বাগেরহাট জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(বাগেরহাট থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাগেরহাট জেলা
জেলা
Bagerhat
ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাট জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন
ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাট জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন
বাংলাদেশে বাগেরহাট জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে বাগেরহাট জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৪০′০″ উত্তর ৮৯°৪৮′০″ পূর্ব / ২২.৬৬৬৬৭° উত্তর ৮৯.৮০০০০° পূর্ব / 22.66667; 89.80000স্থানাঙ্ক: ২২°৪০′০″ উত্তর ৮৯°৪৮′০″ পূর্ব / ২২.৬৬৬৬৭° উত্তর ৮৯.৮০০০০° পূর্ব / 22.66667; 89.80000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
প্রতিষ্ঠা২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সাল
আয়তন
 • মোট৩৯৫৯.১১ কিমি (১৫২৮.৬২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (1991)
 • মোট১৫,১৫,৮১৫
 • জনঘনত্ব৩৮০/কিমি (৯৯০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৭৪.৬২%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৯০০০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৪০ ০১
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

বাগেরহাট দক্ষিণ পশ্চিম বাংলাদেশের একটি জেলা। এটি খুলনা বিভাগ এর অন্তর্গত।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

বাগেরহাট জেলার উত্তরে গোপালগঞ্জনড়াইল জেলা, পশ্চিমে খুলনা জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে পিরোজপুরবরগুনা জেলা। ২২৹ ৩২’ থেকে ২২৹ ৫৬’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯৹ ৩২’ থেকে ৮৯৹ ৪৮’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে বাগেরহাট জেলার অবস্থান। এ জেলার আয়তন ৫৮৮২.১৮ বর্গকিলোমিটার; তারমধ্যে ১৮৩৪.৭৪ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল, ৪০৫.৩ বর্গকিলোমিটার জলাশয় এবং অবশিষ্টাংশ নিম্ন-সমভূমি। বাগেরহাট জেলা সদরের অধিকাংশ ভৈরব নদীর পশ্চিম তীরে এবং শহরের বর্ধিত অংশ ভৈরবের দক্ষিণ প্রবাহ দড়াটানার পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

পৌরসভা ০৩ টি, গ্রামেরসংখ্যা ১,০৪৭ টি। বাগেরহাট জেলা মোট ৯ টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলো হলো:

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাগেরহাটে প্রথম বসতি স্থাপন করে অনার্য শ্রেণীর মানুষ। এদের মধ্যে রয়েছে ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চল হতে আসা অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় এবং মঙ্গোলীয় আলপাইন প্রভৃতি। এ অঞ্চলে অনার্য প্রভাবের বড় নিদর্শন হল পৌন্ড্রক্ষত্রিয় সম্প্রদায়। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে রামপাল উপজেলায় এ সম্প্রদায়ের লোক বেশি বাস করে। পৌন্ড্র শব্দের অপভ্রংশ পুড়া বা পোদ। পৌন্ড্র শব্দটি দ্রাবিড় শব্দজাত যার অর্থ ইক্ষু। অনার্য শ্রেণীভূক্ত নমশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ ও বাগেরহাটে প্রচুর বাস করে। এদের পূর্ব নাম চন্ডাল। এরা বরেন্দ্র অঞ্চল হতে এসে এখানে বসবাস শুরু করে। এ ছাড়া বাগেরহাটে এক শ্রেণীর মৎস্য শিকারী বা জেলে বসবাস করে যাদের আদি পুরুষ নিগ্রোবটু(নিগ্রয়েড) । এরা ভারত উপমহাদেশের আদিমতম অধিবাসী। খ্রীষ্টের জন্মের প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মধ্য এশিয়া হতে এ অঞ্চলে আর্য তথা আদি নর্কিভ বা ইন্ডিভদের আগমণ ঘটে। আর্য-অনার্যের শোণিত ধারাই এ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে ।বস্ত্ত পূজারী অনার্যগণ কৌমধর্ম (টাইবাল ধর্ম) অনুসরণ করতো। শক্তি পূজারী আর্যরা নিয়ে আসে বৈদিক ধর্ম। সূর্য ও অগ্নি ছিল তাদের অন্যতম উপাস্য। আর্য ও অনার্য উভয় ধর্মের আচার অনুষ্ঠান রীতিনীতির মিশ্রণে প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দুধর্ম। বাগেরহাটের অতি প্রাচীন স্থান পানিঘাটে প্রাপ্ত কষ্টি পাথরের অষ্টাদশ ভূজা দেবীমূর্তি, মরগা খালের তীরে খানজাহান আলী (রঃ) এর পাথর ভর্তি জাহাজ ভিড়বার স্থান জাহাজঘাটায় মাটিতে গ্রোথিত পাথরে উৎকীর্ণ অষ্টাদশ ভূজা মহিষ মর্দিনী দেবীমূর্তি, চিতলমারী উপজেলাধীন খরমখালি গ্রামে প্রাপ্ত কৃষ্ণ প্রস্তরের বিষ্ণু মূর্তি ইত্যাদি নিদর্শন এখানে হিন্দু সভ্যতা বিকাশের পরিচয় বহন করে। ১৪৫০ খ্রিঃ খানজাহান আলী (রঃ) খাঞ্জেলী দীঘি খনন করান। এ সময় অনন্য সাধারণ ধ্যাণী বৌদ্ধমূর্তি পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালে বৌদ্ধ পুরোহিত বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো পাল আমলে নির্মিত ঐ বৌদ্ধমূর্তিটি কমলাপুর বৌদ্ধ বিহারে সংস্থাপন করেন। এটা এ অঞ্চলে বৌদ্ধ প্রভাবের পরিচয় বহন করে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

