বিষয়বস্তুতে চলুন

খুলনা

খুলনা
মহানগরী
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর 'দুর্বার বাংলা স্মৃতিস্তম্ভ
খুলনার বৈকালী এলাকা
নগর কেন্দ্র এলাকা
খুলনা শহর
খুলনা শহরের স্কাইলাইন (দিগন্তরেখা)
খুলনার অফিসিয়াল লোগো
ব্র্যান্ডিং লোগো
ডাকনাম: শিল্পনগরী, সাদা সোনার শহর, সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার,বাঘেদের শহর,বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী,বন্দর নগরী
খুলনা খুলনা বিভাগ-এ অবস্থিত
খুলনা
খুলনা
খুলনা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
খুলনা
খুলনা
বাংলাদেশের খুলনার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৪৯′ উত্তর ৮৯°৩৩′ পূর্ব / ২২.৮১৭° উত্তর ৮৯.৫৫০° পূর্ব / 22.817; 89.550
দেশবাংলাদেশ
প্রশাসনিক জেলাখুলনা জেলা
পৌর পরিষদ সেপ্টেম্বর ১৮৮৪; ১৪১ বছর আগে (1884-09-08)
পৌর কর্পোরেশন১২ ডিসেম্বর ১৯৮৪; ৪০ বছর আগে (1984-12-12)
সিটি কর্পোরেশন আগস্ট ১৯৯০; ৩৫ বছর আগে (1990-08-06)
সরকার
  ধরনমেয়র - কাউন্সিলর
  শাসকখুলনা সিটি কর্পোরেশন
আয়তন[]
  মহানগরী১৫০.৫৭ বর্গকিমি (৫৮.১৪ বর্গমাইল)
  পৌর এলাকা৪৫.৬৫ বর্গকিমি (১৭.৬৩ বর্গমাইল)
উচ্চতা৯.০ মিটার (২৯.৫ ফুট)
জনসংখ্যা (২০২২)
  মহানগরী২৩,১৮,৫২৭
  জনঘনত্ব১৫,০০০/বর্গকিমি (৪০,০০০/বর্গমাইল)
  পৌর এলাকা৭,১৮,৭৩৫
  পৌর এলাকার জনঘনত্ব১৬,০০০/বর্গকিমি (৪১,০০০/বর্গমাইল)
  মহানগর৭,১৮,৭৩৫ জন
বিশেষণখুলনাইয়া
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
জাতীয় কলিং কোড+৮৮০
কলিং কোড০৪১
শিক্ষার হার৭৫.১%[]
পুলিশখুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ
বিমানবন্দরখান জাহান আলী বিমানবন্দর(নির্মিতব্য) ও যশোর বিমানবন্দর
ভাষাবাংলা
ওয়েবসাইটhttp://www.khulnacity.org

খুলনা হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খুলনা বিভাগের দশটি জেলার বিভাগীয় সদর দপ্তর। এটি বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলার মধ্যে অন্যতম। এটি খুলনা বিভাগের কেন্দ্রীয় শহর। ঢাকাচট্টগ্রাম শহরের পরে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর।

খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে রূপসা, ভৈরব এবং ময়ুর নদীর তীর জুড়ে অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং ব্যস্ততম নদী বন্দরগুলোর মধ্যে খুলনা নদী বন্দর অন্যতম।

খুলনা বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় খুলনাকে শিল্প নগরী হিসেবে ডাকা হয়। খুলনার সমুদ্র বন্দর মোংলা খুলনা নগরীর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। যেটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দ্বিতীয় ব্যস্ততম সমুদ্র বন্দর। যার কারণে খুলনাকে চট্টগ্রামের পর ২য় বৃহত্তম বন্দর নগরীও বলা হয়ে থাকে। অর্থনৈতিকভাবে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। ২০২০ সালে এর আঞ্চলিক মোট দেশজ উৎপাদন ছিল ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী এর অর্থনীতির আকার ছিল ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইউনেস্কো স্বীকৃতি প্রাপ্ত পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন খুলনা জেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত। খুলনাকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বলা হয়।[][] সুন্দরবন হলো বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রাকৃতিক আবাসভূমি। এছাড়াও, খুলনা বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ শহরের উত্তরে অবস্থিত, যা একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান

