ভারতীয় জনতা পার্টি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
"বিজেপি" এখানে পুননির্দেশ করা হয়েছে। অন্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন বিজেপি (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
ভারতীয় জনতা পার্টি
भारतीय जनता पार्टी
Bharatiya Janata Party
সংসদীয় সভাপতি নরেন্দ্র মোদী
লোকসভার নেতা নরেন্দ্র মোদী
(প্রধানমন্ত্রী)
রাজ্যসভার নেতা অরুণ জেটলি
সংস্থাপিত ৬ এপ্রিল ১৯৮০ (1980-04-06) (৩৫ বছর আগে)
সদর দপ্তর ১১ অশোক রোড,
নতুন দিল্লি – ১১০০০১
সংবাদপত্র কমল সন্দেশ
ছাত্র শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ
যুব শাখা ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা
মহিলা শাখা বিজেপি মহিলা মোর্চা
কৃষক শাখা বিজেপি কিষান মোর্চা
মতাদর্শ রক্ষণশীলতা
সামাজিক রক্ষণশীলতা
একাত্ম মানবতাবাদ
হিন্দু জাতীয়তাবাদ
হিন্দুত্ব
রাজনৈতিক অবস্থান দক্ষিণপন্থী[১][২][৩]
আন্তর্জাতিক অধিভুক্তি নেই
নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত মর্যাদা জাতীয় দল[৪]
জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)
লোকসভা আসন
২৮০ / ৫৪৫
[৫](বর্তমানে ৫৪২ জন সদস্য + জন অধ্যক্ষ)
রাজ্যসভা আসন
৪৮ / ২৪৫
[৬](বর্তমানে ২৪৪' জন সদস্য)
নির্বাচনী প্রতীক
BJP election symbol.svg
ওয়েবসাইট
www.bjp.org

ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি হল ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান দুটি দলের অন্যতম (অপর দলটি হল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস)। ২০১৪ সালের হিসেব অনুসারে, ভারতের সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলির প্রতিনিধি সংখ্যার দিক থেকে এটি ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। প্রাথমিক সদস্যপদের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। বিজেপি একটি দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল।[৩][৭] হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে এই দলের আদর্শগত ও সংগঠনগত নৈকট্য রয়েছে।

বিজেপির উৎস ১৯৫১ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জনসংঘ দলটি। ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পর জনসংঘ একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে জনতা পার্টি গঠন করে। ১৯৭৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনতা পার্টি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে পরাজিত করে সরকার গঠন করে। ১৯৮০ সালে জনতা পার্টি অবলুপ্ত হলে জনসংঘের প্রাক্তন সদস্যরা বিজেপি গঠন করেন। প্রথম দিকে বিজেপি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি মাত্র দুটি আসনে জয় লাভ করেছিল। কিন্তু রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সময় আবার এই দলের শক্তি বৃদ্ধিপায়। একাধিক রাজ্য নির্বাচনে জয় লাভ এবং জাতীয় স্তরের নির্বাচনে ভাল ফল করার পর অবশেষে ১৯৯৬ সালে বিজেপি সংসদে বৃহত্তম দলে পরিণত হয়। যদিও সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় এই দলের সরকার মাত্র ১৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল।

১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ এক বছরের জন্য অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রীত্বে সরকার গঠন করে। পরবর্তী নির্বাচনে এনডিএ আবার অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বেই সরকার গঠন করেছিল। এই সরকার পূর্ণ সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। এটিই ছিল ভারতের প্রথম পূর্ণ সময়ের অ-কংগ্রেসি সরকার। ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে এনডিএ অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়। এরপর দশ বছর বিজেপি ছিল ভারতের প্রধান বিরোধী দল। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে গুজরাতের দীর্ঘকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি পুনরায় বিপুল ভোটে জয়ী হয়। সেই থেকে নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বে এনডিএ সরকার ভারতে ক্ষমতাসীন রয়েছে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসের হিসেব অনুসারে, ভারতের ১৩টি রাজ্যে এনডিএ-নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে।

বিজেপির ঘোষিত আদর্শ হল ‘একাত্ম মানবতাবাদ’। ১৯৬৫ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায় এই মত প্রচার করেছিলেন। বিজেপি হিন্দুত্বের আদর্শের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে থাকে এবং এই দলের নীতি ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদী অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায়। বিজেপি সামাজিক রক্ষণশীলতার প্রবক্তা এবং এই দলের বিদেশনীতিও জাতীয়াবাদী আদর্শ-কেন্দ্রিক। বিজেপির প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হল জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার বিলোপ, অযোধ্যায় রাম মন্দির গঠন এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তন। যদিও ১৯৯৮-২০০৪ সালের এনডিএ সরকার এই বিতর্কিত ইস্যুগুলি কার্যকর করেনি। বরং বিশ্বায়ন ও সামাজিক কল্যাণের জন্য অর্থনৈতিক বৃদ্ধির স্বার্থে নব্য-উদারপন্থী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছিল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ভারতীয় জনসংঘ (১৯৫১–৭৭)[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ভারতীয় জনসংঘ

