সিরাজগঞ্জ
| সিরাজগঞ্জ | |
|---|---|
| নগর | |
| বাংলাদেশে সিরাজগঞ্জের অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°২৭′২৫″ উত্তর ৮৯°৪২′২১″ পূর্ব / ২৪.৪৫৬৮৬২° উত্তর ৮৯.৭০৫৭১০° পূর্ব | |
| দেশ | |
| বিভাগ | রাজশাহী |
| জেলা | সিরাজগঞ্জ |
| উপজেলা | সিরাজগঞ্জ সদর |
| পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত | ১৮৬৯ |
| সরকার | |
| • ধরন | পৌরসভা |
| • শাসক | সিরাজগঞ্জ পৌরসভা |
| আয়তন | |
| • পৌর এলাকা | ২৮.৪৯ বর্গকিমি (১১.০০ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০২২) | |
| • পৌর এলাকা | ১,৮৮,৫২৮ |
| • পৌর এলাকার জনঘনত্ব | ৬,৬০০/বর্গকিমি (১৭,০০০/বর্গমাইল) |
| সময় অঞ্চল | বাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+০৬:০০) |
| পোস্টকোড | ৬৭০০, ৬৭০১ |
| আইএসও ৩১৬৬ কোড | বিডি-৫৯ |
| ওয়েবসাইট | সিরাজগঞ্জ পৌরসভা |
সিরাজগঞ্জ বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে একটি নগর। এটি যমুনা নদীর তীরে সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। সিরাজগঞ্জ জেলার তাঁতশিল্প[১] বিশ্বজুড়ে পরিচিত, যা এই জেলাকে বিখ্যাত করেছে। যা ভৌগোলিক নির্দেশক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।[২] সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মোট আয়তন ২৮.৪৯ কিমি২ (১১.০০ মা২) ও জনসংখ্যা ১,৮৮,৫২৮।[৩][৪] ১৯১৫–১৯১৬ সালে রেল সংযোগ হওয়ার মাধ্যমে এটি রেলের শহর হিসেবে গড়ে গঠে।[৫]
নামকরণ
[সম্পাদনা]১৭৮৬ থেকে ১৭৯৩ সাল পর্যন্ত লর্ড কর্ণওয়ালিসের আমলে সিরাজ আলী চৌধুরী নামে একজন সম্ভ্রান্ত জমিদার বেলকুচি থানায় বাস করতেন। ১৭৮৭ সালে, তিনি বড় বাজু পরগনার সাত আনা হিস্যা পত্তনী হিসেবে লাভ করেন এবং সিরাজগঞ্জ জমিদারী নামে একটি মহল প্রতিষ্ঠা করেন। সিরাজ আলী চৌধুরী তার নিজ মহলে একটি গঞ্জ বা বাজার স্থাপন করেন। সিরাজ আলী চৌধুরীর নামানুসারে তার গঞ্জ বা বাজারটির নামকরণ করা হয় সিরাজগঞ্জ।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৮০৯–১৮৩০ সালের মধ্যে যমুনা নদীকে কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ বন্দর স্থাপিত হয়। সেইসময় বন্দরটি বেলুকুচি নামক স্থানে ছিল। উল্লেখ্য যে বর্তমান বেলকুচি ও তৎকালীন বেলকুচি ভিন্ন স্থান। যমুনা নদীর ভাঙ্গনের ফলে তিনবার বন্দরটির স্থান পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ ভূতেরদিয়ার নামক স্থানে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই বর্তমান সিরাজগঞ্জ শহর অবস্থিত।[৬]
১৮৪৫ এপ্রিল মাসে সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর মহকুমা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। সিরাজগঞ্জ মহকুমা রাজশাহী ও জামালপুর মহকুমা ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে সিরাজগঞ্জ মহকুমার ফৌজদারি মামলা-মোকাদ্দামা ময়মনসিংহের দায়রার জজ সম্পন্ন করতেন। এই অবস্থায় বিশাল যমুনা নদী পার হয়ে নসিরাবাদে (ময়মনসিংহ) যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ১৮৪৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট কাছে এই সমস্যার কথা লিখিত ভাবে জানানো হয়। পরবর্তীতে ১৮৪৬ সালের ২০ আগস্ট বঙ্গীয় গভর্নমেন্টের আদেশ অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ মহকুমার ফৌজদারি মামলা-মোকাদ্দামা রাজশাহীর দায়রা জজের উপর ন্যস্ত হয়।[৭]
ভূগোল
[সম্পাদনা]সিরাজগঞ্জ রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তর-পশ্চিমে, রাজশাহী থেকে উত্তর-পূর্বে এবং বগুড়া থেকে দক্ষিণ-পূর্বে, ২৪º২২΄ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৪º৩৭΄ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং ৮৯º৩৬΄ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৮৯º৪৭΄ দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর মোট আয়তন ৩১.২৭ বর্গকিলোমিটার।
জনসংখ্যা
[সম্পাদনা]২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় মোট ১,৮৮,৫২৮ জন মানুষ বসবাস করে। এ শহরের প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬৬০০ জন মানুষ বসবাস করে। শিক্ষার হার শতকরা ৮২.৭২ শতাংশ (৭ বছরের উর্দ্ধে)। শহরে মোট খানা রয়েছে ৪৬,৯১১।[৩]
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা]- মেডিকেল কলেজ
- কারিগরি
- মহাবিদ্যালয়
- ইসলামিয়া সরকারি কলেজ (১৯২১)
- সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ (১৯৪০)
- সরকারি রাশিদাজ্জোহা মহিলা কলেজ (১৯৬৬)
- রজব আলী মেমোরিয়াল বিজ্ঞান ডিগ্রি কলেজ (১৯৯১)
- মওলানা ভাসানী কলেজ (১৯৯৪)
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক
- সবুজ কানন স্কুল এন্ড কলেজ (১৯৮০)
- সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ (২০০৩)
- সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ (২০১১)
- সিরাজগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ (২০১৯)
