বিষয়বস্তুতে চলুন

ঝিনাইদহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঝিনাইদহ
ঝিনেদা
নগর
পায়রা চত্ত্বর ঝিনাইদহ
পায়রা চত্ত্বর ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের অফিসিয়াল লোগো
ব্র্যান্ডিং লোগো
মানচিত্র
ঝিনাইদহ খুলনা বিভাগ-এ অবস্থিত
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ
স্থানাঙ্ক: ২৩°৩২′৪২″ উত্তর ৮৯°১০′২৪″ পূর্ব / ২৩.৫৪৪৯১৪° উত্তর ৮৯.১৭৩৩৯২° পূর্ব / 23.544914; 89.173392
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগখুলনা
জেলাঝিনাইদহ
উপজেলাঝিনাইদহ সদর
পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত১৯৫৮
সরকার
  ধরনপৌরসভা
  শাসকঝিনাইদহ পৌরসভা
আয়তন
  নগর৪৩.১৪ বর্গকিমি (১৬.৬৬ বর্গমাইল)
  পৌর এলাকা৩২.৪২ বর্গকিমি (১২.৫২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০২২)
  নগর১,৫৬,৫৮২
  জনঘনত্ব৩,৬০০/বর্গকিমি (৯,৪০০/বর্গমাইল)
  পৌর এলাকা[]১,৪০,২৭১
  পৌর এলাকার জনঘনত্ব৪,৩০০/বর্গকিমি (১১,০০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+০৬:০০)
পোস্টকোড৭৩০০, ৭৩০১
পৌর কোড১৬
আইএসও ৩১৬৬ কোডবিডি-২৩
এইচডিআই (২০২২)০.৬৮২
মধ্যম · ৫ম
ওয়েবসাইটঝিনাইদহ পৌরসভা

ঝিনাইদহ বা ঝিনেদা বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গে অবস্থিত একটি নগর। এটি একই সাথে ঝিনাইদহ জেলাঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রশাসনিক সদরদপ্তর। শহরটি নবগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। ঝিনাইদহ পৌরসভার মোট আয়তন ৩২.৪২ বর্গকিলোমিটার (১২.৫২ বর্গমাইল)২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী মোট ১,৪০,২৭১ জন মানুষ বসবাস করে।[][]

নামকরণ

[সম্পাদনা]

'ঝিনাইদহ' নামকরণ করা হয়েছে ঝিনুক থেকে। ঝিনুককে স্থানীয় ভাবে 'ঝিনেই' বা 'ঝিনাই' বলে। একসময় বর্তমান ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদী থেকে এক শ্রেণীর মানুষ ঝিনুক কুড়াতো। ঝিনুক প্রাপ্তির এই স্থানকে ঝিনুকদহ বলা হতো। 'দহ' শব্দের অর্থ জলাশয়। আবার ফার্সি ভাষায় 'দহ' শব্দের অর্থ 'গ্রাম'। অর্থাৎ 'ঝিনুকদহ' শব্দের অর্থ 'ঝিনুকের জলাশয়' বা 'ঝিনুকের গ্রাম'। এই ঝিনুকদহ থেকেই পরে ঝিনাইদহ নামটি এসেছে।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

একসময় বর্তমান ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীতে কিছু শ্রমিক ঝিনুক সংগ্রহ করত। তারা এখানে বসতি স্থাপন করে। কলকাতা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে ঝিনুক ক্রয় করতে আসতেন।[]

১৭৯৩ সালে ঝিনাইদহে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। ১৮৬০–১৮৬১ সালে নীল বিদ্রোহের কারণে ঝিনাইদহ, মাগুরানড়াইল মহকুমার মর্যাদা লাভ করে। ১৮৬৩ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর কোটচাঁদপুর মহকুমা বিলুপ্ত করে ঝিনাইদহ মহকুমার সাথে যুক্ত করা হয়।[][]

পরিবহন

[সম্পাদনা]

ঝিনাইদহ শহরে সাথে চারটি জাতীয় মহাসড়ক, একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও তিনটি জেলা সড়কের সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২টি জাতীয় মহাসড়ক ও একটি জেলা সড়ক শহরেই ভিতরেই অবস্থিত।

শিক্ষাব্যবস্থা

[সম্পাদনা]
কবি গোলাম মোস্তফা ভবন, ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৭ সালে ঝিনাইদহ এইচ. ই. স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টি ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত। এটি ঝিনাইদহ শহরের প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।[] এসময় ঝিনাইদহে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল যা ১৯৫৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টি ঝিনাইদহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত।

১৯৪৭ সালে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা স্থাপিত হয়। ঝিনাইদহে ১৯৬০ সালে প্রথম মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি হলো সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজ যা বর্তমানে মহাবিদ্যালয়টি তার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য ব্যপকভাবে পরিচিত।[] ১৯৬৩ সালে শহরের উত্তরে ঝিনাইদহ–কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত হয় ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ[]

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা

[সম্পাদনা]
মহাবিদ্যালয়
কারিগরি ও বিশেষায়িত
উচ্চমাধ্যমিক
মাধ্যমিক বিদ্যালয়

জনপরিসংখ্যান

[সম্পাদনা]
ঐতিহাসিক জনসংখ্যা
বছরজন.ব.প্র. ±%
১৯৮১৪৭,৯৫৩    
১৯৯১৬২,৮৯৬+২.৭৫%
২০০১৮৬,৯১৯+৩.২৯%
২০১১১,০৭,৮৩৪+২.১৮%
২০২২১,৪০,২৭১+২.৪২%
[][১০]

