বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনীসমূহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
National emblem of Bangladesh.svg
এই নিবন্ধটি
বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকার
ধারাবাহিকের অংশ

এই শব্দ সম্পর্কেবাংলাদেশ  দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র যার সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনাবসানে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান নামক যে রাষ্ট্রটি সৃষ্টি হয়েছিলো, তার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তান শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় ঘটেছে দুর্ভিক্ষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ; এছাড়াও প্রলম্বিত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও পুনঃপৌনিক সামরিক অভ্যুত্থান এদেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক প্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশ গণপরিষদে (বর্তমানে জাতীয় সংসদ ) এই সংবিধান গৃহীত হয়, এবং একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর বা বাংলাদেশের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী হতে এটি কার্যকর হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের মোট ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। তবে এসব সংশোধনীর মধ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পঞ্চম সংশোধনী, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সপ্তম সংশোধনী, ত্রয়োদশ সংশোধনী এবং ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক বাতিল করা হয়েছ। এই সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদ সদস্যদের মোট সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয় যা সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭খ তে বলা হয়ছে সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে যাই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদের বিধানবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হবে।

সংবিধানের সংশোধনীসমূহ[সম্পাদনা]

আইনের শিরোনাম সংশোধনীর বিষয়বস্তু উত্থাপনকারী উত্থাপনের তারিখ পাসের তারিখ রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ পক্ষে-বিপক্ষে ভোট মন্তব্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি / প্রধানমন্ত্রী
সংবিধান (প্রথম সংশোধনী) আইন ১৯৭৩ যুদ্ধাপরাধীসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী আপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ১২ই জুলাই, ১৯৭৩ ১৫ই জুলাই ১৯৭৩ ১৭ই জুলাই ১৯৭৩ ২৫৪-০ (বিরত ৩ জন) *** শেখ মুজিবুর রহমান[১]
সংবিধান (দ্বিতীয় সংশোধনী) আইন ১৯৭৩ অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমনে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে “জরুরি অবস্থা” ঘোষণার বিধান আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ ২০শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ ২২শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ ২৬৭-০ (স্বতন্ত্র ও বিরোধীরা ওয়াকআউট করেন) *** শেখ মুজিবুর রহমান[১]
সংবিধান (তৃতীয় সংশোধনী) আইন ১৯৭৪ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন এবং চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি বিনিময় বিধান আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর ২১শে নভেম্বর, ১৯৭৪ ২৩শে নভেম্বর ১৯৭৪ ২৭শে নভেম্বর ১৯৭৪ ২৬১-০৭ *** শেখ মুজিবুর রহমান[১]
সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন ১৯৭৫ সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন এবং বা ক শা ল গঠন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর ২৫শে জানুয়ারি ১৯৭৫ ২৫শে জানুয়ারি ১৯৭৫ ২৫শে জানুয়ারি ১৯৭৫ ২৯৪-০ *** শেখ মুজিবুর রহমান[১]
সংবিধান (পঞ্চম সংশোধনী) আইন ১৯৭৯ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৯৭৯ সালের ৫ই এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক সরকারের যাবতীয় কর্মকান্ডকে বৈধতা দান,"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" সংযোজন সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান ৪ই এপ্রিল ১৯৭৯ ৬ই এপ্রিল ১৯৭৯ ৪ই এপ্রিল ১৯৭৯ ২৪১-০ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত এবং বাতিলকৃত জিয়াউর রহমান[১]
সংবিধান (ষষ্ঠ সংশোধনী) আইন ১৯৮১ উপ-রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিতকরন সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান ১লা জুলাই ১৯৮১ ৮ই জুলাই ১৯৮১ ৯ই জুলাই ১৯৮১ ২৫২-০ *** জিয়াউর রহমান[১]
