বান্দরবান জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(বান্দরবান থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বান্দরবান
জেলা
নীলগিরি, বান্দরবান
নীলগিরি, বান্দরবান
বাংলাদেশে বান্দরবান জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে বান্দরবান জেলার অবস্থান
বান্দরবান বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বান্দরবান
বান্দরবান
বাংলাদেশে বান্দরবান জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২১°৪৮′ উত্তর ৯২°২৪′ পূর্ব / ২১.৮০০° উত্তর ৯২.৪০০° পূর্ব / 21.800; 92.400স্থানাঙ্ক: ২১°৪৮′ উত্তর ৯২°২৪′ পূর্ব / ২১.৮০০° উত্তর ৯২.৪০০° পূর্ব / 21.800; 92.400 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
প্রতিষ্ঠাকাল ১০ অক্টোবর, ১৯৮১
সংসদীয় আসন ৩০০ বান্দরবান
সরকার
 • সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈ সিং (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
আয়তন
 • মোট ৪৪৭৯.০৩ কিমি (১৭২৯.৩৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ৪,০৪,০৯৩
 • ঘনত্ব ৯০/কিমি (২৩০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৩৯.৫০%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৪৬০০
ওয়েবসাইট প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
বগাকেইন লেক
বগাকেইন লেক

বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি একটি পার্বত্য জেলা।

আয়তন[সম্পাদনা]

বান্দরবান জেলার মোট আয়তন ৪৪৭৯.০৩ কিলোমিটার।[২]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বান্দরবান জেলার মোট জনসংখ্যা ৪,০৪,০৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,১১,৬২৮ জন এবং মহিলা ১,৯২,৪৬৫ জন।[৩] জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৯০ জন। মোট জনসংখ্যার ৪৯.৩৩% মুসলিম, ৩.৬২% হিন্দু, ৩৪.৮৮% বৌদ্ধ এবং ১২.১৭% খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। এ জেলায় মারমা, চাকমা, বম, মুরং, ত্রিপুরা, খ্যাং, খুমি, লুসাই প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।[২]


এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্তর্গত। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান জেলার দূরত্ব ৭৫কিলোমিটার। বান্দরবান জেলার আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার।[৪] মারমা রাজা বোমাংগ্রী উ চ প্রু বান্দরবান সার্কেলের, বোমাং রাজা। এই অঞ্চলের অন্য দুইটি জেলা হল রাঙামাটিখাগড়াছড়ি। বান্দরবান জেলা এর নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের জন্য বাংলাদেশের একটি গুরূত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

লোককথা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে বানররা একে অপরের হাত ধরে, লম্বা শিকল বানিয়ে নদী পারাপার করতো। বানরের বাঁধ থেকে বান্দরবান শব্দের উথপত্তি। চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলাসন ১৯০০ দ্বারা এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে আরাকান রাজ্যের অংশ থেকে ততকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আওতায় আসে।[৫] এই অঞ্চলের রাজা, তথা সার্কেল চীফ এখনো কর (নামমাত্র) আদায় করেন। প্রতিবছর ঘটা করে ৩ দিন ব্যাপী বোমাং রাজ পুণ্যাহ এর মাধ্যমে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে) এই কর বা খাজনা আদায় করা হয়।

ভৌগোলিক সীমানা ও দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের ভিতরে, বান্দরবানকে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল জুড়ে ঘিরে রয়েছে কক্সবাজার, উত্তর-পশ্চিমে চট্টগ্রাম, উত্তরে রাঙামাটি এবং পূর্বে রয়েছে মায়ানমারের চিন প্রদেশ এবং আরাকান প্রদেশের সীমান্ত।

বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলার মধ্যে একটি বান্দরবান এবং এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনবসতিসম্পন্ন স্থান। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ সাকা হাফং (১০৫২ মিটার) । দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (৮৮৩ মিটার) এবং সর্বোচ্চ খাল রাইখিয়াং এই জেলায় অবস্থিত। এখানকার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো হলো নীলাচল, নীলগিরি, নাফাকুম, সাফাকুম, আমিয়াকুম, সাতভাইকুম, বগা লেক, জাদিপাই ঝরণা, ডাবল ফলস, আলী কদম গুহা, চিম্বুক পাহাড়, রিমাক্রি, শৈল প্রপাত এবং অন্যান্য।

এখানকার সড়কপথে সংযোগগুলো হচ্ছে চিম্বুক - রুমা, বান্দরবান - রোয়াংছড়ি - রুমা, আজিজনগর - গজালিয়া - লামা, খানহাট - ধোপাছড়ি - বান্দরবান, বান্দরবান - চিম্বুক - থানচি - আলীকদম - বাইশারী - ঘুনধুম এবং চিম্বুক - টঙ্কাবতী - বারো আউলিয়া।

এই অঞ্চলের পাহাড় গুলো মূলত টারসিয়ারী যুগের। পারতপক্ষে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটনিক পাত-এর সংঘর্ষের ফলে বান্দরবানের নৈসর্গিক পাহাড়ের সৃষ্টি হয়। কর্কট ক্রান্তি ও বিষুবরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চল বিধায় এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ।

প্রশাসন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের সর্বশেষ সংসদ আসন (৩০০ ন.) হল পার্বত্য বান্দরবান এবং এই অঞ্চলের জন্য ১টি আসন বরাদ্দ। এই আসনের সংসদ সদস্য হলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, এম পি। জনাব ক্য শৈ হ্লা বর্তমানে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তাছাড়া মারমা রাজা বোমাংগ্রী উ চ প্রু বান্দরবান সার্কেলের, সার্কেল চীফ হিসেবে আছেন, যা পারিবারিক জেষ্ঠতার উপর নির্ণীত হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়

বান্দরবান জেলা ৭টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলো হলো:

নীলাচল
নীলাচল

২টি পৌরসভা রয়েছে, সেগুলো হলঃ

মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ৩৩ টি, সেগুলো হলঃ

  • বান্দরবান সদর:

১. বান্দরবান ইউনিয়ন, ২. কুহালং, ৩. সুয়ালক, ৪. টংকাবতী, ৫. রাজবিলা

আলীকদম
আলীকদম
  • লামা:

১. আজিজনগর, ২ লামা, ৩. গজালিয়া, ৪. সরই, ৫. রুপসীপাড়া, ৬. ফাসিঁয়াখালী, ৭. ফাইতং

  • আলীকদম:

১. আলীকদম, ২. চৈক্ষ্যং,

৩. নয়াপাড়া,

ফানুস
ফানুস

৪. কুরুকপাতা

  • নাইক্ষ্যংছড়ি:

১. নাইক্ষ্যংছড়ি, ২. বাইশরী, ৩. দোছড়ী, ৪. ঘুমধুম, ৫. সোনাইছড়ি

  • রুমা:

১. পাইন্দু, ২. রুমা সদর, ৩. রেমাক্রী প্রাংসা, ৪. গালেংগ্যা

  • রোয়াংছড়ি:

১. রোয়াংছড়ি, ২. তারাছা, ৩. নয়াপতং, ৪. আলেক্ষ্যং

  • থানছি:

১. থানছি, ২. রেমাক্রী ৩. তিন্দু ৪. বলিপাড়া

নদনদী[সম্পাদনা]

সাঙ্গু নদী

এই জেলার অন্যতম নদী সাঙ্গু নদী যা সাংপো বা শঙ্খ নামেও পরিচিত। এই নদীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বাংলাদেশের একমাত্র নদী যা দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রবাহিত হয়। অন্যান্য নদীর মধ্যে রয়েছে মাতামুহুরী এবং বাঁকখালী নদী