বিজেপির উৎস হল ভারতীয় জনসংঘ নামে একটি রাজনৈতিক দল। এই দলটি ‘জনসংঘ’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫১ সালে ভারতের রাজনীতিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রাধান্যের বিরোধিতা করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। হিন্দু জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সহযোগিতায় এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সাধারণভাবে এই দলটি আরএসএস-এর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।[৮] জনসংঘের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ‘হিন্দু’ সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করা। সেই সঙ্গে এই দল অভিযোগ এনেছিল ভারতের তদনীন্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ভারত ও নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের মুসলমানদের তোষণ করছে। জনসংঘ তাদের এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নেহেরুর তোষণনীতির বিরোধিতা করত। সদ্য-গঠিত জনসংঘের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করার জন্য আরএসএস তাদের একাধিক প্রধান প্রচারকদের পাঠিয়েছিল এই দলের কাজে। এঁদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিলেন দীনদয়াল উপাধ্যায়। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসংঘ সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় মাত্র তিনটি আসন জয় করেছিল। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সংসদে এই দলের প্রতিনিধি সংখ্যা ছিল নগন্য।[৯][১০]

জনসংঘের প্রথম প্রধান প্রচার অভিযান শুরু হয়েছিল ১৯৫৩ সালের গোড়ার দিকে। দলের দাবি ছিল জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সম্পূর্ণ ভারভভুক্তি।[১১] ১৯৫৩ সালের মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাশ্মীরে প্রবেশ করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গ্রেফতার হন। পরের মাসে কারাগারেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে।[১১] শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্থলে দলের সাধারণ সম্পাদক হন মৌলীচন্দ্র শর্মা। যদিও আরএসএস-এর চাপে তাঁকে সরে যেতে হয়। দীনদয়াল উপাধ্যায় দলের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনিই দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন ছিলেন। তিনিই আরএসএস-এর ছত্রছায়ায় দলের তৃণমূল স্তরের সংগঠন গড়ে তোলেন। জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়ে দল প্রচারকাজের দিকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করে। দীনদয়াল উপাধ্যায় ছিলেন একাত্ম মানবতাবাদ আদর্শের প্রবক্তা। এটিই দলের আনুষ্ঠানিক মতাদর্শ ছিল।[১২] এই সময় অটলবিহারী বাজপেয়ীলালকৃষ্ণ আডবাণী দলের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের পর অটলবিহারী বাজপেয়ী দলের সভাপতি হন। এই সময়ের দলের প্রধান দাবিগুলি ছিল ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তন, গোহত্যা নিষিদ্ধকরণ, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ।[১৩]

১৯৬৭ সালের দেশে বিধানসভা নির্বাচনগুলির পর স্বতন্ত্র পার্টি ও বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দলগুলির সঙ্গে জনসংঘ জোট বাঁধে। এই সময় এই জোট মধ্যপ্রদেশ, বিহারউত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি হিন্দিবলয়ের রাজ্যগুলিতে সরকার গঠন করে। সেই প্রথম জনসংঘ সরকারে আসে। যদিও সেই সরকারগুলি ছিল জোট সরকার। তবু সরকারে আসার ফলে দল আরও বিপ্লবাত্মক এজেন্ডা গ্রণ করতে শুরু করে।[১৪]

জনতা পার্টি (১৯৭৭–৮০)[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: জনতা পার্টি

১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতে জরুরি অবস্থা জারি করেন। জনসংঘ জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে। এই সময় অন্যান্য দলের প্রতিবাদীদের সঙ্গে জনসংঘেরও কয়েক হাজার কর্মী কারারুদ্ধ হয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয় এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সোশ্যালিস্ট পার্টি, কংগ্রেস (ও)ভারতীয় লোক দল সহ কয়েকটি দলের সঙ্গে একত্রিত হয়ে জনসংঘ জনতা পার্টি গঠন করে। এই দলের প্রধান এজেন্ডা ছিল ইন্দিরা গান্ধীকে ক্ষমতাচ্যুত করা।[১০]

১৯৭৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনতা পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে মোরারজি দেশাইয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে সরকার গঠন করে। জনতা পার্টির সংসদীয় দলে পূর্বতন জনসংঘের সদস্যদের সংখ্যাই বেশি ছিল। উক্ত দল থেকে ৯৩ জন সদস্য লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। যা জনতা পার্টির মোট সদস্যের ৩১% ছিল। পূর্বতন জনসংঘের নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী এই সরকারে বিদেশ মন্ত্রী হয়েছিলেন।[১৫]