- মাধ্যমিক
- বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৫৪)
- ভিক্টোরিয়া হাই স্কুল (১৮৯৮)
- সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৭)
- হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সিরাজগঞ্জ (১৯৬৪)
- কওমী জুট মিলস্ হাই স্কুল (১৯৭৫)
- মল্লিকা ছানাউল্লাহ আনছারী উচ্চ বিদ্যালয় (২০০৪)
পরিবহন
[সম্পাদনা]সড়ক
[সম্পাদনা]সিরাজগঞ্জ শহরে কোনো জাতীয় মহাসড়ক নেই, ২টি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ২টি জেলা সড়ক রয়েছে। শহরের নিকটবর্তী মহাসড়ক এন৪০৫-এর সাথে আঞ্চলিক মহাসড়ক আর৪৫০ (সয়দাবাদ–সিরাজগঞ্জ রোড) ও আর৪৫১-এর (নলকা–সিরাজগঞ্জ রোড) সংযোগ রয়েছে।[৮][৯]
১৯৮৬ সালে প্রায় ৪ একর জমির উপর সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়।[১০]
রেল
[সম্পাদনা]১৯১৫–১৯১৬ সালে ঈশ্বরদী–সিরাজগঞ্জ লাইন নির্মাণের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জে প্রথম রেল সংযোগ চালু হয়।[১১] এই সময় সিরাজগঞ্জে সিরাজগঞ্জ রায়পুর, সিরাজগঞ্জ বাজার, সিরাজগঞ্জ ঘাট ও বাহিরগোলা রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হয়। যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর সিরাজগঞ্জের রেলপথের গুরুত্ব কমে যায়। বর্তামানে ২০১৩ সালে চালু হওয়া সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি সিরাজগঞ্জ–ঢকা–সিরাজগঞ্জ চলাচল করে।[৫]
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]- ইলিয়ট সেতু
- শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়াম
- শহীদ শেখ রাসেরূ স্মৃতি পৌর শিশু পার্ক
- হার্ড পয়েন্টে
- চায়না বাঁধ
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি
[সম্পাদনা]- আবদুল হামিদ খান ভাসানী - বাঙালি রাজনীতিবিদ
- ইবনে মিজান - বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক
- কে জি মুস্তফা - বাংলাদেশী সাংবাদিক
- জাহিদ হাসান - বাংলাদেশী অভিনেতা
- ফজলে লোহানী - প্রখ্যাত সাংবাদিক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব
- ফয়সাল আহমেদ ফাহিম - বাংলাদেশী পেশাদার ফুটবলার
- বাঁশরী লাহিড়ী - বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী
- মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ - বাংলাদেশী পেশাদার ফুটবলার
- রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া - মুক্তিযোদ্ধা
- শেখ সাত্তার আলফা - স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী - বাঙালি লেখক
- সৈয়দা ইসাবেলা - বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত নারী লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- রাধারমণ সাহা (২০০০)। কমল চৌধুরী (সম্পাদক)। পাবনা জেলার ইতিহাস (পিডিএফ)। কলকাতা: পুস্তক বিপণি।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প"। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ হক ফারুক আহমেদ (৭ মে ২০২৪)। "সিরাজগঞ্জের গামছাসহ ৭ পণ্য জিআই জার্নালে"। যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 "Population and Housing Census 2022" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ৩৮৮–৩৯৪। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "সিরাজগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয় তথ্য"। সিরাজগঞ্জ পৌরসভার কার্যালয়। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 "রেলশূন্য হচ্ছে রেলের শহর!"। বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১৮ নভেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ রাধারমণ সাহা (২০০০)। কমল চৌধুরী (সম্পাদক)। পাবনা জেলার ইতিহাস (পিডিএফ)। কলকাতা: পুস্তক বিপণি। পৃ. ৪৩০–৪৪২। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ কেদারনাথ মজুমদার (১৯০৬)। ময়মনসিংহের ইতিহাস (পিডিএফ)। কলকাতা: সান্যাল এণ্ড কোং। পৃ. ১৭৫, ১৭৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Jamuna Bridge (Saidabad)-Sirajganj Road"। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Nalka-Sirajganj Road"। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সিরাজগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল"। উত্তারাধিকার ৭১ নিউজ। ১৮ এপ্রিল ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ INFORMATION BOOK 2018 [তথ্য বই ২০১৮] (পিডিএফ) (ইংরেজি ভাষায়)। বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০১৮। পৃ. ১। ৩০ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- "LANDUSE/MASTER PLAN SIRAJGONJ PAURASHAVA" [ভূমি ব্যবস্থাপনা/মহাপরিকল্পনা সিরাজগঞ্জ পৌরসভা] (পিডিএফ)। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (ইংরেজি ভাষায়)। ঢাকা: ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স লিমিটেড। ১৯৯১।