এই শহরের নদীপথে এখনও ঔপনিবেশিক আমলের স্টিমার পরিষেবা চালু রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টার্ন, অস্ট্রিচ এবং লেপচা[][]

রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব সড়কপথে পদ্মাসেতু হয়ে ২১২ কি.মি.। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সংগে স্থলপথ, আকাশপথ, জলপথ ব্যবহার করা যায়। ১৮৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত রেলওয়ে পরিসেবা চালু করা হয় যা ছিল খুলনার প্রথম রেলওয়ে, এই রেলপথ টি খুলনা জংশন রেলওয়ে স্টেশনের মাধ্যমে খুলনায় প্রবেশ করে। অর্থনৈতিক উন্নতি, ভৌগোলিক অবস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধার কারণে খুলনাকে বাংলার কুয়েত সিটি বলা হয়।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

খুলনা প্রাচীনকালে বঙ্গ, গঙ্গাঋদ্ধি এবং সমতট রাজ্যের অংশ ছিল। দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন বংশের শাসনামলে, রাজা বল্লাল সেনের অধীনে এটি বাংলার 'বাগড়ী' বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চতুর্দশ শতাব্দীতে, শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ এই অঞ্চলে প্রথম মুসলিম শাসক হিসেবে আগমন করেন। শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের সময়কালে মুসলিম বসতি বৃদ্ধি পায় এবং অনেক মসজিদ ও মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। পঞ্চদশ শতাব্দীতে, মুসলিম ধর্মপ্রচারক খান জাহান আলী গৌড়ের সুলতানের কাছ থেকে খুলনা অঞ্চলের একটি বড় অংশ জায়গির হিসেবে লাভ করেন এবং এই অঞ্চলের নামকরণ 'জাহানাবাদ' করেন। তিনি ১৪৫৯ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই অঞ্চল শাসন করেন।[]

খান জাহান আলীর মৃত্যুর পর, শহরটি বাংলা সালতানাতের অধীনে আসে। ষোড়শ শতাব্দীতে দাউদ খান কররানীর শাসনামলে, তার অন্যতম প্রধান মন্ত্রী বিক্রমাদিত্য দক্ষিণবঙ্গে (খুলনাসহ) একটি জায়গির লাভ করেন। বিক্রমাদিত্য বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার ঈশ্বরীপুরে রাজধানী স্থাপন করে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার পুত্র প্রতাপাদিত্য তার স্থলাভিষিক্ত হন, যিনি বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠেন এবং দক্ষিণ বাংলা নিয়ন্ত্রণ করতেন। ১৬১১ সালে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি রাজা মানসিংহের কাছে প্রতাপাদিত্য পরাজিত হন।[]

১৭৯৩ সাল পর্যন্ত খুলনা স্বায়ত্তশাসিত বাঙালি নবাবদের দ্বারা শাসিত ছিল। এরপর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিজামত (স্থানীয় শাসন) বিলুপ্ত করে শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ১৮৪২ সালে এটি যশোর জেলার অংশ হয় এবং ১৮৮২ সালে যশোরবাগেরহাট মহকুমা, ২৪ পরগনা জেলার সাতক্ষীরা মহকুমা এবং সুন্দরবন নিয়ে খুলনা জেলা গঠিত হলে এটি তার সদর দপ্তরে পরিণত হয়।[] খুলনায় ১৮৮৪ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ১৯৮৪ সালে মিউনিসিপাল কর্পোরেশনে উন্নীত হয়।