পূর্বতন জনসংঘের জাতীয় নেতৃবৃন্দ সচেতনভাবেই জনসংঘের রাজনৈতিক পরিচয় পরিত্যাগ করে জনতা পার্টির রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়েছিলেন। জনতা পার্টির আদর্শ ছিল গান্ধীবাদী ও হিন্দু ঐতিহ্যবাদী আদর্শ। ক্রিস্টোফ জ্যাফরেলটের মতে, এটি একটি অসম্ভব একত্রীকরণ প্রমাণিত হয়।[১৬] জনসংঘের রাজ্য ও স্থানীয় স্তরের নেতৃবৃন্দ আপেক্ষিকভাবে অপরিবর্তিত থেকে যান। এঁরা আরএসএসের সঙ্গে তাঁদের দৃঢ় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেননি। আরএসএসও জনতা পার্টির মধ্য-দক্ষিণপন্থার সঙ্গে নিজেকে খাপ খায়নি।[১৭] জনতা পার্টির শাসনকালে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ১৯৭৮-৭৯ সালে আলিগড় ও জামশেদপুরের দাঙ্গায় পূর্বতন জনসংঘের সদস্যরা জড়িয়ে পড়েছিলেন। জনতা পার্টির অন্য প্রধান শাখাগুলি দাবি করতে থাকে জনসংঘ আরএসএসের সংশ্রব ত্যাগ করুক। কিন্তু জনসংঘ তা করতে অস্বীকার করে। এরপর জনতা পার্টির একাংশ দলত্যাগ করে জনতা পার্টি (সেক্যুলার) গঠন করে। মোরারজি দেশাই সরকার সংসদে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। ফলে মোরারজি দেশাই পদত্যাগ করেন। এরপর কিছুকাল জোট সরকারের শাসনের পর ১৯৮০ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জনতা পার্টি খুবই খারাপ ফল করে। এই নির্বাচনে জনতা পার্টি ৩১টি আসন জয় করেছিল। ১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসে নির্বাচনের কিছুদিন পরেই জনতা পার্টির জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ দলের সেই সব সদস্যদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যাঁরা দল ও আরএসএসের দ্বৈত সদস্যপদ রক্ষা করছিলেন। এরপরই পূর্বতন জনসংঘের সদস্যরা ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ নামে নতুন একটি দল গঠন করেন।[১৮][১৫]

বিজেপি (১৯৮০–বর্তমান)[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠা ও প্রথম যুগ[সম্পাদনা]

নবগঠিত বিজেপি কার্যত জনসংঘের থেকে আলাদা দল হলেও, বিজেপির অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন পূর্বতন জনসংঘের সদস্য। এমনকি জনসংঘের সদস্য অটলবিহারী বাজপেয়ী বিজেপির প্রথম সভাপতি হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহা লিখেছেন, ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকটিতে ভারতে অনেকগুলি হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছিল। বিজেপি গোড়ার দিকে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য জনসংঘের হিন্দু জাতীয়তাবাদী অবস্থান সম্পর্কে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে এবং জনতা পার্টি ও গান্ধীবাদী সমাজতন্ত্রের সঙ্গে এই দলের যোগসূত্রটির দিকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করে।[১] এই পদ্ধতিটি সফল হয়নি। ১৯৮৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি লোকসভায় মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল।[১] এই নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সংঘটিত ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বিরাট জনসমর্থন লাভে সক্ষম হয়। ফলে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা কমে যায় এবং কংগ্রেস ৪০৩টি আসনে জয়লাভ করে।[১৯]

প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব
অটলবিহারী বাজপেয়ী, প্রথম বিজেপি প্রধানমন্ত্রী (১৯৯৮-২০০৪)
লালকৃষ্ণ আডবাণী, বাজপেয়ী মন্ত্রিসভায় উপপ্রধানমন্ত্রী ও রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম স্থপতি

বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও হিন্দুত্ব আন্দোলন[সম্পাদনা]

অটলবিহারী বাজপেয়ীর মধ্যপন্থী নীতি ব্যর্থ হওয়ার পর বিজেপি আবার কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী অবস্থানে ফিরে আসে।[২০][২১] ১৯৮৪ সালে লালকৃষ্ণ আডবাণী দলের সভাপতি হন। তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি রাম জন্মভূমি আন্দোলনের রাজনৈতিক মুখপাত্রে পরিণত হয়। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ চত্বরে হিন্দু দেবতা রামের মন্দির নির্মাণের জন্য আন্দোলন শুরু করে। ১৫২৭ সালে মুঘল সম্রাট বাবর উক্ত মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। কোনো কোনো মতে, এই মসজিদ গঠনের আগে ওই স্থানে একটি মন্দিরের অস্তিত্ব ছিল। যদিও এই মতটি বিতর্কিত।[২২] আদোলনকারীদের বক্তব্য ছিল, বাবরি মসজিদ চত্বরটি আসলে রামের জন্মস্থান। একটি মন্দির ধ্বংস করেই বাবরি মসজিদ গঠিত হয়েছে।[২৩] বিজেপি এই আন্দোলনকে সমর্থন করে এবং এই আন্দোলনকে তাদের নির্বাচনের ইস্যু করে। ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৮৯টি আসন লাভ করে। এই নির্বাচনের পর গঠিত বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে গঠিত জাতীয় ফ্রন্ট সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহকারী দল হয় বিজেপি।[২৪]