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রামের অংশ। এই অঞ্চলটি ১৫৫০ সালের দিকে প্রণীত বাংলার প্রথম মানচিত্রে বিদ্যমান ছিল। তবে এর প্রায় ৬০০ বছর আগে ৯৫৩ সালে আরাকানের রাজা এই অঞ্চল অধিকার করেন। ১২৪০ সালের দিকে ত্রিপুরার রাজা এই এলাকা দখল করেন। ১৫৭৫ সালে আরাকানের রাজা এই এলাকা পুণর্দখল করেন, এবং ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত অধিকারে রাখেন। মুঘল সাম্রাজ্য ১৬৬৬ হতে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত এলাকাটি সুবা বাংলার অধীনে শাসন করে। ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই এলাকা নিজেদের আয়ত্তে আনে। ১৮৬০ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসাবে যুক্ত হয়। ব্রিটিশরা এই এলাকার নাম দেয় চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট্‌স বা পার্বত্য চট্টগ্রাম। এটি চট্টগ্রাম জেলার অংশ হিসাবে বাংলা প্রদেশের অন্তর্গত ছিলো। মূলত চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলাসন ১৯০০ দ্বারা এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে আরাকান রাজ্যের অংশ থেকে ততকালীন ব্রিটিস সাম্রাজ্য-এর আওতায় আসে এবং বান্দরবান সার্কেল, রাঙ্গামাটি সার্কেলখাগড়াছড়ি সার্কেল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রত্যেক সার্কেলে, সার্কেল চীফ বা রাজা নিযুক্ত করা হয়।[৫] তবে বোমাং রাজ পরিবার ১৬ শতক থেকেই এই অঞ্চল শাসন করছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে এই এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি বাংলাদেশের জেলা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। আশির দশকের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি জেলা- রাঙামাটি, বান্দরবান, ও খাগড়াছড়ি-তে বিভক্ত করা হয়। [৬]

নামকরণ[সম্পাদনা]

বান্দরবান জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি রয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের প্রচলিত রূপ কথায় আছে অত্র এলাকায় একসময় বাস করত অসংখ্য বানর । আর এই বানরগুলো শহরের প্রবেশ মুখে ছড়ার পাড়ে পাহাড়ে প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত। এক সময় অনবরত বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃ্দ্ধি পাওয়ায় বানরের দল ছড়া পাড় হয়ে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পাড় হয়। বানরের ছড়া পারাপারের এই দৃশ্য দেখতে পায় এই জনপদের মানুষ। এই সময় থেকে এই জায়গাটির পরিচিতি লাভ করে ম্যাঅকছি ছড়া হিসাবে । অর্থ্যাৎ মার্মা ভাষায় ম্যাঅক অর্থ বানর আর ছিঃ অর্থ বাঁধ । কালের প্রবাহে বাংলা ভাষাভাষির সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম রুপ লাভ করে বান্দরবান হিসাবে । বর্তমানে সরকারি দলিল পত্রে বান্দরবান হিসাবে এই জেলার নাম স্থায়ী রুপ লাভ করেছে। তবে মার্মা ভাষায় বান্দরবানের প্রকৃত নাম রদ ক্যওচি ম্র। [৪]

জাদিপাই ঝর্না
জাদিপাই ঝর্না

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

বান্দরবান পার্বত্য জেলা দূর্গম পাহাড়ী এলাকা হলেও এটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বিধায় জাতীয় পর্যায়ে এ জেলার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিস্তীর্ণ পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চল মূল্যবান কাঠ ও বনজ সম্পদে পরিপূর্ণ। একই সংগে এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গুমাতামুহুরী নদী উৎপাদিত বনজ সম্পদ আহরণ ও বিপননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ জেলার উৎপাদিত প্রধান বনজ দ্রব্যের মধ্যে সেগুন, গামারী, গর্জন, শিল কড়ই, তৈলসুর ইত্যাদি মূল্যবান কাঠ ও বাঁশ প্রধান।

