আবদুল জব্বার (ভাষা শহীদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবদুল জব্বার
জন্ম আবদুল জব্বার
২৬ আশ্বিন ১৩২৬ বাংলা (১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ)
পাঁচাইর, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ, বৃটিশ ভারত
মৃত্যু ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা, পাকিস্তান
পেশা সংগঠক, চাকুরী
যে জন্য পরিচিত ভাষা শহীদ
একই নামের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের জন্য দেখুন আবদুল জব্বার (দ্ব্যর্থতা নিরসন)

আবদুল জব্বার (১৯১৯ - ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২) হলেন মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ। তার শহীদস্মৃতি পরবর্তীকালে বাঙালি জাতিকে জাতীয় চেতনায় উজ্জ্বীবিত ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে; এ চেতনার বলেই ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

গফরগাঁওয়ে আবদুল জব্বারনগরের প্রবেশপথ

জব্বারের জন্ম ১৩২৬ বাঙ্গাব্দের ২৬ আশ্বিন তারিখে (১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ) ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচাইর গ্রাম। স্থানীয় ধোপাঘাট কৃষিবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যয়নের পরে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন আবদুল জব্বার। পনের বছরে নিজ খেয়ালে সবার অজান্তে গৃহত্যাগ করেন। নারায়ণগঞ্জে এসে সেখানে জাহাজ ঘাটে এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন। সাহেব তাঁকে একটি চাকরি দিয়ে বার্মায় (বর্তমানঃ মায়ানমার) পাঠান। সেখানে দশ-বারো বছর অবস্থান করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আবদুল জব্বারের পিতার নাম হাসান আলী এবং মায়ের নাম সাফাতুন নেছা। তাঁর অন্য ভাইদের নাম হচ্ছে - আবদুল কাদের ও এ,এইচ,এম আসাদ (নয়ন)। বার্মা থেকে দেশে ফিরে এসে আমেনা খাতুন নামে এক যুবতীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। আমেনা-জব্বার দম্পতির নূরুল ইসলাম বাদল নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীকালে জব্বারের মৃত্যুর পর আমেনা খাতুনকে বিয়ে করেন তার সহোদর আবদুল কাদের। আমেনা-কাদের দম্পতির রফিকুল্লাহ্, আতিকুল্লাহ্ ও রাশেদা খাতুন নামে তিন সন্তান রয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে হৃদরোগজনিত কারণে বিনা চিকিৎসায় মারা যান আমেনা খাতুন।[১]

ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

আজিমপুর কবরস্থানে আবদুল জব্বারের কবরে নামফলক

আবদুল জব্বারের পুত্র জন্ম হওয়ার কিছুকাল পরে তার শাশুড়ি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। শাশুড়িকে নিয়ে ১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় আসেন। হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে আবদুল জব্বার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্র ব্যারাক) গফরগাঁও নিবাসী হুরমত আলীর রুমে (২০/৮) উঠেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে, কি হয়েছে দেখবার জন্য তিনি রুম থেকে বের হয়ে আসেন। তখনই পুলিশ গুলি শুরু করে এবং জব্বার আহত হন। ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জব্বারকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে যারা হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের মধ্যে ছিলেন ২০/৯ নম্বর কক্ষের সিরাজুল হক।[২]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

মহান ভাষা আন্দোলনে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় আবদুল জব্বারকে বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করেন।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বিডিরিপোর্ট২৪ ডটকমের প্রতিবেদনঃ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের স্ত্রীর ইন্তেকাল
  2. একুশের ইতিহাস আমাদের ইতিহাস - আহমদ রফিক; পৃষ্ঠা: ৩৯-৪০

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]