১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লালকৃষ্ণ আডবাণী রাম মন্দির আন্দোলনের সমর্থনে অযোধ্যার দিকে ‘রথযাত্রা’ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। রামচন্দ্র গুহর মতে, এই রথযাত্রা কর্মসূচির বৈশিষ্ট্য ছিল ‘ধর্মীয়, পরোক্ষ, উগ্র, পৌরুষদীপ্ত ও মুসলিম-বিরোধী’। এই কর্মসূচি চলাকালীন একটি বক্তৃতায় লালকৃষ্ণ আডবাণী বলেন, সরকার মুসলিম-তোষণ নীতি গ্রহণ করে ‘ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষতা’র আড়ালে হিন্দুদের আইনসম্মত অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করছে।[২৫] তিনি কর্মসূচির সমর্থনে বলেন, এটি সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত চলা একটি স্বতঃস্ফুর্ত কর্মসূচি এবং এর পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনাগুলির দায় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমগুলির।[২৬] বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব লালকৃষ্ণ আডবাণীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যদিও বহুসংখ্যক করসেবক অযোধ্যায় জড়ো হন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদব দেড় লক্ষ করসেবককে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন। কিন্তু করসেবকদের একটি অংশ অযোধ্যায় ঢুকে পড়ে এবং মসজিদটি আক্রমণ করে। তিন দিন ধরে আধা-সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কিছু করসেবকের মৃত্যু ঘটে এবং এই মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ভিএচপি উত্তরপ্রদেশ জুড়ে মুসলমানেদের আক্রমণ করে।[২৭] বিজেপি বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়। এর ফলে দেশে পুনরায় নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা বেড়ে হয় ১২০ এবং উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।[২৮]

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর আরএসএস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলি এক লক্ষেরও বেশি ভিএইচপি ও বিজেপি কর্মীকে বাবরি মসজিদ চত্বরে জড়ো করে।[২৮] এই সমায়েতে কি পরিস্থিতি উদ্ভুত হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। কিন্তু সমবেত জনতা উন্মত্তের মতো মসজিদটিকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়[২৮] এর পরের সপ্তাহগুলিতে সারা দেশে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা বাধে এবং সেই দাঙ্গায় দু হাজারেরও বেশি লোক নিহত হন।[২৮] সরকার ভিএইচপি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। লালকৃষ্ণ আডবাণী সহ বেশ কিছু বিজেপি নেতা গ্রেফতার হন দাঙ্গায় প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দেওয়ার জন্য।[২৯][৩০] অনেক ঐতিহাসিকের মতে, বাবরি মসজিদ ধ্বংস কোনো স্বতঃস্ফুর্ত ঘটনা নয়; এটি সংঘ পরিবারের ষড়যন্ত্রের ফসল।[২৮]

বিচারপতি মনমোহন সিং লিবারহানের নেতৃত্বাধীন লিবারহান কমিশন রিপোর্টে (২০০৯) বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য ৬৮ জন ব্যক্তিকে দায়ী করে। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বিজেপি নেতা।[৩০] এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর যোশী। রিপোর্টে উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংয়েরও সমালোচনা করা হয়।[৩০] রিপোর্টে বলা হয়, কল্যাণ সিং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় এমন কিছু সরকারি আধিকারিক ও পুলিশ আধিকারিককে নিযুক্ত করেছিলেন, যাঁরা মসজিদ ধ্বংসের সময় কোনো ব্যবস্থাই নেননি।[৩০] লালকৃষ্ণ আডবাণীর নিরাপত্তায় নিযুক্ত ভারতীয় পুলিশ কৃত্যক আধিকারিক অঞ্জু গুপ্ত কমিশনের প্রধান সাক্ষ্য হয়েছিলেন। তিনি বলেন, লালকৃষ্ণ আডবাণী ও মুরলী মনোহর যোশী প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দিয়ে জনতাকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছিলেন।[৩১]

সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে ইস্যু করে বিজেপি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে লোকসভায় ১৬১টি আসন জিতে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।[৩২] অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। কিন্তু লোকসভায় আস্থা ভোটে জয় লাভ করতে না পেরে ১৩ দিনের মধ্যে সরকারের পতন হয়।[৩২]

এনডিএ সরকার (১৯৯৮–২০০৪)[সম্পাদনা]

২০০৭ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। অটলবিহারী বাজপেয়ীর শাসনকালে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পুনরায় শক্তিশালী হয়। এই সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল।[৩৩]

১৯৯৬ সালে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের একটি জোট সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু এই জোট ছিল ক্ষণস্থায়ী। তাই ১৯৯৮ সালে অন্তর্বর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি একটি জোটের নেতৃত্ব দেয়। এই জোটটির নাম জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ। এই জোটের অন্যান্য দলগুলি ছিল সমতা পার্টি, শিরোমণি অকালি দলশিবসেনা। এই দলগুলি এখনও এনডিএ-র সদস্য। এছাড়া এই জোটের অন্তর্ভুক্ত হয় অল ইন্ডিয়া দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কড়গম (এআইএডিএমকে) ও বিজু জনতা দল। এই সব দলের মধ্যে একমাত্র শিবসেনার রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে বিজেপির আদর্শের মিল আছে। অমর্ত্য সেন তাই এই জোটকে বলেছিলেন ‘তদর্থক’ জোট।[৩৪][৩৫] তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এই জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন করে। এর ফলে এনডিএ জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হন।[৩৬] কিন্তু ১৯৯৯ সালে এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতা জোটের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে সরকারের পতন ঘটে এবং পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।[৩৭]