বাগেরহাট জেলার মানুষ প্রধানত কৃষি নির্ভর। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল ও সুপারি জন্মে। ধান, মাছ ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতির প্রধান উৎস। তাছাড়াও সুন্দরবন উপকূলের কিছু মানুষ মধু ও গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা[সম্পাদনা]

  1. ষাট গম্বুজ মসজিদ
  2. খান জাহানের সমাধি
  3. রেজা খোদা মসজিদ
  4. জিন্দা পীর মসজিদ
  5. ঠান্ডা পীর মসজিদ
  6. সিংগাইর মসজিদ
  7. বিবি বেগনী মসজিদ
  8. চুনাখোলা মসজিদ
  9. নয়গম্বুজ মসজিদ
  10. সিংগার মসজিদ
  11. এক গম্বুজ জামে মসজিদ, বাগেরহাট
  12. পীর আলীর সমাধি
  13. কোদলা মঠ
  14. রণবিজয়পুর মসজিদ
  15. দশ গম্বুজ মসজিদ
  16. কুটিবাড়ি,জমিদারবাড়ি,মোড়েলগঞ্জ।
  17. বড় আজিনা
  18. ছয় গুম্বজ মসজিদ, বৈটপুর
  19. খান জাহানের নির্মিত প্রাচীন রাস্তা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য[সম্পাদনা]

  1. সুন্দরবন
  2. ঢাংমারী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য
  3. মাঝের চর, শরণখোলা
  4. চাঁদপাই বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য
  5. দুধমুখী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য
  6. সুন্দরবন পূর্ব বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য
  7. দুবলার চর

দীঘি/ জলাশয়[সম্পাদনা]

  1. ঘোড়া দীঘি
  2. খানজাহান আলীর দীঘি
  3. ঘোড়া দীঘি
  4. কোদাল ধোয়া দীঘি


অন্যান্য[সম্পাদনা]

  1. মংলা বন্দর
  2. খান জাহান আলী বিমানবন্দর
  3. সুন্দরবন রিসোর্ট, বারাকপুর
  4. চন্দ্রমহল, রনজিতপুর।
  5. বাগেরহাট জাদুঘর
  6. ওয়ান্ডার কিংডম
  7. বাগেরহাট পৌর পার্ক
  8. শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়াম
  9. রুপা চৌধুরী পৌর পার্ক
  10. ডিসি পার্ক, যাত্রাপুর

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

বাগেরহাট সদর[সম্পাদনা]

চিতলমারী উপজেলা[সম্পাদনা]

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা[সম্পাদনা]

  • শহিদ শেখ রাসেল মুজিব মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • দৈবঞ্জহাটি বি.এম. মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • এ.সি লাহা পাইলট হাইস্কুল
  • আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • বি.কে. মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • বনগ্রাম সেঞ্চুরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • এজি মকবুল হোসেন বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা


কচুয়া উপজেলা[সম্পাদনা]

  • রসিক লাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • গোয়ালমাঠ বালিকা বিদ্যালয়
  • মসনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • সাংদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক


রামপাল উপজেলা[সম্পাদনা]

  • রামপাল সরকারি কলেজ
  • ভাঘা মহিলা কলেজ
  • গিলাতলা কলেজ
  • পেরিখালি উচ্চ বিদ্যালয়
  • গিলাতলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • শ্রীফলতলা উচ্চ বিদ্যালয়
  • ফয়লাহাট কামাল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

মিডিয়া[সম্পাদনা]

সংবাদপত্র[সম্পাদনা]

  • দক্ষিন বাংলা
  • উত্তাল
  • দক্ষিন কণ্ঠ
  • বাগেরহাট দর্পন
  • বাগেরহাট বার্তা
  • দূত
  • সাপ্তাহিক খানজাহান

অনলাইন সংবাদপত্র[সম্পাদনা]

  • বাগেরহাট ইনফো
  • বাগেরহাটে নিউজ

লোক সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

মেলা

  • যাত্রাপুরের রথের মেলা
  • তালেশ্বরের রথের মেলা
  • খাঞ্জেলির মেলা
  • মুনিগঞ্জের মেলা
  • নবান্নের মেলা
  • ঝলমলের মেলা
  • দুবলার মেলা
  • লক্ষ্মীখালির মেলা
  • শিববাড়ীর মেলা
  • মঘিয়ার মেলা
  • কালাচাঁদ ফকিরের মেলা
  • কুদিমা বটতলার মেলা
  • ঝড়ু গাছতলার মেলা
  • কালখেরবেড়ের মেলা
  • চাঁদপাই এর মেলা
  • রুদ্রমেলা
  • বানিজ্য মেলা
  • বৈশাখী মেলা

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]