বি এল কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(বি এল কলেজ (খুলনা) থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরকারী বিএল (ব্রজলাল) কলেজ
Govt BL College Campus.jpg
ধরন সরকারি কলেজ
স্থাপিত ২৭ জুলাই ১৯০২
অধ্যক্ষ প্রফেসর গুলশান আরা বেগম
অ্যাকাডেমিক কর্মকর্তা
১৮০
প্রশাসনিক কর্মকর্তা
২০০
শিক্ষার্থী ৩৫০০০
অবস্থান দৌলতপুর, খুলনা, বাংলাদেশ
সংক্ষিপ্ত নাম বিএল কলেজ

সরকারি বি. এল. কলেজ বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের অন্যতম প্রধান কলেজ যা খুলনা শহরে দৌলতপুরে ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। ১৯০২ সালের জুলাই মাসে খুলনার শিক্ষায় পৃষ্ঠপোষক শিক্ষানুরাগী শ্রী ব্রজলাল চক্রবর্তী (শাস্ত্রী) কলকাতার হিন্দু কলেজের আদলে ২ একর জায়গার উপর দৌলতপুরে হিন্দু একাডেমী নামে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।[১] পরবর্তীতে হাজী মহম্মদ মহসীন ট্রাস্ট তার সৈয়দপুর এস্টেটের ৪০ একর জমি এই প্রতিষ্ঠানে দান করে এবং মাসিক ৫০ টাকা অনুদান বরাদ্দ করে।

অনুষদ সমুহ[সম্পাদনা]

কলা ও মানবিক অনুষদের বিভাগ সমুহ[সম্পাদনা]

১. বাংলা, ২. ইংরেজি ৩. অথনীতি, ৪. রাষ্ট্র বিজ্ঞান, ৫. সমাজ বিজ্ঞান, ৬. ইতিহাস, ৭. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ৮. ভুগোল, ৯. সংস্কৃতি, ১০. ইসলামী শিক্ষা, ১১. দশন, ১২. সমাজকম, ১৩. মনোবিজ্ঞান।

বানিজ্য অনুষদের বিভাগ সমুহ[সম্পাদনা]

১. হিসাব বিজ্ঞান, ২. ব্যবস্থাপনা, ৩. মাকেটিং(বাজারজাতকরন), ৪. ফিন্যান্স, ৫. পরিসংখ্যান

বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগ সমুহ[সম্পাদনা]

১. পদার্থবিদ্যা, ২. রসায়নবিদ্যা, ৩. গনিত, ৪. উদ্ভিদবিদ্যা, ৫. প্রাণীবিদ্যা।

হল সমুহ[সম্পাদনা]

বি এল কলেজে ছাত্রদের জন্য ৫টি এবং ছাত্রীদের জন্য দুটি হল রয়েছে। ১. হাজী মহসিন হল ২. ড. জোহা হল ৩. শহীদ তিতুমীর হল ৪. কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ৫. সুবোধ চন্দ্র হল ৭. মন্নুজান হল ৮. খালেদা জিয়া হল

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য

দুইটি টিনশেড ঘরে ১৯০২ সালের ২৭ শে জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাশ শুরু হয়। একটি বোর্ড অব ট্রাস্টির মাধ্যমে কলেজটি পরিচালনা করা হত যার সভাপতি ছিলেন শাস্ত্রী ব্রজলাল চক্রবর্তী। প্রথমদিকে সম্পূর্ণ আবাসিক এই প্রতিষ্ঠানটি 'চতুষ্পাঠী' এবং 'একাডেমি' নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত ছিল। চতুষ্পাঠীর ছাত্রদের খাবার, পড়া এবং আবাসন খরচ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বহন করা হত। ১৯১০-১৯১১ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম মুসলিম হোস্টেল নির্মিত হয়। মূল ভবনের বাইরে অবস্থিত এই মুসলিম হোস্টেলে আরবি এবং ফার্সি ভাষার ক্লাশ নেওয়া হত। পরে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফলজুল হকের নির্দেশে কলেজে প্রথম মুসলমান শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠাকালে ঘাটভোগের (ফকিরহাট, বাগেরহাট) জমিদার ত্রৈলক্যনাথ চট্টোপাধ্যায় জমি ক্রয় করে দেন। ১৯০৭ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।

১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠাতা ব্রজলালের মৃত্যুর পরে কলেজের নামকরণ করা হয় ব্রজলাল হিন্দু একাডেমী। পরবর্তীতে একাডেমীকে কলেজে উত্তীর্ণ করা হয় এবং নাম সংক্ষিপ্ত করে বি এল কলেজ রাখা হয়। কলেজটি পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয় এবং এরপর থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রয়েছে। ১৯৬৭ সালের ১লা জুলাই তারিখে এটি সরকারী কলেজে পরিণত হয়। ১৯৯৩ সালে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত করা হয়।

বি.এল কলেজের শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ

উল্লেখযোগ্য অনুষদ সদস্য[সম্পাদনা]

  • সতীশ চন্দ্র মিত্র, বিখ্যাত ইতিহাসবিদ, যশোর-খুলনা ইতিহাস লেখক
  • বাবু শিব চন্দ্র গুই
  • চারু চন্দ্র বাশু
  • অধ্যাপক মুনির চৌধুরী
  • হাসান আজিজুল হক।

সহশিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

  • রোভার স্কাউট
  • বিএনসিসি
  • রেড ক্রিসেন্ট
  • গার্লস গাইড
  • বি এল কলেজ থিয়েটার
  • বি এল কলেজ ডিবেটিং ক্লাব

ছাত্র সংগঠন[সম্পাদনা]

  • বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
  • বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
  • বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
  • সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট
  • বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী
  • ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

স্থানাঙ্ক: ২২°৫১′৩৯″উত্তর ৮৯°৩১′৫৫″পশ্চিম / ২২.৮৬০৯৫৭° উত্তর ৮৯.৫৩১৮৪৬° পশ্চিম / 22.860957; -89.531846