১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর এআইএডিএমকে-র সমর্থন ছাড়াই এনডিএ জোট সংসদে ৩০৩টি আসন লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জোটে বিজেপির একক সাংসদ সংখ্যা ছিল ১৮৩। অটলবিহারী বাজপেয়ী তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন। লালকৃষ্ণ আডবাণী হন উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই এনডিএ সরকারটি ছিল পাঁচ বছরের পূর্ণ দৈর্ঘ্যের সরকার। এনডিএ জোট সরকার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নব্য-উদারপন্থা গ্রহণ করে।[৩৮]

২০০১ সালে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি বঙ্গারু লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে ১০০,০০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়।[৩৯] ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য হ্যান্ড-হেল্ড থার্মাল ইমেজার কেনার সুপারিশ-সংক্রান্ত একটি বিষয়ে তিনি ঘুষ নিচ্ছিলেন। তেহেলকা সাংবাদিকরা একটি স্টিং অপারেশন চালিয়ে তাঁকে ধরেন।[৪০][৪১] বিজেপি বাধ্য হয়ে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন এবং পরবর্তীকালে তাঁর বিচার হয়। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর চার বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু ১০১৪ সালের ১ মার্চ তিনি মারা যান।[৪২]

২০০২ গুজরাত দাঙ্গা[সম্পাদনা]

২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরা শহরের বাইরে হিন্দু তীর্থযাত্রীবাহী একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। এই অগ্নিকাণ্ডে ৫৯ জনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনাটিকে হিন্দুদের উপর আক্রমণ ধরে নিয়ে গুজরাত রাজ্যে মুসলমান-বিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই দাঙ্গা চলে।[৪৩] এই দাঙ্গায় ২০০০ জন মারা যান এবং ১৫০,০০০ জন গৃহচ্যুত হন।[৪৪] ধর্ষণ, অঙ্গচ্ছেদ ও অত্যাচারের ঘটনাও ঘটতে থাকে।[৪৪][৪৫] গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দাঙ্গাকারীদের পরিচালনা করার এবং তাদের হাতে মুসলমান-অধিকৃত সম্পত্তির তালিকা তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।[৪৬] ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গুজরাতের দাঙ্গার ঘটনাগুলির দ্রুত তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে। ২০১২ সালে সিট দাঙ্গার অভিযোগ থেকে নরেন্দ্র মোদীকে অব্যহতি দেয়। বিজেপি বিধায়ক তথা নরেন্দ্র মোদীর গুজরাত মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট সদস্য মায়া কোডনানিকে একটি দাঙ্গায় প্রত্যক্ষভাবে মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তাঁর ২৮ বছরের কারাদণ্ড হয়।[৪৭][৪৮] পল ব্রাস, মার্থা নাসবমদীপঙ্কর গুপ্ত প্রমুখ গবেষকরা বলেছেন, এই দাঙ্গার পিছনে সরকারের যথেষ্ট হাত ছিল।[৪৯][৫০][৫১]

সাধারণ নির্বাচনে পরাজয়[সম্পাদনা]

২০০৪ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেন। এই নির্বাচনে এনডিএ-র প্রচার অভিযানের ভিত্তি ছিল ‘ইন্ডিয়া শাইনিং’ শ্লোগানটি। এই শ্লোগানটির মাধ্যমে বিজেপি দাবি করে দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক রূপান্তরের কৃতিত্ব বাজপেয়ী সরকারের।[৫২] কিন্তু এই নির্বাচনে এনডিএ অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়। এনডিএ এই নির্বাচনে ১৮৬টি আসন লাভ করে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি পায় ২২২টি আসন। মনমোহন সিং সংযুক্ত প্রগতিশীল জোটের নেতা হিসেবে অটলবিহারী বাজপেয়ীর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। এনডিএ-র পরাজয়ের কারণ ছিল গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারা। বিজেপির বিবাদ-সৃষ্টিকারী নীতিগুলিও এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল।[৫২][৫৩]

২০০৮ সালের মে মাসে বিজেপি কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে। এটিই ছিল দক্ষিণ ভারতের কোনো রাজ্যে বিজেপির প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ। ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির লোকসভার আসন সংখ্যা কমে হয় ১১৬। ২০১৩ সালে কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি পরাজিত হয়।[৫৪]

সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ, ২০১৪[সম্পাদনা]