বাংলাদেশের জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী ঝিনাইদহ পৌরসভায় মোট পরিবার রয়েছে ৩৫,৭১২টি ও ১,৪০,২৭১ জন মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে পুরুষ ৭১,০২৮ জন, নারী ৬৯,২২৮ জন ও হিজড়া ১৫ জন।[১০]

ঝিনাইদহ পৌরসভায় মোট ৪০,৪৮৯ জন কর্মজীবী রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৫,৫০৪ জন এবং নারী ৪,৯৮৫ জন। অন্যদিকে মোট ৩৪,৮৯২ জন ব্যক্তি গৃহকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন যাদের মধ্যে ৩৪,৩৯৭ জনই নারী। কর্মজীবীদের মধ্যে ৭৮.৩৭ শতাংশ সেবামূলক, ১২.৩৭ শতাংশ শিল্প ও ৯.২৬ শতাংশ কৃষি কর্মের সঙ্গে জড়িত।[১০]

ঝিনাইদহ পৌরসভায় ধর্ম (২০২২)[১০]
  1. ইসলাম (৮৮.৬৩%)
  2. হিন্দু (১১.৩২%)
  3. খ্রিস্ট (০.০৪%)
  4. বৌদ্ধ (০.০০৮%)
  5. অন্যান্য (০%)

২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী ঝিনাইদহ পৌরসভায় বসবাসকারী ১,৪০,২৭১ জন মানুষের মধ্যে ১,২৪,৩১৬ জন ইসলাম, ১৫,৮৮২ জন হিন্দু, ৬১ জন খ্রিস্ট, ১২ জন বৌদ্ধ ও ০ জন অন্যান্য ধর্মের অনুসারী ছিলেন।[১০]

চিকিৎসা ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

১৯৬৮ সালে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতাল (সরকারি হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল নামেও পরিচিত। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ২৫০টি শয্যা রয়েছে।[১১] হাসপাতালটি শহরের হামদহ পাড়ায় অবস্থিত। ২০০৩ সালে ঝিনাইদহ চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এই চক্ষু হাসপাতাল সম্পর্কে নানা বিতর্ক থাকলেও বর্তমানে হাসপাতালের খ্যাতি ছড়িয়েছে। এখানে অন্ধ পুনর্বাসন কেন্দ্রও রয়েছে।[১২] ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় ঢাকা রোডে ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। শিশু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকার পর ২০২১ সালে পুণরায় কার্যক্রম শুরু করে।[১৩] ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর শহর থেকে সামান্য দূরে দক্ষিণ কাস্টসাগরায় একটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়।[১৪]

দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Population and Housing Census 2022" [জনসংখ্যা ও গৃহগণনা ২০২২] (পিডিএফ)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ৩৮৮–৩৯৪। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০২৫
  2. "ঝিনাইদহ পৌরসভার সাধারণ তথ্য"ঝিনাইদহ পৌরসভা। ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০২৫
  3. 1 2 "ঝিনুক থেকে ঝিনাইদহ নামের উৎপত্তি"বাংলা ট্রিবিউন। ২২ ডিসেম্বর ২০১৮। ৩০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০২৫
  4. "জেলার পটভূমি"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন - ঝিনাইদহ জেলা। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  5. লুইস সিডনি স্টুয়ার্ড ও'ম্যালি (১৯১৮)। Bengal District Gazetteers : Jessore [বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার্স: যশোর] (পিডিএফ) (ইংরেজি ভাষায়)। পাটনা: সুপারিনটেনডেন্ট, গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং। পৃ. ৪৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২৫-০৯-৩১ {{বই উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  6. "ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০২৫
  7. আসিফ ইকবাল কাজল (৯ সেপ্টেম্বর ২০১২)। "নানা সংকটে ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ"বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০২৫
  8. "ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ৫০ বছর পূর্তি"প্রথম আলো। ৫ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০২৫
  9. "Population And Housing Census National Report Volume-03: Urban Area Rport, 2011" [জনসংখ্যা ও গৃহগণনা জাতীয় প্রতিবেদন খণ্ড-০৩: নগর এলাকা প্রতিবেদন, ২০১১] (পিডিএফ)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৫
  10. 1 2 3 4 5 "POPULATION AND HOUSING CENSUS 2022 COMMUNITY REPORT: JHENAIDAH" [জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ কমিউনিটি রিপোর্ট: ঝিনাইদহ] (পিডিএফ)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৫
  11. "ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার বেশি অডিট আপত্তি"লোকসমাজ। ৫ জানুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৫
  12. "ঝিনাইদহ চক্ষু হাসপাতাল দরিদ্র মানুষের ভরসার কেন্দ্র"মানবজমিন। ২০ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৫
  13. "১৪ বছর পর চালু হল ঝিনাইদহ সরকারি শিশু হাসপাতাল"বাংলাদেশ জার্নাল। ১০ জানুয়ারি ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০২৫
  14. "ঝিনাইদহে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভবন আছে চিকিৎসা নেই"বণিক বার্তা। ৬ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৫

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]