১৯৪৭ সালের ১৯শে আগস্টের আগে খুলনা জেলা অবিভক্ত বাংলার অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় খুলনা প্রাথমিকভাবে নিজেদের ভারতের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৫ই আগস্ট ভারতের পতাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের মতো স্থানীয় নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে সীমানা কমিশন খুলনাকে পূর্ববঙ্গের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রক্রিয়ায় এ কে ফজলুল হক, খান এ সবুর, হামিদুল হক চৌধুরীসহ অন্যান্য মুসলিম লীগ নেতারাও জড়িত ছিলেন।

Military map
১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান রক্ষার জন্য পাকিস্তানি ইস্টার্ন কমান্ডের পরিকল্পনা (সাধারণ চিত্র—কিছু ইউনিটের অবস্থান দেখানো হয়নি)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী খুলনা দখলের জন্য ৩১৪তম অ্যাডহক ব্রিগেড গঠন করে।[] শহরের মুক্তিযোদ্ধারা ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিলেন, যার নেতৃত্বে প্রথমে মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর ছিলেন।[]

নামকরণ

[সম্পাদনা]

খুলনা সদরের নামে খুলনা বিভাগের নামকরণ করা হয়েছে। প্রচলিত মতানুসারে খুলনা শহর থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ভৈরব নদীর তীরে খুল্লেনেশ্বরী দেবীর মন্দির ছিলো এবং এই দেবীর নামানুসারে খুলনা অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে।

প্রশাসন

[সম্পাদনা]

১৮৮৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর, খুলনা মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ১৯৮৪ সালে মিউনিসিপাল কর্পোরেশনে এবং ১৯৯০ সালে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) একটি স্ব-শাসিত সংস্থা, যা একজন নির্বাচিত মেয়রের অধীনে শহরের ৩১টি ওয়ার্ড পরিচালনা করে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) মেট্রোপলিটন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে। এর অধীনে আটটি থানা রয়েছে: খুলনা কোতোয়ালি থানা, সোনাডাঙ্গা থানা, খালিশপুর থানা, দৌলতপুর থানা, খান জাহান আলী থানা, আড়ংঘাটা থানা, হরিণটানা থানা এবং লবণচরা থানা। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট (সিএমএম) শহরের আইনি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সমন্বয় করে থাকে। খুলনা ওয়াসা (কেওয়াসা) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সমান্তরালে কাজ করে।

খুলনা শহর এলাকায় দুটি সংসদীয় আসন রয়েছে। যথা:

সামরিক

[সম্পাদনা]

খুলনা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি প্রধান নৌ কমান্ড কেন্দ্রের মধ্যে একটি। শহরে বানৌজা তিতুমীর নৌ ঘাঁটিটি অবস্থিত। জাহানাবাদ সেনানিবাস, যেখানে আর্মি সার্ভিস কর্পস সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (এএসসিসিঅ্যান্ডএস) অবস্থিত, সেটি খুলনা মেট্রোপলিটনের গিলতলা এলাকায় অবস্থিত।

এছাড়াও খুলনা শিপইয়ার্ড খুলনা অঞ্চলের একটি প্রখ্যাত সামরিক নৌ প্রতিষ্ঠান।

মেট্রোপলিটন থানা

[সম্পাদনা]
জিরো পয়েন্ট, খুলনা
  1. দৌলতপুর থানা
  2. খালিশপুর থানা
  3. খানজাহান আলী থানা
  4. সোনাডাঙ্গা থানা
  5. কোতোয়ালী থানা
  6. লবণচরা থানা
  7. আড়ংঘাটা থানা
  8. হরিণটানা থানা

আদমশুমারি

[সম্পাদনা]

২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১,৮৮,৫৭৯টি খানা (household) এবং ৭,১৯,৫৫৭ জন জনসংখ্যা ছিল। মোট জনসংখ্যার ১৪.৯৭% ছিল ১০ বছরের কম বয়সী। ৭ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ছিল ৮৮.০৭% এবং প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ছিল ১০২.৯১ জন।[]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা ছিল ৭,৫১,২৩৭ জন এবং খানার সংখ্যা ছিল ১,৭৭,৮৫২টি। সে সময় সাক্ষরতার হার ছিল ৭২.৭% এবং প্রতি ১০০০ জন পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯২৩ জন।[১০]

বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো, এই শহরের অধিকাংশ মানুষই বাঙালি। খুলনার স্থানীয় বাসিন্দারা "খুলনাইয়া" নামে পরিচিত। এছাড়াও, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার মানুষও এখানে বসবাস করে। শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা বাংলা ভাষায় কথা বলেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার ব্যবহারও প্রচলিত। ১৯৪৭ সালে বিহার থেকে আগত উর্দুভাষী মুসলিমদের একটি অংশ শহরের খালিশপুর এলাকায় বসবাস করে।

খুলনা শহরের ধর্মীয় পরিসংখ্যান (২০২২)[]
ধর্ম শতাংশ
ইসলাম
 
৮৯.০৬%
হিন্দুধর্ম
 
৯.৮৬%
খ্রিস্টধর্ম
 
১.০৪%
অন্যান্য বা অনুল্লিখিত
 
০.০২%

খুলনা শহরের প্রধান ধর্ম হলো ইসলাম। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার ৮৯.০৬% ইসলাম ধর্মাবলম্বী। অন্যান্য ধর্মের মধ্যে রয়েছে হিন্দুধর্ম (৯.৮৬%) এবং খ্রিস্টধর্ম (১.০৪%)।[]

আবহাওয়া ও জলবায়ু

[সম্পাদনা]

গ্রীষ্মকালে খুলনার আবহাওয়া উষ্ণ এবং আর্দ্র। শীতকালে খুলনা নগরীর আবহাওয়া থাকে কিছুটা শীতল ও মনোরম। খুলনার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৯.৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং মাসের তাপমাত্রা জানুয়ারিতে ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫৪.৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং মে মাসে ৩৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৩.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর মাঝে থাকে। খুলনায় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১,৮০৯.৪ মিলিমিটার (৭১.২৪ ইঞ্চি)। বছরের মোট বৃষ্টিপাতে ৮০ ভাগ সংঘটিত হয় মে এবং অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে।

খুলনা-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
সর্বোচ্চ গড় °সে (°ফা) ২৫.৬
(৭৮.১)
২৮.৫
(৮৩.৩)
৩৩.১
(৯১.৬)
৩৪.৬
(৯৪.৩)
৩৪.৩
(৯৩.৭)
৩২.৯
(৯১.২)
৩১.৮
(৮৯.২)
৩১.৮
(৮৯.২)
৩২
(৯০)
৩২
(৯০)
২৯.৯
(৮৫.৮)
২৬.৫
(৭৯.৭)
৩১.১
(৮৮.০)
সর্বনিম্ন গড় °সে (°ফা) ১২.৪
(৫৪.৩)
১৫.৪
(৫৯.৭)
২০.৫
(৬৮.৯)
২৩.৯
(৭৫.০)
২৫.২
(৭৭.৪)
২৬.১
(৭৯.০)
২৬
(৭৯)
২৬.২
(৭৯.২)
২৫.৮
(৭৮.৪)
২৪.১
(৭৫.৪)
১৯.৬
(৬৭.৩)
১৩.৬
(৫৬.৫)
২১.৬
(৭০.৯)
অধঃক্ষেপণের গড় মিমি (ইঞ্চি) ১৩.৩
(০.৫২)
৪৪.৪
(১.৭৫)
৫২.১
(২.০৫)
৮৭.৫
(৩.৪৪)
২০০
(৭.৯)
৩৩৫.৬
(১৩.২১)
৩২৯.৮
(১২.৯৮)
৩২৩.৫
(১২.৭৪)
২৫৪.৭
(১০.০৩)
১২৯.৮
(৫.১১)
৩২.১
(১.২৬)
৬.৬
(০.২৬)
১,৮০৯.৪
(৭১.২৪)
বৃষ্টিবহুল দিনগুলির গড় (≥ ০.১ mm) ১১ ১৪ ১৭ ১৬ ১৩ ৯৫
উৎস: Weather Base

