ইন্দিরা গান্ধী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইন্দিরা গান্ধী
इन्दिरा गाँधी
ইন্দিরা গান্ধী
ইন্দিরা গান্ধী
৩য় ভারতের প্রধানমন্ত্রী
অফিসে
১৪ জানুয়ারি ১৯৮০ – ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪
রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি
জৈল সিং
পূর্বসূরী চৌধুরী চরণ সিং
উত্তরসূরী রাজীব গান্ধী
অফিসে
২৪ জানুয়ারি ১৯৬৬ – ২৪ মার্চ ১৯৭৭
রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ
জাকির হুসেইন
বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি
ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ
ডেপুটি মোরারজি দেসাই
পূর্বসূরী Gulzarilal Nanda (ভারপ্রাপ্ত)
উত্তরসূরী মোরারজি দেসাই
Minister of External Affairs
অফিসে
৯ মার্চ ১৯৮৪ – ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪
পূর্বসূরী পি. ভি. নরসিমা রাও
উত্তরসূরী রাজীব গান্ধী
অফিসে
২২ আগস্ট ১৯৬৭ – ১৪ মার্চ ১৯৬৯
পূর্বসূরী M. C. Chagla
উত্তরসূরী Dinesh Singh
Minister of Defence
অফিসে
১৪ জানুয়ারি ১৯৮০ – ১৫ জানুয়ারি ১৯৮২
পূর্বসূরী Chidambaram Subramaniam
উত্তরসূরী আর. ভেঙ্কটরমন
অফিসে
৩০ নভেম্বর ১৯৭৫ – ২০ ডিসেম্বর ১৯৭৫
পূর্বসূরী Swaran Singh
উত্তরসূরী Bansi Lal
Minister of Home Affairs
অফিসে
২৭ জুন ১৯৭০ – ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩
পূর্বসূরী Yashwantrao Chavan
উত্তরসূরী Uma Shankar Dikshit
Minister of Finance
অফিসে
১৬ জুলাই ১৯৬৯ – ২৭ জুন ১৯৭০
পূর্বসূরী মোরারজি দেসাই
উত্তরসূরী Yashwantrao Chavan
Minister of Information and Broadcasting
অফিসে
৯ জুন ১৯৬৪ – ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৬
প্রধানমন্ত্রী Lal Bahadur Shastri
পূর্বসূরী Satya Narayan Sinha
উত্তরসূরী Kodardas Kalidas Shah
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম Indira Priyadarshini Nehru
(১৯১৭-১১-১৯)১৯ নভেম্বর ১৯১৭
এলাহাবাদ, United Provinces, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪(১৯৮৪-১০-৩১) (৬৬ বছর)
New Delhi, India
রাজনৈতিক দল Indian National Congress
দাম্পত্য সঙ্গী Feroze Gandhi
সম্পর্ক See Nehru–Gandhi family
সন্তান Rajiv
Sanjay
মাতাপিতা জওহরলাল নেহ্‌রু
Kamala Nehru
প্রাক্তন ছাত্র বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (dropout)
Somerville College, Oxford (dropout)
ধর্ম হিন্দুধর্ম
পুরস্কারসমূহ Bharat Ratna Ribbon.svg ভারতরত্ন (১৯৭১)
স্বাক্ষর

ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী (হিন্দি: इंदिरा प्रियदर्शिनी गांधी ইন্‌দিরা প্রিয়াদার্‌শিনি গান্‌ধি, নভেম্বর ১৯, ১৯১৭ - অক্টোবর ৩১, ১৯৮৪) ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারতের প্রথম ও আজ পর্যন্ত একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী। প্রভাবশালী নেহেরু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করায়, তিনি এক রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বেড়ে উঠেন। তার দাদা মতিলাল নেহেরু একজন প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা ছিলেন। তার পিতা জওহরলাল নেহেরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তার ছেলে রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪১ সালে অক্সফোর্ড থেকে ফিরে এসে ইন্দিরা গান্ধী পিতার সাথে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সাল থেকে অপেশাগত ভাবে জওহরলাল নেহেরুর অফিস সহকারীর কাজ করে আসছিলেন। ১৯৬৪ সালের জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যুর পর ভারতের রাষ্ট্রপতি তাকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। তখন ইন্দিরা লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভায় তথ্য ও প্রচার মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর হঠাৎ মৃত্যুর পর ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি কে কামারাজের এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা ছিল।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