২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি ২৮২টি আসন লাভ করে এবং লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে এনডিএ ৩৩৬টি আসন পায়।[৫৫] ২০১৪ সালের ২৬ মে বিজেপির সংসদীয় দলের নেতা নরেন্দ্র মোদী ভারতের ১৫শ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।[৫৬][৫৭]

মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৩১%; যা বিজেপির বিজিত আসনের সংখ্যার তুলনায় আপেক্ষিকভাবে কম।[৫৮] ১৯৮৪ সালের পর এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল একক ক্ষমতায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে[৫৯] এবং প্রথম বার লোকসভায় একক শক্তিতে সরকার গঠন করে। বিজেপির জনসমর্থনের ভিত্তি ছিল হিন্দি-ভাষী উত্তর-মধ্য ভারত।[৫৮] বিজেপির জয়ের বিশালতা অধিকাংশ মতামত বা বুথ-ফেরত সমীক্ষার মাধ্যমেও অনুমান করা যায়নি।[৫৮]

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিজেপির জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা এবং আগের মেয়াদে কংগ্রেসের দুর্নীতির ইস্যুগুলিকে।[৬০] বিজেপি দলের চিরকালীন উচ্চবর্ণ ও উচ্চবিত্ত সমর্থনের ভিত্তিটিকে ধরে রেখে মধ্যবিত্ত, দলিত ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষদের সমর্থন পেতে সমর্থ হয়েছিল।[৬১][৫৮] মুসলমানেদের মধ্যে বিজেপির সমর্থনের হার কম। মুসলমান ভোটারদের মাত্র ৮% বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন।[৬১][৫৮] ভোটারদের সংগঠিত করতে এবং তাদের মধ্যে থেকে ভোটার টার্ন-আউট বাড়াতেও বিজেপি সমর্থ হয়েছিল।[৫৮]

সাধারণ নির্বাচনে ফলাফল[সম্পাদনা]

১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৪ সালের সাধারণ নির্বাচনটি ছিল প্রথম নির্বাচন যাতে বিজেপি অংশ নেয়। এই নির্বাচনে বিজেপি লোকসভায় মাত্র দুটি আসনে জয়লাভ করেছিল। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি প্রথম লোকসভায় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু এই নির্বাচনের পর বিজেপি যে সরকার গঠন করেছিল, তা ছিল স্বল্প মেয়াদের সরকার।[৩২] ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের সাধারণ নির্বাচনেও বিজেপি লোকসভায় বৃহত্তম দল হিসেবে জয় লাভ করেছিল এবং দুই নির্বাচনের পরই বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট ভারতে সরকার গঠন করেছিল।[৩৮] ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি একক দল হিসেবে লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৯১ সালের পর থেকে বিজেপি ক্ষমতায় না থাকলে একজন বিজেপি নেতা সর্বদায় বিরোধী দলনেতার পদে আসীন ছিলেন।[৬২]

বছর সাধারণ নির্বাচন বিজিত আসন আসন সংখ্যার পরিবর্তন প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ হার প্রাপ্ত ভোটের পরিবর্তন হার তথ্যসূত্র
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৮৪ ৮ম লোকসভা বৃদ্ধি ৭.৭৪  – [৬৩]
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৮৯ ৯ম লোকসভা ৮৫ বৃদ্ধি ৮৩ ১১.৩৬ বৃদ্ধি ৩.৬২ [৬৪]
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৯১ ১০ম লোকসভা ১২০ বৃদ্ধি ৩৫ ২০.১১ বৃদ্ধি ৮.৭৫ [৬৫]
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৯৬ ১১শ লোকসভা ১৬১ বৃদ্ধি ৪১ ২০.২৯ বৃদ্ধি ০.১৮ [৬৬]
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৯৮ ১২শ লোকসভা ১৮২ বৃদ্ধি ২১ ২৫.৫৯ বৃদ্ধি ৫.৩০ [৬৭]
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৯৯ ১৩শ লোকসভা ১৮২ বৃদ্ধি ২৩.৭৫ হ্রাস ১.৮৪ [৬৮]
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০০৪ ১৪শ লোকসভা ১৩৮ হ্রাস ৪৪ ২২.১৬ হ্রাস ১.৬৯ [৬৯]
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০০৯ ১৫শ লোকসভা ১১৬ হ্রাস ২২ ১৮.৮০ হ্রাস ৩.৩৬ [৭০]
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০১৪ ১৬শ লোকসভা ২৮২ বৃদ্ধি ১১৬ ৩১.০০ বৃদ্ধি১২.২ [৭১]

আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান[সম্পাদনা]

সামাজিক নীতি ও হিন্দুত্ব[সম্পাদনা]