শিক্ষা

[সম্পাদনা]

খুলনা শহরে ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি বি. এল কলেজ এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার চাহিদা মিটিয়ে আসছে। ১৯৯১ সালে খুলনাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়খুলনা মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়। ২০০৩ সালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যা পূর্বে বাংলাদেশ ইনিষ্টিটিউট অব টেকনোলজি, খুলনা নামে পরিচিত ছিল। ২০১৫ ও ২০২১ সালে যথাক্রমে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান দুটি খুলনা অঞ্চলের কৃষি বিস্তার ও বিশ্বমানের মেডিকেল সুবিধাসহ মেডিকেল শিক্ষার বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১২ সালে সর্বপ্রথম নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে। ২০১৭ সালে যাত্রা করে নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি। এছাড়া নগরীর শিরোমণিতে জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলনা জেলার সর্বপ্রথম উচ্চ বিদ্যালয়। আরও রয়েছে:

চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান

[সম্পাদনা]
  • শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল
  • খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল
  • বাংলাদেশ আই হসপিটাল
  • খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
  • পপুলার ডায়াগনস্টিক লিমিটেড
  • ডক্টরস পয়েন্ট স্পেশালাইজড হাসপাতাল
  • ল্যাবএইড হাসপাতাল
  • রাশিদা মেমোরিয়াল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক
  • নারগিস মেমোরিয়াল হসপিটাল
  • ন্যাশনাল হাসপাতাল
  • খুলনা জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল
  • গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
  • আদ-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
  • খালিশপুর ক্লিনিক
  • শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনা[১১]
  • খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইত্যাদি।

শিল্প ও অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

খুলনা দেশের অন্যতম শিল্প নগরী। খুলনাকে বলা হয়- রুপালি শহর। খুলনা নগরীর হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি শিল্পের কারণে খুলনা এই নামটি দ্বারা পরিচিত হয়েছে।[১২] এখন কৃষির দিক বাদ দিয়ে মানুষের শিল্পের দিকে ঝোক বেশি, তারপরও খুলনার গ্রামাঞ্চলে এখনো নোনা পানি, মিষ্টি পানির বিভিন্ন জাতের চিংড়ি, সাদা মাছ চাষ হচ্ছে। এই কারণে খুলনার গ্রামাঞ্চলে অনেক ঘের দেখতে পাওয়া যায়। খুলনায় বর্তমানে মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে খুলনা মহানগরীতে মংলা সমুদ্র বন্দর যা কিনা দেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর এবং নোয়াপাড়া নদী বন্দর, দেশের সব থেকে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল এবং খুলনার নিজস্ব নদী বন্দরের বদৌলতে এবং পদ্মা সেতুকে ঘিরে খুলনায় একাধিক বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ায় খুলনাঞ্চলের অর্থনীতি শিল্প বাণিজ্য বেশ দ্রুত এগোচ্ছে।

পূর্বে খুলনায় সব থেকে বেশি ছিল পাটপাটজাত উৎপাদন শিল্প, তবে বর্তমানে সারা দেশের ন্যায় খুলনায়তেও পাটশিল্পের অবনতি হচ্ছে যদিও এখনো বড় বড় পাট শিল্পকারখানার মধ্যে সব কারখানা বন্ধ হয়নি,এখনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। কয়েকটি পাট শিল্প কারখানা পিপিপি এর ভিত্তিতে বেসরকারি খাতে দেওয়ার কারণে অত্র অঞ্চলের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষেরা নতুনভাবে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে।টিকে থাকা বড় পাট কলকারাখানা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্পিনিং মিলস (সেনহাটি) যা তার উৎপাদন রপ্তানি ও বাজারজাতকরণ ধরে রেখেছে সুনামের সাথে।

