বিষয়বস্তুতে চলুন

দর্শনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দর্শনা
মানচিত্র
দর্শনা খুলনা বিভাগ-এ অবস্থিত
দর্শনা
দর্শনা
দর্শনা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দর্শনা
দর্শনা
স্থানাঙ্ক: ২৩°৩১′৩৬″ উত্তর ৮৮°৪৭′৫৮″ পূর্ব / ২৩.৫২৬৭৮৯° উত্তর ৮৮.৭৯৯৪০৭° পূর্ব / 23.526789; 88.799407
দেশবাংলাদেশ
বিভাগখুলনা
জেলাচুয়াডাঙ্গা
উপজেলাদামুড়হুদা
পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত১৯৯১
থানা প্রতিষ্ঠিত২১ অক্টোবর ২০১৯; ৬ বছর আগে (2019-10-21)
সরকার
  ধরনপৌরসভা
  শাসককুষ্টিয়া পৌরসভা
আয়তন
  পৌর এলাকা১২.৫০ বর্গকিমি (৪.৮৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০২২)
  পৌর এলাকা৩৬,৯০২
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+০৬:০০)
পোস্টকোড৭২২১

দর্শনা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। শহরটি খুলনা বিভাগের অন্তর্গত চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় অবস্থিত। সীমান্তবর্তী রেল স্টেশন দর্শনা রেলওয়ে স্টেশন এখানে অবস্থান করায় এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ।[]

ভৌগোলিক অবস্থান

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্তর্গত সীমান্ত শহর দর্শনা।

আয়তন ও জনসংখ্যা

[সম্পাদনা]

আয়তন ১২.৫০ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমান প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস এই নগরীতে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

[সম্পাদনা]

ইতিহাসের পাতা থেকে পাওয়া যায় দর্শনা নামকরণটি ১৮০০ সালের কিছু আগে থেকেই প্রচলিত। ১৭৮৭ সালের ২১ মে মার্চ নদীয়া জেলা গঠিত হয়, তখনও এই স্থানটির নাম দর্শনা ছিল। রেনল্ড গেজেট থেকেও জানা যায় ১৮০০ সালের গোড়ার দিকেও এই অঞ্চলের নাম ছিল দর্শনা। কীভাবে এই স্থানের নাম দর্শনা হলো তা নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্য দ্বিধাবিভক্তি থাকলেও সর্বজনীন যে কারণটি পাওয়া যায় তা হচ্ছে “দর্শন” শব্দ থেকে দর্শনা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। মূলত: এই স্হানটি-তে ট্রানজিট পয়েন্ট, ইক্ষু চাষের উপযুক্ত ভুমি, রেলপথের উপযোগী সূচনা কেন্দ্র, নদী মাতৃক পরিবেশ প্রভূত কিছুর দর্শন মিলেছিল। তাই দর্শনা নাকরণের পেছনে উল্লেখিত কারণটি-ই সর্বাধিক সমাদৃত।

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ

[সম্পাদনা]

দর্শনা হানাদার মুক্ত হয় ৪ঠা ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই এলাকা ছিল ভারতের সাথে নিরাপদে আসা যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। মুক্তিযুদ্ধের সময় টেলিফোন বা টেলিগ্রাফে দর্শনার কোর্ড (ছদ্ম নাম) ছিল DINGA। ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হানাদার বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধে দর্শনার অনেকেই শহীদ হয়েছেন। শহীদ স্মরণে এখানে রয়েছে শহীদ মিনার ও সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে শহীদের তালিকা।

দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]

কেরু এন্ড কোং এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম চিনিকল যা ব্রিটিশ আমলে দর্শনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি এই অঞ্চলের একটি উৎকৃষ্ট পিকনিক স্পট, যেখানে একটি দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট মনোরম গেস্ট হাউজ রয়েছে।

যোগাযোগব্যবস্থা

[সম্পাদনা]
দর্শনা রেলওয়ে স্টেশন

দর্শনায় আন্তর্জাতিক মানের কম্পিউটারাইজড সুবিধাসহ ১ কিলোমিটারের ব্যবধানে ২টি রেলওয়ে স্টেশন অবস্থিত। দর্শনা রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে মৈত্রী ট্রেন সরাসরি ভারতে যাতায়াত করছে।[]

শুল্ক স্টেশন

দর্শনায় রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কাষ্টমস অফিস ও শুল্কগুদামসহ শুল্ক স্টেশন যেখান থেকে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব পাচ্ছে। দর্শনা সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছেই রয়েছে কাস্টমস চেকপোষ্টের স্থায়ী অবকাঠাম।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

দর্শনায় রয়েছে শতবর্ষ পুরাতন স্কুল। এছাড়া কলেজ-মাদ্রাসাসহ বেশ কিছু বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ

  • দর্শনা সরকারী কলেজ
  • মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • কেরু উচ্চ বিদ্যালয়
  • দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
  • দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • আল-হেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • দর্শনা ডি এস সিনিয়র মাদ্রাসা
  • পূর্ব রামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • অঙ্কুর আদর্শ বিদ্যালয়
  • দক্ষিণচাঁদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Chuadanga District - চুয়াডাঙ্গা জেলা"[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "Bangladesh Railway-Government of the People of Republic Bangladesh - বাংলাদেশ রেলওয়ে-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার"। ১৫ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৬