কৃষিজ দ্রব্যের মধ্যে আনারস, কলা, পেঁপে, কমলা, লেবু ও আলু সর্বোচ্চ উৎপাদিত ফসল। তবে এই অঞ্চলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য প্রচুর বিন্নি চাল উৎপাদন। সাদা, লাল ও কালো, এই তিন রকমের বিন্নি চালের উৎপাদন এই অঞ্চলে দেখা যায়। তাছাড়া, এই অঞ্চলের জুমের ভুট্টার স্বাদ বেশ সুস্বাদু।

মনোরম নৈসর্গিক দৃশ্যের সমাহার ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সম্মৃদ্ধ বান্দরবান পার্বত্য জেলা ঠিক যেন ছবির মত। দেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গসহ সর্বত্র সবুজ-শ্যামলিমা গিরিশ্রেনীর এক অপরূপ দৃশ্য এ জেলায়। ভারত ও মায়ানমার এ দুটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমানায় অবস্থিত দেশের সর্বাধিক সংখ্যক উপজাতির বসবাস সংবলিত এ জেলা স্বকীয় বৈশিষ্ঠ্যে স্বাতন্ত্র্যমন্ডিত। এখানকার অর্থনৈতিক অবস্থা ধীরে ধীরে পর্যটন-কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এর ফলে পর্যটকদের সমাগম বেড়ে উঠছে এবং সাথে সাথে প্রাকৃতিক দূষণের হারও বাড়ছে।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা[সম্পাদনা]

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়[সম্পাদনা]

>>উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা<<

প্রাথমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  • হাফেজঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ভাষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা প্রচলিত। এছাড়াও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, বম, লুসাই, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, খেয়াং, খুমী, পাংখুয়া ইত্যাদি প্রচলিত।

প্রধান উৎসব[সম্পাদনা]

বান্দরবানের মারমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম সাংগ্রাই। এছাড়া বড় উৎসবের মধ্যে রয়েছে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা। এছাড়া ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, দূর্গা পূজাও সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়।

পত্র পত্রিকা[সম্পাদনা]

নাফাখুম
নাফাখুম

বান্দরবান হতে প্রকাশিত সংবাদপত্রের একটি তালিকা নিচে দেয়া হলোঃ[৭]

পত্রিকা/ম্যাগাজিনের নাম সম্পাদক
দৈনিক সচিত্র মৈত্রী মোঃ ওসমান গনি
পাক্ষিক সাংগু আইরিন বম
দৈনিক নতুন বাংলাদেশ আফাজ উল্লাহ খান
মাসিক চিম্বুক মোঃ বাদশা মিয়া
মাসিক নীলাচল মোহাম্মদ ইসলাম
মাসিক বান্দরবান মোহাম্মদ মোজাম্মল হক