বর্তমানে খুলনার উল্লেখযোগ্য শিল্প হলো বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা রপ্তানীযোগ্য চিংড়ী মাছ এবং হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি শিল্প। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তারশিল্প কারখানা বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড খুলনায় অবস্থিত। খুলনায় বর্তমানে সহজ উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, বন্দর সুবিধা এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং পদ্মা সেতুকে ঘিরে বড় সব প্রকল্প হাতে নেওয়ায় খুলনায় অনেক শিল্প গড়ে উঠছে।নতুন গড়ে ওঠা শিল্পের মধ্যে অন্যতম হলো সিমেন্ট শিল্প ও এক্সপার্ট-ইমপোর্ট শিল্প।

এ ছাড়া খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া তে ঐতিহ্যবাহী গ্রাম্য শিল্প বিদ্যমান রয়েছে যেমন মৃৎশিল্প,হস্তশিল্প ইত্যাদি।খুলনাঞ্চলের সব থেকে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প হলো মাদুড় বা পাটি, এটি বেতের তৈরী একধরনের কার্পেট যা মাটিতে বসার ক্ষেত্রে কিংবা অন্যান্য হরেক কাজে লাগে।

ভৌগোলিক অবস্থান

[সম্পাদনা]

ঢাকাচট্টগ্রামের পর খুলনা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রূপসাভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৪৫.৬৫ বর্গকিলোমিটার হলেও, শহরের মোট আয়তন ১৫০.৫৭ বর্গকিলোমিটার (৫৮.১৪ বর্গমাইল)[১৩] সম্পূর্ণ খুলনা জেলার আয়তন ৪,৩৯৪.৪৬ বর্গকিলোমিটার (১,৬৯৬.৭১ বর্গমাইল)

খুলনা জেলাটির উত্তরে যশোরনড়াইল, পূর্বে বাগেরহাট, পশ্চিমে সাতক্ষীরা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এটি বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ, গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের একটি অংশ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এই বদ্বীপের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত। শহরের পাশেই জোয়ার-ভাটার প্লাবনভূমি রয়েছে।[১৪] ময়ূর নদী খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার পশ্চিম সীমানা নির্ধারণ করেছে।

নদ নদী

[সম্পাদনা]

খুলনায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী। এখানকার নদীগুলো হচ্ছে:[১৫][১৬][১৭]

যোগাযোগ ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

সড়কপথ

[সম্পাদনা]
খান জাহান আলী সেতু, যা খুলনা শহরের বাইপাসকে রূপসা নদীর উপর দিয়ে নিয়ে গেছে

স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য খুলনায় সবচেয়ে জনপ্রিয় গণপরিবহন হলো রিকশা। এছাড়া অটোরিকশাও বেশ সহজলভ্য। নগর পরিবহন বাসগুলো রূপসা উপজেলা থেকে ফুলতলা উপজেলা পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে, যা পুরো খুলনা শহরের বিভিন্ন স্থানে থামে। মধ্যবিত্তদের মধ্যে মোটরসাইকেল জনপ্রিয় হলেও, স্বচ্ছল ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।

এন৭ জাতীয় মহাসড়ক খুলনাকে বাংলাদেশের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করেছে এবং খুলনা সিটি বাইপাস একটি প্রধান সড়ক। এন৭৬০ মহাসড়কটি সাতক্ষীরা এবং খুলনার পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। খুলনার প্রধান বাস টার্মিনাল হলো সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, যেখান থেকে বিআরটিসি এবং বিভিন্ন বেসরকারি বাস পরিষেবা সারা দেশে চলাচল করে। প্রধান বাস রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনা-যশোর-ঢাকা; খুলনা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা; খুলনা-সাতক্ষীরা; খুলনা-বাগেরহাট; খুলনা-মোংলা; খুলনা-বরিশাল; এবং খুলনা-রাজশাহী

রেলপথ

[সম্পাদনা]