সংবিধান (সপ্তম সংশোধনী) আইন ১৯৮৬ ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ই নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক আইন বলবৎ থাকাকালীন সময়ে প্রণীত সকল ফরমান, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, নির্দেশ ও অধ্যাদেশসহ অন্যান্য সকল আইন অনুমোদন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বিচারপতি কে এম নুরুল ইসলাম ১০ই নভেম্বর ১৯৮৬ ১০ই নভেম্বর ১৯৮৬ ১০ই নভেম্বর ১৯৮৬ ২২৩-০ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত এবং বাতিলকৃত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ[১]
সংবিধান (অষ্টম সংশোধনী) আইন ১৯৮৮ রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতিদান ও ঢাকার বাইরে ৬টি জেলায় হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন। Dacca-এর নাম Dhaka এবং Bangali-এর নাম Bangla-তে পরিবর্তন করা হয় সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ১১ই মে ১৯৮৮ ৭ই জুন ১৯৮৮ ৯ই জুন ১৯৮৮ ২৫৪-০ *** হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ[১]
সংবিধান (নবম সংশোধনী) আইন ১৯৮৯ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সাথে একই সময়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, রাষ্ট্রপতি পদে কোন ব্যক্তিকে পর পর দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখা সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ৬ই জুলাই ১৯৮৯ ১০ই জুলাই ১৯৮৯ ১১ই জুলাই ১৯৮৯ ২৭২-০ *** হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ[১]
সংবিধান (দশম সংশোধনী) আইন ১৯৯০ রাষ্ট্রপতির কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ১৮০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদের বাংলা ভাষ্য সংশোধন ও সংসদে মহিলাদের ৩০টি আসন আরো ১০ বছরকালের জন্য সংরক্ষণ আইন ও বিচারমন্ত্রী হাবিবুল ইসলাম ১০ই জুন ১৯৯০ ১২ই জুন ১৯৯০ ২৩শে জুন ১৯৯০ ২২৬-০ *** হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ[১]
সংবিধান (একাদশ সংশোধনী) আইন ১৯৯১ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের স্বপদে ফিরে যাবার বিধান আইন ও বিচারমন্ত্রী মীর্জা গোলাম হাফিজ ২রা জুলাই ১৯৯১ ৬ই আগস্ট ১৯৯১ ১০ই আগস্ট ১৯৯১ ২৭৮-০ *** শাহাবুদ্দিন আহমেদ (প্রধান উপদেষ্টা)
সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধনী) আইন ১৯৯১ সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তন ও উপরাষ্ট্রপতি পদ বিলুপ্তি প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২রা জুলাই ১৯৯১ ৬ই আগস্ট ১৯৯১ ১৮ই সেপ্টেম্বর ১৯৯১ ৩০৭-০ *** বেগম খালেদা জিয়া
সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধনী) আইন ১৯৯৬ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকার ২১শে মার্চ ১৯৯৬ ২৭শে মার্চ ১৯৯৬ ২৮শে মার্চ ১৯৯৬ ২৬৮-০ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত এবং বাতিলকৃত বেগম খালেদা জিয়া
সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধনী) আইন ২০০৪ নারীদের জন্য সংসদে ৪৫টি সংসদীয় আসন সংরক্ষণ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংরক্ষণ, অর্থ বিল, সংসদ সদস্যদের শপথ, সাংবিধানিক বিভিন্ন পদের বয়স বৃদ্ধি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ২৭শে মার্চ ২০০৪, দ্বিতীয়বার ২৮শে এপ্রিল ২০০৪ ১৬ই মে ২০০৪ ১৭মে ২০০৪ ২২৬-১ *** বেগম খালেদা জিয়া
সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধনী) আইন ২০১১ সংবিধানের প্রস্তাবনা সংশোধন, ১৯৭২-এর মূলনীতি পূনর্বহাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তকরণ, ১/১১ পরবর্তী দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ম বহির্ভুতভাবে ৯০ দিনের অধিক ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি প্রমার্জ্জনা, নারীদের জন্য সংসদে ৫০ টি সংসদীয় আসন সংরক্ষণ, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ ২৫শে জুন ২০১১ ৩০শে জুন ২০১১ ৩রা জুলাই ২০১১ ২৯১-১ *** শেখ হাসিনা
সংবিধান (ষোড়শ সংশোধনী) আইন ২০১৪ বাহাত্তরের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেয়া আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ৩২৮-০[২] সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত এবং বাতিলকৃত শেখ হাসিনা
সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন - ২০১৮ আরও ২৫ বছরের জন্য জাতীয় সংসদের ৫০টি আসন শুধুমাত্র নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ১০ এপ্রিল ২০১৮ ৮ জুলাই ২০১৮ ২৯ জুলাই ২০১৮ ২৯৮-০[৩] *** শেখ হাসিনা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে সংবিধানে সংশোধনগুলো"bdnews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-০৮ 
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৪ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৪ 
  3. https://www.jugantor.com/national/67860/সংবিধানের-সপ্তদশ-সংশোধনী-পাস

আরো দেখুন[সম্পাদনা]