তিনি তার শক্তির পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশের সাহস প্রথম জীবনেই সঞ্চয় করেছিলেন৷ তিনি নভেম্বর মাসে এলাহবাদে জন্মগ্রহণ করেন। নেহেরু পরিবার সবসময়ই জড়িত ছিল রাজনীতিতে৷ যার কারণে ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েন ইন্দিরা গান্ধী৷ ভারতবর্ষ তখনো ব্রিটিশদের দখলে৷ ব্রিটিশদের ভারত দখলের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি৷ ইন্দিরার বয়স যখন মাত্র চার তখনই তাঁর বাবা এবং তাঁর দাদা কারাবন্দি হন৷ কারণ তারা ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী৷ ইন্দিরা গুটিয়ে যান নিজের মধ্যে৷ একা থাকতেন, বেশির ভাগ সময়ই একা কাটাতেন৷ বলা প্রয়োজন, মহাত্মা গান্ধী ইন্দিরার রাজনৈতিক জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিলেন৷ ১৯৩৬ সালে ইন্দিরার মা কমলা নেহেরু পরলোক গমন করেন৷ ইন্দিরা হয়ে পড়েন ভীষণভাবে একা৷ ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করার সময়ই ইন্দিরার পরিচয় হয় ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে৷ ১৯৩৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন৷ ১৯৪২ সালে তিনি বিয়ে করেন সাংবাদিক ফিরোজ গান্ধীকে৷ বিয়ের কিছুদিন পরই তাঁরা কারাবন্দী হন৷ এলাহবাদের নৈনি কারাগারে তাঁরা ৮ মাস বন্দী থাকেন৷ ইন্দিরা গান্ধী দুটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।তারা হলেন সঞ্জয় এবং রাজীব৷

কংগ্রেস সভাপতি[সম্পাদনা]

১৯৩৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন৷

ভারতের প্রধানমন্ত্রী[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে ব্রিটিশ শাসন থেকে৷ সে বছরই ইন্দিরার বাবা জওহরলাল নেহেরু স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন৷ তখন থেকেই ইন্দিরা প্রায় ছায়ার মত বাবার পাশে পাশে থাকতেন৷

১৯৫৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন৷

১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পর ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বচিত হন৷ ১৯৭১ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়ে ইন্দিরা গান্ধী দ্বিতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন৷ একটানা ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইন্দিরা গান্ধী৷ ১৯৭৫ সালে তিনি দেশে শান্তি এবং শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ জরুরি আইন জারী করেন৷ এ জন্য সমালোচিত হন ইন্দিরা গান্ধী৷ এরপর ১৯৮০ সালে চতুর্থবারের মত নির্বাচনে বিজয়ী হন ইন্দিরা গান্ধী, হন প্রধান মন্ত্রী৷ ১৯৮৪ সালের জুন মাসে ইন্দিরা গান্ধীর আদেশে শিখদের পবিত্র ধর্মাশালা স্বর্ণ মন্দিরে ভারতীয় সেনা হানা দেয়৷ তার খেসারত ইন্দিরা গান্ধী দেন সে বছরই ৩১শে অক্টোবর৷ তাঁর নিজের দেহরক্ষীরাই তাঁর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়৷

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর ভারত শাসন করেছেন ইন্দিরা গান্ধী৷ তুখোর রাজনীতিবিদ ইন্দিরা গান্ধী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন ভারতে৷ ২৫ বছর পর ভারত তথা বিশ্বের রাজনৈতিক অঙ্গন স্মরণ করছে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে৷ ইন্দিরা গান্ধীর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আর কোন নারী এখনো আসেননি৷ তবে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন প্রতিভা পাটিল৷ পুত্র সঞ্জয় গান্ধী বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান এবং আরেক পুত্র রাজিব গান্ধী এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারা যান। দুই পুত্র বধু মানেকা গান্ধীসোনিয়া গান্ধী বেঁচে আছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত শৌখিন মানুষ ছিলেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৮৪ সালের জুন মাসে ইন্দিরা গান্ধীর আদেশে শিখদের পবিত্র ধর্মাশালা স্বর্ণ মন্দিরে ভারতীয় সেনা হানা দেয়৷ তার খেসারত ইন্দিরা গান্ধী দেন সে বছরই ৩১শে অক্টোবর৷ তাঁর নিজের দেহরক্ষীরাই তাঁর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়৷

নেহেরু পরিবার, মাঝে মতিলাল নেহেরু তার ডান দিকে ইন্দিরা গান্ধী
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সনের সাথে ইন্দিরা গান্ধী

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]