খুলনা রেলওয়ে স্টেশন শহরের প্রধান স্টেশন। বাংলাদেশ রেলওয়ে এখান থেকে ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করে: সুন্দরবন এক্সপ্রেসচিত্রা এক্সপ্রেস (ঢাকা পর্যন্ত), কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসসাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (রাজশাহী পর্যন্ত), এবং রূপসা এক্সপ্রেসসীমান্ত এক্সপ্রেস (চিলাহাটি পর্যন্ত)। এছাড়াও, বেনাপোল পর্যন্ত দুটি কমিউটার এবং পার্বতীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জগোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত মেইল ট্রেন চলাচল করে। আন্তর্জাতিক বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কলকাতা পর্যন্ত যাতায়াত করে। শহরে আরও চারটি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে এবং খুলনা–মোংলা বন্দর রেলপথ প্রকল্পের আওতায় রূপসা রেল সেতু সহ আরও দুটি নতুন স্টেশন উদ্বোধন করা হয়েছে।

আকাশপথ

[সম্পাদনা]
যশোর বিমানবন্দরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি এটিআর-৭২

খুলনা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) উত্তরে অবস্থিত যশোর বিমানবন্দর হলো এর নিকটতম বিমানবন্দর। এখান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ার ঢাকা পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করে। বিমানবন্দর থেকে শহর পর্যন্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস পরিষেবা রয়েছে। খুলনা অঞ্চলের জন্য খান জাহান আলী বিমানবন্দর নামে একটি বিমানবন্দর নির্মাণাধীন রয়েছে।[১৮]

শহরের বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী লঞ্চ এবং কার্গো পরিষেবা পরিচালিত হয়।

গণপরিবহন

[সম্পাদনা]

১৯ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকেই খুলনা শহরে গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু ছিল, যা স্থানীয়ভাবে 'মুড়ির টিন' নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে নগর পরিবহন বাসে তেমন দেখা যায় না। বর্তমানে রিকশা এবং অটোরিকশা শহর ও মেট্রো এলাকার পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উবার, পাঠাও, এবং ওভাই-এর মতো রাইড-শেয়ারিং পরিষেবাগুলোও শহরে সহজলভ্য। এছাড়াও, শহরের উপশহর এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করার জন্য কিছু রুটে বাস রয়েছে।

মিডিয়া

[সম্পাদনা]

সংবাদপত্র

[সম্পাদনা]
অত্র অঞ্চলে স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো হলো-

দৈনিক পূর্বাঞ্চল, দৈনিক খুলনাঞ্চল, সময়ের খবর, দৈনিক খুলনা, দৈনিক জন্মভূমি, দৈনিক প্রবাহ, দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন, দৈনিক প্রবর্তন, দৈনিক তথ্য, দৈনিক অনির্বাণ, খুলনা টাইমস, দ্য ডেইলি ট্রিবিউন (ইংরেজি)।

বেতার

[সম্পাদনা]

অত্র অঞ্চলে স্থানীয় বেতার হলো-

  • বাংলাদেশ বেতার খুলনা ১০৬.৫ এফএম,
  • রেডিও সুন্দরবন ৯৮.৮ এফএম
  • রেডিও খুলনা ৮৮.৮ এফএম।
  • রেডিও স্ফূর্তি ৮৮.০ এফএম
  • রেডিও টুডে ৮৯.৬ এফএম
  • খুলনা টিভি

খেলাধুলা

[সম্পাদনা]

বর্তমানে খুলনা শহরের তরুনদের মাঝে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট,ফুটবল এবং ব্যাডমিন্টন। খুলনা বিভাগের খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট দল একটি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট দলটুয়েন্টি২০ ক্রিকেট, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এ খুলনার প্রতিনিধিত্ব করে খুলনা টাইগার্স। খুলনা আবাহনী ক্লাব খুলনার অন্যতম ফুটবল দল। অধুনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম (প্রাক্তন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম) খুলনার একমাত্র আন্তঃর্জাতিক ক্রীড়া ভেন্যু। এই মাঠকে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর দেশের সপ্তম টেস্ট ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করা হয়।[১৯] এই মাঠে টেস্ট ক্রিকেট, একদিনের আন্তর্জাতিক এবং আন্তর্জাতিক টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটের আয়োজন করা হয়। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অন্যান্য খেলার আয়োজন করা হয়।

