চুয়াডাঙ্গা
| চুয়াডাঙ্গা | |
|---|---|
| শহর | |
ঘড়ির কাঁটার ক্রম অনুযায়ী: চৌরাস্তার মোড়, চুয়াডাঙ্গা স্টেডিয়াম, হোটেল শাহীদ প্যালেস, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা, চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন | |
| স্থানাঙ্ক: ২৩°৩৮′৩৭″ উত্তর ৮৮°৫০′৪৮″ পূর্ব / ২৩.৬৪৩৫২২° উত্তর ৮৮.৮৪৬৬০২° পূর্ব | |
| দেশ | |
| বিভাগ | খুলনা |
| জেলা | চুয়াডাঙ্গা |
| উপজেলা | চুয়াডাঙ্গা সদর |
| পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত | ১৯৭২ |
| সরকার | |
| • ধরন | পৌরসভা |
| • শাসক | চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা |
| আয়তন | |
| • শহর | ৪৮.১১ বর্গকিমি (১৮.৫৮ বর্গমাইল) |
| • পৌর এলাকা | ৩৭.৩৯ বর্গকিমি (১৪.৪৪ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০২২) | |
| • শহর | ১,১৯,১৩৬ |
| • জনঘনত্ব | ২,৫০০/বর্গকিমি (৬,৪০০/বর্গমাইল) |
| • পৌর এলাকা[১] | ৯৭,৫৩২ |
| • পৌর এলাকার জনঘনত্ব | ২,৬০০/বর্গকিমি (৬,৮০০/বর্গমাইল) |
| সময় অঞ্চল | বাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+০৬:০০) |
| পোস্টকোড | ৭২০০ |
| পৌর কোড | ৪০ |
| আইএসও ৩১৬৬ কোড | বিডি-১২ |
| ওয়েবসাইট | চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা |
চুয়াডাঙ্গা বাংলাদেশের পশ্চিমে অবস্থিত খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রধান শহর। এটি চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রশাসনিক এবং সবচেয়ে বড় শহর ও জনবহুল স্থান। ১৮৫৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন এবং ১৭৭২ সালে ব্রিটিশ ভারতের ও বাংলাদেশের প্রথম ডাকঘর চুয়াডাঙ্গা ডাকঘর চুয়াডাঙ্গা শহরে স্থাপিত হয়। চুয়াডাঙ্গা শহরের সাথে সারা দেশের রেলপথে ও সড়ক পথে যোগাযোগ রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আয়তন ৩৭.৩৯ বর্গকিলোমিটার (১৪.৪৪ বর্গমাইল) এবং ৯৭,৫৩২ জন মানুষ বসবাস করে।[১][২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]গ্রিক ঐতিহাসিকদের মতে এ এলাকাতেই বিখ্যাত গঙ্গারিডাই রাজ্য অবস্থিত ছিল। গাঙ্গেয় নামক একটি শহরও এ চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত ছিল বলে শোনা যায়। চুয়াডাঙ্গার নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে, এখানকার মল্লিক বংশের আদিপুরুষ চুঙ্গো মল্লিকের (ওরফে চুয়া মালিক) নামে এ জায়গার নাম চুয়াডাঙ্গা হয়েছে। ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে চুঙ্গো মল্লিক তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভারতের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমানার ইটেবাড়ি-মহারাজপুর গ্রাম থেকে মাথাভাঙ্গা নদীপথে এখানে এসে প্রথম বসতি গড়েন। ১৭৯৭ সালের এক রেকর্ডে এ জায়গার নাম চুঙ্গোডাঙ্গা উল্লেখ রয়েছে। ফারসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময় উচ্চারণের বিকৃতির কারণে বর্তমান চুয়াডাঙ্গা নামটা এসেছে। চুয়াডাঙ্গা নামকরণের আরও দুটি সম্ভাব্য কারণ প্রচলিত আছে। চুয়া < চয়া চুয়াডাঙ্গা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার নামকরণ সম্পর্কে আরেক জায়গায় কথিত আছে যে, এই অঞ্চল খুবই পরিষ্কার ছিল এক সময়ে। এই অঞ্চলের লোক পরিষ্কারকে বলতেন চুয়া এবং স্থানকে বলত ডাঙ্গা । অতএব, পরিষ্কারস্থান >চুয়াডাঙ্গা। তবে উপরের দুটি কারণ ই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
১৯৬০ সালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা গঠিত হলে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২ সালে।[৩]
প্রশাসন
[সম্পাদনা]
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একজন মেয়র এবং ১২ জন কাউন্সিলর এবং ৩ জন মহিলা কাউন্সিলর দ্বারা গঠিত। প্রতিটি কাউন্সিলর শহরের একটি করে ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। তারা সবাই জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত।
জনসংখ্যা
[সম্পাদনা]২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা শহরের মোট জনসংখ্যা ২২৮,৮৬৫ জন।[৪] যার মধ্যে ১১৪,৪২১ জন পুরুষ এবং ১১৪,৪৪৪ জন মহিলা। এ বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যা ৩০,৯২৭টি খানায় বাস করে। ২০০১ সালের এর জনসংখ্যা ছিল ১১৩,৯২৮জন।[৫] জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৮৬৭ জন লোক বসবাস করে। লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ জন পুরুষের বিপরীতে ১০০০ জন নারী রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার ১০০% (৭ বছরের ঊর্ধ্বে)।[৪] যার কারণে এটি বাংলাদেশে প্রথম নিরক্ষরমুক্ত শহর।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Population and Housing Census 2022" [জনসংখ্যা ও গৃহগণনা ২০২২] (পিডিএফ)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ "এক নজরে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা"। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০২৫।
- ↑ রাজীব আহমেদ (২০১২)। "চুয়াডাঙ্গা জেলা"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- 1 2 "4.1.6 Chuadanga"। Population & Housing Census-2011 [আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১] (পিডিএফ) (প্রতিবেদন)। জাতীয় প্রতিবেদন (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ভলিউম ৩: Urban Area Rport, ২০১১। ঢাকা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। মার্চ ২০১৪। পৃ. ৬৬। ১১ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "Bangladesh: Divisions and Urban Areas - Population Statistics, Maps, Charts, Weather and Web Information"। www.citypopulation.de। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
