "মেঘনাদ সাহা"Cosmic Culture (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৩ 
  14. "The Sunday Tribune - Spectrum - Article"www.tribuneindia.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২১ 
  15. "INSA :: Deceased Fellow Detail"insaindia.res.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২১ 
  16. "Prof. M. N. Saha, F.R.S."Nature (ইংরেজি ভাষায়)। 142 (3586): 145–146। ১৯৩৮-০৭-০১। আইএসএসএন 1476-4687ডিওআই:10.1038/142145c0 
  17. "Meghnad Saha: Shining star of astrophysics"Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০২-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২১ 
  18. Meghnad Saha। "Ionisation of the solar chromosphere" (PDF) 
  19. Saha, M. N. (1920-04)। "Ionisation in the Solar Chromosphere"Nature (ইংরেজি ভাষায়)। 105 (2634): 232–233। আইএসএসএন 1476-4687ডিওআই:10.1038/105232b0  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  20. Meghnad Saha। "On the physical theory of steller sprectra" (PDF) 
  21. "1994JApA...15..201. Page 201"adsabs.harvard.edu। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২১ 
  22. Rosseland, Svein (১৯৩৬)। Theoretical Astrophysics: Atomic Theory and the Analysis of Stellar Atmospheres and Envelopes (ইংরেজি ভাষায়)। Clarendon Press। 
  23. "Distinguished Alumni"www.caluniv.ac.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২১ 
  24. "A City of Cyclotrons~I"The Statesman (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০১-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২১ 
  25. https://theprint.in/theprint-profile/birthday-tribute-to-satyendra-nath-bose-the-physicist-after-whom-higgs-boson-particle-is-named/171316/
  26. "Saha as parliamentarian" 
  27. Rajinder Singh, Nobel Prize Nominator Sisir Kumar Mitra - His scientific work in international context, Shaker Publisher Aachen 2016, pp. 107-132. http://www.shaker.de/de/content/catalogue/index.asp?lang=de&ID=8&ISBN=978-3-8440-2654-2
  28. "Nation Mourns Meghnad Saha"। The Indian Express। ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬। পৃষ্ঠা 1, 7। 
  29. "Saha's Remains Cremated"। The Indian Express। ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬। 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]