পর্যটন

[সম্পাদনা]

পর্যটনের দিক থেকে খুলনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সুন্দরবন। খুলনা জেলায় অবস্থিত এই বনটি বিশ্বের বৃহত্তম অক্ষত ম্যানগ্রোভ বন এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল। এটি একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান[২০] খুলনার দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১৫ মাইল (২৪ কিলোমিটার) দূরে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটও একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।[২১]

খুলনা থেকে ১৯ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে দক্ষিণডিহি গ্রামে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স অবস্থিত। এটি ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর বাড়ি, যেখানে রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকবার এসেছিলেন। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত একটি জাদুঘর।[২২] এছাড়াও, শহরে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর রয়েছে, যা ১৯৯৮ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ

[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Area, Population and Literacy Rate by Paurashava –2001" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০০১। ১৭ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০০৯
  2. ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "খুলনা"বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১ওসিএলসি 883871743ওএল 30677644M
  3. 1 2 Marshall Cavendish Corporation (২০০৭)। World and Its Peoples: Eastern and Southern Asia। Marshall Cavendish। পৃ. ৪৯১। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৬১৪৭৬৩১৩
  4. 1 2 Girard, Luigi Fusco (২০০৩)। The Human Sustainable City: Challenges and Perspectives from the Habitat Agenda। Ashgate Publishing, Ltd। পৃ. ২৯৮। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৫৪৬০৯৪৫২
  5. "জেলার ঐতিহ্য"। Khulna District Portal। ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৩
  6. 1 2 Hunter, William Wilson (১৯০৮)। Imperial Gazetteer of India। Oxford, UK: Oxford University Press। পৃ. ২৮৭।
  7. Salik, Siddiq, Witness to Surrender, pp126
  8. "War of Liberation, The"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২০
  9. 1 2 3 Population and Housing Census 2022 - District Report: Khulna (পিডিএফ)। District Series। Dhaka: Bangladesh Bureau of Statistics। জুন ২০২৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৪৭৫-২৮৪-৯। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২৫
  10. "Community Series - Khulna District" (পিডিএফ)bbs.gov.bdBangladesh Bureau of Statistics[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  11. "Khulna BNSB Eye Hospital"Khulna BNSB Eye Hospital (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০২১
  12. "খুলনা শিল্পাঞ্চল নিয়ে প্রতিবেদন"দৈনিক প্রথম আলো {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে: |8= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  13. Bangladesh Bureau of Statistics; Area, Population and Literacy Rate by Paurashava – 2001 (pdf-file) Retrieved on 29 September 2008.
  14. Murray, N.J.; Clemens, R.S.; Phinn, S.R.; Possingham, H.P.; Fuller, R.A. (২০১৪)। "Tracking the rapid loss of tidal wetlands in the Yellow Sea" (পিডিএফ)Frontiers in Ecology and the Environment১২ (5): ২৬৭–২৭২। ডিওআই:10.1890/130260
  15. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  16. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃ. ৬০৯। আইএসবিএন ৯৮৪-৭০১২০-০৪৩৬-৪ {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: অবৈধ উপসর্গ পরীক্ষা করুন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার |আইএসবিএন-ত্রুটি-উপেক্ষা-করুন= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  17. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
  18. "Khan Jahan Ali Airport no longer a priority project"Dhaka Tribune। ২৯ জুন ২০২১।
  19. "BPL 2013 to kick off on January 17"। ক্রিকইনফো। ১ অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১২
  20. "The Sundarbans"World Heritage ListUNESCO। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  21. "Historic Mosque City of Bagerhat"World Heritage List। UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  22. "Rabindra museum draws huge crowd"The Independent (Bangladesh)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  23. "কবি কৃষ্ণ চন্দ্র ইনস্টিটিউট, সেনহাটি, দিঘলিয়া, খুলনা"জাতীয় ই তথ্যকোষ। ২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]