বিজেপির আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দর্শন হল একাত্ম মানবতাবাদ। ১৯৬৫ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রথম এই মতবাদ প্রচার করেছিলেন। দীনদয়াল উপাধ্যায় এই দর্শনকে ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, এটি ‘এমন এক স্বদেশি অর্থনৈতিক মডেলের পক্ষপাতী যা মানুষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে।’[৭২][৭৩] এই মতবাদ ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকর প্রচারিত হিন্দুত্ব মতবাদের অনুগামী। দলের মতে হিন্দুত্ব হল পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এমন এক সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ যা ভারতীয় সংস্কৃতির পক্ষপাতী এবং ধর্মনির্বিশেষে সকল ভারতীয়কে এক ছাতার তলায় আনতে সক্ষম।[১] যদিও গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দুত্ব আদর্শের উদ্দেশ্য ছিল অন্য ধর্মগুলিকে বাদ দিয়ে ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং সেই অর্থে বিজেপিও একটি হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল।[২৮][১][৭৪][৭৫] ১৯৯৮ সালে এনডিএ সরকার গঠনের পর বিজেপি এই বিষয়ে কিছুটা মধ্যপন্থা গ্রহণ করে। কারণ জোটে অন্যান্য যেসব দল ছিল তাদের আদর্শ কিছুটা ভিন্ন ধরনের ছিল।[২৮][৩৮]

বিজেপির হিন্দুত্ব আদর্শের প্রতিফলন ঘটেছে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতিতে। বিজেপি বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষপাতী।[৭৪] ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে এটিই ছিল বিজেপির প্রধান ইস্যু।[৭৪] যদিও ১৯৯২ সালে বিজেপির একটি মিছিল চলাকালীন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বিজেপির জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পায়। এর পর মন্দির নির্মাণের গুরুত্ব বিজেপির এজেন্ডায় হ্রাস পায়।[৭৪] এনডিএ সরকারে শিক্ষানীতিতে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এনসিইআরটি) সংস্কার ওভারতীয় স্কুলগুলির পাঠ্যপুস্তক সংস্কার গুরুত্ব পেয়েছে।[৭৬] বিভিন্ন গবেষক এই সংস্কারকে, বিশেষত ইতিহাস পাঠ্যপুস্তক সংস্কারকে ভারতীয় ইতিহাসের ‘গৈরিকীকরণ’ আখ্যা দিয়েছেন।[৭৬][৭৭][৭৮][৭৯] বিভিন্ন অগ্রণী বিজ্ঞানীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও এনফিএ সরকার বৈদিক জ্যোতিষকে কলেজ পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করেছিল।[৮০]

বিজেপি কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে ‘ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষতা’ আখ্যা দিয়ে ‘ইতিবাচক ধর্মনিরপেক্ষতা’র কথা প্রচার করে।[৭৪] অটলবিহারী বাজপেয়ী মহাত্মা গান্ধীর ‘সর্বধর্ম-সম্ভব’ আদর্শটিকে ইউরোপীয় ধর্মনিরপেক্ষতার বিপরীতে স্থাপন করেছেন।[৮১] অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতে ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল ধর্মকে সমান মর্যাদা দান। অন্যদিকে ইউরোপীয় ধর্মনিরপেক্ষতা হল ধর্মহীনতা। সেই কারণে ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতাকে তিনি ‘ইতিবাচক’ বলেছেন।[৮২] বিজেপি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সমর্থক। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বলতে বোঝায়, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা আলাদা দেওয়ানি আইনের বদলে ধর্মনির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য একই আইন। ঐতিহাসিক যোগেন্দ্র মালিকের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংখ্যালঘু মুসলমানেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষাকারী ভিন্ন আইনব্যবস্থার পরিপন্থী।[১][৭৪] বিজেপি ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পক্ষপাতী। উক্ত ধারা অনুসারে, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটিকে উক্ত রাজ্যের ভারতভুক্তির সময় অধিকতর স্বশাসন দেওয়া হয়েছিল।[১]

বিজেপি বাংলাদেশ থেকে ভারতে বেআইনি অনুপ্রবেশের বিরোধী।[৭৫] বিজেপির মতে মূলত অসমপশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এই ধরনের বেআইনি অনুপ্রবেশ দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও স্থায়িত্বের প্রতি ক্ষতিকারক।[৭৫] গবেষকেরা দেখিয়েছেন, বিজেপি বাংলাদেশ থেকে হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের শরণার্থী এবং মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের ‘বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দেয়।[৭৫] গবেষক মাইকেল গিলানের মতে, এর মাধ্যমে বিজেপি যে সব অঞ্চলে দল ঐতিহাসিকভাবে সফল নয়, সেই সব অঞ্চলে হিন্দু আবেগকে কাজে লাগাতে চায়।[৭৫][৮৩]

২০১৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় দণ্ডবিধির বিতর্কিত ৩৭৭ ধারাটিকে প্রত্যাহারের কথা বলে। এই ধারা মতে, অন্যান্য কয়েকটি বিষয়ের সঙ্গে সমকামিতাকে অপরাধী-তালিকাযুক্ত করা হয়েছিল। মুসলমান ধর্মনেতা সহ কিছু ধর্মগুরু এর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করলেও, ভারতে উক্ত ধারাটি প্রত্যাহারের দাবি জনসাধারণের মধ্যে জোরালো হয়।[৮৪][৮৫] বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং বলেছিলেন, দল ৩৭৭ ধারা বিলোপের বিপক্ষে। কারণ, দল মনে করে সমকামিতা অস্বাভাবিক।[৮৬] যদিও ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের পর বিজেপি তার অবস্থান নরম করে।[৮৭]