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

শৈলপ্রপাত
  • বুদ্ধ ধাতু জাদি: বান্দরবন শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে বালাঘাটায় অবস্থিত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ মন্দির। স্থানীয়ভাবে স্বর্ণমন্দির নামে পরিচিত। এটি স্বর্ণমন্দির নামে পরিচিত পেলেও এটি স্বর্ণ নির্মিত নয়। মূলত সোনালী রঙের জন্যেই এটির নাম হয়েছে স্বর্ণমন্দির। এই থেরাবেড়া বৌদ্ধমন্দিরটি ৬০ মিটার উঁচু পর্বতের শীর্ষদেশে অবস্থিত। মন্দিরটি দক্ষিণপূর্ব এশীয় স্থাপত্যশৈলীতে তৈরী করা হয়েছে এবং এখানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ মূর্তিটি আছে। সন্ধ্যা ছয়টার পরে মন্দিরে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ। মন্দির চত্ত্বরে শর্টপ্যান্ট, লুঙ্গি এবং জুতা পায়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। পাহাড়ের চূড়ায় দেবতাপুকুর নামে একটি লেক আছে।
  • শৈল প্রপাতঃ বান্দরবন থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে থানচি যাওয়ার পথে মিলনছড়ি নামক স্থানে চমৎকার এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এটার রক্ষণাবেক্ষনের দ্বায়িত্বে আছে।
  • মেঘলা এবং নীলাচলঃ বান্দরবন থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কেরানিহাট যাওয়ার পথে মেঘলা পর্যটন স্পট অবস্থিত। এখানে একটি মিনি সাফারী পার্ক, চিড়িয়াখানা এবং ঝুলন্ত সেতু আছে। জেলা প্রশাসন মেঘলার কাছে টাইগারপাড়ায় নীলাচল নামে পর্যটন স্পট গড়ে তুলেছে।
  • রাজবিহার এবং উজানিপাড়া বিহারঃ স্থানীয়ভাবে বৌদ্ধ মন্দিরসমূহ কিয়াং এবং বিহার নামে পরিচিত। জাদিপাড়ায় অবস্থিত রাজবিহার খুবই সুপরিচিত। উজানিপাড়ায় অবস্থিত উজানিপাড়া বিহারটিও উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।
  • চিম্বুক পাহাড় এবং উপজাতীয় গ্রামঃ বান্দরবন শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের অন্যতম উঁচূ শৃঙ্গ চিম্বুক পাহাড় অবস্থিত। চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে বম নৃগোষ্ঠীর গ্রাম দেখতে পাওয়া যায়। অল্প কিছুদূরে ম্রোদের গ্রাম অবস্থিত। শহর থেকে এক দিনেই চিম্বুক পাহাড় এবং বম ও ম্রো গ্রাম ঘুরে আসা সম্ভব।
  • নীলগিরি এবং থানচিঃ নীলগিরি অন্যতম উঁচু পাহাড় এবং বাংলাদেশ সৌন্দর্য্যময় পর্যটন স্পট। বান্দরবন শহর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এখানে একটি রিসোর্ট আছে। সেনা কর্মকর্তাদের সহায়তায় এখানে বুকিং সম্পন্ন করতে হয়। এখানে রেস্টুরেন্ট, হেলিপ্যাড, সুসজ্জিত কটেজ ইত্যাদির ব্যবস্থা আছে। বিদেশী পর্যটকগনের এখানে অবস্থানের উপর নিষেধাজ্ঞা আছে।
  • বগালেকঃ বগাকাইন লেক নামেও পরিচিত। ছোট ছোট গ্রাম এবং পাহাড়কে পাশ কাটিয়ে বয়ে চলেছে নান্দনিক এই জলাশয়টি। বগালেক বাংলাদেশের সব থেকে সৌন্দর্যময় প্রাকৃতিক লেক। বান্দরবনের রুমা সদর উপজেলা থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত লেকটির আয়তন ১৫ একর। লেকের নীল পানি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। লেকটির তৈরী হওয়ার পিছনে অনেক লোকগল্প প্রচলিত আছে। শীত মৌসুমে বগালেকে পর্যটকের ভিড় উপচে পড়ে। বর্ষাকালে বগালেক এলাকায় ভ্রমন কঠিন হয়ে পড়ে। বগালেকের আশপাশে বম এবং খুমি নৃগোষ্ঠীর লোক বাস করে।
  • অন্যান্য স্থানঃ প্রান্তিক লেক, জীবননগর এবং কিয়াচলং লেক।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

বান্দরবান যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাস। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান বাসে যেতে সাধারণত ৬ঘন্টা - ১০ঘন্টা সময় লাগে। নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা অথবা গাড়ি ভাড়া করেও বান্দরবান যাওয়া সম্ভব। এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখানে থেকে বাসে করেও বান্দরবান যাওয়া যায়। এছাড়াও রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার থেকেও বান্দরবান যাওয়া যায়।

গ্যালারি[সম্পাদনা]

আরোও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. বান্দরবান জেলার সরকারি ওয়েব জেলা তথ্য বাতয়ন