বাঙাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাঙাল (ঘটি জনগোষ্ঠীর বিপরীত) একটি জনগোষ্ঠী, যা পূর্ববঙ্গের (বর্তমানে বাংলাদেশ) মানুষদের বোঝায়। এই শব্দটি অখণ্ড বাংলার পূর্ব প্রান্তের বাঙালিদের বর্ণনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যাদের আলাদা স্বতন্ত্র উচ্চারণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সাধারণত এটি ধারণা করা হয় যে ব্রহ্মপুত্র-পদ্মা নদী হল অখণ্ড বাংলার পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চলের মধ্যে সীমানা রেখা। ব্রহ্মপুত্র-পদ্মা নদীর পূর্বের অঞ্চলগুলি ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালদের আদিভূমি হিসাবে ধারণ করা হয়। যদিও কিছু পণ্ডিত দাবি করেছেন যে সিলেট ও চট্টগ্রাম অংশের অঞ্চলগুলিকে বাঙাল অঞ্চল হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়, যথাক্রমে সিলেটি ও চাটগাঁয়ের লোকদের আশ্রয় করে পৃথক অঞ্চল হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। আরও কঠোর সংজ্ঞা অনুসারে, বাঙালরা হলেন সেই লোকেরা যাদের পূর্ব পুরুষরা পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং কুমিল্লার মাটির সাথে যুক্ত। আরও কিছু মতামত রয়েছে যে পূর্ববঙ্গের আদি মানুষদের মধ্যে কেবলমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধশালি গোষ্ঠীর লোকদেরই বাঙাল হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা উচিত। এই মতামত অনুসারে, বাঙাল শব্দের একটি নৃতাত্ত্বিক-ভৌগলিক এবং পাশাপাশি একটি সামাজিক অর্থও রয়েছে।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় পূর্ববঙ্গ থেকে কিছু লোক প্রধানত হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। পশ্চিমবঙ্গের আদি জনগোষ্ঠী এই শরণার্থীদেরই মাঝে মাঝে বাঙাল বলে অভিহিত করত। এই হিসাবে, ঘটি ও বাঙাল শব্দটি পশ্চিমবঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যদিও বাংলাদেশে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত অভিবাসীদের তুলনামূলক বেশি সংখ্যক অঞ্চল ছাড়া এই শব্দের ব্যবহার বিরল। আধুনিক যুগে, উচ্চ বর্ণের বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে, "বাঙাল" এবং "ঘটি" সামাজিক উপ-গোষ্ঠী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। দেশ বিভাগের সময় যাদের পরিবার পূর্ববঙ্গ থেকে এসেছিল তারা হল বাঙাল এবং যাদের পরিবার সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছিলেন তারা হলেন ঘটি। একইভাবে, ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্ববঙ্গে আগত লোকেরা ঘটি নামেও পরিচিত, যেহেতু তারা স্বাধীনতার সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছিল। এখানে ব্যবহৃত শব্দটির প্রকৃত ভূগোলের সাথে খুব কম সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু এই গোষ্ঠীর বেশিরভাগ সদস্যই এখন ভারতে বাস করছেন। ঐতিহাসিকভাবে, তাদের বর্ণের মধ্যে বিবাহ করার পাশাপাশি, এই গোষ্ঠীর লোকেরাও বাঙাল বা ঘটি যাই হোক না কেন, এই গোষ্ঠীর মধ্যেই বিবাহ পছন্দ করত। ইস্টবেঙ্গল (বাঙ্গালদের) এবং মোহনবাগান (ঘটিদের) এই দুটি ফুটবল ক্লাবকে তাদের নিজ নিজ সমর্থনের মাধ্যমে বাঙাল এবং ঘটিরা তাদের সাংস্কৃতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রেখেছে। এছাড়াও তারা স্ব স্ব রান্না এবং বিশেষত নদী-ভিত্তিক স্বাদযুক্ত খাবারের আধিপত্যের দাবির মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও লালন করে। যথাঃ চিংড়ি ঘটিদের জন্য এবং ইলিশ বাঙালদের জন্য।