অর্থনৈতিক নীতি[সম্পাদনা]

টীকা ও তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ ১.৫ ১.৬ Malik ও Singh 1992, পৃ. 318-336.
  2. BBC 2012.
  3. ৩.০ ৩.১ Banerjee 2005, পৃ. 3118.
  4. Election Commission 2013.
  5. Lok Sabha Official Website.
  6. Rajya Sabha Official Website.
  7. Malik ও Singh 1992, পৃ. 318.
  8. Noorani 1978, পৃ. 216.
  9. Jaffrelot 1996, পৃ. 116-119.
  10. ১০.০ ১০.১ Guha 2007, পৃ. 136.
  11. ১১.০ ১১.১ Guha 2007, পৃ. 250.
  12. Jaffrelot 1996, পৃ. 122-126, 129-130.
  13. Guha 2007, পৃ. 250, 352, 413.
  14. Guha 2007, পৃ. 427–428.
  15. ১৫.০ ১৫.১ Guha 2007, পৃ. 538-540.
  16. Jaffrelot 1996, পৃ. 282-283.
  17. Jaffrelot 1996, পৃ. 292-301, 312.
  18. Jaffrelot 1996, পৃ. 301-312.
  19. Guha 2007, পৃ. 579.
  20. Malik ও Singh 1992, পৃ. 318–336.
  21. Pai 1996, পৃ. 1170–1183.
  22. Jha 2003.
  23. Flint 2005, পৃ. 165.
  24. Guha 2007, পৃ. 582–598.
  25. Guha 2007, পৃ. 635.
  26. Reddy 2008.
  27. Guha 2007, পৃ. 636.
  28. ২৮.০ ২৮.১ ২৮.২ ২৮.৩ ২৮.৪ ২৮.৫ ২৮.৬ Guha 2007, পৃ. 633-659.
  29. NDTV 2012.
  30. ৩০.০ ৩০.১ ৩০.২ ৩০.৩ Al Jazeera 2009.
  31. Venkatesan 2005.
  32. ৩২.০ ৩২.১ ৩২.২ Guha 2007, পৃ. 633.
  33. atimes 2001.
  34. Jones 2013.
  35. Sen 2005, পৃ. 254.
  36. rediff.com 1998.
  37. Outlook 2013.
  38. ৩৮.০ ৩৮.১ ৩৮.২ Sen 2005, পৃ. 251-272.
  39. Outlook 2012.
  40. Kattakayam 2012.
  41. India Today 2001.
  42. Tehelka 2001.
  43. Ghassem-Fachandi 2012, পৃ. 1-31.
  44. ৪৪.০ ৪৪.১ Jaffrelot 2013, পৃ. 16.
  45. Harris 2012.
  46. Krishnan 2012.
  47. Hindustan Times 2014.
  48. NDTV.com 2012.
  49. Brass 2005, পৃ. 385-393.
  50. Gupta 2011, পৃ. 252.
  51. Nussbaum 2008, পৃ. 2.
  52. ৫২.০ ৫২.১ Ramesh 2004.
  53. The Hindu 2004.
  54. Hindustan Times 2009.
  55. Mathew 2014.
  56. Deccan Chronicle 2014.
  57. BBC ও May 2014.
  58. ৫৮.০ ৫৮.১ ৫৮.২ ৫৮.৩ ৫৮.৪ ৫৮.৫ Sridharan 2014.
  59. Times of India 2014.
  60. Diwakar 2014.
  61. ৬১.০ ৬১.১ Varshney 2014.
  62. National Informatics Centre 2014.
  63. Election Commission 1984.
  64. Election Commission 1989.
  65. Election Commission 1991.
  66. Election Commission 1996.
  67. Election Commission 1998.
  68. Election Commission 1999.
  69. Election Commission 2004.
  70. Election Commission 2009.
  71. Election Commission 2014.
  72. Hansen 1999, পৃ. 85.
  73. Swain 2001, পৃ. 71-104.
  74. ৭৪.০ ৭৪.১ ৭৪.২ ৭৪.৩ ৭৪.৪ ৭৪.৫ Seshia 1998, পৃ. 1036-1050.
  75. ৭৫.০ ৭৫.১ ৭৫.২ ৭৫.৩ ৭৫.৪ Gillan 2002, পৃ. 73-95.
  76. ৭৬.০ ৭৬.১ Sen 2005, পৃ. 63.
  77. International Religious Freedom Report 2005.
  78. The Hindu 2002.
  79. Davies 2005.
  80. BBC ও January 2014.
  81. Fitzgerald 2011, পৃ. 67-68.
  82. Vajpayee 2007, পৃ. 318-342.
  83. Ramachandran 2003.
  84. Times of India 2013.
  85. Buncombe 2014.
  86. Ramaseshan 2013.
  87. Business Standard 2014.

সূত্র[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]