কুষ্টিয়ার যুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কুষ্টিয়ার যুদ্ধ বলতে সাধারনত দুটি ঘটনাকে নির্দেশ করা হয়ে থাকে। দুটি যুদ্ধই বর্তমানে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে পড়েছে:-

  • ১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল পূর্ব বাংলার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তান বাহিনীর যুদ্ধ। বিস্তারিত রয়েছে টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্টে।[১]
  • কুষ্ঠিয়া এবং আশুগঞ্জ রিপোর্টে।[২]

আমরা পাকিস্তানের সাথে সব যুদ্ধগুলোই জিতেছি,যেখানেই আমরা জিততাম সেখানেই পাকিস্তানি আর্মির অনেক অস্র আমাদের হাতে আসত।একজন মুক্তিযোদ্ধা লিখেছেন " আমাদের ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর ওসমান। তিনি ছিলেন চুয়াডাঙ্গায়। তিনি ক্যাপ্টেন আজম চৌধুরীকে নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন কুষ্টিয়া মুক্ত করতে। কুষ্টিয়া পাকিস্তানি আর্মিদের দখলে। আমার বন্ধু মাহবুব ঝিনাইদহের সংগ্রাম পরিষদের ছেলেদের নিয়ে এক রকম প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এদিকে মেহেরপুর ও আলমডাঙ্গার ছেলেরাও যুক্ত হলো। সবাই মিলে কুষ্টিয়া যুদ্ধে আমরা অংশ নিলাম। পরিকল্পনা করা হলো, হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পাকিস্তানি আর্মিদের আতঙ্কিত করে ফেলা হবে। কারণ, ওদের চেয়ে আমাদের সামরিক শক্তি কম। এই যুদ্ধে পাকিস্তানি আর্মি লেফটেন্যান্ট আতাউল্লাহ ছাড়া আর সবাই নিহত হয়েছিল। পাকিস্তানি আর্মিরা অনেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এখান থেকে পাকিস্তানি আর্মির ৩০টা গাড়িভর্তি অস্ত্র পেলাম।" তিনি আরও লিখেছেন "আমার অধীনে মেহেরপুর ট্রেজারিতে প্রায় ৪ কোটি টাকা ছিল। এ ছাড়া নড়াইল, যশোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আনা হলো। এসব টাকা আমাদের বিভিন্ন ব্যাংকে ছিল। পাকিস্তানি আর্মিরা এগুলো তখনও নিতে পারেনি। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এই টাকা মুজিব নগর সরকারের হাতে তুলে দেব। তিন ট্রাক টাকা হলো। ১ টাকার নোট সব জনগণকে দিয়ে দিলাম। পেট্রাপোলে একটা ঘরে টাকাগুলো রাখলাম। পরে টাকা নিয়ে জমা দিলাম আমাদের সরকারের কাছে। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। একুশ কেজি সোনার গহনাও ছিল।"১৯৭১ এর ১ এপ্রিল কুষ্টিয়া শত্রুমুক্ত হয়েছিল

আরও দেখুন[সম্পাদনা]


  1. PAKISTAN: The Battle of Kushtia
  2. "Fierce battles in Kushtia and Ashuganj"। ১৯ জুন ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১২