আলেক্সি এ. রোদিওনোভ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
জন্ম ২৭ মার্চ, ১৯২২
মস্কো, রাশিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন
মৃত্যু ১৮ মে, ২০১৩
বাসস্থান ইউক্রেন

আলেক্সি আলেকসেইভিচ রোদিওনোভ (রুশ: Родионов, Алексей Алексеевич; জন্ম: ২৭ মার্চ, ১৯২২ - মৃত্যু: ১৮ মে, ২০১৩) রাশিয়ার মস্কোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত সোভিয়েত-ইউক্রেনীয় কূটনীতিবিদ ছিলেন।:83[১] ১৯৭১ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্নায়ুযুদ্ধের পর ১৯৯১-৯২ সময়কালে কানাডায় ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাকিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধে তিনি জড়িত হয়ে পড়েন। এ সময়ে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত গোপন বার্তা রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের কাছে হস্তান্তর করেন। ঐ বার্তায় ইয়াহিয়া খানকে পূর্ব পাকিস্তানে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নকল্পে ভারতের সাথে সংঘাতপূর্ণ অবস্থান থেকে বিরত থাকার কথা তুলে ধরা হয়।:231[২]

রোদিওনোভ বার্তা[সম্পাদনা]

বর্তমানে শ্রেণীবিহীন রোদিওনোভ বার্তায় পাকিস্তানকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল যে, সংঘাতপূর্ণ অবস্থানটি আত্মঘাতিমূলক কার্যকলাপ হবে ও ধীরে ধীরে উপমহাদেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে।:part-3[৩]

ইন্দো-সোভিয়েত চুক্তি অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের সাথে সোভিয়েত চুক্তিতে তিক্ততামূলক সংঘাতের কথা জানান। ইয়াহিয়া খান সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সহায়তা চালিয়ে যাবার কথা জানালে তিনি এ মন্তব্য করেন।:72-73[৪]

সফলতা[সম্পাদনা]

তাঁর সময়কালে ইয়াহিয়া খানের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্ক নিস্তেজ হলেও ১৯৭১ সালে ভুট্টো সরকারের সাথে সম্পর্ক মজবুতের চেষ্টা চালান। পাকিস্তান স্টিল মিলস প্রতিষ্ঠায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।:16[৫] ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে করাচীতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জুলফিকার আলী ভুট্টোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণবার্তা হস্তান্তর করেন যা ১৯৭৪ সালে সম্পন্ন হয়েছিল।:16[৫]

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

১৯৭৪ সালে পাকিস্তান থেকে রোদিওনোভকে অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত সারভার এ. আজিমোভ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।:11[৬] স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর রোদিওনোভ ইউক্রেনের নাগরিক হন। এরপর তাঁকে ১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে কানাডায় কর্মরত ছিলেন।:6-7[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Radio Liberty Dispatch (ইংরেজি ভাষায়)। Radio Liberty Committee। ১৯৭১। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  2. Sena, Cāṇakya (১৯৮০)। The USSR in Asia: An Interperceptional Study of Soviet-Asian Relations, with a Critique of Soviet Role in Afghanistan (ইংরেজি ভাষায়)। Young Asia। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  3. Service, British Broadcasting Corporation Monitoring (১৯৭১)। Summary of World Broadcasts: Far East (ইংরেজি ভাষায়)। London, UK: Monitoring Service of the British Broadcasting Corporation। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  4. Jackson, Robert। South Asian Crisis: India — Pakistan — Bangla Desh (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। আইএসবিএন 9781349041633। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  5. News Review on South Asia and Indian Ocean (ইংরেজি ভাষায়)। Institute for Defence Studies & Analyses.। ১৯৭২। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  6. Leaders Soviétiques Contemporains (ইংরেজি ভাষায়)। Mosaic Press। ১৯৮৬। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  7. Daily Report: Soviet Union (ইংরেজি ভাষায়)। The Service। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